ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্জন পাহাড়ে অপ্রতীমের মরদেহের সঙ্গে ঘটেছিল আরও এক নির্মমতা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার কোটবাড়ী থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ বছরের অপ্রতীমের মরদেহ। মাথায় ছিল গুরুতর আঘাতের চিহ্ন। এরই মধ্যে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে সামনে এসেছে আরও একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দেখা যায়, নির্জন পাহাড়ে পড়ে থাকা শিশুটির মরদেহ টানাহেঁচড়া করছে একটি শিয়াল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নির্জন এলাকায় পড়ে থাকা শিশুটির মরদেহ একটি শিয়াল টানাহেঁচড়া করছে। মরদেহ উদ্ধারের আগে বা পরে ঠিক কখন এই দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে কোটবাড়ীর বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তার ফোনের অবস্থান কুমিল্লার কোটবাড়ীর গন্ধমতি এলাকায় শনাক্ত করা গেলেও পরে সেটির অবস্থান আর পাওয়া যায়নি।

ছেলেকে না পেয়ে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। এরপর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে খোঁজ শুরু করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অপ্রতীম অটোরিকশায় করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যায়। সেখানে এক যুবকের সঙ্গে তাকে হাত মেলাতে এবং প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে ওই যুবককে দেখা গেলেও তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকা থেকে অপ্রতীমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় এক কৃষকের বরাতে একাধিক লাইভে বলা হয়, নির্জন এলাকায় পড়ে থাকা শিশুটির মরদেহ একটি শিয়াল টানাহেঁচড়া করছিল।

অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ওই ব্যক্তির পরিচয় এবং অপ্রতীম কীভাবে কোটবাড়ী থেকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় গেল, সেসব প্রশ্নের উত্তরও এখন তদন্তের অংশ।

একটি শিশুর এমন মৃত্যু যেমন পরিবারকে শোকের মধ্যে ফেলেছে, তেমনি মরদেহ উদ্ধারের পরের ওই দৃশ্যও নাড়া দিয়েছে মানুষকে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এখন প্রয়োজন তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল।

আরটিভি/এমএ


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চুল কেটে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হলরোড-সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. আজমুল হোসেন (২২) নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ওই সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে চুরির অভিযোগে তাকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে খুবির অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তারা কর্তৃপক্ষকে জানান, আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমুল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন তিনি তার বাবাকে জানান যে, তিনি সেখানে থাকেন এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছেন। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না।  এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়। চারদিকে তখন অনেক লোকজন, আওয়াজ ও বিশৃঙ্খলা থাকায় পরে কে ফোনে কথা বলেছেন, তা তিনি খেয়াল করেননি। ওই মেসের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। শুরুতে সেখানে ১০-১২ জনের মতো শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে আরও অনেক লোকজন চলে আসেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় তাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করা হয় এবং তার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে আরও লোকজন চলে আসায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং টুকটাক বাড়াবাড়িও হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। ছাদে থাকাবস্থায় তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওই মেসের শিক্ষার্থীরা। কথা বলার পর আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তখন তিনি হঠাৎ ছাদের যে কর্নার বা কার্নিশের দিকে যান, সেখানে বৃষ্টির পানি জমে জায়গাটি কিছুটা পিচ্ছিল ছিল। তিনি সেখানে গিয়ে সরাসরি লাফ দেন। তাকে ধরার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানান তারা। এদিকে, মারধরের পর নিহত আজমুলের পিতার কাছে ফোন করে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন দাবি করেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায়, এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে, খরচ। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি, ঠিক আছে, তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের ওপর ফোন দিই, কিন্তু ফোন ধরে না। পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে পৌঁছাই ৬টার পরে। সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা, আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে, আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা, আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, তারপরে দেখলাম, অতিরিক্ত ওরা মারধর করে মেরে ফেলছে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। আমি চাচ্ছি না কোর্ট-কাচারি করব, বিচার করবেন তিনি। আমার কোনো অভিযোগ নাই, আমি চাচ্ছি না আমার ছেলেরে কাটাকুটি করুক। টাকা-পয়সা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনাস্থলে থাকা এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথা শুনেননি। তার মতে, তাদের কেউ টাকা-পয়সা দাবি করার মতো কথা বলবে—এটা অসম্ভব। তিনি জানান, ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং পরিকল্পনা ছিল ছাত্রটিকে সেখান থেকে নিয়ে পুলিশে দিয়ে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় ছাদে ১৫-২০ জনের মতো মানুষ ছিলেন। ছাত্রটি লাফ দেওয়ার পর সবাই হতবিহ্বল হয়ে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের কোনো মানুষ, সে যত খারাপই হোক, কাউকে ছাদ থেকে ফেলে মেরে ফেলার মতো মানসিকতা রাখবে—এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি ফেসবুকে এ ধরনের আলোচনা দেখতে পেয়ে বিষয়টিকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে একটি ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে আজমুলকে কয়েকজন মারধর করেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়। এ সময় সঙ্গে থাকা যুবকেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে চুরি করে পালানোর সময় লাফিয়ে পড়ে আজমুল আহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের একটি ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তারা বাইরে আসেন। এ সময় ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে নিচে পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চুল কেটে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা
পুলিশ সুপার / অপ্রতীমের প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ননস্টপ কাজ করে যাবো
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতীম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবো।
অপ্রতীমের প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ননস্টপ কাজ করে যাবো
চাকরিচ্যুত ইবির অধ্যাপক ড. শিপন 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের অধ্যাপক ড. শিপন মিয়াকে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছুটি শেষ হলেও কর্মস্থলে যোগদান না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক আদেশে গত ২৮ মার্চ থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আইসিটি বিভাগের এই শিক্ষককে গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ৮১ দিনের অর্জিত ছুটি এবং ১৬ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধকালীন সময়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ছুটি শেষে এ বছরের ২৮ মার্চ কর্মস্থলে যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। পরে ১৯ এপ্রিল এক পত্রে তাকে ১৪ দিনের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কর্মস্থলে যোগদান না করে ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি, অ্যাডিলেডে যোগদানের উদ্দেশ্যে এক বছর এক মাস দুই দিনের লিয়েন ছুটির আবেদন করেন চাকরিচ্যুত এই অধ্যাপক। এরপর গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭৪তম (সাধারণ) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে পুনরায় ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে যোগদানের চূড়ান্ত সময় দেওয়া হয়। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কর্মস্থলে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে গত ২৮ মার্চ থেকে চাকরিচ্যুত ঘোষণা করা হয়। এ ব্যাপারে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি (ড. শিপন) যে আবেদন করেছিলেন, তা প্রশাসনের কাছে আমরা হস্তান্তর করেছি। প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নেই। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় সিন্ডিকেটে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিস্তারিত রেজুলেশনে উল্লেখ করা আছে। আরটিভি/টিআর
চাকরিচ্যুত ইবির অধ্যাপক ড. শিপন 
এআই সত্যকে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করছে: অধ্যাপক ইব্রাহীম
বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেছেন, এআই সত্যকে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরিতে এআই এর প্রভাব ছিলো কিনা তা ভাবা উচিত।
এআই সত্যকে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করছে: অধ্যাপক ইব্রাহীম
বিদেশ যাচ্ছেন বাকৃবির ৩৫ শিক্ষার্থী
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ২৩তম ইন্টার্নশিপের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (ডিভিএম-৬০) ১৭৯ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে বিশ্বের চারটি দেশে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। জানা যায়, এ বছর ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ১৭৯ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। পাশাপাশি ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিদেশেও ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ১৬ জন, থাইল্যান্ডে ১২ জন, জাপানে চারজন এবং নেপালে তিনজন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। ইউজিসি থেকে অর্থায়ন পাওয়া সহজ নয়, তবে আমরা সৌভাগ্যবান যে এ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে পারছি। ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং ডিগ্রি এবং ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গৌরবময় অনুষদ। তিনি আরও বলেন, ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আমরা উদ্যোগ নেব। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদেশে ইন্টার্নশিপে গিয়ে সাফল্য অর্জন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেখানে ইন্টার্নশিপ করবে, সেখানে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শিখে আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। কোনো ধরনের অনিয়মে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, আমরা জানি, উন্নত দেশগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি সায়েন্সে পড়াশোনা করে। আমি ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ববোধ করি। তবে ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা, শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর এক লাখ করে মোট পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা একটি জেন্ডার-ব্যালান্সড ক্যাম্পাস চাই। জীবনে সফলতার জন্য পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেককে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তোমাদের সেগুলো মেনে চলতে হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বলতে চাই, বাকৃবির সব শিক্ষক তোমাদের সঙ্গে আছেন। জনগণের অর্থে অর্জিত জ্ঞান এখন কাজে লাগানোর সময়। কীভাবে কৃষক ও খামারিদের সেবা দেওয়া যায় এবং নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সেদিকে তোমাদের সচেতন থাকতে হবে। সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিদ্যমান সুযোগগুলোকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা ইন্টার্নশিপের এই সময়টুকু যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে। আরটিভি/টিআর
বিদেশ যাচ্ছেন বাকৃবির ৩৫ শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
কিশোর অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক ৩
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আরও একজন ধরা
এআই সত্যকে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করছে: অধ্যাপক ইব্রাহীম
জামায়াত আমিরের লংমার্চের বক্তব্যে ‘অপ্রতীম হত্যা’ প্রসঙ্গ