ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

খেলাপি ঋণ আদায়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ে গতি আনা, ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনার আওতায় খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের তদারকি, ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করা ও ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর আলোচনা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এসব আলোচনায় ঋণ আদায়ের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে।

পাশাপাশি, ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি, তাদের জন্য ঋণ পুনরুদ্ধার কৌশলবিষয়ক বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বিদ্যমান ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) অনুসরণ করে প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি বা ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও সংস্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি আগেভাগে নিরূপণ ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের আইনগত দিকগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার বিদ্যমান প্রবণতা ধীরে ধীরে বন্ধ করতে এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।

খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা— উভয় পক্ষকে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করার মতো প্রণোদনা তৈরি করতে হবে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই থেকে তিন বছরে খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ঋণ আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় করা এবং আদায় কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের চিহ্নিত করা এবং তাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহ বাড়বে এবং ব্যাংক খাতে দায়িত্বশীল ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণ অনুমোদন, তদারকি, আদায় ও শ্রেণিকরণের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঋণ খেলাপি হওয়ার পর শুধু আদায় তৎপরতা বাড়ানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই ঋণঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের সংস্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

খেলাপি ঋণের এ চাপ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক আদায় কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার করার উদ্দেশ্যে প্রণীত খসড়াটি গত ২২ এপ্রিলের আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সভার সিদ্ধান্ত এবং ২৬ এপ্রিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার পর সংশোধন করা হয়।

সংশোধিত খসড়াটি গত ২৪ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।

ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগও চলছে।

এ আইন যুগোপযোগী করতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে ইতোমধ্যেই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে, গত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন ও বিচার বিভাগে পাঠায়।

বর্তমানে সংশোধিত আইনের খসড়া তৈরিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ করছে।

এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে ‘দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ১৯৯৭ সালের দেউলিয়াত্ব আইন আধুনিকায়ন করে ‘দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কার্যক্রম আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেউলিয়াত্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করা, সামগ্রিক দেউলিয়া কাঠামো শক্তিশালী করা ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সহায়তায় নতুন দেউলিয়াত্ব আইনের ইংরেজি খসড়া আধুনিক কাঠামোতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

খসড়াটি বাংলায় অনুবাদের জন্য আইএফসির সহায়তা চেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলা সংস্করণ চূড়ান্ত হলে, পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য তা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, খেলাপি ঋণ আদায়ে তদারকি জোরদার, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহিত করার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় লাফ
বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে সোনার দাম। সপ্তাহের শুরুতে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর কম দামে সোনা কেনার প্রবণতা বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় লাফ
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস রোসাটমের
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম।
রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস রোসাটমের
আবারও বাড়লো সোনার দাম, এবার ভরি কত?
সবশেষ দাম কমানোর পর গত কয়েকদিন দেশে অনেকটা স্থিতিশীলই ছিল সোনার বাজার। তবে, আবারও মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবারের দফায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। এতে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  এদিন ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে সোনার নতুন দর। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় সোনার গহনার দাম নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে বাজুস।  নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম এখন ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা।  অন্যদিকে,​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। এর আগে, সবশেষ গত ৫ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেই দাম অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার আগ পর্যন্ত ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনা ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। এদিকে সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম এখন ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। আরটিভি/এসএইচএম
আবারও বাড়লো সোনার দাম, এবার ভরি কত?
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে যার ফলে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৮ ডলার বা ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৬৬ ডলার বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির রেকর্ড মূল্য ও সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রভাবেই ওই দরপতন হয়েছিল। মার্চে চালু করা একটি পরিকল্পনার আওতায় কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার পাশাপাশি ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। তবে ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত অষ্টম মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়লেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে উপসাগর থেকে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হলেও হামলার কারণে পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তা ব্যয় এবং ঝুঁকি দুটিই বেড়েছে। সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি। এমএসটি মার্কির জ্বালানি বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজে ইরানি হামলার হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে। সীমিত পণ্য প্রবাহ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের পক্ষ থেকে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তেলের দামকে ঊর্ধ্বমুখী রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে এএনজেডের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইন্স এক নোটে জানিয়েছেন, আইইএ যে তেল ছাড়ছে, তা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর সময় সংস্থাটির ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনারই অংশ। কৌশলগত মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। তেলের দাম বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। অন্যদিকে ডিজেলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুতও সামান্য কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এ সময়ে ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরের একই সময়ের গড়ের তুলনায় এই মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আরটিভি/এসকে
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
আরও পড়ুন
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, অক্টোবরের সাতদিনে এলো ৭৭ কোটি ডলার
রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া, ৬ দিনে এলো ৬৩ কোটি ডলার
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার
৩০ ব্যাংকের বন্ধ এটিএম ও অনলাইন সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ