
বিদ্যমান বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন-২০১৯ বলবৎ থাকার পরও পক্ষপাতদুষ্ট ও বিতর্কিত বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল আইন-২০২৩ গোপনীয়ভাবে, তড়িঘড়ি করে প্রণয়নের প্রতিবাদে গণজমায়েত ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি বিভাগ/অনুষদের শিক্ষার্থীরাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ২ হাজার ভেটেরিনারিয়ানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের (বিভিএ) ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ) এর সভাপতি ড. এস এম নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লার সঞ্চালনায় গণজমায়েত ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এমদাদুল হক তালুকদার, ১৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি শিক্ষার্থী, ডিন/ তাদের প্রতিনিধি, প্রফেসরবৃন্দ, ভেটেরিনারি ছাত্র সমিতির নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানরা।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডার এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নিতাই চন্দ্র দাস, সহসভাপতি ডা. আনিসুর রহমান, মহাসচিব ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। উপস্থিত সকলে বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল আইন-২০২৩ বাতিল এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদের অপসারণ ও শাস্তির দাবি করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রাণিসম্পদে সমৃদ্ধ পৃথিবীর সকল দেশের মত প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন, উৎপাদন, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, খাদ্য, সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা, প্রাণিজাত পণ্যের উৎপাদন সহ সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ প্রদান ও মান নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান যা বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন-২০১৯ এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। কাজেই নতুন করে এ সংক্রান্ত কোন আইন প্রণয়ন নিঃসন্দেহে বিভ্রান্তিকর ও জনস্বার্থবিরোধী। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী সচিব ড. নাহিদ রশীদ অবসর গ্রহণের ঠিক পূর্ব মূহুর্তে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে রাষ্ট্রের সকল রীতিনীতি ভঙ্গ করে বিতর্কিত বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল আইন-২০২৩ প্রণয়নের হীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আমরা তার এহেন উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তারা বলেন, প্রাণিসম্পদে কর্মরত ভেটেরিনারি ও এনিমেল হাজবেন্ড্রি দু’ধরণের গ্র্যাজুয়েটগণের মনস্তাত্তিক দ্বন্দ্ব ও বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ এর মধ্যস্থতায় সাবেক এম পি কৃষিবিদ জনাব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের উপস্থিতিতে বিসিএস লাইভস্টক এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ) ও বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি এসোসিয়েশন (বাহা) এর নেতৃবৃন্দ দীর্ঘ আলোচনার পর সমঝোতায় পৌঁছান। বিবাদমান দুটি ডিগ্রিকে কম্বাইন্ড কারিকুলামের মাধ্যমে সমাধানের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় এনিমেল হাজবেন্ড্রি গ্রেজুয়েট সচিব ড. নাহিদ রশীদ তার গোষ্টীর প্রতি স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন-২০১৯ এর কার্বন কপি বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল আইন-২০২৩ মন্ত্রণালয়ের সভায় উপস্থাপন পূর্বক আইন প্রণয়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে গ্র্যাজুয়েটগণের মধ্যের সংঘাত ও বিরোধ আরও উস্কে দিলেন। এতে বাধাগ্রস্থ হবে প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন, ক্ষতিগ্রস্থ হবে জনগণ।
বক্তারা আরও বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় এক হাজার পাঁচ শত ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েট নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। অপ্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্তের ফলে তাদের মাঝেও তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকার ও প্রশাসন নির্বাচন নিয়ে প্রচন্ড দায়বদ্ধতার সঙ্গে কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করছে। সেই মুহুর্তে সচিবের এ ধরনের এখতিয়ার বহির্ভূত বিতর্কিত আইন প্রণয়নের ন্যায় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত প্রণয়নের পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল আইন-২০২৩ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে কোনরকম মত বিনিময় ছাড়া সরকারের স্বীকৃত সংস্থা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ সকল স্টেক হোল্ডারদেরকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে তড়িঘড়ি করে কঠোর গোপনীয়ভাবে আইনটি প্রণয়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ। যার প্রতিবাদে প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন সংগঠন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মিছিল ও প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছে।




