ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মানহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।  ছবি: সংগৃহীত

মানহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উপাচার্যদের সংলাপের শেষ দিনের সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেখানে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা বাজেটের যে সমস্যা রয়েছে তা দূর হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে শিক্ষার অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও যেন আরও বেশি গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়, সেদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

রিভার্স ব্রেইন ড্রেইনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদেশে অনেক ভালো ফলাফল করে। পাশাপাশি গবেষণা ক্ষেত্রে তারা বিশাল সাফল্য দেখাচ্ছে। তাদেরকে দেশে এনে সেই মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।

আরও পড়ুন

তিনি বাংলাদেশে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের গুরুত্বের বিষয় তুলে ধরেন। এছাড়া মন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন অপচয়ের ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো বন্ধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জেড এন তাহমিদা বেগম।

‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে দুই দিনব্যাপী এ সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অংশগ্রহণ করেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
লিভ টুগেদার, গর্ভপাতসহ ইবির জিহাদুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভপাত করানো ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী জিহাদুল করিমের বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল এবং প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পরে তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগপত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে জিহাদুল করিমের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে মৌখিক ও লিখিতভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক সুবিধা নিতেন জিহাদুল করিম। এ ছাড়া ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন হোটেল বুকিং দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ওই ছাত্রী। পাশাপাশি তাকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করার অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে সমাধানের লক্ষ্যে উভয়কে বিবাহের মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্র বিবাহের প্রক্রিয়াটি এড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট কোড অব কন্ডাক্ট’ (শিক্ষার্থীদের আচরণবিধি) অনুসারে তাদের নৈতিক স্খলনের দায়ে শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জিহাদুল করিম বলেন, আমাদের চার বছরের সম্পর্ক ছিল। এখানে প্রলোভন আসবে কীভাবে? বরং উভয়ের সম্মতিতে সবকিছু হয়েছে।  গর্ভপাতের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বাচ্চা কনসিভ হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়নি। সবকিছুই সম্মতিতেই হয়েছে। নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, গত ৮ জুন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করার পরও তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি থানা কর্তৃপক্ষ। মামলা বা জিডি না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ইবি থানায় যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীর দাবি, জিহাদুল করিম ভুয়া কাবিননামা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়ে ‘পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য’ দিয়েছেন। এসব ডকুমেন্ট তৈরিতে জিহাদুলের বন্ধু আমিরুল ইসলাম (ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, শিক্ষাবর্ষ: ২০১৯-২০) সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, জিহাদুল করিম তার খালাতো ভাই রাকিব ইসলাম ও বন্ধু মিরাজের পরামর্শে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করিয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। এদিকে, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির বিষয়ে আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি না, শুধু সবাই জানত যে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আছে। এর বাইরে আর কিছুই জানি না। আমি পোর্টালে আমার নাম দেখে বন্ধুকে কল দিয়েছিলাম। সে নিজেও বলছে, আমার নাম কীভাবে আসল? বিশ্ববিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুজনের সম্মতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে বিয়ে করবেন বলে তারা লিখিত চুক্তিও করেন। বিয়ে ছাড়াই তারা লিভ টুগেদার করেন। ফলে গর্ভবতী হয়ে গেলে চূড়ান্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওই ছাত্রী। কিন্তু ছেলে সময় নিলে মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে দুজনের মধ্যে বিয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে কমিটি। ওই সময় মেয়ের পরিবার ও ছেলের পরিবার উপস্থিত হলে ছেলের পরিবার ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর এবং মেয়ের পরিবার ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দেনমোহর নিয়ে বনিবনা না হলে পরে ছেলের পরিবার সরে যায় এবং ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করে। মেয়েটির মা নেই, বাবা প্রবাসী। শক্ত অভিভাবক না থাকায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় যায়নি। আরটিভি/টিআর
লিভ টুগেদার, গর্ভপাতসহ ইবির জিহাদুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
তালা ভেঙে হলের রুমে ‘ঘাঁটি’ গাড়লেন নিশান
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) হল প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুলাই-৬ হলের ছয়টি স্টোররুমের তালা ভেঙে অবৈধভাবে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিশান নামে এক শিক্ষার্থী বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নিশান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের অনুসারী। সরেজমিনে জুলাই-৬ হলের দশটি স্টোররুম ঘুরে দেখা গেছে, হলের নিচতলা, দ্বিতীয় তলা, চতুর্থ তলা ও ষষ্ঠ তলা ছাড়া বাকি ছয়টি স্টোররুমের দরজার তালা ভেঙে সেখানে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মী অবস্থান করছেন। স্টোররুমে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. সিহাব হোসেন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সিয়াম, পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনিক দাস ও উৎসব কুমার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দশম তলার ১০২৪ নম্বর রুমে পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) অনিক দাস দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়া কীভাবে তিনি এই রুমটি পেলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিক দাস বলেন, এই রুমটি নিশান ভাইয়ের (ছাত্রদল কর্মী, গণিত বিভাগ, ১৬ ব্যাচ)। তিনি আমাকে উঠিয়ে দিয়েছেন। নবম তলার ৯২৪ নম্বর রুমে পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) উৎসব কুমার অবস্থান করছেন। স্টোররুমটিতে কীভাবে উঠেছেন জানতে চাইলে উৎসব কুমার বলেন, আমাকে নিশান ভাই রুমে উঠিয়ে দিয়েছেন। ভাইয়ের কাছে চাবি ছিল, তালা খুলে আমাকে তুলে দিয়েছেন। পঞ্চম তলার ৫২৪ নম্বর রুমে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (১৫ ব্যাচ) সিহাব হোসেন অবস্থান করছেন। তৃতীয় তলার ৩২৪ নম্বর রুমে গিয়ে দেখা যায়, রুমটিতে তালা ঝুলছে। তবে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া তালাটি সেখানে নেই। রুমের দেয়াল ও দরজায় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘সিয়াম, বিবিএ—১৭তম ব্যাচ’। এভাবে হলের বাকি ফ্লোরগুলোর স্টোররুমগুলোও বিভিন্ন ছাত্রদল কর্মীর দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রশাসনের দেওয়া তালা ভেঙে রুমগুলোতে নতুন তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁদের রুমে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল কর্মী নিশান বলেন, তালা ভাঙা হয়নি। নবম তলার স্টোররুমের তালা খোলাই ছিল। আর দশম তলার স্টোররুমে স্থাপত্য বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী তাদের কিছু জিনিস রেখেছিলেন। তাদের দুজনের পারিবারিক অবস্থা অনেক খারাপ হওয়ায় আমি হল প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করি, যেন তাদের ওই রুমে থাকতে দেওয়া হয়। পরে তারা প্রভোস্টের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই রুমে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, স্টোররুম দখলের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কারও স্টোররুমে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আরটিভি/টিআর
তালা ভেঙে হলের রুমে ‘ঘাঁটি’ গাড়লেন নিশান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্রেডিট নিতে আসেনি, কাজ করতে এসেছে: রাবি উপাচার্য
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্রেডিট নিতে আসেনি, কাজ করতে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যালারিতে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (পিডিএফ) উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি। উপাচার্য বলেন, আমার প্রশাসন কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য আসেনি, কাজ করার জন্য এসেছে। আমরা সেটাই করব এবং করে যাব। আমাদের সহযোগিতা করুন। আপনাদের দাবিগুলো খুব বেশি কিছু নয়। একটি র‍্যাম্প নির্মাণ, লিফট স্থাপন—এগুলো সামান্য কাজ। কোটি কোটি টাকার কাজ হচ্ছে, আপনাদের কাজ কেন হবে না? আপনারা নিজেদের সর্বোচ্চ মানসিক শক্তি দিয়ে গড়ে তুলুন এবং আগামীর জন্য প্রস্তুত হন। আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্বে রাখেন, তাহলে আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ছেলেমেয়েদের দেখলে আমার চোখের সামনে স্টিফেন হকিংয়ের চেহারা ভেসে ওঠে। রাতে ঘুমানোর আগে আমি বারবার স্টিভি ওয়ান্ডারের গান শুনতে পছন্দ করি। স্টিভি ওয়ান্ডার জন্মান্ধ ছিলেন। তিনি গোটা বিশ্ব জয় করেছেন। আমি হেলেন কেলারের কথা চিন্তা করি। দেখি মাইকেল জে. ফক্সকে, যিনি পারকিনসন রোগে ভুগেছেন। অসাধারণ মানসিক শক্তি দিয়ে তাঁরা পৃথিবী জয় করতে পেরেছেন, যেখানে আমাদের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা অনেকেই তা পারেননি। এটাই আপনাদের শক্তি।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নানা বাধা আসবে, তবে মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস, সংগঠনটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী। আরটিভি/টিআর
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্রেডিট নিতে আসেনি, কাজ করতে এসেছে: রাবি উপাচার্য
গোসলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড়, অতঃপর...
গোসল করাকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শহীদ মশিউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ভুক্তভোগীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। অভিযোগকারী জুয়েল আল ইমরান ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ মশিউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। অভিযুক্ত তানভীর হক একই শিক্ষাবর্ষের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য, অস্কারসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী জুয়েল আল ইমরানের অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে তিনি গোসল করতে ওয়াশরুমে গেলে সেখানে একটি বালতি দেখতে পান। তিনি বালতিটি বাইরে রেখে গোসল শুরু করেন। এ সময় তানভীর হক এসে ওয়াশরুমের দরজায় কয়েকবার নক করেন। পরে জুয়েল বের হলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর জুয়েল নিজ কক্ষে চলে গেলে তানভীর সেখানে গিয়ে তাকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জুয়েলের ভাষ্য, পরে তার বন্ধুরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে তাকে ক্যাম্পাসের আমতলায় নিয়ে যান। সেখানে তানভীর হক, রাজিন মাহমুদ খান কাব্য, অস্কারসহ কয়েকজনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। একপর্যায়ে তানভীর হঠাৎ তার বাম কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দিলে তিনি পড়ে যান। এরপরের ঘটনা তার আর মনে নেই বলে জানান জুয়েল। পরে সহপাঠীরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমার মণ্ডল বলেন, জুয়েলের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কানে রক্ত জমেছে। তার ধারণা, কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে কানের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত তানভীর হক বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুমে থাকা তার কাপড়ভর্তি বালতি বাইরে রেখে জুয়েল গোসল করতে যান। বিষয়টি জানতে তিনি দরজায় নক করলে জুয়েল তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পর আমতলায় দুই পক্ষের কয়েকজন বসেন। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তার বন্ধুরা তার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন। পরে বিষয়টি গুরুতর মনে হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জুয়েলের কানে গুরুতর সমস্যা হয়েছে, তা তিনি শনিবার সকালে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তানভীর। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বলেন, তারা বিষয়টি নিজেদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছিলেন। এ জন্য সবাই একসঙ্গে বসেছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হক জুয়েলকে কানে থাপ্পড় মারেন। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে তারা জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। শহীদ মশিউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, জুয়েল হলের ৪২৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। গোসলের সময় তানভীর হকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তারা হলের বাইরে আমতলায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। সেখানে একপর্যায়ে তানভীর জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেন। পুরো ঘটনা লিখিতভাবে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তার লিখিত অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জুয়েলকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, অভিযুক্ত তানভীর হক চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা ছাত্রদলের কর্মী এবং রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপের অনুসারী—এমন দাবি করা হয়েছে। তবে এ রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আরটিভি/টিআর
গোসলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড়, অতঃপর...
ছেলেদের হলে গোসলের ভিডিও ধারণের সময় মোদ্দাদেকুর ধরা, অতঃপর...
ঢাকা কলেজের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলে গোসলের ভিডিও ধারণকালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ-এর শিক্ষার্থী মোদ্দাদেকুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাকে মারধর করে কলেজ প্রশাসনের জিম্মায় দেয় শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে পুলিশ ও ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যস্ততায় ওই শিক্ষার্থী তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে। জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোদ্দাদেকুর রহমান সিটি কলেজ থেকে বিবিএতে অনার্স এবং বিইউপি থেকে এমবিএতে মাস্টার্স করেছেন। ওয়াসরুমের ভিডিও ধারণের সময় শিক্ষার্থীরা হাতেনাতে আটক করে ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। আটকের পর তার মানসিক ও হরমোনজনিত সমস্যা আছে বলে দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী।  এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ উত্তর ছাত্রাবাসের প্রভোস্ট মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, বহিরাগত একজনকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারন করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে। তখন শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনকে অবগত করেন। পরে কলেজ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তার অভিভাবককে অবগত করে। সে যে ভিডিওটা করছে, এই ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তিনি জানান, অভিভাবকরা তার মানসিক সমস্যার কথা বলছেন। তবে তাকে থানায় সোপার্দ করা হয়েছে নাকি অভিভাবকের কাছে সোপার্দ করা হয়েছে, এই বিষয়ে নিশ্চিত করেন নি। আরটিভি/ এসকেডি 
ছেলেদের হলে গোসলের ভিডিও ধারণের সময় মোদ্দাদেকুর ধরা, অতঃপর...
আরও পড়ুন
র‌্যাংকিংয়ে ৫০০’র মধ্যে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শাখা খোলার অনুমতি দেবে বাংলাদেশ
নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
মিড-ডে মিলে আসছে কুপন, খাবার পছন্দ না হলে ‘টাকা থাকবে’ শিক্ষার্থীর কাছে
জানুয়ারিতে নতুন বই, প্রাথমিকে দেওয়া হবে ইউনিফর্ম: শিক্ষামন্ত্রী