ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত, বঞ্চিতদের ক্ষোভ

কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:১০ পিএম

কুড়িগ্রামে একই ইউনিয়নে একই ধরনের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবারে এমপিওভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে একই মালিকের দুই প্রতিষ্ঠান এমপিও হলেও একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সদর ইউনিয়নে এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যেই ৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে একই মালিকের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার একটির পরিত্যক্ত ভবন থাকলেও নেই কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দেখিয়ে এমপিও হবার সুযোগ গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে। জরাজীর্ণ আর পরিত্যক্ত এই ভবনটি দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে হাটের গরু রাখাসহ মাদকাসক্তদের অপকর্মের আস্তানা হয়ে উঠেছে।

এমপিওর তালিকায় নাম আসার পরপরই রাতারাতি সোনাহাট ইউনিয়নের ঘুন্টির মোড়ের অন্য প্রতিষ্ঠান উপমা মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউটের নাম পরিবর্তন করে এফএ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউটের ব্যানার লাগানো হয়েছে। টিনশেড এই প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো শিক্ষার্থী। নেই ক্লাস চলার কার্যক্রম। কাগজ-কলমে পরিচালনা হলেও পরিত্যক্ত এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তি তালিকায় কিভাবে গেল এ নিয়ে রয়েছে জনমনে প্রশ্ন। অপরদিকে সদ্য এমপিওভুক্ত হওয়ায় ২৮ শতক জমিতে গড়া এফএ টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউটে চলছে পরীক্ষা। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের জ্ঞান ছাড়া পায় না কোনো কারিগরি শিক্ষা। এই প্রতিষ্ঠানে ল্যাবসহ কম্পিউটারের সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও এমপিও হয়েছে কম্পিউটার বিজ্ঞান শাখা। কাগজে-কলমে স্থান ও ছাত্র-ছাত্রীর নাম ঠিকঠাক থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ধলডাঙ্গা ইউনিয়নের দিয়াডাঙ্গা টেকনিক্যালের অধ্যক্ষ ফেরদৌসুল আরেফিন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদর ইউনিয়নের গরুর হাটের পাশে তার নিজ নামের আদ্যক্ষর (এফএ) নাম দিয়ে একটি মহিলা এবং কিছু দুরে দেওয়ানের খামার এলাকায় একটি সাধারণ টেকনিক্যাল ও বিএম কলেজ খোলেন। একটিতে তার স্ত্রীকে অধ্যক্ষ অপরটিতে তার ছোট ভাইকে অধ্যক্ষ করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হলে মহিলা বিএম এর অধ্যক্ষ করেন তার চাচাকে। এসব বিদ্যালয়ে দিয়াডাঙ্গা বিএম থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থী দেখিয়ে পরীক্ষা দেয়া হয়। এফএ’র দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কয়েক বছর আগে পাসকৃত অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যমান রয়েছে।

এফএ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মোদ্দাছেরুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের মূল জায়গায়টি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায়। আগে উপমা মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউট থাকলেও তাদের কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় এটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাই আমরা এক বছর ধরে মাসে ১০ হাজার টাকা ভাড়ায় ২৬ শতক জমিতে গড়া এই টিনশেড ঘরেই এফএ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউট পরিচালনা করছি। টিনশেড এই ঘরগুলোতে ক্লাস পরিচালনার জন্য পাওয়া যায়নি কোনো বেঞ্চ, বোর্ড কিংবা পাঠদানের সরঞ্জামাদি। তার দাবি ক্লাস হয় নিয়মিত। এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ১৯০ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষক ৪ জন ও স্টাফ রয়েছে ৬ জন। এফএ টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউট ও এফএ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউট নেই কোনো ল্যাব, নেই কোনো কম্পিউটার। এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ পর্যন্ত কোনো কারিগরি প্রশিক্ষণের ক্লাসই করেননি। এফএ টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ আল-মামুন ল্যাব ও কম্পিউটার না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসা হচ্ছে। এখানে সরকারি বা বেসরকারি কোনো অনুদান আমরা পাইনি। এখন এমপিও হয়েছে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ২৮ শতক জমিতে স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষক আছে ১২ জন।

স্থানীয় বাসিন্দা, বুলবুলি, রবিউল, মন্টু ব্যাপারী বলেন, এফএ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউটের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তবে ৫ বছর আগে এখানে এফএ টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউট ছিল। সেটিও ছাত্র-ছাত্রী না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক ফেরদৌসুল আরেফিন সে নিজেও এমপিওভুক্ত দিয়াডাঙ্গা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। তার বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে রংপুর ও ভূরুঙ্গামারীতে। নতুন এমপিও স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে তারই নিজের ছোট ভাই ও চাচাকে অধ্যক্ষ হিসেবে রেখেছেন।

এমপিওভুক্ত না হওয়া মইদাম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিয়াজুল বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী শিক্ষকদের। তারা ২২ বছর ধরে এমপিওর আশায় থাকলেও নামসর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে এবার এমপিও।

এফএ টেকনিক্যাল অ্যান্ড আইটি ইন্সটিটিউটের মালিক ফেরদৌসুল আরেফিন পরিত্যক্ত ভবনের কথা স্বীকার করে জানান, কাগজপত্র সব ঠিকঠাক রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী না পাওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এনে ভর্তি দেখানো হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কখনই শতভাগ দেখানো সম্ভব নয়। তবে যখন পরিদর্শনে আসে তখন সেগুলোই দেখানো হয়। এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। এরমধ্যে তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি আগেই এমপিও ছিল। এবারই তার নিজের দুটি প্রতিষ্ঠান এমপিও হয়েছে। এক কিলোমিটারের মধ্যে বলতে কোনো বিধিনিষেধ নেই। একই উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬টি প্রতিষ্ঠান এমপিও হতে পারে।

ওই দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও একই ইউনিয়নে ভূরুঙ্গামারী টেকনিক্যাল ও বিএম কলেজ, ভূরুঙ্গামারী মডেল টেকনিক্যাল ও বিএম কলেজসহ জয়মনির হাট ইউনিয়নে একটি উপজেলায় মোট ৫টি টেকনিক্যাল ও বিএম কলেজ এমপিওভুক্ত হয়েছে। এমপিও তালিকা যাচাই-বাছাইয়ে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে একই ইউনিয়নে চারটি একই ধরনের প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে বলে অভিমত শিক্ষাবিদদের। অন্যদিকে দীর্ঘদিন থেকে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রকৃত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হয়ে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্তি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বঞ্চিত শিক্ষক।

গত ২৩ অক্টোবর ঘোষিত এমপিও তালিকা অনুযায়ী এইচএসসি বিএম কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ভূরুঙ্গামারীতে-৫টি, চিলমারী দুটি, উলিপুর, রাজারহাট ও রৌমারীতে একটি করে। মাদরাসা আলিমস্তর নাগেশ্বরী ও রাজিবপুরে একটি করে। মাদরাসা দখিলস্তর সদর, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ি, রাজারহাটে একটি করে। মাধ্যমিক স্তর রৌমারীতে ৭টি, ভূরুঙ্গামারী ও উলিপুরে দুটি করে, চিলমারী, রাজিবপুর, রাজারহাট ও সদরে একটি করে। নিম্নমাধ্যমিক স্তর রৌমারীতে দুটি। উচ্চ মাধ্যমিক (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ফুলবাড়িতে একটি। উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) নাগেশ্বরী একটি। কৃষি প্রতিষ্ঠানে রাজারহাট, উলিপুর, রৌমারীতে একটি করে এবং ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রৌমারীতে দুটি।

জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম বলেন, জেলায় ১৯টি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি মাদরাসা ও ১০টি এসএসসি বিএম প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী চারটি শর্ত পূরণ করলে এমপিও পাওয়া যায়। শর্তগুলো হলো- প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হারের ভিত্তিতে অনলাইনে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে এমপিও হবার আবেদন করেছেন।

তিনি স্বীকার করে বলেন, জেলায় এখনও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যাদের যোগ্যতা থাকার পরেও এমপিও হয়নি। তবে এমপিও চলমান প্রক্রিয়া সেহেতু পর্যায়ক্রমে হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আর অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, অনলাইনে কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকলেও সরকার বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে পুনর্বিবেচনা করবেন ও ব্যবস্থা নেবেন।

পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জিপিএ-৫ না পেয়ে জেএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা
বরিশাল নগরীতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সারিয়া আক্তার (১৪) নামের এক পরীক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরে দুপুরে নিজ বাড়িতে সে  আত্মহত্যা করে। আত্মহননকারী সারিয়া আক্তার নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা বরিশাল কলেজের সাবেক ভিপি শাহীন হাওলাদারের মেয়ে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিপিএ-৫ না পেয়ে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত স্কুল ছাত্রীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের লাশ সংরক্ষণ কক্ষে রাখা হয়েছে। এজে
জিপিএ-৫ না পেয়ে জেএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা
জেএসসিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৮.৮০ শতাংশ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের জেএসসি পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বছর ২ লাখ ৭০ হাজার ৯৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ১৩১ জন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বোর্ডে এবার ফলাফলে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ বছর এক হাজার ৯২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তিনি আরও জানান, কুমিল্লা বোর্ডের ৬টি জেলার মধ্যে কুমিল্লা জেলার ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাশ করেছে যা বোর্ডের মধ্যে সেরা। এজে
জেএসসিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৮.৮০ শতাংশ
এই প্রথম ফল প্রকাশ করলো ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
নবগঠিত ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষার প্রথম ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে পাশের হার ৮৭ দশমিক ২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের হাতে ফলাফল তুলে দেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শামসুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর কিরীট কুমার দত্ত, কলেজ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান, উপ-সচিব মশিউল আলম, মনিরুজ্জামান ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহসিনা বেগম। ময়মনসিংহ বোর্ডে ২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষায় এক হাজার ৪৮৪ টি স্কুলের এক লাখ ৬১ হাজার ৩৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার ৭১৭ জন পাস করেছে।  বিভাগের মধ্যে পাসের হার শেরপুর জেলায় ৯০ দশমিক ০৫ শতাংশ, জামালপুরে ৮৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৮৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও নেত্রকোনায় ৮৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। একটি স্কুল থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী ছিল তাদের কেউ পাশ করেনি।  জেবি
এই প্রথম ফল প্রকাশ করলো ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
জেএস‌সি‌তে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৯৪.১০ শতাংশ
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এবছর জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৯৪.১০ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়েদের পাশের হার ৯৪.৮৭ এবং ছেলেদের পাশের হার ৯৩.৩০ শতাংশ। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯৪.৫৭ শতাংশ। ২০১৭ সালে ছিল ৯৫.৫৪ শতাংশ। এবারে পাশের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪.১০ শতাংশ। এবছর মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৭৮ জন। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৭৮ জন ছেলে এবং ৯ হাজার ২০০ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। শুধুমাত্র রাজশাহী জেলায় মোট ২ হাজার ৬৪৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারের মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৩ জন। এদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৮৬ জন। এজে
জেএস‌সি‌তে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৯৪.১০ শতাংশ
প্রাথমিকে পাস ৯৫.৫০ শতাংশ, ইবতেদায়িতে ৯৫.৯৬ (ভিডিও)
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি (পিইসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবার প্রাথমিকে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ আর ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এসব তথ্য তুলে ধরে বলেন, প্রাথমিকে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ আর ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন, ইবতেদায়িতে ১১ হাজার ৮৭৭ জন। এবার সমাপনীতে মোট ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৩ জন পাস করেছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১০ লাখ ৭২ হাজার ১৫৪ জন ছাত্র ও ১২ লাখ ৭১ ৫৮৯ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন। এদের মধ্যে ছাত্র এক লাখ ৪১ হাজার ৪৫১ ও ছাত্রী এক লাখ ৮৪ ৬৩৭ জন। অন্যদিকে ইবতেদায়িতে এবার তিন লাখ চার হাজার ১৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৬ জন। এদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার ৮৩৫ জন ও ছাত্রী এক লাখ ৪১ হাজার ৪০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৭৭ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৫৬৮৫ জন ও এক হাজার ১৯২ জন ছাত্রী। ফল বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, এবার ইবতেদায়ি পরীক্ষায় ছাত্রদের সংখ্যা বেশি হলেও গড় পাসের দিক থেকে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। সর্বোচ্চ পাসের হার বিবেচনায় ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় দেশের আট বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। নওগাঁ জেলায় পাসের হার শতভাগ। তিনি আরও বলেন, এবার সারাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ২৪০ জন এবং ডিআরভুক্ত হয়ে ২১৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে ১৯৭ জন পাস করেছে। তার মধ্যে ছাত্র ১১৪ জন এবং ছাত্রী ৮৩ জন। এ স্তরে পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা। পি
প্রাথমিকে পাস ৯৫.৫০ শতাংশ, ইবতেদায়িতে ৯৫.৯৬ (ভিডিও)
আরও পড়ুন
কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা সাত দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস
শীতের তীব্রতা বেড়েছে কুড়িগ্রামে (ভিডিও)
বিএসএফের গুলিতে আহত যুবকের মৃত্যু
কুড়িগ্রামে বিরল প্রজাতির বনরুই উদ্ধার