ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারি, আহত ৩

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের মারামারি। ছবি: আরটিভি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই বিভাগের অন্তত তিনজন খেলোয়াড় আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে খেলা ড্র হওয়ায় টাইব্রেকারে গড়ায়। এতে ইতিহাস বিভাগ ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। ম্যাচ শেষে ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড়দের উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড় জীম ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের তানভীর আহত হন।

জানতে চাইলে ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড় সানাউল্লাহ রাফসান বলেন, ম্যাচের শুরু থেকেই চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন এবং বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিলেন। তবে আমরা সেটাকে ম্যাচেরই একটি অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম। ম্যাচ জেতার পর আমরা যখন উদযাপন করছিলাম, তখন তারা সেটা নিতে পারেনি। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় হৃদয় আমাদের এক খেলোয়াড়কে বুট দিয়ে আক্রমণ করেন। এতে আমাদের এক খেলোয়াড়ের মাথা ফেটে যায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় তানভীর জামান বলেন, ইতিহাস বিভাগ ম্যাচ জিতেছে, আমরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু ম্যাচ জেতার পরই ইতিহাস বিভাগের গ্যালারি থেকে আমাদের গোলকিপারের ওপর ইট নিক্ষেপ করা হয়। ওই ইটটি আমাদের গোলকিপার ইতিহাস বিভাগের অধিনায়ককে দেখাতে গেলে তারা দাবি করে, আমাদের খেলোয়াড় নাকি ইট নিয়ে তাদের মারতে গিয়েছেন। তখন তাদের সব খেলোয়াড় মিলে আমাদের গোলকিপারের ওপর আক্রমণ করে। পরবর্তীতে আমরা ছুটে গেলে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও গ্যালারি ভেঙে আমাদের দর্শকদের ওপর তেড়ে আসে। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করা হোক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর গিয়াস উদ্দীন আহমেদ বলেন, খেলা শেষে মারামারির কথা শুনে আমরা দ্রুত স্টেডিয়ামে চলে আসি। খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। স্টেডিয়াম এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যারা মারামারির ঘটনায় জড়িত ছিল, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কুবিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি ছাত্রদলের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিমের কাছে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাছিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, প্রশাসনিক ভবন ও অন্যান্য উপযুক্ত স্থাপনার ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। স্মারকলিপিতে ছাত্রদলের উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—একটি সমন্বিত ‘সোলার পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন, আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই এবং সরকারি বরাদ্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়ন ও করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ অনুসন্ধান। এ ছাড়া প্রত্নতত্ত্ব, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে কাজে লাগানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কারিগরি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাছিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছি। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। আরটিভি/টিআর
কুবিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি ছাত্রদলের
ইবির ৫ম সমাবর্তন বাস্তবায়নে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫ম সমাবর্তন আয়োজন উপলক্ষে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এবং সদস্যসচিব হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত স্টিয়ারিং কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিন, সব বিভাগের সভাপতি, আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্ট, বিভিন্ন অফিসের প্রধান এবং সিনিয়র শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সমাবর্তন আয়োজনের সার্বিক পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, সমন্বয় ও বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১, ২ অথবা ৩ তারিখের মধ্যে যেকোনো একটি দিন চূড়ান্ত করে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে নির্ধারিত তারিখ প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। জনসংযোগ দপ্তর বলছে, সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান এবং একাডেমিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে একটি সফল ও স্মরণীয় সমাবর্তন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করবে কমিটি। আরটিভি/টিআর
ইবির ৫ম সমাবর্তন বাস্তবায়নে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন
খুবিতে প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ক্লাবের উদ্যোগে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। কর্মসূচিতে ঔষধি, ফুল ও ফলের বিভিন্ন প্রজাতির চারা দেওয়া হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে দুই দিনব্যাপী ‘গিভ অ্যান্ড টেক সেশন-৪’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমি এই অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও চলমান রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। গাছ নেওয়ার সময় এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল জমা দিয়ে গাছের চারা নেওয়ার উদ্যোগটি খুবই ভালো লেগেছে। এতে একদিকে প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন হওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে নিজের হাতে একটি গাছ লাগানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে। ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ক্লাবের সভাপতি আসিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে প্লাস্টিক ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা। একই সঙ্গে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য বৃক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরা। বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশনের জন্য বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই আমাদের এ উদ্যোগ। গত বছরের আয়োজনে আমরা ১৫ শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করেছিলাম। এবার দুই হাজারের অধিক চারা বিতরণের আশা করছি। আরটিভি/টিআর
খুবিতে প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ
ইবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি তলানিতে, কর্তৃপক্ষের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একজনও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হননি বলে জানা গেছে। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ছয়জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উঠবে। এমন স্থবিরতা কাটিয়ে তুলতে বর্তমান প্রশাসন ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে কাজ করছে। গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে দফায় দফায় আলোচনাও হয়েছে। নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ তাদের নির্ধারিত প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছেন এবং ১৮ শতাংশের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। এদিকে, স্নাতক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পাশের হারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তারতম্য দেখা গেছে। এ পর্যায়ে পাশের হার মাত্র ৪২ শতাংশ। বিপরীতে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তি ও পাশের হার প্রায় সমানুপাতিক; সেখানে পাশের হার প্রায় ৭৯ শতাংশ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একাডেমিক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর ও স্নাতক—এই চার ধরনের একাডেমিক প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। এ পর্যন্ত নেপাল, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, গাম্বিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়ন করেছেন। বর্তমানে ইবিতে মাত্র তিনজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে গাম্বিয়া থেকে ভর্তি হওয়া একজন নারী শিক্ষার্থী এবং নেপাল থেকে আসা দুজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। তবে এরপর থেকে প্রতি বছরই এ সংখ্যা কমতে থাকে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কমে দাঁড়ায় ১৬ জনে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১৪ জনে এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে নেমে আসে মাত্র একজনের। পরবর্তীতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ভর্তি সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছালেও পরবর্তী তিন শিক্ষাবর্ষে তা যথাক্রমে একজন, তিনজন ও দুজনে সীমাবদ্ধ থাকে। সবশেষে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি একেবারেই শূন্যে নেমে এসেছে। তবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ছয়জন শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের স্থবিরতার ইঙ্গিত বহন করে। কোন শিক্ষাবর্ষে কত শিক্ষাবর্ষভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে সাতজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তারা সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজন এমফিলে, চারজন স্নাতকোত্তরে এবং একজন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। তবে এমফিলের দুজন, স্নাতকোত্তরের একজন এবং স্নাতকের একজন শিক্ষার্থী কোর্স সম্পন্ন করতে পারেননি। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে তিনজন নারী ও ১৯ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে ১৯ জন স্নাতকোত্তর এবং তিনজন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। পরে স্নাতকোত্তরের চারজন ও স্নাতকের দুজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েন। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১৬ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও ১২ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে চারজন পিএইচডি, তিনজন স্নাতকোত্তর এবং নয়জন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে একজন পিএইচডি ও ছয়জন স্নাতক শিক্ষার্থী পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে চলে যান। তবে ওই শিক্ষাবর্ষের দুজন পিএইচডি শিক্ষার্থীর গবেষণা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১৪ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তারা সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন স্নাতকোত্তর এবং ১৩ জন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। পরে স্নাতক পর্যায়ের চারজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে মাত্র একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তার শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চলমান। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মোট ছয়জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজন পিএইচডি, একজন এমফিল এবং তিনজন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। পরে স্নাতক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়লেও বাকিদের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চলমান। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডি পর্যায়ে মাত্র একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন এবং তার শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে তিনজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে একজন পিএইচডি, একজন স্নাতকোত্তর এবং একজন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের একজন ঝরে পড়লেও বাকি দুজনের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমফিল পর্যায়ে দুজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তারা দুজনই পুরুষ এবং বর্তমানে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা শূন্য। সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং মাত্র ১০ জন নারী। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ জন সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করেছেন, ২৩ জন ঝরে পড়েছেন এবং বর্তমানে ১৩ জনের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রোগ্রামভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রোগ্রামভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আটজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজন ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, একজন ঝরে পড়েছেন এবং ছয়জনের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। এমফিল প্রোগ্রামে এ পর্যন্ত মোট পাঁচজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এখন পর্যন্ত কেউ ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি। তাদের মধ্যে দুজন ঝরে পড়েছেন এবং তিনজনের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মোট ২৮ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করেছেন, পাঁচজন ঝরে পড়েছেন এবং একজনের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, স্নাতক পর্যায়ে মোট ৩১ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও মাত্র ১৩ জন কোর্স সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ১৫ জন মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন এবং তিনজন বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন। ফলে স্নাতক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি বলে তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। কেন কমছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী? সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সেশনজট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ আবাসনের অভাব, অধিকাংশ বিভাগে বাংলা ভাষায় পাঠদান, আধুনিক গবেষণাগারের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাব—এসব কারণেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে ওঠার যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এগোচ্ছিল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ধারাবাহিক পতন এবং উচ্চ ড্রপআউট হার সেই সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস. এম. সাদৎ হোসেন বলেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। তবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পাঁচ-ছয়জনের ভর্তি প্রক্রিয়াধীন। আমি মূলত একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের দায়িত্ব অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পালন করছি। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের দায়িত্বে একজন পরিচালক রয়েছেন। এ ছাড়া আর কোনো জনবল নেই। ফলে কাজগুলো যথাযথভাবে করা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে যায়। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে একজন কর্মরত থাকলেও তার বেতন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া অফিস পরিচালনা বাবদ আলাদা কোনো বাজেট নেই। এমন দুরবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যে আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তা পর্যাপ্ত নেই। সেই তুলনায় তাদের খরচ অনেক বেশি। ফলে তারা এসে হতাশ হয়ে চলে যান। এ ছাড়া তাদের একাডেমিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাষাগত সমস্যা নিরুৎসাহিত করে। তাদের সার্বিক দেখাশোনার জন্য মেন্টর দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি দেওয়া হয়নি। পূর্বে এসব সমস্যার কারণে অনেকে এসে এক সপ্তাহের মধ্যে চলে গেছেন—এমন নজিরও রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক সেলের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমি কিছুদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর অবস্থা দেখে হতাশাব্যঞ্জক মনে হলো। আমাদের একটি অ্যাকশন প্ল্যানে যেতে হবে। প্রশাসন বা বর্তমান ভিসি চিন্তা করছেন, কীভাবে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কার্যকর প্রচার, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় এবং যথাযথ একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহী হবেন। আমাদের পরিকল্পনা আছে, এই অফিসকে আন্তর্জাতিক মানের সাজানোর। একটু সময়ের প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক সেলে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে, যারা আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে। এখানে দুটি বিষয় আছে—একটি হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের ওয়েলকাম জানানো। এটি বর্তমানে স্থবির অবস্থায় পড়ে আছে। ভালো খবর হচ্ছে, এবার ছয়জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়ায় আছেন। আগামী সিন্ডিকেটে বিষয়টি উঠবে। আর অন্যটি হচ্ছে—ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে এনগেজমেন্ট বাড়ানো। সেটা হতে পারে সমঝোতা স্মারক চুক্তি, বিভিন্ন কোলাবোরেশন, পার্টনারশিপ ও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা। আমার মনে হচ্ছে, একটি ইন্টারন্যাশনাল অফিস দরকার, যেখানে সার্বক্ষণিক একজন থাকবেন এবং আমরা ইশারা দিলেই যাতে কাজ করার মতো সক্ষম জনবল থাকে। ঢেলে সাজানোর জন্য উপাচার্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, বৈশ্বিক সংযোগ, স্কলারশিপ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় সহজ করতে একটি কার্যকর ‘ইন্টারন্যাশনাল সেল’ গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত আবাসন এবং ‘বিশেষভাবে বরণ’ করে নেওয়ার উদ্যোগের পরিকল্পনা করছি। তারা যেন উৎসাহের সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য নির্বিঘ্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দফায় দফায় আলোচনা সভা ও মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন রূপে সাজাতে জোর দিচ্ছে প্রশাসন। আরটিভি/টিআর
ইবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি তলানিতে, কর্তৃপক্ষের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’
অ্যাসাইনমেন্ট থেকে উদ্যোক্তা কুবির তিন শিক্ষার্থী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে হাঁটলে চোখে পড়ে নানা ধরনের স্টল। কোথাও পোশাক, কোথাও বই, আবার কোথাও খাবার কিংবা কসমেটিকস। এসবের পাশাপাশি নিজেদের তৈরি পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। এবার একটি কোর্সের অ্যাসাইনমেন্ট করতে গিয়ে বাস্তব উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের তিন বন্ধু। মো. ইয়ামিন আহমেদ, মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. পারভেজ সরকার তিনজনই মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের উদ্যোগের নাম ‘মডেক্স লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার’। একটি একাডেমিক কাজের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে এটি বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ নিয়েছে। উদ্যোক্তারা জানান, ‘প্রিন্সিপলস অব মার্কেটিং’ কোর্সের ‘নিউ প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট’ অ্যাসাইনমেন্টে নতুন একটি পণ্য নিয়ে কাজ করার সুযোগ আসে। তখন তারা লেদারের জুতা নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয় তাদের। একপর্যায়ে অ্যাসাইনমেন্টের বিষয়টি ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেওয়ার চিন্তা করেন তারা। অ্যাসাইনমেন্ট করতে গিয়ে তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের কিছু বাস্তব সমস্যাও পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের মতে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে মানসম্মত লেদারের জুতার পর্যাপ্ত বিক্রয়কেন্দ্র নেই। ফলে প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থীদের শহরে গিয়ে জুতা কিনতে হয়। আবার ভালো মানের জুতা কিনতে গেলে অনেক সময় দাম শিক্ষার্থীদের বাজেটের বাইরে চলে যায়। এই বাস্তবতা থেকেই শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে মানসম্মত জুতা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে সরবরাহের উদ্যোগ নেন তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশের চামড়া শিল্প সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যতে এ খাতে কাজ করার লক্ষ্যও রয়েছে তাদের। এ বিষয়ে পারভেজ সরকার বলেন, আমাদের ‘মডেক্স লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার’-এর শুরুটা কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দিয়ে নয়, বরং একটি অ্যাসাইনমেন্টের হাত ধরে। ‘প্রিন্সিপলস অব মার্কেটিং’ কোর্সের ‘নিউ প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট’ অ্যাসাইনমেন্ট করতে গিয়ে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে আমরা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের বাস্তব প্রয়োজনগুলো পর্যবেক্ষণ করি। তিনি বলেন, ক্যাম্পাস এলাকায় মানসম্মত লেদারের জুতা সহজে পাওয়া যায় না। আবার ভালো ব্র্যান্ডের পণ্য অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বাজেটের বাইরে চলে যায়। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত পণ্য দেওয়ার চিন্তা থেকেই আমাদের উদ্যোগের শুরু। ভবিষ্যতে এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই। একটি কোর্সের অ্যাসাইনমেন্ট থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন তিন বন্ধুর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প। ছোট পরিসরে শুরু হলেও অভিজ্ঞতা ও বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে উদ্যোগটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। আরটিভি/টিআর
অ্যাসাইনমেন্ট থেকে উদ্যোক্তা কুবির তিন শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি পেলেন আজন্ম দৃষ্টিহীন রাবি শিক্ষার্থী
নির্ধারিত সময়ে প্রতিশ্রুত অ্যাম্বুলেন্স দিতে পারেনি রাবি শিবির
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি দিলেন ট্রেনের টিটি 
ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে রাবি অধ্যাপক, অতঃপর...