ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জাকসুর নবনির্বাচিত জিএস বড় ভাইকে অভিনন্দন জানাতে ক্যাম্পাসে ফাইয়াজ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৩০ পিএম
জিএস নির্বাচিত মাজহারুল ইসলাম ও অন্যদের সঙ্গে হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ

জুলাই আন্দোলন চলাকালে একটি ছবি গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ছবিতে দেখা যায়, প্রিজনভ্যান থেকে নামানো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি গায়ে এক কিশোর, তার দুই হাত সাদা রশিতে বাঁধা এবং এক হাতে কাপড়ের ব্যাগ। ছবির সেই কিশোরের নাম হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ। তার তখন বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। ঢাকা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সেই ফাইয়াজের বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম (ডাক নাম ফাহিম) এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ী বড় ভাইকে অভিনন্দন জানাতে তার ক্যাম্পাসে গিয়েছিল ফাইয়াজ।

সেই আনন্দঘন বিষয়টি শেয়ার করে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছে ১৮ বছরের এই তরুণ।

পোস্টে সে লিখেছে, ‘কালকে ভাইয়ার ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম, আনন্দমুখর এই সময়টাতে ভাইয়াকে কনগ্রেটস করতে। ভাইয়ার ক্যাম্পাসের প্রায় শতাধিক বড় ভাইয়া এবং আপুদের সাথে কথা হয়েছিল। ভাইয়ার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাইয়ারা এবং ক্যাম্পাসের আপুরা আমাকে বলেছেন ভাইয়াকে আগে যেভাবে পেয়েছিল স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা, বিপদে সবার আগে এগিয়ে আসা, সবার হয়ে কাজ করা, নিরহংকার মনোভাব এই বৈশিষ্ট্যগুলো আগের মতোই বিদ্যমান থাকলে ভাইয়াকে আগামী এক বছরের এই যাত্রায় ভাইয়ার ক্যাম্পাসের ভাইয়া এবং আপুরাই ভাইয়ার সবচেয়ে বড় স্ট্রেংথ হয়ে থাকবে যেকোনো পরিস্থিতি কিংবা উদ্যাগে, নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রহণের ক্ষেত্রে।’

‘আমার মনে হয়েছে ভাইয়াসহ নির্বাচিত সবাইকে এই মেসেজটুকু পার্সোনালি না দিয়ে পাবলিকলি পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। দোয়া করি ভাইয়াসহ আরও যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার পথযাত্রী হিসেবে যেন অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।’

এর আগে দেওয়া এক পোস্টে বড় ভাইয়ের অমন অর্জনে উচ্ছ্বসিত ফাইয়াজ লিখেছে, একদিন আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আম্মু, আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে? কোনো দ্বিধা না করে তিনি বলেছিলেন, ‘ফাহিম’। সেই আম্মুর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ আজ জাকসুর জিএস নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

ফাইয়াজ বিশ্বাস করে, তার ভাই শিক্ষার্থীদের জন্য শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা, অধিকার রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা এবং মতামতের বৈচিত্র্যকে অগ্রাধিকার দেবেন।

ফাইয়াজ উল্লেখ করেছে, মাজহারুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিএনসিসি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি প্লাটুনের সিইউও ও ক্যাডেট ইনচার্জ, বিতর্ক সংগঠন জেইউডিওর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও অ্যাকাডেমিক প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে ফাইয়াজ লিখেছে, ভাইয়া সেই সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আমাকে টর্চার করে ভাইয়ার লোকেশন জানতে চেয়েছিল। আমার কাছ থেকে না পেয়ে তারা ভাইয়ার মোবাইল ট্র্যাক করেছিল, কিন্তু কৌশলী হওয়ায় ভাইয়াকে ধরতে পারেনি।

পোস্টে আরও লেখা ছিল, সবাই দোয়া করবেন, আমার আম্মুর সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে যেন জাকসুতেও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। আল্লাহ যেন ভাইয়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কবুল করেন।

এর আগে, শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান জাকসুর ফলাফল ঘোষণা করেন।

জাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু। এ ছাড়া জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মাজহারুল ইসলাম। আর এজিএস (ছাত্র) পদে ফেরদৌস আল হাসান ও এজিএস (ছাত্রী) পদে আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, জাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে শীর্ষ ৪টি পদের মধ্যে ৩টিসহ মোট ২৫টি মধ্যে ২১টি পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা।

অন্য পদগুলোতে নির্বাচিতরা হলেন- শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল), পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র), সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল), নাট্য সম্পাদক মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), ক্রীড়া সম্পাদক-মাহমুদুল হাসান কিরন (স্বতন্ত্র), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী) ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ) মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল), তথ্য প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল), সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী) নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ) মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল), স্বাস্হ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল) এবং পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল)।

এছাড়া কার্যকরী সদস্য (নারী) পদে ৩ জন- নাবিলা বিনতে হারুন, ফাবলিহা জাহান, নুসরাত জাহান ইমা এবং কার্যকরী সদস্য (পুরুষ) পদে ৩ জন মো. তরিকুল ইসলাম, আবু তালহা, মো. আলী চিশতী নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে মো. আলী চিশতী বাগছাস সমর্থিত প্যানেলের। বাকি ৫ জন শিবির সমর্থিত প্যানেলের।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২১টি আবাসিক হলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হলের কেন্দ্রগুলো থেকে ব্যালট বাক্স সিনেট ভবনে আনা হয় এবং রাত ১০টার কিছু পর শুরু হয় ভোট গণনা। এরপর শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত টানা ভোট গণনার পরে নির্বাচন কমিশন গণনা বন্ধ করে জরুরি বৈঠক ডাকে।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুনরায় ভোট গণনা শুরু করে। এ সময় নির্বাচন কমিশন থেকে শুক্রবার রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। তবে দুই দফায় আবার সময় বাড়িয়ে আজকে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।

জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ৬ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ভোটার ৫ হাজার ৭২৮ জন। ভোট পড়েছে ৮ হাজার ৩টি। এটি মোট ভোটের প্রায় ৬৮ শতাংশ।

জাকসুর ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন লড়ছেন। এছাড়া হল সংসদের লড়ছেন ৪৪৫ প্রার্থী।

জাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে এবার ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে- সহ সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া মোট প্যানেল ছিল ৮টি। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে-বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রদের সমর্থিত। ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ১০টি হলে ভোটগ্রহণ হয়, সব মিলিয়ে ২১টি ভোট কেন্দ্র এবং ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছিল।

আরটিভি/এফএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে ‘ভার্চুয়াল টক অন স্টাডি অ্যাব্রড’ অনুষ্ঠিত
পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (পিসিআইইউ) মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে ‘ভার্চুয়াল টক অন স্টাডি অ্যাব্রড’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুগল মিটের মাধ্যমে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষারত স্কলার জুয়েল দাশ এবং ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির স্কলার আকিব উল ওয়াদুদ আলম। তারা দুজনই পিসিআইইউ-এর সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটিতে (স্টাডি লিভ) তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। আলোচনা সেশনে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, গবেষণার পরিবেশ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, স্কলারশিপ প্রাপ্তির কৌশল ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনার সময় একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়েও তারা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। নিজ বিভাগের শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও সরাসরি অভিজ্ঞতা শোনার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি এবং পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা দিলরুবা আক্তার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ডিন ড. মোহিত উল আলম এবং পিসিআইইউ-এর সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক ও মিডিয়া ক্লাবের উপদেষ্টা তাসলিমা আক্তার ইরিন। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রবিন দাশগুপ্তের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি পূজা ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী, তথ্যবহুল ও অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক বলে মন্তব্য করেন। আরটিভি/কেআই
পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে ‘ভার্চুয়াল টক অন স্টাডি অ্যাব্রড’ অনুষ্ঠিত
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ঢাবি অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের লক্ষ্যে তার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তিন দিনের শোক ঘোষণা করায় মঙ্গলবার অপরাহ্নের এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই তিন দিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও অধিভুক্ত, উপাদানকল্প কলেজ এবং ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের সকল পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। স্থগিতকৃত পরীক্ষাসমূহের নতুন সময়সূচি যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী জানান, রাজধানীর সরকারি সাত কলেজে যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সে কারণে এসব কলেজের পরীক্ষাও স্থগিত থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে নতুন সূচি নির্ধারণ করা হবে এবং সে অনুযায়ী সংশোধিত রুটিন প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত থাকার পাশাপাশি নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি গত প্রায় এক মাস ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার মৃত্যু, ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা ৩ দিন বন্ধ উল্লেখ্য, সরকারি সাত কলেজগুলো - ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। আরটিভি/কেআই
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত
খালেদা জিয়ার মৃত্যু, ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা ৩ দিন বন্ধ
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এই তিনদিন সব ক্লাস-পরীক্ষাও ব্ন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ (মঙ্গলবার), বুধবার ও বৃহস্পতিবার শোক পালন করা হবে। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এছাড়া শোক পালনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকে উপজীব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক সেমিনারসহ অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ সব হল, হোস্টেল ও আবাসিক এলাকার মসজিদে খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানি, দোয়া ও মোনাজাত করা হবে। অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, খালেদা জিয়া দেশ-জাতির কল্যাণে আজীবন কাজ করে গেছেন। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিরলস সংগ্রাম ও সাধনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে দিক নির্দেশনা দেবে। এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার মৃত্যু, ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা ৩ দিন বন্ধ
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জকসু নির্বাচন স্থগিত
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম সিন্ডিকেট মিটিং শেষে এ তথ্য জানান। এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় জকসুর ভোটগ্রহণ শুরুর নির্দেশনা থাকলেও খালেদা জিয়া মৃত্যুর খবরে জরুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। এসময় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানায় প্রশাসন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জকসু নির্বাচন স্থগিত
জকসু নির্বাচন: শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রুট প্যান ঘোষণা
আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল হতে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে রুট প্ল্যান ও সময় সূচী ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম এর নির্দেশক্রমে পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে। এমতাবস্থায়, ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনের সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল হতে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে রুট প্ল্যান ও সময় সূচী নির্ধারণ করা হলো। আরও পড়ুন সাফল্য ও চ্যালেঞ্জে মাভাবিপ্রবি (ক) শাহবাগ থেকে ছেড়ে আসবে জবি ক্যাম্পাসে অর্নিবান-২, উল্কা-৪, ধূমকেতু, কালিগঙ্গা, তুরাগ, উত্তরণ-২। (খ) জবি (ক্যাম্পাস) থেকে ছেড়ে যাবে শাহবাগ, গোমতী, রজতরেখা, উত্তরণ-২, নোঙ্গর, উল্কা-৪ সহ আরো একটি বাস। (গ) যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসবে জবি ক্যাম্পাসে, বিজয়-১, ঐতিহ্য, বিজয়-২ (ঘ) জবি (ক্যাম্পাস) থেকে ছেড়ে যাবে যাত্রাবাড়ী পদ্মা, আড়িয়াল, দ্বিতল বাস সহ আরো ২ টি বাস। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের দৈনিক চলমান সকল রুটের শাটল ট্রিপ ও দুপুরের ট্রিপ যথারীতি চলাচল করবেন। এর আগে, আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে জকসুর ভোট গ্রহণ। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১টি করে ভোটগ্রহণ বুথ থাকবে এবং ভোটগ্রহণ শেষে মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে। আরটিভি/এমএ
জকসু নির্বাচন: শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রুট প্যান ঘোষণা
আরও পড়ুন
পিআর পদ্ধতি নিয়ে গণভোটের প্রস্তাব জাকসু ভিপির
জাকসুর নবনির্বাচিত এজিএস কে এই মেঘলা
জাকসুর ভিপি হয়ে যা বললেন জিতু
শিবিরের প্যানেল থেকে অংশ নেওয়া সেই দম্পতি জয়ী