ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আকুর বিল পরিশোধের পর যত ডলারে নেমে এলো রিজার্ভ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
ফাইল ছবি

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই ও আগস্ট মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে এখন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নি‌শ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

এদিন ১৩৯ কোটি ডলার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আকুকে পরিশোধ হয়েছে। এর আগে, রোববার পরিশোধের অর্থ জমা রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাধারণত আকুর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে লেনদেনের জন্য দুই মাস পরপর এ ধরনের বিল পরিশোধ করতে হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা সবসময়, প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য নিট রিজার্ভ ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।

প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থানেই রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।

এর আগে, গত ৭ জুলাই আকুর মে-জুন মেয়াদের ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার আর মোট হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

প্রসঙ্গত, আকু হলো একটি আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর সদর দপ্তর। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। তবে, এখন আকুর সদস্যপদ নেই শ্রীলঙ্কার। অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে দীর্ঘদিন যাবত আমদানি ব্যয় পরিশোধের বিভিন্ন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির আকু সদস্য পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) ভৌগোলিক সীমারেখায় অবস্থিত সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য আকুর সদস্য পদ উন্মুক্ত।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
মার্কিন ডলারের দর ও ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী অবস্থানের বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছেন তারা।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৯ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের গোল্ড ফিউচারও ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বলেন, ফ্রান্সের বন্ডবাজারে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজার নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কারণে সোনার নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা দেখা যাচ্ছে। সোমবার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড কিছুটা কমেছে। একই সময়ে এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ডলারের দরও কমেছে। এতে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনার তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। ইউরোজোনের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বাজেট ঘাটতি বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের পরিস্থিতির কারণে দেশটির সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বেড়েছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। চলতি বছরে আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে এতে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেপ্টেম্বরে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ২২ শতাংশ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে নিয়ে বাজারে লেনদেন হচ্ছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা এবং জি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে তেলের দাম কমেছে। তবে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা চাপ থাকলেও স্বর্ণের বাজারে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফের মাধ্যমে বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে টিডি সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, ২০২৭ সালে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপরে উঠবে বলে তারা মনে করছেন। এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ০১ ডলারে রয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮৭ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬০ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আরটিভি/এসআর
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে: বিশ্বব্যাংক
একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা এবং বিদ্যমান নগদ অর্থ কর্মসূচির সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশে অতিরিক্ত ২৮.৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের নতুন হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  সবশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এ ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে বিনিয়োগ কার্যক্রম অত্যন্ত মন্থর হয়ে পড়েছে, রপ্তানি তার গতি হারিয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহতভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।  পাশাপাশি আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা ঋণ মধ্যস্থতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সীমিত রাজস্ব সংস্থানের কারণে সরকারি বড় বিনিয়োগ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এসব বৈরী প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সহায়তায় বাহ্যিক খাত কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহ ক্রমান্বয়ে সহজ হওয়া এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত হলে ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ও বেসরকারি বিনিয়োগ-চালিত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, দরিদ্রদের সুরক্ষার পাশাপাশি আরও বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে সাড়া দিতে হবে। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি একপ্রকার থমকে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক নারী তাদের চাকরি হারিয়েছেন। এদিকে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক দুর্বলতা আরও তীব্র হয়েছে, যেখানে খেলাপি ঋণের হার ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৩০.৬ শতাংশ থেকে আরও বেড়ে জুন ২০২৬-এ ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।  দেশের রাজস্ব আদায়ের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক; জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হচ্ছে যা বিশ্বজুড়ে অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায় এবং এর ফলে প্রয়োজনীয় জনকল্যাণমূলক খাতে সরকারি ব্যয় সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ অর্থবছরের ৩.৫ শতাংশ থেকে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির ৩.৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি এবং কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে কিছুটা রক্ষা করতে সাহায্য করলেও বাস্তবতায় প্রায় অর্ধেক দরিদ্রতম পরিবার কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার মধ্যেই নেই। বিশ্বব্যাংকের মতে, উন্নততর লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে এই সামাজিক কর্মসূচিগুলোর দারিদ্র্য-প্রতিরোধমূলক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব। একটি অধিক সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে পারে যে সরকারের সীমিত সম্পদ যেন প্রকৃত দরিদ্র ও দুর্বল পরিবারগুলোর কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা গেলে তা লক্ষ্য নির্ধারণ এবং আওতার ঘাটতি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ মূলত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক হালনাগাদ’-এর একটি পরিপূরক অংশ হিসেবে আজ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এদিকে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বিভিন্ন বৈশ্বিক ধাক্কার মুখেও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলটি অসাধারণ স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে, যার ফলে এ বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রতিকূল বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ২০২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। আরটিভি/এসআর
‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে: বিশ্বব্যাংক
এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবিত ও প্রসারিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে।
এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে: অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজারে ৮ মাসে বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ
সংস্কার উদ্যোগ ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে বাজার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে ডিএসইর একক কোনো উদ্যোগ কাজ করছে না। বরং বাজারকে ফ্রন্টিয়ার থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এনআইটিএ-সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা গেছে। তিনি বলেন, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি জটিলতা সম্প্রতি সহজ করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় এনআইটিএ হিসাবের মাধ্যমে অর্থের হিসাব করতে হতো। ডিএসইর পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মটি সহজ করে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে হিসাব না করে বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর পাশাপাশি টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পুঁজিবাজারে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে বলে মনে করেন নুজহাত আনোয়ার। ডিএসই’র তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৫ টাকা। মার্চে লেনদেন কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮০ টাকা এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬০ টাকায় নেমে আসে। তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উত্থান ঘটে। ওই মাসে লেনদেন হয় ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭১ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর জুনে বিদেশি লেনদেন হয়েছে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৬ টাকা। আগস্টে তা কিছুটা কমে ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৯১ টাকায় দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ওই বছরের জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ১৮১ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার ১০৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ২৬৪ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৬২ টাকা হলেও মার্চে কমে দাঁড়ায় ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৭ টাকা। এপ্রিল ও মে মাসে লেনদেন আবার বাড়ে। এপ্রিলে ৪২৬ কোটি ৯৪ লাখ ১ হাজার ২৯৮ টাকা এবং মে মাসে ৫০৬ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ১৪২ টাকা লেনদেন হয়, যা ওই বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুনে তা কমে ২৮৫ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৯ টাকা হলেও জুলাইয়ে বেড়ে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার ২১৭ টাকা হয়। আগস্টে লেনদেন দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৫৪৮ টাকা। ২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। এর বিপরীতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা, যা গত বছরের পুরো বছরের প্রায় ৯৪ শতাংশ। আরটিভি/এসআর
পুঁজিবাজারে ৮ মাসে বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ
দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
সবশেষ গত বুধবার দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই দামেই শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে সোনা। এদিকে ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা।  আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা। সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।  এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আরটিভি নিউজ/এসআর
দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আরও পড়ুন
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
নতুন ঋণচুক্তি সই, বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ
২ কোটির বেশি প্রবীণকে ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন