
সাবেক হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানকে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) আইন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এ দাবিতে স্মারকলিপি দেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, আইন শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, সততা, নিরপেক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও বিচারিক নৈতিকতা। আইন বিভাগ শুধু আইন বিষয়ে শিক্ষা দেয় না; বরং ভবিষ্যৎ আইনজীবী, বিচারক, গবেষক ও আইনজ্ঞদের মধ্যে ন্যায়বোধ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, মো. আখতারুজ্জামানের আইন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি জানার পর তাদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও আপত্তির সৃষ্টি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিচারিক দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের মার্চে রাষ্ট্রপতি তার বিষয়ে তদন্তের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তাকে কাউন্সিলের সামনে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপিতে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় মো. আখতারুজ্জামান রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার পরিপন্থী ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মামলায় তার দেওয়া রায় নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, একজন আইন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু শিক্ষক নন; তিনি ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও বিচারিক মূল্যবোধেরও আদর্শিক প্রতিনিধি। ফলে বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় যার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান হয়েছে, তাকে আইন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও শিক্ষকের আদর্শিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, কোনো ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা অসম্মান প্রদর্শন তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, প্রার্থীর পেশাগত সততা, নৈতিক অবস্থান, বিচারিক রেকর্ড, জনআস্থা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলো উপেক্ষা করে আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে। এমন শিক্ষা-পরিবেশ তারা চান না, যেখানে নৈতিকতার চেয়ে পদমর্যাদা বড় হয়ে ওঠে এবং বিচারিক দায়িত্বের জবাবদিহিতার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা সাবেক বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা, নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম ও শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান তারা।
এদিকে এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা তাকে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিইনি। তিনি গেস্ট টিচার হিসেবে ক্লাস নিয়েছেন। ইতোমধ্যে আমরা তাকে জানিয়ে দিয়েছি যে, পরবর্তী ক্লাস থেকে তিনি আর আসবেন না।
আরটিভি/ এসকেডি


