ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপালে বন্যায় নিহতদের স্মরণে বাকৃবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

বাকৃবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৮ এএম
মোমবাতি প্রজ্বালন। ছবি: আরটিভি

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় শোক ও সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মোমবাতি প্রজ্বালন ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পাশে আমতলায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাকৃবির ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কর্মসূচির শুরুতে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। পরে নিহতদের আত্মার শান্তি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক।

অনুষ্ঠানে নেপালি শিক্ষার্থীরা নিজেদের দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক ও আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় ভেটেরিনারি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী জারুরি পাচাই বলেন, আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আমার জন্মভূমি নেপালে সম্প্রতি ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। আমরা অগণিত মানুষকে হারিয়েছি। বহু পরিবার এখন আশ্রয়হীন, অসহায় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। নিহতদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে যারা বেঁচে আছেন, তাদের এখন বেঁচে থাকার মৌলিক লড়াই করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু সহানুভূতি প্রকাশ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বাস্তব সহায়তা। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে অনুদান বা সহায়তা তহবিল গঠনে অংশ নিলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে তা ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরেক নেপালি শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল গুরুঙ বলেন, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত এবং এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। বাংলাদেশে অবস্থান করায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব না হলেও বিভিন্নভাবে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। এ সময় নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ভেটেরিনারি অনুষদের অন্য এক নেপালি শিক্ষার্থী দিবাকাস কাফলে বলেন, একজন নেপালি শিক্ষার্থী হিসেবে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। নেপালিদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাতে এ আয়োজন করায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অসংখ্য মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানানো হচ্ছে। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, আহত, নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের গভীর সহমর্মিতা রয়েছে। গভীর শোকের এই সময়ে বাকৃবি পরিবার নেপালের সরকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের নেপালি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি আমাদের সংহতি রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণও নেপালের এই কঠিন সময়ে দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।

বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে সমব্যথী। আমাদের কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্জন পাহাড়ে অপ্রতীমের মরদেহের সঙ্গে ঘটেছিল আরও এক নির্মমতা
কুমিল্লার কোটবাড়ী থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ।
নির্জন পাহাড়ে অপ্রতীমের মরদেহের সঙ্গে ঘটেছিল আরও এক নির্মমতা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চুল কেটে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হলরোড-সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. আজমুল হোসেন (২২) নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ওই সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে চুরির অভিযোগে তাকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে খুবির অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তারা কর্তৃপক্ষকে জানান, আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমুল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন তিনি তার বাবাকে জানান যে, তিনি সেখানে থাকেন এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছেন। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না।  এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়। চারদিকে তখন অনেক লোকজন, আওয়াজ ও বিশৃঙ্খলা থাকায় পরে কে ফোনে কথা বলেছেন, তা তিনি খেয়াল করেননি। ওই মেসের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। শুরুতে সেখানে ১০-১২ জনের মতো শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে আরও অনেক লোকজন চলে আসেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় তাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করা হয় এবং তার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে আরও লোকজন চলে আসায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং টুকটাক বাড়াবাড়িও হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। ছাদে থাকাবস্থায় তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওই মেসের শিক্ষার্থীরা। কথা বলার পর আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তখন তিনি হঠাৎ ছাদের যে কর্নার বা কার্নিশের দিকে যান, সেখানে বৃষ্টির পানি জমে জায়গাটি কিছুটা পিচ্ছিল ছিল। তিনি সেখানে গিয়ে সরাসরি লাফ দেন। তাকে ধরার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানান তারা। এদিকে, মারধরের পর নিহত আজমুলের পিতার কাছে ফোন করে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন দাবি করেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায়, এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে, খরচ। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি, ঠিক আছে, তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের ওপর ফোন দিই, কিন্তু ফোন ধরে না। পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে পৌঁছাই ৬টার পরে। সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা, আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে, আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা, আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, তারপরে দেখলাম, অতিরিক্ত ওরা মারধর করে মেরে ফেলছে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। আমি চাচ্ছি না কোর্ট-কাচারি করব, বিচার করবেন তিনি। আমার কোনো অভিযোগ নাই, আমি চাচ্ছি না আমার ছেলেরে কাটাকুটি করুক। টাকা-পয়সা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনাস্থলে থাকা এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথা শুনেননি। তার মতে, তাদের কেউ টাকা-পয়সা দাবি করার মতো কথা বলবে—এটা অসম্ভব। তিনি জানান, ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং পরিকল্পনা ছিল ছাত্রটিকে সেখান থেকে নিয়ে পুলিশে দিয়ে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় ছাদে ১৫-২০ জনের মতো মানুষ ছিলেন। ছাত্রটি লাফ দেওয়ার পর সবাই হতবিহ্বল হয়ে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের কোনো মানুষ, সে যত খারাপই হোক, কাউকে ছাদ থেকে ফেলে মেরে ফেলার মতো মানসিকতা রাখবে—এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি ফেসবুকে এ ধরনের আলোচনা দেখতে পেয়ে বিষয়টিকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে একটি ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে আজমুলকে কয়েকজন মারধর করেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়। এ সময় সঙ্গে থাকা যুবকেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে চুরি করে পালানোর সময় লাফিয়ে পড়ে আজমুল আহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের একটি ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তারা বাইরে আসেন। এ সময় ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে নিচে পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চুল কেটে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা
পুলিশ সুপার / অপ্রতীমের প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ননস্টপ কাজ করে যাবো
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতীম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবো।
অপ্রতীমের প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ননস্টপ কাজ করে যাবো
চাকরিচ্যুত ইবির অধ্যাপক ড. শিপন 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের অধ্যাপক ড. শিপন মিয়াকে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছুটি শেষ হলেও কর্মস্থলে যোগদান না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক আদেশে গত ২৮ মার্চ থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আইসিটি বিভাগের এই শিক্ষককে গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ৮১ দিনের অর্জিত ছুটি এবং ১৬ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধকালীন সময়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ছুটি শেষে এ বছরের ২৮ মার্চ কর্মস্থলে যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। পরে ১৯ এপ্রিল এক পত্রে তাকে ১৪ দিনের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কর্মস্থলে যোগদান না করে ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি, অ্যাডিলেডে যোগদানের উদ্দেশ্যে এক বছর এক মাস দুই দিনের লিয়েন ছুটির আবেদন করেন চাকরিচ্যুত এই অধ্যাপক। এরপর গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭৪তম (সাধারণ) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে পুনরায় ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে যোগদানের চূড়ান্ত সময় দেওয়া হয়। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কর্মস্থলে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে গত ২৮ মার্চ থেকে চাকরিচ্যুত ঘোষণা করা হয়। এ ব্যাপারে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি (ড. শিপন) যে আবেদন করেছিলেন, তা প্রশাসনের কাছে আমরা হস্তান্তর করেছি। প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নেই। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় সিন্ডিকেটে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিস্তারিত রেজুলেশনে উল্লেখ করা আছে। আরটিভি/টিআর
চাকরিচ্যুত ইবির অধ্যাপক ড. শিপন 
এআই সত্যকে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করছে: অধ্যাপক ইব্রাহীম
বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেছেন, এআই সত্যকে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরিতে এআই এর প্রভাব ছিলো কিনা তা ভাবা উচিত।
এআই সত্যকে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করছে: অধ্যাপক ইব্রাহীম
আরও পড়ুন
তিন মাসেও কমেনি পানি, জীবন যেখানে ‘জলজ প্রাণীর মতো’
ফটিকছড়িতে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত ৫ গ্রাম
নিউইয়র্কে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আকস্মিক বন্যার সতর্কতা
তাপমাত্রা ও বন্যা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বার্তা