ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিজয় উল্লাসেই বিচ্ছেদের সুর 

সানজিদা জান্নাত পিংকি

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০৪ পিএম
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। ছবি: আরটিভি

ডিসেম্বরের ভোর মানেই কুয়াশা। আর ১৬ ডিসেম্বরের ভোর মানেই সেই কুয়াশার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা একটি জাতির স্মৃতি। জাতীয় স্মৃতিসৌধের চূড়ায় সকালের পুরো আলো পৌঁছানোর আগেই শীতল হাওয়ার সঙ্গে ভেসে আসে ফুলের গন্ধ, মানুষের কণ্ঠস্বর, পায়ের শব্দ। কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে, কেউ সন্তানকে শহীদদের গল্প বলছেন। বিজয় দিবসের এই দৃশ্য প্রতিবছরই পরিচিত, তবু কখনো পুরোনো হয় না।

এই ভোরেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে হাজির হন গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি—গবিসাসের সদস্যরা। তাদের জন্য দিনটি রাষ্ট্রীয় উৎসব তো বটেই একই সাথে দায়িত্ব সমাপ্তির, স্মৃতি ঝালিয়ে নেওয়ার এবং নতুন দিনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

ভোর হওয়ার আগেই শুরু হয় প্রস্তুতি। একের পর এক ফোনকল, বার্তা—সবাই ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পেরেছেন কি না, সেটিই যেন প্রধান ভাবনা। দীর্ঘদিনের অভ্যাসে গড়ে ওঠা এই তৎপরতা গবিসাসের সাংগঠনিক সংস্কৃতির অংশ। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্মৃতিসৌধের উন্মুক্ত মঞ্চের পাশে জড়ো হন বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা। কারও চোখে রাতজাগার ক্লান্তি, কারও কণ্ঠে চাপা উত্তেজনা। সবাই জানেন, আজকের দিনটি আলাদা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা সংক্ষিপ্ত, সংযত। ফুল দেওয়া শেষে কিছুক্ষণ নীরবতা। চারপাশে মানুষের ভিড় থাকলেও সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে তখন এক ধরনের স্থিরতা। বিজয় দিবসের আনন্দ এখানে এসে থমকে যায় না, বরং ভেতরের দিকে মোড় নেয়।

এরপর সবাই হাঁটতে শুরু করেন স্মৃতিসৌধের ডান পাশের সবুজ প্রান্তরের দিকে। এই পথচলা গবিসাসের কাছে নতুন নয়। এই সবুজ ঘাসের ওপর বসেই একসময় জন্ম নিয়েছিল সংগঠনটি। প্রায় ১২ বছর আগে, ফেব্রুয়ারির এক বিকেলে, কয়েকজন তরুণ এখানে বসে ভাবছিলেন—বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতার জন্য একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম দরকার। সেদিনের সেই ভাবনাই আজকের গবিসাস।

2564

সবুজ প্রান্তরে বসে শুরু হয় বছরের শেষ মজলিশ। কোনো মাইক নেই, নেই বড় কোনো ব্যানার। তবু আলোচনার ওজন কম নয়। কারণ, আজকের দিনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে গবিসাসের দ্বাদশ কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্বকাল। প্রথা অনুযায়ী, বিজয় দিবসেই চলমান কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আলাপে ফিরে আসে গত এক বছরের নানা ঘটনা। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বাস্তবতা, সীমাবদ্ধতা, চাপের মুখে কাজ করার অভিজ্ঞতা। কেউ বলেন মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহের কথা, কেউ বলেন প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কথা। আলোচনায় আত্মপ্রশংসার চেয়ে আত্মসমালোচনাই বেশি। কী করা গেছে, কী করা যায়নি—এই হিসাবই হয়ে ওঠে মুখ্য।

কেউ কেউ লক্ষ্য অপূর্ণ থেকে যাওয়ার আফসোস করেন। কেউ আবার সংগঠন কি শিখিয়েছে তা বলেন। এই আলোচনার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় দ্বাদশ কার্যনির্বাহী কমিটি। কোনো করতালি নেই, নেই উচ্চস্বরে ঘোষণা। বিষয়টি ঘটে স্বাভাবিকভাবেই, যেমনটি হয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে।

আরও পড়ুন

গবিসাসের জন্য ১৬ ডিসেম্বর মানেই এমন বিদায়ের দিন। প্রতি বছরই এই দিনে কেউ না কেউ সংগঠন থেকে বিদায় নেন। কেউ পড়াশোনা শেষ করে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন, কেউ দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুনদের জন্য জায়গা করে দেন। তাই বিজয়ের এই দিনে আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে কিছুটা বিষণ্নতাও।

তবে এই বিদায় মানেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। আলোচনায় বারবার উঠে আসে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগবে। কেউ বলেন, এখান থেকেই সংবাদ লেখার হাতেখড়ি পাওয়ার গল্প। কেউ বলেন, গবিসাস তাকে শিখিয়েছে দলগতভাবে কাজ করতে, মতভিন্নতা সামলাতে।

গবিসাসের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এটি শুধু একটি সংগঠন নয়; এটি একটি ধারাবাহিকতা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর নতুন কমিটি, নতুন মুখ, নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে চলেছে সংগঠনটি। বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া এবং সবুজ প্রান্তরে বছরের শেষ মজলিশ বসানো—এই রীতিই সেই ধারাবাহিকতার প্রতীক।

9f61

আলোচনা শেষ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে যায়। কুয়াশা অনেক আগেই সরে গেছে। আলো ঝলমল চারপাশ। কেউ কেউ নীরবে বসে থাকেন, কেউ পুরোনো স্মৃতির কথা বলেন। বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ থাকলেও সেটি প্রকাশ পায় সংযত ভঙ্গিতে। চোখে চোখে তাকানো, কাঁধে হাত রাখা—এই ভাষাই যথেষ্ট।

জাতির বিজয়ের দিনে স্মৃতিসৌধের সবুজ প্রান্তরে গবিসাসের এই আয়োজন আলাদা করে চোখে পড়ে না হয়তো। তবু এটি একটি প্রতীকী গল্প। যেখানে রাষ্ট্রের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয় একটি সংগঠনের প্রজন্মান্তরের যাত্রা। বিজয় এখানে শুধু যুদ্ধজয়ের স্মৃতি নয়, দায়িত্ব শেষ করারও এক ধরনের বিজয়।

এই বিদায়ের মধ্যে কোনো শেষ নেই। বরং আছে নতুন দিনের অপেক্ষা। নতুন কমিটি আসবে, নতুন সদস্য যুক্ত হবে, আবারও ডিসেম্বরের কুয়াশার ভেতর দিয়ে স্মৃতিসৌধে হাজির হবে গবিসাস। বিজয়ের উল্লাসের পাশে তখনও নীরবে বাজবে বিচ্ছেদের সুর—যা স্মরণ করিয়ে দেবে, পথচলা থামে না, শুধু মুখ বদলায়।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে ‘ভার্চুয়াল টক অন স্টাডি অ্যাব্রড’ অনুষ্ঠিত
পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (পিসিআইইউ) মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে ‘ভার্চুয়াল টক অন স্টাডি অ্যাব্রড’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুগল মিটের মাধ্যমে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষারত স্কলার জুয়েল দাশ এবং ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির স্কলার আকিব উল ওয়াদুদ আলম। তারা দুজনই পিসিআইইউ-এর সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটিতে (স্টাডি লিভ) তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। আলোচনা সেশনে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, গবেষণার পরিবেশ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, স্কলারশিপ প্রাপ্তির কৌশল ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনার সময় একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়েও তারা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। নিজ বিভাগের শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও সরাসরি অভিজ্ঞতা শোনার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি এবং পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা দিলরুবা আক্তার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ডিন ড. মোহিত উল আলম এবং পিসিআইইউ-এর সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক ও মিডিয়া ক্লাবের উপদেষ্টা তাসলিমা আক্তার ইরিন। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রবিন দাশগুপ্তের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি পূজা ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী, তথ্যবহুল ও অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক বলে মন্তব্য করেন। আরটিভি/কেআই
পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে ‘ভার্চুয়াল টক অন স্টাডি অ্যাব্রড’ অনুষ্ঠিত
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ঢাবি অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের লক্ষ্যে তার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তিন দিনের শোক ঘোষণা করায় মঙ্গলবার অপরাহ্নের এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই তিন দিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও অধিভুক্ত, উপাদানকল্প কলেজ এবং ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের সকল পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। স্থগিতকৃত পরীক্ষাসমূহের নতুন সময়সূচি যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী জানান, রাজধানীর সরকারি সাত কলেজে যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সে কারণে এসব কলেজের পরীক্ষাও স্থগিত থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে নতুন সূচি নির্ধারণ করা হবে এবং সে অনুযায়ী সংশোধিত রুটিন প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত থাকার পাশাপাশি নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি গত প্রায় এক মাস ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার মৃত্যু, ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা ৩ দিন বন্ধ উল্লেখ্য, সরকারি সাত কলেজগুলো - ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। আরটিভি/কেআই
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত
খালেদা জিয়ার মৃত্যু, ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা ৩ দিন বন্ধ
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এই তিনদিন সব ক্লাস-পরীক্ষাও ব্ন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ (মঙ্গলবার), বুধবার ও বৃহস্পতিবার শোক পালন করা হবে। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এছাড়া শোক পালনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকে উপজীব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক সেমিনারসহ অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ সব হল, হোস্টেল ও আবাসিক এলাকার মসজিদে খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানি, দোয়া ও মোনাজাত করা হবে। অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, খালেদা জিয়া দেশ-জাতির কল্যাণে আজীবন কাজ করে গেছেন। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিরলস সংগ্রাম ও সাধনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে দিক নির্দেশনা দেবে। এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার মৃত্যু, ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা ৩ দিন বন্ধ
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জকসু নির্বাচন স্থগিত
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম সিন্ডিকেট মিটিং শেষে এ তথ্য জানান। এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় জকসুর ভোটগ্রহণ শুরুর নির্দেশনা থাকলেও খালেদা জিয়া মৃত্যুর খবরে জরুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। এসময় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানায় প্রশাসন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জকসু নির্বাচন স্থগিত
জকসু নির্বাচন: শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রুট প্যান ঘোষণা
আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল হতে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে রুট প্ল্যান ও সময় সূচী ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম এর নির্দেশক্রমে পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে। এমতাবস্থায়, ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনের সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল হতে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে রুট প্ল্যান ও সময় সূচী নির্ধারণ করা হলো। আরও পড়ুন সাফল্য ও চ্যালেঞ্জে মাভাবিপ্রবি (ক) শাহবাগ থেকে ছেড়ে আসবে জবি ক্যাম্পাসে অর্নিবান-২, উল্কা-৪, ধূমকেতু, কালিগঙ্গা, তুরাগ, উত্তরণ-২। (খ) জবি (ক্যাম্পাস) থেকে ছেড়ে যাবে শাহবাগ, গোমতী, রজতরেখা, উত্তরণ-২, নোঙ্গর, উল্কা-৪ সহ আরো একটি বাস। (গ) যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসবে জবি ক্যাম্পাসে, বিজয়-১, ঐতিহ্য, বিজয়-২ (ঘ) জবি (ক্যাম্পাস) থেকে ছেড়ে যাবে যাত্রাবাড়ী পদ্মা, আড়িয়াল, দ্বিতল বাস সহ আরো ২ টি বাস। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের দৈনিক চলমান সকল রুটের শাটল ট্রিপ ও দুপুরের ট্রিপ যথারীতি চলাচল করবেন। এর আগে, আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে জকসুর ভোট গ্রহণ। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১টি করে ভোটগ্রহণ বুথ থাকবে এবং ভোটগ্রহণ শেষে মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে। আরটিভি/এমএ
জকসু নির্বাচন: শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রুট প্যান ঘোষণা
আরও পড়ুন
জাপানে বিজয় দিবস উদযাপিত
বিজয় দিবসে গুণীজন সম্মাননা পেলেন সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু
শিকারি কল্যাণ তহবিলের জন্য মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা
কাঠমান্ডুতে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত