
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একজনও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হননি বলে জানা গেছে। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ছয়জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উঠবে। এমন স্থবিরতা কাটিয়ে তুলতে বর্তমান প্রশাসন ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে কাজ করছে। গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে দফায় দফায় আলোচনাও হয়েছে।
নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ তাদের নির্ধারিত প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছেন এবং ১৮ শতাংশের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
এদিকে, স্নাতক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পাশের হারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তারতম্য দেখা গেছে। এ পর্যায়ে পাশের হার মাত্র ৪২ শতাংশ। বিপরীতে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তি ও পাশের হার প্রায় সমানুপাতিক; সেখানে পাশের হার প্রায় ৭৯ শতাংশ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
একাডেমিক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর ও স্নাতক—এই চার ধরনের একাডেমিক প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। এ পর্যন্ত নেপাল, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, গাম্বিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়ন করেছেন। বর্তমানে ইবিতে মাত্র তিনজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে গাম্বিয়া থেকে ভর্তি হওয়া একজন নারী শিক্ষার্থী এবং নেপাল থেকে আসা দুজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। তবে এরপর থেকে প্রতি বছরই এ সংখ্যা কমতে থাকে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কমে দাঁড়ায় ১৬ জনে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১৪ জনে এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে নেমে আসে মাত্র একজনের।
পরবর্তীতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ভর্তি সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছালেও পরবর্তী তিন শিক্ষাবর্ষে তা যথাক্রমে একজন, তিনজন ও দুজনে সীমাবদ্ধ থাকে। সবশেষে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি একেবারেই শূন্যে নেমে এসেছে। তবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ছয়জন শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের স্থবিরতার ইঙ্গিত বহন করে।
কোন শিক্ষাবর্ষে কত
শিক্ষাবর্ষভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে সাতজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তারা সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজন এমফিলে, চারজন স্নাতকোত্তরে এবং একজন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। তবে এমফিলের দুজন, স্নাতকোত্তরের একজন এবং স্নাতকের একজন শিক্ষার্থী কোর্স সম্পন্ন করতে পারেননি।
২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে তিনজন নারী ও ১৯ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে ১৯ জন স্নাতকোত্তর এবং তিনজন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। পরে স্নাতকোত্তরের চারজন ও স্নাতকের দুজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েন।
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১৬ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও ১২ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে চারজন পিএইচডি, তিনজন স্নাতকোত্তর এবং নয়জন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে একজন পিএইচডি ও ছয়জন স্নাতক শিক্ষার্থী পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে চলে যান। তবে ওই শিক্ষাবর্ষের দুজন পিএইচডি শিক্ষার্থীর গবেষণা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১৪ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তারা সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন স্নাতকোত্তর এবং ১৩ জন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। পরে স্নাতক পর্যায়ের চারজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েন।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে মাত্র একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তার শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চলমান।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মোট ছয়জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজন পিএইচডি, একজন এমফিল এবং তিনজন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। পরে স্নাতক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়লেও বাকিদের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চলমান।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডি পর্যায়ে মাত্র একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন এবং তার শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে তিনজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে একজন পিএইচডি, একজন স্নাতকোত্তর এবং একজন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের একজন ঝরে পড়লেও বাকি দুজনের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমফিল পর্যায়ে দুজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তারা দুজনই পুরুষ এবং বর্তমানে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা শূন্য।
সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং মাত্র ১০ জন নারী। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ জন সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করেছেন, ২৩ জন ঝরে পড়েছেন এবং বর্তমানে ১৩ জনের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রোগ্রামভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ
প্রোগ্রামভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আটজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজন ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, একজন ঝরে পড়েছেন এবং ছয়জনের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
এমফিল প্রোগ্রামে এ পর্যন্ত মোট পাঁচজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এখন পর্যন্ত কেউ ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি। তাদের মধ্যে দুজন ঝরে পড়েছেন এবং তিনজনের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মোট ২৮ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করেছেন, পাঁচজন ঝরে পড়েছেন এবং একজনের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, স্নাতক পর্যায়ে মোট ৩১ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও মাত্র ১৩ জন কোর্স সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ১৫ জন মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন এবং তিনজন বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন। ফলে স্নাতক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি বলে তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
কেন কমছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী?
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সেশনজট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ আবাসনের অভাব, অধিকাংশ বিভাগে বাংলা ভাষায় পাঠদান, আধুনিক গবেষণাগারের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাব—এসব কারণেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
তাদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে ওঠার যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এগোচ্ছিল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ধারাবাহিক পতন এবং উচ্চ ড্রপআউট হার সেই সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ বিষয়ে একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস. এম. সাদৎ হোসেন বলেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। তবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পাঁচ-ছয়জনের ভর্তি প্রক্রিয়াধীন। আমি মূলত একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের দায়িত্ব অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পালন করছি। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের দায়িত্বে একজন পরিচালক রয়েছেন। এ ছাড়া আর কোনো জনবল নেই। ফলে কাজগুলো যথাযথভাবে করা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে যায়। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে একজন কর্মরত থাকলেও তার বেতন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া অফিস পরিচালনা বাবদ আলাদা কোনো বাজেট নেই।
এমন দুরবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যে আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তা পর্যাপ্ত নেই। সেই তুলনায় তাদের খরচ অনেক বেশি। ফলে তারা এসে হতাশ হয়ে চলে যান। এ ছাড়া তাদের একাডেমিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাষাগত সমস্যা নিরুৎসাহিত করে। তাদের সার্বিক দেখাশোনার জন্য মেন্টর দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি দেওয়া হয়নি। পূর্বে এসব সমস্যার কারণে অনেকে এসে এক সপ্তাহের মধ্যে চলে গেছেন—এমন নজিরও রয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক সেলের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমি কিছুদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর অবস্থা দেখে হতাশাব্যঞ্জক মনে হলো। আমাদের একটি অ্যাকশন প্ল্যানে যেতে হবে। প্রশাসন বা বর্তমান ভিসি চিন্তা করছেন, কীভাবে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কার্যকর প্রচার, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় এবং যথাযথ একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহী হবেন। আমাদের পরিকল্পনা আছে, এই অফিসকে আন্তর্জাতিক মানের সাজানোর। একটু সময়ের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে।
উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক সেলে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে, যারা আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে। এখানে দুটি বিষয় আছে—একটি হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের ওয়েলকাম জানানো। এটি বর্তমানে স্থবির অবস্থায় পড়ে আছে। ভালো খবর হচ্ছে, এবার ছয়জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়ায় আছেন। আগামী সিন্ডিকেটে বিষয়টি উঠবে। আর অন্যটি হচ্ছে—ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে এনগেজমেন্ট বাড়ানো। সেটা হতে পারে সমঝোতা স্মারক চুক্তি, বিভিন্ন কোলাবোরেশন, পার্টনারশিপ ও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা। আমার মনে হচ্ছে, একটি ইন্টারন্যাশনাল অফিস দরকার, যেখানে সার্বক্ষণিক একজন থাকবেন এবং আমরা ইশারা দিলেই যাতে কাজ করার মতো সক্ষম জনবল থাকে। ঢেলে সাজানোর জন্য উপাচার্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, বৈশ্বিক সংযোগ, স্কলারশিপ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় সহজ করতে একটি কার্যকর ‘ইন্টারন্যাশনাল সেল’ গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত আবাসন এবং ‘বিশেষভাবে বরণ’ করে নেওয়ার উদ্যোগের পরিকল্পনা করছি। তারা যেন উৎসাহের সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য নির্বিঘ্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দফায় দফায় আলোচনা সভা ও মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন রূপে সাজাতে জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
আরটিভি/টিআর




