
স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানতে গেলে মৃন্ময় চক্রবর্তী নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর, গালিগালাজ ও ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি দেয় ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মৃন্ময় চক্রবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড এক্সটেনশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানতে গেলে ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীরা তার মাথায় চাপ দিয়ে ধরে শরীরে আঘাত করে এবং গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। এরপর কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রাখে এবং প্রচুর গালিগালাজ ও ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মৃন্ময় চক্রবর্তী বলেন, বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী আসার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামার কথা থাকলেও তা থামেনি। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানতে গেলে ওই সময় টিটি ও তার সহযোগীরা পিছন থেকে আমার মাথার চাপ দিয়ে ধরে আমার শরীরে আঘাত করে এবং গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। এরপর কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রাখে।
তিনি বলেন, এরমধ্যে তারা আমাকে প্রচুর গালিগালাজ করে এবং ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি দেয়। তারা আরও বলে যে পড়ালেখা কীভাবে করি সেসব দেখে নিবে। আমার নামে মামলা হবে। এরপর পুলিশ আসে এবং তাড়াতাড়ি মিনিমাইজ করার চেষ্টা করে। কিন্তু ট্রেনের টিটি বলে ভিসি, প্রক্টর, আম্মার এসে তারপর নিয়ে যাবে। এরপর ওসি স্যার আসেন এবং তিনি চেষ্টা করেন যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। কিন্তু ট্রেনের লোকজন বলে, আম্মার এসে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে নিয়ে যেতে হবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মৃন্ময় আরও বলেন, পরবর্তীতে রাকসু প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলাম সাঈমকে জানালে সে এজিএস সালমান সাব্বির ভাইকে জানান এবং সালমান সাব্বির ভাই প্রশাসনের সাথে কথা বলে আমাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
তিনি বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আম্মার ভাই ট্রেন থামার বিষয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যে, তিতুমীর আর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন নাকি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামবে। তাহলে আজকে কেন থামলো না আর আমাকে কেন এই পরিস্থিতিতে পড়তে হলো? আমার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাই আমি।
এসময় প্রত্যক্ষদর্শী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আজ আমরা রাজশাহী আসার সময় একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হই। প্রথমে আমরা আন্দাজ করতে না পারলেও পরে বুজতে পারছি এটা ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীদের পরিকল্পিত ছিলো। দুই তিন দিন আগে আমরা দেখছি যে সাঁগরদাড়ি ট্রেন স্টেশন বাজারে থামছে। আজকে ট্রেন লেট ছিল প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা এবং বাইরে বৃষ্টিও হচ্ছিল। আমরা বেশ কয়েকজন ছিলাম। চেইন টানার পরে তারা হচ্ছে আমরা তারা যখন আমাদেরকে ধরে আমার ভুক্তভোগী ভাইকে যখন ধরে ধরার পরে আমরা ঐখানে সারেন্ডার করি যে হ্যাঁ আমরা ভুল করছি। একটা অন্যায় আমাদের হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, তারা আমাদেরকে তখন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে গায়ে হাত দেয়। আমাদের কথা ছিল যে আমাদের ভুল হয়েছে রেলের যে আইন আছে যে চেইন টানলে ২০০ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে অন্যান্য শাস্তি। আমাদেরকে তো সেই শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে। তার পূর্বে কেন ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষার্থীকে তারা শিক্ষা নিয়ে বাজে কথা বলবে। এই জাতীয় কথা বলা, গায়ে হাত তোলা, হুমকি দেওয়া এগুলো খুবই জঘন্য কাজ।
এর আগে, গত ২১ জুলাই রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে টিটি মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাকসু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমঝোতা করা হয়। এসময় রাকসু ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রাথমিকভাবে পদ্মা এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে।
আরটিভি/এসএস




