ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

গবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর পেরিয়ে গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। তবুও রক্তাক্ত সেই জুলাই, প্রতিবাদমুখর রাজপথ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন এখনো তরুণদের মনে জাগিয়ে রাখে নতুন প্রত্যাশা। তবে একই সঙ্গে অনেকের প্রশ্ন—দুই বছর পর সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রাপ্তি, অপূর্ণতা ও আগামীর প্রত্যাশা নিয়ে নিজেদের ভাবনা জানিয়েছেন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

জুলাই আন্দোলন তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল প্রতিবাদ

চব্বিশের আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল প্রতিবাদ জাতীয় জীবনে নতুন অভিজ্ঞতার অধ্যায় রচনা করেছে। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাকে বিশ্বাস করায়, ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সৃজনশীলতা ও যুক্তিনির্ভর মতপ্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত দুই বছরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ, সংস্কৃতিচর্চা, মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক সহনশীলতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এই পরিবর্তনকে স্থায়ী করতে প্রয়োজন আইনের সঠিক প্রয়োগ, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, মুক্তচিন্তার বহিঃপ্রকাশ এবং দায়িত্বশীলতা। তরুণ প্রজন্মের এই জাগরণকে ধরে রাখতে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য। আইনের শাসন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা সম্ভব, যেখানে সব নাগরিকের স্বপ্ন পূরণ হবে, দেশ অর্জন করবে সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং দেশমাতৃকার প্রতিটি অংশ হবে গৌরবান্বিত ও মহিমান্বিত।

মোসা. মালিহা আক্তার
১ম বর্ষ, বাংলা বিভাগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনমনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

কোটা আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান একপর্যায়ে সরকার পতনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। তবে এই আন্দোলন প্রকৃত অর্থে সফল হবে তখনই, যখন বাংলাদেশ সম্পূর্ণ বৈষম্যমুক্ত হবে। মানুষের স্বাধীনতা হরণ, মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা এবং একচেটিয়া শাসনের রাজনীতি জনগণের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই আন্দোলনে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করেছে। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের নানা পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক নোংরা রাজনীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষ্যৎ যদি নোংরা রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে গড়ে ওঠে, তাহলে একটি সুন্দর দেশের স্বপ্ন দেখা নেহাতই বোকামি। জুলাই আমাদের রাজনীতি নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে পারলে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা অসম্ভব নয়।

আশিক বিল্লাহ
২য় বর্ষ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

আরও পড়ুন

প্রাপ্তি-প্রত্যাশার বাস্তবতায় এখনো রয়েছে বিস্তর ঘাটতি

দুই বছর পেরিয়েও জুলাইয়ের কথা ভাবলেই বীভৎস স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। রাজপথে আবু সাঈদ, মুগ্ধদের ঝরে পড়া রক্ত, পুলিশের গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া লাশ, চলন্ত গাড়িতে পা কেটে যাওয়ার মতো অসংখ্য মর্মান্তিক ঘটনা আজও গভীর প্রভাব ফেলে। আন্দোলনের পর দেশ কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে এগোয়নি; প্রত্যাশার জায়গায় রয়ে গেছে বিস্তর ঘাটতি। মববাজি, ধর্ষণ, খুন, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি—কোনোটিই থামেনি। সংস্কার যদি হয়েও থাকে, তার দৃশ্যমান প্রভাব খুব বেশি চোখে পড়ে না। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগও আগের মতোই সীমিত। আর সংস্কারের উদ্দেশ্যে সে সময় রাজপথে নামা কিছু মানুষ জুলাইকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে, যার ফলে শহীদদের আত্মত্যাগও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক সমস্যারও কার্যকর সমাধান হয়নি। কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো আসেনি। তবে প্রত্যাশা রাখতে দোষের কিছু নেই, কারণ মানুষ আশাতেই বাঁচে। আমরা সবাই সুন্দর আগামীর, সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখি। আমাদের এখনো অনেক দূর পথ চলা বাকি।

শেখ রোহান
২য় বর্ষ, কৃষি অনুষদ

প্রত্যাশা: রাষ্ট্রে নারীর পরিচয় হবে তার যোগ্যতা, পোশাক নয়

জুলাইয়ের অনুপ্রেরণা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। আমি রাজপথে নেমেছিলাম কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে। একটি রাষ্ট্রে যখন মানুষের মৌলিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন নীরব থাকাও অন্যায়ের সঙ্গে আপসের নামান্তর। জুলাই-পরবর্তী সময়ে পরিবর্তনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। আজও নারীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের যুক্তির জবাব না দিয়ে চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন একজন নারী মতপ্রকাশের জন্য সম্মান পাবেন, অপমান নয়; যেখানে নারীর পরিচয় হবে তার যোগ্যতা, পোশাক নয়। নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র যদি নারীদের আত্মত্যাগের মূল্য দিতে চায়, তাহলে শুধু স্মৃতিচারণ নয়—নারীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নারীর অবদান শুধু বক্তৃতার শব্দ হয়েই থাকবে, বাস্তবে তার কোনো মূল্য থাকবে না।

জান্নাতুল ফেরদাউস
১ম বর্ষ, রসায়ন বিভাগ


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিধবা নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগকারী নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, লিগ্যাল সেল ও সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে এর তিন দিন পর, আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ওই নারী অভিযোগটি প্রত্যাহার করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, প্রফেসর মাহবুবুর রহমান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছর ধরে যৌন সম্পর্ক করেছেন, কিন্তু এখন বিয়ে নিয়ে তালবাহানা করছেন। তাই আমার অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা করার জন্য আকুল আবেদন জানাই। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমাদের বাসা একই এলাকায়। আমাদের মধ্যে একটা আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল। এ ছাড়া আমার মেয়ে রাজশাহীতে পড়াশোনা করে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি রাজশাহী চলে আসি। এখানে মেয়েকে নিয়ে একটা বাসায় থাকি। পরিচিত হওয়ায় মাহবুব স্যারের সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হতো। এভাবে কিছুদিন চলার পর হঠাৎ তিনি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন আমি “না” করে দিই। তার স্ত্রী-সন্তান আছে, তারা বিদেশে থাকেন—এটা আমি জানতাম। আমাকে তিনি বলেন, তাদের (নিজের পরিবার) সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন পর আমার মেয়ে গ্রামের বাসায় গেলে তিনি আমাকে তার বাসায় ডাকেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেন। এরপর আরও দু-তিন দিন আমাকে বাসায় নিয়ে যান। আমি বিয়ের কথা বললে একদিন আমাকে থাপ্পড় দেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তিনি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হন। এরপর তিনি আমার বাড়িতে গিয়ে আমার কাছে মাফ চেয়ে বিয়ে করেন। সে সময় পাঁচজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন আমাদের বিয়ে পড়ান। তবে পরদিন কাবিন রেজিস্ট্রির সময় তার আগের বৈবাহিক অবস্থার বিষয়টি সামনে এলে তিনি কাবিননামায় স্বাক্ষর না করেই চলে যান। এখন তিনি আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই—এটাই আমার দাবি। তবে অভিযোগের তিন দিন পর তা প্রত্যাহার করেন ওই নারী। প্রত্যাহারপত্রে তিনি লিখেছেন, প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আমি অবৈধ সম্পর্কের যে অভিযোগটি করেছিলাম, সেটা ব্যক্তিগত ঝামেলা এবং অন্যদের প্ররোচনায় করা হয়েছিল। উনি সম্পূর্ণ নির্দোষ, আমার আর কোনো অভিযোগ নেই। আমি অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিলাম। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিককে বলেন, একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। আপনাদের কিছু করতে হবে না। তাদের বিয়ে পড়ানো সেই সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা সেদিন পাঁচজন উপস্থিত ছিলাম। তাদের বিয়ে হয়েছিল। মাঝে একটা সমস্যা হয়েছিল, তা এখন মিটমাট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে জানতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে কল দিলে তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। প্রাথমিক সত্যতা পেলে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব। আরটিভি/টিআর
বিধবা নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে
আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজার নামাজ আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে রোববার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও স্তব্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত থাকবে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নোটিশের মাধ্যমে জানাবে। আরটিভি/টিআর
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে রোববার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
ব্যাকটেরিয়ার কালচারেই যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ‘বৈজ্ঞানিক শিল্প’
চোখে দেখা যায় না, অথচ জীবনের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে—অণুজীবের সেই অদৃশ্য জগত এবার পেট্রি ডিশে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কখনো গোলাপ, কখনো গাছের মতো শাখা-প্রশাখা, কখনো কোষ কিংবা বিভিন্ন প্রতীকী অবয়ব। রং-তুলির আঁচড় নয়, এসব নকশা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কালচার ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে। আর এই ব্যতিক্রমী বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার পেছনে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাত। আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস উপলক্ষে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয় এসব ব্যাকটেরিয়াল কালচার। র‍্যালি, সমাবেশ, অণুজীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের গ্র্যান্ড ফাইনাল, ইনোভেশন শোকেস, ‘মাইক্রোবস ডিসকভারি কর্নার’ ও বায়োফার্টিলাইজার প্রদর্শনীর পাশাপাশি পেট্রি ডিশে তৈরি এসব ফর্মেশন বিশেষভাবে নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কালচার মিডিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে তৈরি করেছেন নান্দনিক এসব ফর্মেশন। কোথাও ব্যাকটেরিয়ার কলোনি ছড়িয়ে পড়েছে গাছের ডালপালার মতো, কোথাও ফুটে উঠেছে ফুলের অবয়ব। আবার কোনো পেট্রি ডিশে দেখা গেছে কোষের প্রতিকৃতি, কোনোটি যেন প্রকৃতির কোনো দৃশ্য। দূর থেকে দেখলে এগুলোকে সাধারণ শিল্পকর্ম মনে হলেও কাছে গেলেই বোঝা যায়, এসবের প্রতিটি রেখা ও নকশার পেছনে রয়েছে অণুজীবের বৃদ্ধি। প্রদর্শনীতে থাকা পেট্রি ডিশগুলোর একটিতে দেখা যায় ‘The Eternal Tree’—ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে ব্যবহার করে গাছের মতো একটি বিস্তৃত ফর্মেশন। অন্যটিতে ‘The Prokaryotic Cell’, যেখানে অণুজীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণাকে শিল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ‘Roses’, ‘The Phoenix’, ‘The Pursuit of Knowledge’, ‘Swimming’ ও অন্যান্য সৃজনশীল ফর্মেশনও। প্রতিটি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কালচার মিডিয়া ও অণুজীবের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। শুধু নান্দনিকতা নয়, এসব প্রদর্শনীতে অণুজীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক শিক্ষাটিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। Escherichia coli, Staphylococcus aureus, Staphylococcus epidermidis, Klebsiella pneumoniae এবং বিভিন্ন Vibrio প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কালচার প্রদর্শনের পাশাপাশি E. coli-এর জন্য MacConkey ও EMB এবং Vibrio প্রজাতির জন্য TCBS-এর মতো কালচার মিডিয়ায় অণুজীবের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বৃদ্ধিও দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন পেট্রি ডিশে ব্যাকটেরিয়ার কলোনির রং, আকার, বিস্তার ও বৃদ্ধির ধরনও আলাদা। ফলে একই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা যেমন অণুজীবের বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কালচার, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার অভিজ্ঞতারও একটি বাস্তব চিত্র দেখতে পেয়েছেন। অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের আয়োজিত এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করে তোলা। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বলতে চোখের সামনে কোনো দৃশ্যমান অবয়ব কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু উপযুক্ত কালচার মিডিয়া ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদের বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা সেই অদৃশ্য জগতকেই পেট্রি ডিশে নান্দনিক রূপ দিয়েছেন। এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় তাই বিজ্ঞান ও শিল্পের এক ভিন্ন ধরনের মেলবন্ধন দেখা গেছে। একদিকে তারা শিখেছেন কীভাবে নির্দিষ্ট কালচার মিডিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে হয়, অন্যদিকে সেই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকেই ব্যবহার করেছেন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার মতো সৃজনশীল উপস্থাপনায়। আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবসের মূল আয়োজনেও অণুজীবের গুরুত্ব, গবেষণা ও জনসচেতনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান র‍্যালিতে শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)-সংক্রান্ত সচেতনতামূলক বার্তার প্রশংসা করেন। বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তারও মানবদেহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অণুজীবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। সেই বড় আয়োজনের ভেতরে পেট্রি ডিশে তৈরি এসব ব্যাকটেরিয়াল ফর্মেশন যেন অণুজীববিজ্ঞানের আরেকটি গল্প বলেছে—যে জীবকে খালি চোখে দেখা যায় না, তাকেও বিজ্ঞান, পর্যবেক্ষণ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষের সামনে দৃশ্যমান করে তোলা সম্ভব। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন তাই কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান, গবেষণামুখী চিন্তা ও সৃজনশীলতারও এক অভিনব প্রকাশ। আরটিভি/টিআর
ব্যাকটেরিয়ার কালচারেই যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ‘বৈজ্ঞানিক শিল্প’
আরও পড়ুন
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রিডিউস প্লাস্টিক, গো গ্রিন’ কর্মসূচি পালন
বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে: আযম খান
‘কারাগার থেকে পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক, তথ্য নেই ১৬৬ জনের’
‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত