
বাবার নেওয়া ঋণ। সময় পেরিয়ে গেছে ২৮ বছর। ঋণগ্রহীতা বাবাও মারা গেছেন ১৫ বছর আগে। কিন্তু বাবার সেই দেনা শোধ করতে এখনো পাওনাদারের খোঁজ করছেন ছেলে।
এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরে। ১৯৯৮ সালে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন পিরোজপুরের আবদুল খালেক শিকদার। ব্যবসা করে সেই টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর শোধ করে যেতে পারেননি তিনি। ২০১১ সালে মারা যান খালেক শিকদার।
বাবার মৃত্যুর আগে তার কাছ থেকেই ঋণের বিষয়টি জানতে পারেন জ্যেষ্ঠ সন্তান কাঞ্চন শিকদার। দীর্ঘদিন পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিতে পারেননি তিনি। এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হওয়ায় বাবার রেখে যাওয়া সেই দায় শোধ করতে চান কাঞ্চন। কিন্তু পাওনাদার রণজিত ঘোষের কোনো সন্ধান মিলছে না।
সম্প্রতি ‘বঙ্গভিটা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটি ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
কাঞ্চন শিকদারের বয়স এখন ৪৫ বছর। পিরোজপুর সদরে তিনি গরুর খামার পরিচালনা করেন। পাশাপাশি মাছের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত তিনি।
কাঞ্চনের বাবা আবদুল খালেক শিকদার একসময় পিরোজপুর থেকে কাঁচা ও পাকা ফল এনে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের আড়তে বিক্রি করতেন। ওই এলাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের প্রতিষ্ঠান ‘প্রদীপ ভান্ডার’-এ তিনি ব্যবসা করতেন।
নব্বইয়ের দশকে ঢাকায় ব্যবসা শুরু করার সময় রণজিত ঘোষের সঙ্গে খালেক শিকদারের পরিচয় হয়। ১৯৯৮ সালে ব্যবসার প্রয়োজনে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নেন খালেক। ব্যবসা করে সেই টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করেও তা শোধ করতে পারেননি তিনি। পরে অসুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরে যান। ২০১১ সালে তার মৃত্যু হয়।
বাবার ব্যবসার সময় পিরোজপুর থেকে লঞ্চে করে মালামাল ঢাকায় নিয়ে আসতেন কাঞ্চনও। এ কারণে রণজিত ঘোষের তৎকালীন বাসা শাঁখারীবাজারে কয়েকবার যাওয়া হয়েছিল তার।
কাঞ্চন বলেন, একসময় আমরা অভাবগ্রস্ত ছিলাম। দেনা শোধ করতে পারি নাই। অহন আল্লায় সুযোগ দিছে। বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।
প্রায় তিন মাস আগে ২৮ বছর আগের স্মৃতি মনে করে পাওনাদারের খোঁজে ঢাকায় আসেন কাঞ্চন। তবে রণজিত ঘোষের সন্ধান পাননি তিনি।
তার কাছে থাকা পুরোনো একটি রসিদে রণজিত ঘোষের ঠিকানা হিসেবে লেখা রয়েছে, ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’।
সম্প্রতি ওই ঠিকানা ধরে ওয়াইজঘাটে গিয়ে ‘প্রদীপ ভান্ডার’ নামে কোনো আড়তের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এলাকার এক পুরোনো ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রণজিত ঘোষ একসময় সেখানে ব্যবসা করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে তিনি চলে যান। বর্তমানে তিনি কোথায় থাকেন, সে বিষয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছে কোনো তথ্য নেই।
তবে বাবার সেই ঋণ শোধের চেষ্টা থামাতে চান না কাঞ্চন শিকদার। বিভিন্ন মাধ্যমে রণজিত ঘোষের খোঁজ করছেন তিনি। তার কাছে ২৮ বছর আগের সেই ঋণ এখন শুধু টাকার হিসাব নয়, বাবার রেখে যাওয়া একটি অসমাপ্ত দায়। সেই দায় নিজের হাতে শেষ করতেই পাওনাদারের সন্ধান করছেন তিনি।
আরটিভি/এসকে


