ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি 

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ এএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। পুরনো ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য তুলে ধরেন ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী। ভুক্তভোগীও একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত, হয়রানি এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত না থেকে পুনরায় চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত মহসিন জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী পুনরায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত একটি ছুরি বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং তার কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও হুমকি দেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে মেসের দিকে নিয়ে যেতে সম্মত হন। তবে পথিমধ্যে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। দীর্ঘ সময় কান্নাকাটির পর তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত ফোন করে আত্মহত্যার কথা বলেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের এক সহযোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এ ছাড়া আমাদের জানামতে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বা নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেন এমন নন। আর অভিযোগের বিষয়টি নিয়েও প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। সোমবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ছুটি ছাড়াই ৪২ শিক্ষককে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে দুই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।  তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের পরিবর্তে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণে গেছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও)। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে শিক্ষকদের এমন ভ্রমণে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে বিশেষ কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন না করে আনন্দ ভ্রমণে গেছেন। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শিক্ষকরা নিজেরাই অনুপস্থিত। এতে তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  এক অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে, অথচ শিক্ষকরা নিজেরাই বিদ্যালয়ে না এসে আনন্দ ভ্রমণে গেছেন। এটা কেমন কথা? শিক্ষকদের এমন দায়িত্বহীনতা মেনে নেওয়া যায় না। জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর বিকেলে সদরপুর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের এ ভ্রমণ শেষ হবে ৯ নভেম্বর সকালে।  ভ্রমণে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা হলেন— চর বিষ্ণুপুর কলাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লুৎফুন্নেছা, জরিপের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নওরোজ আল ফারুকী, ৩২ নম্বর ডিক্রীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বাবুল, আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান, নলেটেক-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কবির উদ্দিন মোল্লা, চর বলাসিয়া মোল্লা গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মশিউর রহমান, রাজারচর ওযাবউল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জিন্নাত আলী এবং হাকিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এটিএম আইয়ুব আলী। ভ্রমণে অংশ নেওয়া সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন— মধ্য চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আমিনুল, মুন্সি চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মশিউর রহমান, নতুন সাহেবের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আজাহার, পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাহবুব হাসান, বালিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সজিব, চর গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাকির হোসেন, সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আনোয়ার হোসেন ও সাইফুজ্জামান, চর বিষ্ণুপুর চৈতের কোলপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সালাম, সুকদেব নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মনির হোসেন, হকিয়তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জালাল, ৩২ নম্বর ডিক্রীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আব্দুল কুদ্দুস, দক্ষিণ চর ডুবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আবু সাইদ এবং বৈদ্য ডাংগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাহমুদুল হাসানসহ আরও ২০ জন। এ ছাড়া ভ্রমণে রয়েছেন— সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। তিনি আকোটেরচর ও সদরপুর ক্লাস্টারের দায়িত্বে আছেন। অন্য কর্মকর্তা ঝিল্লুর রহমান চর নাসিরপুর ক্লাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা এবং রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের কথা রয়েছে। নিয়মিত পাঠদান বন্ধ থাকলেও এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়গুলোতে নির্ধারিত কর্মসূচি কীভাবে পালিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, তারা গাড়িতে ‘শিক্ষা সফর’ লেখা ব্যানার লাগিয়েছেন। কিন্তু তারা তো পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে গেছেন। শিক্ষা সফরে সাধারণত শিক্ষার্থীরা যায়। শিক্ষকরা পরিবার নিয়ে ভ্রমণে গেলে সেটিকে শিক্ষা সফর বলা কতটা যৌক্তিক? আমরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে সরকারি কর্মসূচি পালন করছি, আর তাঁরা আনন্দ ভ্রমণে ব্যস্ত। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও ঝিল্লুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান বলেন, তারা প্রতিবছরই ভ্রমণে যান। অনেক আগেই তাঁরা ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। আমি প্রজ্ঞাপনটি পেয়েছি ৫ তারিখ বিকেল ৩টার দিকে। ওই দিন জেলায় আমার একটি সভা ছিল। এরপরও বিষয়টি তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু অবহিত করার পরও তাঁরা ভ্রমণে গেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, এটি তাদের নিজস্ব দায়িত্বের বিষয়। তাদের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। এ জন্য আমার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। তবে ভ্রমণের নিরাপত্তার জন্য তাঁরা গত ৪ নভেম্বর একটি আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। আমি ওই আবেদনে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। আরটিভি/এসআর
ছুটি ছাড়াই ৪২ শিক্ষককে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে দুই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা
গ্যাস লিকেজে হলের চুলায় আগুন, আহত ১ নারী শিক্ষার্থী 
গ্যাস লিকেজ থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের চুলায়  অগ্নি কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সানজিদা সুরভী নামের এক নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা যায়।   শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে দোলনচাঁপা হলের তৃতীয় তলায় এই অগ্নি কাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আহত সেই নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরে তাকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের হাউজ টিউটর ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমনা আক্তার সুমি। তিনি জানান, দোলনচাঁপা হলের তৃতীয় তলার রান্নাঘরের চুলাটির চাবির সমস্যা থাকায় গ্যাস নির্গত হচ্ছিলো। এ সময় এক শিক্ষার্থী রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী মেঝেতে পড়ে যান। আমরা খবর পেয়েই প্রক্টরিয়াল বডি ও দুই হাউজ টিউটর যায় এবং আগুন নেভায়। সেই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি জানান, তার কান্নাকাটি দেখে প্রথমে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, তার হয়তো হাত ভেঙে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত তার হাত ভাঙেনি এবং তিনি গুরুতর আহতও হননি। তার হাড় একটু সরে গেছিলো। তবে এখন সে সুস্থ আছে। চিকিৎসা শেষে সে আবার হলে ফিরে এসেছে। তাকে দুই সপ্তাহের বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।  এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন এর আগেও বিভিন্ন সমস্যা কথা প্রশাসনকে জানালেও আমলে নেওয়া হয়নি। দোলনচাঁপা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রিফাইয়া ইসলাম সূচনা বলেন, হলে নানান সমস্যার কথা বলার পরেও হল প্রশাসন চোখে কাঠের চশমা পড়ে বসে থাকে। হলে ডাইনিং নেই, গ্যাস লাইনে সমস্যা, পানির লাইনে সমস্যা, পানির লাইন থেকে মাঝে মধ্যেই পাখির পালক পাওয়া যায়, সেই পানিই খেতে হয়, ওয়াশরুমগুলোরও সমস্যা। বিভিন্ন সুইচের সমস্যা, যে কোনো মুহুর্তেই শক খাওয়ার আশঙ্কায় থাকি। এই হল প্রশাসন আমাদেরকে মানুষই মনে করে না। একটা সমস্যা নিয়ে কয়েকবার অভিযোগ দিলেও তারা আমলে নেয় না। তবে এ বিষয় জানার জন্য দোলনচাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। আরটিভি/এসআর
গ্যাস লিকেজে হলের চুলায় আগুন, আহত ১ নারী শিক্ষার্থী 
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়েটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে অনলাইন মাধ্যম জুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ। সভায় সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. সামিউন বাসির। আলোচনা সভার শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হায়দার। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিলাভের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দিবসটির তাৎপর্য আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর-পরবর্তী সময়ে সিপাহি-জনতার ঐক্য ও সংহতির মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশকে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের প্রেরণা জুগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমেই যেকোনো সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পরস্পরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম চুয়েটের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রশংসা করেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি। স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, জাতীয় ঐক্যই ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা। দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা মোকাবিলা করা সম্ভব। দেশ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ভবিষ্যতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। ৭ নভেম্বরের ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চুয়েটের বর্তমান সংকটের দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেন। রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হায়দার তাঁর বক্তব্যে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি চুয়েটের চলমান সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় উত্থাপিত দাবিগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে চুয়েটের চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবার কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়েটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
যথাযোগ্য মর্যাদায় বেরোবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।  শনিবার (৭ নভেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলীর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।  র‌্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ঘুরে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এসে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর, আবাসিক হল, ইনস্টিটিউটটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক এবং ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। আলোচনা সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ৭ নভেম্বরের চেতনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।  তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান-এঁর মুক্তি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে এ দিনটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব অর্জন করে।  বেরোবি উপাচার্য আরও বলেন, দেশের যেকোনো সংকট ও পরিবর্তনের সময়ে জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বেরোবি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সদস্য সচিব মোঃ মাসুদ রানার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. তানজিউল ইসলাম, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার গোলাম মোস্তফা, ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স এর প্রিন্সিপ্যাল রিসার্চ অফিসার ড. মো. রোকনুজ্জামান, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন, সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার।  আলোচনা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আরটিভি/এসআর  
যথাযোগ্য মর্যাদায় বেরোবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
‘সিপাহি-জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অনন্য’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের প্রাধাক্ষ ড. মো: ছামিউল ইসলাম সরকার বলেছেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেভাবে দিশেহারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, ঠিক তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার সংহতির মধ্য দিয়ে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতা থেকে রক্ষা করে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সিপাহি- জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অপরিসীম ও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।  শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এসব কথা বলেন তিনি।  অধ্যাপক ছামিউল বলেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য, ভাষাগত পার্থক্য এবং ভৌগোলিক দূরত্বের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জন করলেও, স্বাধীনতাত্তোর সময়ে দেশ নানা সংকটে নিপতিত হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৪-৭৫ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে চরম অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটতে থাকে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দি হন। সেই চরম ক্রান্তিকালে দেশ যখন নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সর্বপ্রথম দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ শুরু করেন। অধ্যাপক ছামিউল সরকার বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন এবং সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি সকল দল ও মতের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করেছিলেন। অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে এবং দেশের খাদ্য সংকট নিরসনে তিনি কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বর্হিবশ্বে শহিদ জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব বর্ণনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তিনি ভারসাম্যমূলক ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। মুসলিম বিশ্ব ও বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সৌদি আরব, চীন, ইউরোপ এবং আমেরিকা সফর করেন এবং বাংলাদেশের সাথে তাদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নির্লোভ ও প্রচারবিমুখ একজন রাষ্ট্রনায়ক। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া আদর্শ ও দর্শনের কারণেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে জনগণের আস্থা অর্জন করে হাল ধরতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ও দমন-পীড়ন মোকাবিলা করে জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ আরও সুসংহত ও শক্তিশালী। তিনি আরো বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি আবারও সরকার গঠন করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতির কথা মাথায় রেখে তিনি প্রতিটি পদক্ষেপে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন ;এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামণা করে এই অধ্যাপক বলেন, ঐতিহাসিক এই দিনে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার সহধর্মিণী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এই কামনাই করি। আরটিভি/এসআর  
‘সিপাহি-জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অনন্য’
আরও পড়ুন
মানিকগঞ্জে যমুনা টিভির সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি
ইউরোপজুড়ে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, বাধাগ্রস্ত ৩০ ফ্লাইট
‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’, তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের হুমকি
‘স্কুলে বোমা আছে’ জানিয়ে হঠাৎ ছাত্রীর ইমেইল, অতঃপর...