ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাঙ্গেরিতে ফুল ফ্রি স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৪:১১ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত।

২০১৩ সাল থেকে ‘স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ’ দিয়ে আসছে হাঙ্গেরি সরকার। দেশটিতে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৫ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপের আওতায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট, ওয়ান টায়ার মাস্টার্স ও ডক্টরাল নিয়ে পড়ছেন। বাংলাদেশ থেকে আন্ডারগ্র্যজুয়েট ও মাস্টার্স পর্যায়ে এই স্কলারশিপ দেয়া হয়ে থাকে।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে হাঙ্গেরি সরকার ফুল ফ্রি স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপে আবেদন নেয়া শুরু করেছে। এতে করে স্কলারশিপের অধীনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করা যাবে। স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই স্কলারশিপ গেলো বছর থেকে বাংলাদেশে চালু হয়েছে।

হাঙ্গেরি পড়তে চাইলে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনলাইন আবেদনের পাশাপাশি ও যাবতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মার্কশিট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজপত্রের হার্ডকপিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ থেকে কতজন এই স্কলারশিপ পাবেন বা কতজন বাংলাদেশিকে এই স্কলারশিপ দেয়া হবে, তা বলা হয়নি।

স্নাতকে আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ হতে হবে এবং উচ্চমাধ্যমিক পাস করতে হবে। বেশির ভাগ বিষয়ে পড়ার জন্যআইইএলটিএসের প্রয়োজন হবে।

স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকামের ওয়েবসাইট হতে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে আবেদন করা যাবে। ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারির মধ্যে পুরো আবেদনপ্রক্রিয়াটি শেষ করতে হবে।

জানা গেছে, স্কলারশিপের অধীনে টিউশন ফি সম্পূর্ণ ফ্রি। পাশাপাশি পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যবিমাও। এছাড়া আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট ও ডক্টরাল—তিনটির যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক আবেদন করলে আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

এম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো। আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য আবেদনের সময় বাড়িয়েছে।  জানা গেছে, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের বয়স জটিলতায় অনেকে আবেদন করতে পারেনি, তারা ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। উচ্চ আদালতে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনের সময় বাড়িয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে স্থগিত হওয়া ভর্তির লটারি হবে ১১ জানুয়ারি। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ছয় বছরের বেশি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ১১ বছর। কিন্তু এবার বয়স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেকেই আবেদন করতে পারেনি। কিন্তু এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ডিজিটাল লটারি কার্যক্রম’ স্থগিত করে এখন আবেদন ও লটারির নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইনে আজ থেকেই আবেদন করা যাবে। আগামী ৭ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আবেদনের জন্য সফটওয়্যার চলমান থাকবে।  এর আগে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর ৩০ ডিসেম্বর অনলাইন লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচনের কথা ছিল। এফএ
মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো
অবশেষে রাবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বে আসার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ। সেই অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করে বলে জানান ইউজিসি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৫টি অভিযোগের সত্যতা পায় ইউজিসি। ইউজিসির সেই তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট চার দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর গত ১৩ ডিসেম্বর একটি পত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতির নির্দেশ দেয়। পত্রে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৫ এর শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে ২০১৭ সালে পরিবর্তিত নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উক্ত নীতিমালা পরিবর্তন এবং শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর আবদুল বারী তদন্ত কমিটিকে বিভিন্ন পর্যায়ে অসহযোগিতা করেছেন, যা অসদাচরণের সামিল। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাকে রেজিস্ট্রারের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি না দিয়ে ভর্তি কমিটির সভা আহ্বান করেন উপাচার্য। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে রেজিস্ট্রারকে উপস্থিত রাখায় শিক্ষকদের একাংশ আপত্তি জানায়। অবশেষে আপত্তির মুখে এক পর্যায়ে সভাটি স্থগিত করেন উপাচার্য। এসময় যতক্ষণ না রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আর কোনও সভায় অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দেয় শিক্ষকরা। উপাচার্য পরে রেজিস্ট্রারকে কৌশলে ছুটিতে পাঠায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে রাবি প্রশাসনের সকল অভিযোগের বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।  এমন পরিস্থিতিতে রেজিস্ট্রার ‘শারীরিক অক্ষমতার’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে ৫০৫তম সিন্ডিকেট সভায় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অধ্যাপক আলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করতেই জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে রেজিস্ট্রার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাই বিষয়টি সিন্ডিকেটে গৃহীত হয়েছে। পহেলা জানুয়ারি থেকে পদত্যাগের বিষয়টি কার্যকর হবে। পদত্যাগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারীর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জিএ
অবশেষে রাবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ
টিএসসি চত্বর ভাঙার বিপক্ষে প্রগতিশীল ছাত্র জোট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) চত্বর ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের বিপক্ষে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। একইসঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খোলাসহ এবছরের বেতন-ফি মওকুফ করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় প্রগতিশীল ছাত্র জোট। প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক মেঘমল্লার বসু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ শিক্ষার্থীরা। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসন সব রকম সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই যৌক্তিক। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান-শিক্ষার্থীদের এ ৩ দফা দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তৎপর হওয়া। না হলে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের দাবিতে এবং টিএসসির অস্তিত্ব-ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় আন্দোলন গড়ে তুলবে। দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৫ জানুয়ারি রাজুভাস্কর্যে সংহতি সমাবেশ এবং ৭ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা করা হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা, ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাগিব নাঈম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এফএ
টিএসসি চত্বর ভাঙার বিপক্ষে প্রগতিশীল ছাত্র জোট
কুবিতে ২০২০ সালে যা ঘটেছে
সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উৎসবের আমেজে বছর শুরু হয়েছিলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। তবে মার্চ থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের কারণে ছুটিতে সে আমেজ আর অক্ষুণ্ণ থাকেনি। বছরের বেশিরভাগ সময় সুনসান নীরবতাকে সঙ্গী করেই কেটেছে কুবির। অপরদিকে করোনার দীর্ঘ ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সার্বিকভাবে ঝিমিয়ে পড়লেও বছরের শেষপ্রান্তে শীত আসতেই যেন শুরু হয়েছিলো আড়মোড়া ভাঙার পর্ব। চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন,  শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ঘিরে নাটকীয়তা, শাখা ছাত্রলীগের আসন্ন কমিটির পদপ্রত্যাশীদের দৌঁড়ঝাপ, কর্মচারী সমিতির  আট দফা দাবিসহ নানামুখী ঘটনা ও কার্যক্রম বন্ধ ক্যাম্পাসের শীতল পরিবেশে উষ্ণতা ছড়াতে দেখা গিয়েছে। অভিষেক সমাবর্তন জানুয়ারির ২৮ তারিখে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসের প্রথম সমাবর্তনকে ঘিরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিলো ক্যাম্পাস। সমাবর্তন, রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের জাঁকজমকপূর্ণ তৎপরতাও ছিলো চোখে পড়ার মতো। সমাবর্তনে এবার পাঁচটি অনুষদ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মিলিয়ে মোট ২৮৮৭ জন অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতস্বরূপ চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসাবে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষার বাইরেও বৈচিত্রময় কার্যক্রমে হাজারো মানুষের পদচারণায় দীর্ঘদিন ছিলো উৎসবের আমেজ।  মানবিকতার  আহ্বান এদিকে দেশে করোনা আগমনের শুরুতেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট দেখা দেয়। তখন কুবির ফার্মেসি বিভাগ নিজেদের তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে ক্যাম্পাসে বিতরণের উদ্যোগ নিয়ে সারাদেশে প্রশংসা অর্জন করে। অপরদিকে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে একদিনের সমপরিমাণ বেতন প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এছাড়াও থিয়েটার-অনুপ্রাসসহ কুবির বিভিন্ন সংগঠন বা বিভাগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে এ সময়টায় মানবিক  আহ্বানে সাড়া দিয়ে কাজ করতে দেখা গিয়েছে। কোভিড-১৯ করোনায় কুবির বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হলেও এ পর্যন্ত সেরে উঠেছেন সবাই। জানুয়ারিতে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবাকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দিয়ে (লিভার ট্রান্সপ্লান্ট) অনন্য নজীর সৃষ্টি করেছেন কুবি শিক্ষার্থী উর্মি আচার্য। অপরদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানিন মেহেদী ক্যান্সারের সফল অপারেশন শেষে ফিরে এসেছে সকলের মাঝে। তবে জুন মাসে নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী ভূঁইয়া ও এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন স্টাডিজ বিভাগের সুজন আহাম্মেদের প্রয়াণে সম্ভাবনাময় দুই নক্ষত্র হারায় কুবি পরিবার। এদিকে অচল দু'টি কিডনি নিয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকার আশায় বুক বেঁধে আছে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তর সাহা। নতুন ট্রেজারার বন্ধের মধ্যেই চলতি বছরের জুলাই মাসের চার তারিখ চার বছরের জন্য ট্রেজারার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান। এর আগে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ট্রেজারের শূণ্য ছিলো কুবি।  এডুমেইল প্রতীক্ষার অবসান ও অনলাইন ক্লাস জুন মাসে এক ভার্চ্যুয়াল সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ জুলাই থেকে কুবির পরিচয় ঘটে অনলাইন ক্লাসের সঙ্গে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বহু-প্রতীক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল বা এডুমেইল সেবা চালু হয়েছে ২৫ নভেম্বর।  শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ঘিরে নাটকীয়তা সারাবছরের মধ্যে ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতি নির্বাচন-২০২১ কে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি নাটকীয়তা সৃষ্টি হতে দেখা গিয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদে ভাঙন ও উভয়পক্ষ থেকে নিজেদের নীল দল দাবি, শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তির জেরে নতুন নতুন প্যানেল ঘোষণা এবং পাল্টাপাল্টি নির্বাচন কমিশন গঠনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিবেশ। ফলে ১০ ডিসেম্বর রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে বাধ্য হয় কুবি প্রশাসন।  শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হয় নীল দল (ড. শামীম-ড. কামাল প্যানেল)। পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গত মার্চ থেকে করোনার ছুটিতে থাকায় শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের সেশন জটে পড়েছে। একই সময়ে বিসিএসের ডাবল সার্কুলারসহ বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চলমান থাকায় সুযোগ হারানোর শঙ্কায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।  আটকে থাকা চূড়ান্ত পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত নেয়ার দাবিতে নভেম্বরের শেষদিক থেকে মানবন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এমনকি ডিসেম্বরের ২ তারিখ প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেয় তারা। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাসে ডিসেম্বরের ২০ তারিখ থেকে পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করে কুবি প্রশাসন। ছাত্রলীগের আসন্ন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১৬১ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কমিটির মেয়াদ ফুরিয়েছে অনেকদিন আগেই। তাই নতুন কমিটি কবে আসছে, নেতৃত্বে কারা আসবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। সেইসঙ্গে শুরু হয়েছে পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন তারা। এছাড়া বন্ধ ক্যাম্পাসেও সর্বশেষ ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ গণতন্ত্রের বিজয় উদযাপনে আনন্দ শোভাযাত্রা ও এর আগে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাংচুরের প্রতিবাদ কর্মসূচিসহ নানা ধরনের কার্যক্রমে নিয়মিত সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে নেতাকর্মীদের। ক্যাম্পাসে হঠাৎ ছাত্রদলের কার্যক্রম বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম কুবিতে ক্যাম্পাসে জোরেশোরে চললেও গেলো কয়েক বছরে ছাত্রদলের তেমন কোনও উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে ছাত্রদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হঠাৎ করেই ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ পোস্টারিং করে কুবি শাখা ছাত্রদল। তবে এর ঘণ্টাখানেক পরই উধাও হয়ে যায় সেসব পোস্টার। ছাত্রদলের অভিযোগ এসব পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। নিয়োগ বিতর্ক অফিস সহায়ক পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিলো বিতর্ক। মার্চে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে ৫ নম্বর রোলধারী প্রার্থী ফেল করলেও প্রকাশিত ফলাফলে তাকে পাস দেখিয়ে অফিস সহায়ক (একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অপর একটি পদ) পদে ১৮ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।  কর্মচারীদের আন্দোলন-নির্বাচন  ডিসেম্বরে  আট দফা দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতি। প্রশাসন দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তারা। এছাড়াও বছরের শেষদিকে কর্মচারী সমিতি এবং কর্মচারী পরিষদের দুটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২০ সালের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই বছর সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান করেছি, আর সেটা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। বিগত ১৫ বছরে কোনও উপাচার্য এটা পারেননি। আর এ বছরে আমি ক্যাম্পাসের চেহারাই পরিবর্তন করে দিয়েছি। আগে হাঁটতে গেলে পায়ে ধুলা লাগতো, আর এখন সব পাকা রাস্তা। ক্যাম্পাসকে আলোকিত করেছি, বাস বৃদ্ধি করেছি, কেন্দ্রীয় মাঠ অনেক বড় করাসহ অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে এই ২০২০ সালে। এছাড়াও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মেগা প্রজেক্ট এনেছি সেটার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন কাজ হবে। আর সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করাচ্ছি যাতে কোনও ধরনের দুর্নীতি না হয়। সামনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশ সেরা এক আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়। জেবি
কুবিতে ২০২০ সালে যা ঘটেছে
ভর্তি পরীক্ষার কমিটি ও কেন্দ্র নিয়ে দ্বিমতে চার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের চারটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে একমত পোষন করলেও কমিটি গঠন ও কেন্দ্র নিয়ে দ্বিমতে রয়েছে। সিদ্ধান্তহীনতায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আজ বুধবার দেশের চারটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও তাদের মনোনীত প্রতিনিধিরা এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে  কোনো সুরাহা হয়নি।  ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন বুয়েটের সহ-উপাচার্য আবদুল জব্বার খান, চুয়েটের উপাচার্য মোহাম্মদ রফিকুল আলম, রুয়েটের উপাচার্য মো. রফিকুল ইসলাম শেখ ও কুয়েটের উপাচার্য কাজী সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।  ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল সভায় বুয়েটের তিনজন অধ্যাপকও যুক্ত ছিলেন। সভা সূত্রে জানা গেছে, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয় নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। এ বিষয়ে তাদের একাডেমিক কাউন্সিলেরও মত রয়েছে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার কমিটি গঠন ও কেন্দ্র নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। তাই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিলের দেয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্য তিনটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই তাদের সুস্পষ্ট মতামত ইউজিসিতে পাঠাবে। সেটির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এফএ
ভর্তি পরীক্ষার কমিটি ও কেন্দ্র নিয়ে দ্বিমতে চার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
স্বল্প মেয়াদে ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দিতে চায় বিসিবি
ব্যর্থতা গ্লানিকে ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: ফখরুল
স্বামী বিদেশ, দেবরের দিনের পর দিন ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ