ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নোবিপ্রবির শীতকালীন ছুটি বাতিল, চলবে ক্লাস-পরীক্ষা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৪১ পিএম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শীতকালীন ছুটি বাতিল করে ক্লাস, পরীক্ষা ও অফিস চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ. দা.) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের আদেশক্রমে ২২ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্বঘোষিত শীতকালীন ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং ক্লাস,পরীক্ষা ও অফিস চলমান থাকবে।

এফএ/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্টার্টআপ স্টুডিও নিয়ে আসছে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ ফাউন্ডেশন’ 
তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়তা পাওয়া স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ কার্যক্রম এবার পূর্ণরূপে নতুন প্লাটফর্ম নিয়ে হাজির হচ্ছে। দেশের ইনোভেশন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নতুন মাত্রা যোগ করার জন্য নতুন বছরের শুরুতেই আত্মপ্রকাশ ঘটবে স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ ফাউন্ডেশনের (এসটুএস ফাউন্ডেশন)। নতুন উদ্যামে শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ আইডিয়া ও উদ্ভাবনগুলোকে সামনে এগিয়ে নিতে এসটুএস ফাউন্ডেশনের আগমন প্রসঙ্গে এর আয়োজকরা জানান, স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ কার্যক্রমে সারাদেশের শিক্ষার্থীদেরকে যুক্ত করে তাদের প্রশিক্ষণ, যাচাই-বাছাই ও তাদেরকে সহযোগিতা প্রদানসহ সার্বিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের কাজ করেছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলো সরকারি অনুদান সংগ্রহের পর কী করবে, কীভাবে নিজেদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, তাদের লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে নির্ধারণ করবে এমন অনেক প্রশ্নই তাদের কাছে অজানা থেকে যায়। স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপের পূর্বের দুটো অধ্যায়ের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে প্রায় ১২ হাজারের বেশি আবেদন এসেছিল। কিন্তু অনেক সম্ভাবনাময় আইডিয়াই সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে ঝরে পড়েছে। অনুষ্ঠান শেষে সরকারি ও বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের থেকে যেই স্টার্টআপগুলো বাছাই করা হয় তাদের অনেকেও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি; যার মূল কারণ সঠিকভাবে ‘ইনকিউবেশন’ না করা এবং কনসেপ্ট ও রোডম্যাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে কার্যকর করে গড়ে তুলতে সঠিক কনসেপ্টগুলোর চর্চা ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা তৈরির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্টভিত্তিক স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা। আর এই লক্ষ্য পূরণের জন্য অনেকগুলো নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে ২০২২ সালের শুরুতেই আমরা যাত্রা শুরু করছি। যারা নতুন স্টার্টআপ বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন তাদের জন্যও থাকছে নতুন নতুন চমক, যা বাংলাদেশে এর আগে কেউ করতে পারেনি।  স্টার্টআপ সংস্কৃতি ও ইকোসিস্টেম তৈরিতে এই ফাউন্ডেশন অনন্য এক মাত্রা যোগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্ল্যাটফর্মের সাবেক সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীরা। এ উপলক্ষে এসটুএস কোর্ডিনেশন সেলের সদস্যদের নিয়ে ‘হোমকামিং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ ফাউন্ডেশনের নতুন আঙ্গিকে যাত্রার কথা জানানো হয়। উল্লেখ্য, আশিকুর রহমান রূপকের তত্ত্বাবধায়নে ২০১৮ সাল থেকে কাজ শুরু করে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ কোর্ডিনেশন সেল। এ সময় আইসিটি ডিভিশনের আইডিয়া প্রকল্প ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) তারুণ্যের প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলার সঙ্গে একত্রে কাজ করে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ টিম। এ ছাড়াও সরকারি বেসরকারি কিংবা যৌথ উদ্যোগের একাধিক স্টার্টআপ-ইনোভেশন প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও মেন্টরিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল এই তরুণ টিম। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, করোনাভাইরাস ও সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রায় দুইবছর পর আজ আমরা একত্রিত হয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা বিগত ১ বছর নিজেরা বিভিন্ন মিটিং, রিসার্চ ও ব্রেইনস্টর্মিং সেশনের মাধ্যমে স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্মটির জন্য একটি সাস্টেইনেবল পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমরা সিক্সপি(6P) মডেলের মাধ্যমে ইকোসিস্টেমের অন্তর্গত পিপল, প্রোসেস, প্ল্যাটফর্ম, প্রোপাগেশন, পলিসি ও প্যারাডাইম নিয়ে কাজ করব। এই পুরো ফাউন্ডেশনটিকে মূলত একটি বৃহৎ স্কেলের স্টার্টআপ স্টুডিও হিসেবে পরিচালনা করা হবে যেন যেকোনো শিক্ষার্থী, উদ্ভাবক কিংবা স্টেকহোল্ডার এটার অংশ হতে পারে যা বাংলাদেশে এই প্রথম। তাছাড়া প্ল্যাটফর্মটিকে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিন্তা না করে একটি এনপিও হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যেন ইকোসিস্টেমে সাপোর্ট প্রদানকারীর ভূমিকা পালনের অগ্রাধিকারে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি না সৃষ্টি হয়। আমরা চাই, সকলের অংশীদারত্বের মাধ্যমে একটি ইনক্লিউসিভ ও স্ট্যান্ডার্ড নলেজভিত্তিক ইকোসিস্টেম যেন গড়ে তুলতে। এবং যেভাবে আমরা সকলের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া ও সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। এসএ/টিআই
স্টার্টআপ স্টুডিও নিয়ে আসছে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ ফাউন্ডেশন’ 
ডুফার নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক
ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফ্রেন্ডস অ্যালায়েন্স-ডুফার নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাবির কার্জন হলের উদ্ভিদবিজ্ঞান অডিটোরিয়ামে এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একইসাথে বিদায়ী কমিটিকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয় কমিটির পক্ষ থেকে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডুফার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক গাজী হাসান জামিল। এ সময় অপর দুই কমিশনার রফিক উল্লাহ রোমেল ও সানজিদা রিপা উপস্থিত ছিলেন।   বিদায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার শফিকুল ইসলাম বর্তমান সভাপতি বদরুল হক অনুর কাছে ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক জিএম আখতার হুসেইন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হোসেনের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন। পরে সদস্যরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। এর আগে ডুফার সদস্যরা নানা ধরনের আপ্যায়নে অংশ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত সংগঠন ডুফা। এমএন
ডুফার নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক
রাবি শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে পারবে কর্মকর্তারাও!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ১৯৭৩ সালে গৃহীত অধ্যাদেশের ২৫টি ধারা আবার বিজ্ঞপ্তি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। যা অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষক, প্রোক্টরিয়াল বডি এমনকি কর্মকর্তাও যেকোনো শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নিজ বিবেচনায় জরিমানা ও শাস্তি দিতে পারবে। এমন ক্ষমতায়নে শঙ্কায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৯ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর লিয়াকত আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৭টি পয়েন্টে এসব নিয়ম প্রকাশ করে। পরে তা আবাসিক হলগুলোতে নোটিশ আকারে টাঙিয়ে দেয় হল কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে ৫ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক ও অফিসারের প্রোক্টরিয়াল ক্ষমতা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যা যথোপযুক্ত সে ব্যবস্থা নিতে পারবেন যা প্রোক্টর মহোদয়কে রিপোর্ট করবেন।’ উল্লেখিত আরও কয়েকটি ধারা হলো, প্রোক্টরিয়াল বডির ক্ষমতা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসহ প্রত্যেক হলের কমন রুম ও ক্যানটিনেও, রাতের খাবারের পর হলে প্রাধ্যক্ষের ইচ্ছেমতো সময়ে রোল কল হবে, এ সময় অবশ্যই নিজকক্ষে থাকতে হবে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদ, বিভাগীয় সমিতি ছাড়া কোনো সংগঠন গঠন করতে পারবে না। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মেস বদল করতে লাগবে তার হল প্রাধ্যক্ষের অনুমতি। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে অবস্থান করা আবশ্যকসহ সব শিক্ষার্থীদের অধ্যাদেশ অনুযায়ী আরও কিছু ধারা মেনে চলতে হবে। পুরাতন ও অসংশোধিত এইসব অধ্যাদেশকে কঠোর ও শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বলে অভিহিত করে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রনেতা ও অনেক শিক্ষকরাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে বিষয়টিকে নিয়ে অনেক সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামক একটি গ্রুপে বিজ্ঞপ্তিটির ছবি পোস্ট করা হলে সেখানে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। পোস্টে শ্রাবণী বিশ্বাস নামের একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘এটি পড়ে আসামি আসামি ফিল হচ্ছে। মনে হচ্ছে মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের অনুমতি ব্যতিত দেশ (রাজশাহী) না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ পুরাতন অধ্যাদেশ বর্তমানে প্রচলিত হিসেবে দেখা না গেলেও এ নিয়ে শঙ্কায় নতুন শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এত নিয়ম-কানুন আমাকে হতবাক করেছে। আমরা যারা নতুন, এসব নিয়ম দেখে অনেকটা ভীত হয়ে পড়েছি। অনেকটা শঙ্কিতও আমরা। কারণ, নতুন হিসেবে ভুল হয়ে যেতেই পারে। এ ছাড়া একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তারাও শাস্তির আওতায় আনতে পারবে এটি কাম্য নয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসব ছাত্র অবান্ধব আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের নিয়মকানুন মোটেই কাম্য নয়। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের জন্য যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে, এই বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জোরদার করবে। কিন্তু এর নাম করে যে শিক্ষার্থীদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে এটা ঠিক না।’ তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি ভারপ্রাপ্ত প্রোক্টর মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘এটি নতুন কোনো বিষয় না। এটি অনেক পুরনো একটি বিধিবিধান। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের জানার জন্য দেওয়া হয়েছে যে এরকম বিধিবিধান আছে। যেসব স্বাভাবিক নিয়ম কানুনে আমরা অভ্যস্ত সেগুলোর জন্য এই মুহূর্তে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই।’ এমএন/টিআই
রাবি শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে পারবে কর্মকর্তারাও!
ঢাবির ছাত্রী হল ইস্যুতে ভিসিসহ ৬ জনকে আইনি নোটিশ
বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে থাকতে পারবে না, এমন বিধান বাতিল চেয়ে ঢাবি উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ ৬ জনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আজ বুধবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাবির আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ নোটিশ পাঠান। সিদ্ধান্ত বাতিলে তিন দিনের সময় দিয়ে ঢাবি উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, সামসুন্নাহার হল, কুয়েত-মৈত্রী হল ও সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট বরাবরে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে শিশির মনির বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, ঢাবির কয়েকটি ছাত্রী হলে বিবাহিত হওয়ার কারণে কতিপয় ছাত্রীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। সামসুন্নাহার হলের আবাসিক ছাত্রীদের সিট বণ্টন সম্পর্কিত ও অন্যান্য  নিয়মবিধির ১৬ নং বিধিতে বলা হয়েছে ‘কোন ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবে। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তার সিট বাতিল হবে। শুধুমাত্র বিশেষ ক্ষেত্রে, বিবাহিত, ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবে না। ’ এ বিধানের ফলে বিবাহিত শিক্ষার্থীরা হলের আবাসিক সুবিধা গ্রহণ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এমন বৈষম্যমূলক বিধান থাকার বিষয়টি প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে। নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং ২৮ (১) ও (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। বিবাহিত ছাত্রীদের জন্যে এমন নিয়ম নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধকতা এবং সংবিধানের ২৭ এবং ২৮ নং অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাই এ নোটিশ পাওয়ার ৩ কার্যদিবসের মধ্যে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক বিধানটি বাতিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অন্যথায় আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবো বলে নোটিশে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী শিশির মনির। কেএফ
ঢাবির ছাত্রী হল ইস্যুতে ভিসিসহ ৬ জনকে আইনি নোটিশ
নবীনদের পদচারণায় মুখরিত রাবি
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের ক্যাম্পাস, হৃদয়ের স্পন্দন ও আবেগ-অনুভূতির জায়গা। ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৭৫০ একরের এই ক্যাম্পাসের প্রথম দিনটি সত্যিই অসাধারণ। চান্স পাওয়ার পর প্রত্যেকেই স্বপ্নের ক্যাম্পাস নিয়ে মনে মনে আঁকতে থাকে নানান স্বপ্ন, নানান পরিকল্পনা। প্রস্তুতি নিতে থাকে ক্যাম্পাসের প্রথম দিন কীভাবে কাটাবে এবং কী করবে। প্রবীণরাও প্রস্তুতি নিতে থাকে কীভাবে নবীনদের বরণ করে নেওয়া যায়। প্রস্তুতি শেষে ওরিয়েন্টেশনের দিনেই সেটি প্রকাশ পায়। সবাই ভেসে যায় আনন্দের জোয়ারে। নানান আয়োজন আর আনন্দঘন পরিবেশে মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ দিনে মতিহারের সবুজ চত্বর মেতেছিল উৎসবের আমেজে।  ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, নবীন ছাত্রছাত্রীরা সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। অনেক নবীনের সঙ্গে আবার তাদের অভিভাবকদেরও দেখা গেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রবীণরাও এসেছেন সাজগোজ করে নানা আয়োজনে নবীনদের বরণ করে নিতে। প্রবীণ ছাত্রীদের কেউ কেউ শাড়ি পরে ও ছেলেরা এসেছে পাঞ্জাবি অথবা শার্ট-কোর্ট-টাই পরে। প্রত্যেক বিভাগে পৃথক পৃথকভাবে বিভাগীয় প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ওরিয়েন্টেশন ক্লাস। ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষক ও নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।  শিক্ষকরা নবীনদের রজনীগন্ধা ও গোলাপ ফুল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন। এ সময় শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য নবীনদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রবীণরাও নবীনদের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং বিতরণ করে রজনীগন্ধা ও লাল গোলাপ। আনন্দের এই দিনে বাদ যায়নি মিষ্টি বিতরণ পর্বও।  নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সবাই যখন স্ব স্ব বিভাগ থেকে বেরিয়ে আসে তখনই আনন্দের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সবার হাতে হাতে ফুল, সবাই একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। প্যারিস রোডে অনেকে ব্যস্ত গ্রুপ সেলফি তোলায়। অনেকে আবার বসেছে আনন্দ আড্ডায়। ক্যাম্পাসে পুরোটা দিন অতিবাহিত হয়েছে এমনই এক আনন্দঘন পরিবেশে। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে নতুন ক্যাম্পাসে নতুন জীবনের শুরু, সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি!  ক্যাম্পাসের এই প্রথমদিনে কথা হয় ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী বিক্রম রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত। কেননা এটি উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করব। রাবিতে চান্স পাওয়ার মাধ্যমে আমার দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। চান্স পাওয়ার পরই প্রথম দিনের ক্লাসের জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম। সময় যেন কাটছিল না। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। প্রথম দিনের ক্যাম্পাসে বিভাগের শিক্ষক এবং বড় ভাই-আপুদের সান্নিধ্যে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিন্নাতুন নাহার জেবা বলেন, ‘আজ ছিল আমার জীবনের বিশেষ একটি দিন। সারা রাত শুধু এটাই ভেবেছি, সকালটা কেমন হবে। আজ যখন রাবির মেইন গেট দিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করছিলাম, তখন মনে হলো যেন এক উষ্ণ বাতাস আমায় ক্যাম্পাসে স্বাগতম জানাল। এ যেন এক যুদ্ধ জয়ের পরে বিজয়ের আনন্দ। এমন একটা উজ্জ্বল দিনের অপেক্ষায় কত নির্ঘুম রাত কেটেছে! কত পরিশ্রম, কত ত্যাগ! এর সবটাই আমার বাবা-মা, পরিবারের অবিচল সাপোর্ট, আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান।’ প্রিয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী হতে পেরে অনেক আনন্দিত চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি সত্যিই আমার জন্য অনন্য। পরিচ্ছন্ন ও জ্যামবিহীন নগরী হওয়ায় রাজশাহী আমার প্রিয় শহর৷ আর এ জন্যই প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রাণের ক্যাম্পাস।’ এদিকে নবীনদের সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সবসময় তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, নবীনদের আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে প্রক্টরিয়াল বডি তৎপর রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পাসে মাইকিং করা হয়েছে। র‌্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সব ধরনের সচেতনতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এরপরও যদি র‌্যাগিংয়ের মতো কোনো ঘটনা ঘটে আর যদি সে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সবোর্চ্চ শাস্তি বহিষ্কার করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নবীনদের পদার্পণ নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের নতুন সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেওয়ার জন্য তাতের অভিনন্দন জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কাছে  প্রত্যাশা করব, যে তারা নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।  উপ-উপাচার্য আরও বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, গবেষণা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাদের অধিকার এবং কর্তব্য সম্পর্কে তাদের অবগত হতে হবে। আশা করি তারা শিক্ষার্থী হিসেবে সময়নিষ্ঠ, অধ্যবসায়ী হবে এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পদযাত্রা করবে। আমি চাইব তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করবে। পি/টিআই
নবীনদের পদচারণায় মুখরিত রাবি
আরও পড়ুন
ট্রাকচাপায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় চালক আটক
ট্রাকচাপায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরতে চায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন