ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আরটিভি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেশিয়ামে পুনরায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা প্রদর্শনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে সেখানে খেলা প্রদর্শন করেন একদল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অভ্যন্তরীণ সড়কে নিজ উদ্যোগে খেলা প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষা, প্রশাসনিক ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং কর্মঘণ্টা নষ্টের অভিযোগে ১০ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি ছিল একটি ন্যায্য দাবি উপস্থাপনের কর্মসূচি, কোনো অপরাধ নয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও কয়েকজন শিক্ষার্থী কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত ৭ জুলাই জিমনেশিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এরপর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিমনেশিয়ামের পরিবর্তে বিভিন্ন আবাসিক হলে খেলা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে। তবে এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছিল, আগের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে বড় পর্দায় একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা দেখার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা।

এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১২ জুলাই) সকালে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের খেলা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আনতে বা নিয়ে যেতে কোনো বাস চলাচল করতে পারেনি। একই সঙ্গে বাইরের কোনো যানবাহনও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পৃথকভাবে ১০ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রধান ফটক বন্ধ করে খেলা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বের হতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব কার্যক্রম, প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে গঠিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের Rules of Discipline for Students অনুযায়ী কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া যবিপ্রবির শিক্ষার্থী শেখ আবু সুফিয়ান বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপস্থাপন করা কোনো অপরাধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্থান। আমি বিশ্বাস করি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে দমন করে এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করা কখনোই কোনো প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আর এটাই যদি প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য হয়, তাহলে তা স্বৈরাচারী প্রশাসনের পরিচয় বহন করে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাই।

আরেক শিক্ষার্থী রাকিব হাসান সিহাব বলেন, আমাদের একটাই দাবি ছিল—বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য জিমনেশিয়ামে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা। গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর কারণে পুরো শিক্ষার্থী সমাজকে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছি এবং স্মারকলিপিও দিয়েছি। কিন্তু আমাদের যৌক্তিক দাবির কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছে। দুঃখজনকভাবে, অধিকার চেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করায় শিক্ষার্থীদের অপরাধীর মতো বিবেচনা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের মতে, সংলাপের পরিবর্তে এ ধরনের পদক্ষেপ কোনো শক্তির পরিচয় নয়; বরং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্বলতা, অদূরদর্শিতা ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার প্রতিফলন।

অন্য এক শিক্ষার্থী সামিউল বলেন, আমি সেদিন সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। আমার সব বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, খেলা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জিমনেশিয়ামে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলগুলোর অভ্যন্তরে খেলা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মূল ফটক বন্ধ করে নিজ উদ্যোগে সেখানে খেলা প্রদর্শন করে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আনার জন্য কোনো বাস ছেড়ে যেতে পারেনি, আবার বাইরের বাসও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবির পক্ষে আমরা আছি। তারা যদি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা শিক্ষার্থীদের নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছিল। যারা স্বশরীরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, তাদের কেউ কেউ অন্যভাবে এ ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন—এমন প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সে কারণেই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্ট কিংবা স্থানীয় দোকানদারের পরিচয় ব্যবহার করে ফোনে জাল নোট লেনদেনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পরে থানায় মামলা করার হুমকি দিয়ে চক্রটি দাবি করছে বড় অঙ্কের টাকা।
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মার্কেটিং বিভাগের আয়োজন এবং ‘মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ’ (এমআইবি)-এর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’।
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।  আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলী চৌধুরী আবিদ ও শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন। প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।  এক পক্ষের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরির জন্য বাঁশ পুঁতে জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। পরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ব্যাডমিন্টন কোর্টের বাঁশ দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার নাক ও চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।  ওই শিক্ষার্থীর দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরি করেছিলেন। অন্য পক্ষের কোর্ট তৈরির দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না। অন্যদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কোর্ট তৈরি করব বলে সেখানে বাঁশ পুঁতে জায়গাটি নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের কারণে সেখানে আরও কিছু বাঁশ পোঁতা হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে তাদের বাঁশের সঙ্গে আমাদের বাঁশও তুলে নেওয়া হয়। এরপর আমাদের নির্ধারিত জায়গায় তারা কোর্ট তৈরি করতে চায়। বিষয়টি জানালে তারা মেনে নেওয়ার কথা বলে।  ‘কিন্তু আজ আমাদের বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র কোর্ট তৈরি করতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে প্রক্টর স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করলে আমরা চলে যেতে চাই। এ সময় আবারও আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এএইচএম খুরশিদ আলম বলেন, এ ঘটনায় মোট তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাকে আঘাত লেগেছে, একজনের মাথায় সামান্য ক্ষত হয়েছে এবং অন্যজনের হাতে ব্যথা পেয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।  ‘হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর হাড় ভাঙার আশঙ্কায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক্স-রে করানো হয়। তবে পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে। মাথায় আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর ক্ষতেও ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনজনই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরেছেন। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক স্বপ্নিল রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় বসেছেন। এখনো ঘটনার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  আরটিভি/এসআর  
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা, ঘটনা কী
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনে তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে একপর্যায়ে কক্ষে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন তারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রায় আট ঘণ্টা ধরে অধ্যক্ষ কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি বিদায় অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি চলায় দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে অডিটোরিয়ামের এক রাতের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৪টা থেকে ৫টা বেজে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের দাবি, পরে তারা অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।  এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান তারা। কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক মনে করেই তারা প্রতিবাদ শুরু করেছেন।  আরটিভি/এসআর  
অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা, ঘটনা কী
বেরোবি কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন 
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের কার্যালয়ে এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বেরোবি কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন 
আরও পড়ুন
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
ন্যানো ফিসফিডের পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান
যবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ-নির্দেশনা দপ্তরের নতুন পরিচালক ড. অভিনু কিবরিয়া
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল