
দেশের অনেক শিক্ষার্থীই ক্যারিয়ার গড়তে চান বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে। তাদের জন্য বড় এক সুখবর নিয়ে হাজির হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে শিক্ষা ভিসায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। এই পরিকল্পনায় আছে আর্থিক প্রমাণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদেরকে ভিসা দেওয়া বিষয়টি। সেইসঙ্গে থাকছে পার্টটাইম কাজের সুযোগ এবং পড়াশোনা শেষেও দেশটিতে তিন বছর থাকার অনুমতি। তবে, এ জন্য থাকবে হবে কোরীয় ভাষায় দক্ষতা।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাবে কোরীয় ভাষায় দক্ষতা, পড়াশোনার ফলাফল এবং কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কোরীয় ভাষায় নির্দিষ্ট পর্যায়ের দক্ষতা অর্জন করতে পারলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পাওয়া, পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করা এবং স্নাতক শেষে দেশটিতে থাকার সুযোগ বাড়তে পারে।
২০২৭ সালের মধ্যে তিন লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ১৪ হাজারে। এবার শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়িয়ে চার লাখে নেয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটি। এ লক্ষ্যে দেশটির আইন মন্ত্রণালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসাব্যবস্থা উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক পরিষদের সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত সামনে এনেছে। গত এপ্রিলে গঠিত এই পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী জিনসু লি। উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরাও এতে যুক্ত রয়েছেন।
ভিসা পেতে ভাষা পরীক্ষায় লাগবে লেভেল ৪ দক্ষতা
নতুন প্রস্তাবিত নিয়মে কোরীয় ভাষায় মধ্যম পর্যায়ের দক্ষতা থাকলে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে না। এ সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের কোরীয় ভাষা দক্ষতা পরীক্ষায় (টিওপিআইকে) লেভেল ৪ অথবা কোরিয়ান ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রামে(কেআইআইপি) লেভেল ৪ অর্জন করতে হবে।
তবে যেসব শিক্ষার্থীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে বিবেচিত হবে, তাদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য নাও হতে পারে। একইভাবে পড়াশোনার পরিবর্তে চাকরিকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার আশঙ্কা থাকলে তাদের জন্য ‘স্টাডি এক্সপেন্স সিকিউরিটি ডিপোজিট সিস্টেম’ চালু হতে পারে। এ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য শিক্ষার্থীকে অর্থ জমা রাখতে হবে।
পার্টটাইম কাজের সুযোগ পেতেও লাগবে ভাষাদক্ষতা
নতুন প্রস্তাবে শুধু ভিসা পাওয়াই নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের সুযোগের ক্ষেত্রেও কোরীয় ভাষার দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত মানদণ্ড অনুযায়ী, পার্টটাইম কাজের যোগ্যতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের টিওপিআইকে লেভেল ৩ থাকতে হবে। পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়তে যেতে আগ্রহীদের জন্য কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যথেষ্ট হবে না। সঙ্গে ভাষা শেখা ও ভালো একাডেমিক ফলাফল ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পড়াশোনা শেষে সর্বোচ্চ তিন বছর থাকার সুযোগ
দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষ করেও দেশটিতে থাকার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, বিদেশি স্নাতকেরা তাদের কোরীয় ভাষার দক্ষতা এবং চাকরির প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি পেতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক বজায় রাখতে নতুন একটি ভিসা চালুর বিষয় বিবেচনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত ভিসাটির নাম ‘কোরিয়ান স্টাডি অ্যালামনাই ভিজিটর ভিসা’।
বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, উৎপাদনশিল্প এবং বিশেষায়িত কারিগরি পেশায় পড়াশোনা করা স্নাতকদের এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্যতা এবং কোরীয় ভাষার শর্ত পূরণ করতে পারলে তারা দক্ষ কর্মী ভিসা (ই-সেভেন) পাওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার বিবেচনা পেতে পারেন।
আরটিভি/এসএইচএম


