ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কুবিতে ২০২০ সালে যা ঘটেছে

সাফায়িত সিফাত

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ পিএম
আরটিভি নিউজ

সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উৎসবের আমেজে বছর শুরু হয়েছিলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। তবে মার্চ থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের কারণে ছুটিতে সে আমেজ আর অক্ষুণ্ণ থাকেনি। বছরের বেশিরভাগ সময় সুনসান নীরবতাকে সঙ্গী করেই কেটেছে কুবির। অপরদিকে করোনার দীর্ঘ ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সার্বিকভাবে ঝিমিয়ে পড়লেও বছরের শেষপ্রান্তে শীত আসতেই যেন শুরু হয়েছিলো আড়মোড়া ভাঙার পর্ব। চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ঘিরে নাটকীয়তা, শাখা ছাত্রলীগের আসন্ন কমিটির পদপ্রত্যাশীদের দৌঁড়ঝাপ, কর্মচারী সমিতির আট দফা দাবিসহ নানামুখী ঘটনা ও কার্যক্রম বন্ধ ক্যাম্পাসের শীতল পরিবেশে উষ্ণতা ছড়াতে দেখা গিয়েছে।

অভিষেক সমাবর্তন

জানুয়ারির ২৮ তারিখে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসের প্রথম সমাবর্তনকে ঘিরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিলো ক্যাম্পাস। সমাবর্তন, রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের জাঁকজমকপূর্ণ তৎপরতাও ছিলো চোখে পড়ার মতো। সমাবর্তনে এবার পাঁচটি অনুষদ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মিলিয়ে মোট ২৮৮৭ জন অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতস্বরূপ চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসাবে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষার বাইরেও বৈচিত্রময় কার্যক্রমে হাজারো মানুষের পদচারণায় দীর্ঘদিন ছিলো উৎসবের আমেজ।

মানবিকতার আহ্বান

এদিকে দেশে করোনা আগমনের শুরুতেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট দেখা দেয়। তখন কুবির ফার্মেসি বিভাগ নিজেদের তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে ক্যাম্পাসে বিতরণের উদ্যোগ নিয়ে সারাদেশে প্রশংসা অর্জন করে। অপরদিকে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে একদিনের সমপরিমাণ বেতন প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এছাড়াও থিয়েটার-অনুপ্রাসসহ কুবির বিভিন্ন সংগঠন বা বিভাগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে এ সময়টায় মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে কাজ করতে দেখা গিয়েছে।

কোভিড-১৯

করোনায় কুবির বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হলেও এ পর্যন্ত সেরে উঠেছেন সবাই। জানুয়ারিতে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবাকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দিয়ে (লিভার ট্রান্সপ্লান্ট) অনন্য নজীর সৃষ্টি করেছেন কুবি শিক্ষার্থী উর্মি আচার্য। অপরদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানিন মেহেদী ক্যান্সারের সফল অপারেশন শেষে ফিরে এসেছে সকলের মাঝে। তবে জুন মাসে নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী ভূঁইয়া ও এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন স্টাডিজ বিভাগের সুজন আহাম্মেদের প্রয়াণে সম্ভাবনাময় দুই নক্ষত্র হারায় কুবি পরিবার। এদিকে অচল দু'টি কিডনি নিয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকার আশায় বুক বেঁধে আছে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তর সাহা।

নতুন ট্রেজারার

বন্ধের মধ্যেই চলতি বছরের জুলাই মাসের চার তারিখ চার বছরের জন্য ট্রেজারার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান। এর আগে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ট্রেজারের শূণ্য ছিলো কুবি।

এডুমেইল প্রতীক্ষার অবসান ও অনলাইন ক্লাস

জুন মাসে এক ভার্চ্যুয়াল সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ জুলাই থেকে কুবির পরিচয় ঘটে অনলাইন ক্লাসের সঙ্গে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বহু-প্রতীক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল বা এডুমেইল সেবা চালু হয়েছে ২৫ নভেম্বর।

শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ঘিরে নাটকীয়তা

সারাবছরের মধ্যে ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতি নির্বাচন-২০২১ কে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি নাটকীয়তা সৃষ্টি হতে দেখা গিয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদে ভাঙন ও উভয়পক্ষ থেকে নিজেদের নীল দল দাবি, শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তির জেরে নতুন নতুন প্যানেল ঘোষণা এবং পাল্টাপাল্টি নির্বাচন কমিশন গঠনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিবেশ। ফলে ১০ ডিসেম্বর রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে বাধ্য হয় কুবি প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হয় নীল দল (ড. শামীম-ড. কামাল প্যানেল)।

পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

গত মার্চ থেকে করোনার ছুটিতে থাকায় শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের সেশন জটে পড়েছে। একই সময়ে বিসিএসের ডাবল সার্কুলারসহ বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চলমান থাকায় সুযোগ হারানোর শঙ্কায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। আটকে থাকা চূড়ান্ত পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত নেয়ার দাবিতে নভেম্বরের শেষদিক থেকে মানবন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এমনকি ডিসেম্বরের ২ তারিখ প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেয় তারা। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাসে ডিসেম্বরের ২০ তারিখ থেকে পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করে কুবি প্রশাসন।

ছাত্রলীগের আসন্ন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১৬১ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কমিটির মেয়াদ ফুরিয়েছে অনেকদিন আগেই। তাই নতুন কমিটি কবে আসছে, নেতৃত্বে কারা আসবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। সেইসঙ্গে শুরু হয়েছে পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন তারা। এছাড়া বন্ধ ক্যাম্পাসেও সর্বশেষ ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ গণতন্ত্রের বিজয় উদযাপনে আনন্দ শোভাযাত্রা ও এর আগে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাংচুরের প্রতিবাদ কর্মসূচিসহ নানা ধরনের কার্যক্রমে নিয়মিত সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে নেতাকর্মীদের।

ক্যাম্পাসে হঠাৎ ছাত্রদলের কার্যক্রম

বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম কুবিতে ক্যাম্পাসে জোরেশোরে চললেও গেলো কয়েক বছরে ছাত্রদলের তেমন কোনও উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে ছাত্রদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হঠাৎ করেই ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ পোস্টারিং করে কুবি শাখা ছাত্রদল। তবে এর ঘণ্টাখানেক পরই উধাও হয়ে যায় সেসব পোস্টার। ছাত্রদলের অভিযোগ এসব পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।

নিয়োগ বিতর্ক

অফিস সহায়ক পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিলো বিতর্ক। মার্চে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে ৫ নম্বর রোলধারী প্রার্থী ফেল করলেও প্রকাশিত ফলাফলে তাকে পাস দেখিয়ে অফিস সহায়ক (একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অপর একটি পদ) পদে ১৮ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

কর্মচারীদের আন্দোলন-নির্বাচন

ডিসেম্বরে আট দফা দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতি। প্রশাসন দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তারা। এছাড়াও বছরের শেষদিকে কর্মচারী সমিতি এবং কর্মচারী পরিষদের দুটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০২০ সালের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই বছর সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান করেছি, আর সেটা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। বিগত ১৫ বছরে কোনও উপাচার্য এটা পারেননি। আর এ বছরে আমি ক্যাম্পাসের চেহারাই পরিবর্তন করে দিয়েছি। আগে হাঁটতে গেলে পায়ে ধুলা লাগতো, আর এখন সব পাকা রাস্তা। ক্যাম্পাসকে আলোকিত করেছি, বাস বৃদ্ধি করেছি, কেন্দ্রীয় মাঠ অনেক বড় করাসহ অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে এই ২০২০ সালে। এছাড়াও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মেগা প্রজেক্ট এনেছি সেটার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন কাজ হবে। আর সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করাচ্ছি যাতে কোনও ধরনের দুর্নীতি না হয়। সামনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশ সেরা এক আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়।

জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
শুভ জন্মদিন এম এম বাদশাহ
বাংলা টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটর এম এম বাদশাহ’র আজ জন্মদিন। ১৯৭৮ সালের পয়লা জানুয়ারি ঢাকার মান্ডায় তার জন্ম। বাবা সামছুল হক মোল্লা ও মা মমতাজ বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। পুরো নাম মো. বাদশাহ্ মিয়া। শৈশব থেকেই বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে ঘুরেছেন বিভিন্ন জেলায়। দাদাবাড়ি উজিরপুরের শোলক ইউনিয়নের যুগিহাটি গ্রামে। শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। এম এম বাদশাহ্ বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া বিএইচপি একাডেমী থেকে এসএসসি, মাদারীপুরের খোয়াজপুর সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ থেকে এইচএসসি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্সসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তার দ্বিতীয় মাস্টার্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ে। স্কুলে পড়া অবস্থাই লেখালেখি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তার ঝোঁক। বাদশাহ্ ২০০০ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) সাবেক সম্পাদক সাংবাদিক আবদার রহমান সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা (বর্তমানে সাপ্তাহিক) ‘শিক্ষা বিচিত্রা’র মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এর পর কাজের ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে দৈনিক মানবজমিনে নিজস্ব প্রতিবেদক, ২০০৪ সালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনে দীর্ঘমেয়াদী টেলিভিশন সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ শেষে ২০০৫ সালে নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এস’র ঢাকা অফিসে। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ইসলামিক টিভিতে নিজস্ব প্রতিবেদক(ক্রাইম), ২০০৮ সালের ১ আগস্ট বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভিতে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক (ক্রাইম), পাশাপাশি ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেডিও তেহরান ইরানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি, জাপানের প্রবাসী ম্যাগাজিন ‘দশদিক’র বিশেষ প্রতিনিধি ও ২০১৩ সালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএ টেলিভিশনে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে অপরাধ বিষয়ক বিটে যোগ দেন। সেখানে তিনি একইসঙ্গে ক্রাইম চিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে এসএ টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে এসএ টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলা টিভির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন।   এম এম বাদশাহ্ তার আলোচিত কিছু প্রতিবেদনের জন্য বেশকিছু স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ২০০৮ সালে টঙ্গীর নিরপরাধ ট্যাক্সি ড্রাইভার সুজনের জেল খাটার বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য হিউম্যান রাইটস এ্যাওয়ার্ড-২০০৮, অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য এ্যাডকোয়েস্ট সম্মাননা স্মারক-২০০৮, লেবাননে মহিলা শ্রমিক পাঠানোর নামে নারী পাচার শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য ‘মানবাধিকার শাইনিং এ্যাওয়ার্ড-২০০৯, দৃষ্টিহীন শিশুদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ‘অন্তরদৃষ্টি কথা বলে’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য সিএসএফ জার্নালিস্ট ফেলোশিপ এ্যাওয়ার্ড-২০১০, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রজ্ঞা এ্যাওয়ার্ড-২০১১, তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানির কূটকৌশল নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য যাত্রী-টিএফকে ফেলোশিপ-২০১২, ২০১৫ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে সরকারের গড়িমসির পেছনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য প্রজ্ঞা টোব্যাকো কন্ট্রোল জার্নালিজম এ্যাওয়ার্ড-২০১২ পেয়েছেন। একই বছর প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন রিপোর্টের জন্য সিএসএফ-ফ্রেড হলোজ জার্নালিস্ট ফেলোশিপ এ্যাওয়ার্ড-২০১২ পান। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মাদক পাচারসংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্ট (আইসিএফজে–ইউএসএ) ফেলোশিপ-২০১৩ নির্বাচিত হন তিনি। নেপালের কাঠমান্ডুতে অংশ নেন দক্ষিণ এশীয় ইয়ুথ জার্নালিস্ট কনফারেন্সে। ২০১৪, ২০১৫ সালে পেয়েছেন ‘লেপরোসি মিশন জার্নালিজম ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড’। ২০১৭ সালে তিনি বন্ধু মিডিয়া ফেলোশীপ ও ২০১৯ সালে পেয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন মিডিয়া ফেলোশীপ অ্যাওয়ার্ড।  ২০১৮ সালে তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে তুরস্ক’র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটিতে নিউ মিডিয়া ও ডিজিটাল জার্নালিজম কোর্সে অংশ নেন। ২০১৯ সালে জার্মান সংস্থা কনরাডের আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়া মোবাইল জার্নালিজম মোজো এশিয়া ২০১৯ এ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রায় ৩৩ দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে স্পীকার হিসেবে অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও মোবাইল জার্নালিজম ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন তিনি।এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসেএফজের ফেলো।   পেশাগত কারণে সফর করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ভুটান, ভারত, নেপাল ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল। সেসব দেশের নানা তথ্য তুলে এনেছেন তার প্রতিবেদনে। এম এম বাদশাহ্ ২০০৩ সালের ৩ জুলাই নাজনীন খানমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির যমজ সন্তান নাবিদ রহমান তুর্য্য ও নওশিন তাবাসসুম তৃণা। স্ত্রীর উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় সাংবাদিকতার নিত্যনতুন অনুসন্ধানী পথে এগিয়ে চলছেন। সামাজিক সংগঠন মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাব’র প্রতিষ্ঠাতা। Film Viewrs Society এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। মিডিয়া মিউজিয়ামের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির আদান প্রদান ও চলচ্চিত্র ডকুমেন্টারি তৈরি প্রদর্শনের কাজও করছেন তারা। সংগঠনপ্রিয় বাদশাহ্ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ২০১৭ সেশনে সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সেশনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালে ক্র্যাবের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচিত পরিচালক হিসেবে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ডিফেন্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জার্নালিস্ট ফোরাম ফর মাইগ্রেশন - জেএফএম'র প্রচার সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, রিপোর্টার্স এ্যাগেইনস্ট করাপশন – র‍্যাকের স্থায়ী সদস্য। তার পছন্দের রং নীল ও প্রিয় ফুল গোলাপ। আর খেতে ভালোবাসেন রুটি পিঠা ও গরুর মাংস। আর অবসর সময়ে এই সাংবাদিক ইয়ুথ ক্লাবকেন্দ্রিক কাজ করতে, গান শুনতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে পল্লী ভাটিয়ালী আর ভাবতত্ত্বের গান তার খুবই পছন্দের। বিশ্বাস করেন, ‘বিশ্বাস রেখো বুকের ভেতর প্রত্যয় অনুভবে, স্বপ্ন জয়ের যুদ্ধে এবার সফল তুমি হবেই। জিএ
শুভ জন্মদিন এম এম বাদশাহ
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক ইলিয়াস
জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রথম নারী সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন ইলিয়াস খান। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। ভোটগণনা শেষে রাতে নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিক ফোরামের প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৩৯৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওমর ফারুক পেয়েছেন ৩৯৩ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ৪১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন হাসান হাফিজ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া ৩৬৭ ও রাশেদ চৌধুরী ১৭৯ ভোট পান। সহ-সভাপতি পদে ৬১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রেজোয়ানুল হক রাজা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার হাসনাত করিম পেয়েছেন ৩৪০ ভোট। যুগ্ম সম্পাদকের দুটি পদে ৫৭৭ ভোট পেয়ে মাইনুল আলম ও আশরাফ আলী ৩৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নাজমুল আহসান ৩১৫ ভোট, কল্যাণ সাহা ২৫২ ভোট এবং সৈয়দ আলী আসফার ২১০ ভোট পান। কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। ১০টি সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- আইয়ুব ভুঁইয়া (৫৪৪), রেজানুর রহমান (৪৭৪), কাজী রওনাক হোসেন (৪৫৫), জাহিদুজ্জামান ফারুক (৪৪৩), শাহনাজ বেগম পলি (৪৩০), সৈয়দ আবদাল আহমেদ (৪২১), শাহনাজ সিদ্দিকী সোমা (৪২০), ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী (৪১১), রহমান মোস্তাফিজ (৩৭৯) এবং বখতিয়ার রানা (৩৬৮)। জাতীয় প্রেসক্লাবে মোট ভোটার এক হাজার ১৫১ জন। যার মধ্যে ১ হাজার জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ৮৬ দশমিক ৮৮ ভাগ ভোট পড়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ ২০২১-২২ সাল পর্যন্ত। নির্বাচনে ফরিদা ইয়াসমিন-ওমর ফারুক পরিষদ ও সবুজ-ইলিয়াস পরিষদ নামে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। মোট ৩৪ জন ১৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া কয়েকটি পদে প্যানেলের বাইরে আরও সাতজন প্রার্থী ছিলেন। কেএফ/এফএ
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক ইলিয়াস
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো। আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য আবেদনের সময় বাড়িয়েছে।  জানা গেছে, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের বয়স জটিলতায় অনেকে আবেদন করতে পারেনি, তারা ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। উচ্চ আদালতে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনের সময় বাড়িয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে স্থগিত হওয়া ভর্তির লটারি হবে ১১ জানুয়ারি। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ছয় বছরের বেশি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ১১ বছর। কিন্তু এবার বয়স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেকেই আবেদন করতে পারেনি। কিন্তু এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ডিজিটাল লটারি কার্যক্রম’ স্থগিত করে এখন আবেদন ও লটারির নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইনে আজ থেকেই আবেদন করা যাবে। আগামী ৭ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আবেদনের জন্য সফটওয়্যার চলমান থাকবে।  এর আগে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর ৩০ ডিসেম্বর অনলাইন লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচনের কথা ছিল। এফএ
মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো
আরও পড়ুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
স্বল্প মেয়াদে ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দিতে চায় বিসিবি
ব্যর্থতা গ্লানিকে ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: ফখরুল
স্বামী বিদেশ, দেবরের দিনের পর দিন ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ