
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামকে নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আছমা ইসলাম। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ওই শিক্ষককে ‘শিক্ষক কম, মেয়েখোর বেশি’ বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ, ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি, থিসিসের পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্দেশ এবং সুপারিশপত্র না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন তিনি।
আছমা ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস কলেজে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে আছমা ইসলাম লেখেন, ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য কাজী আনিছের কাছে সুপারিশপত্র চাওয়ার বিষয়ে তার সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এর আগে একাধিকবার ফোনে অনুমতি নিয়ে তিনি ওই শিক্ষককে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে সুপারিশপত্রের প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠান বলে দাবি করেন। এমনকি শিক্ষকটির পরামর্শে নতুন একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও তা পাঠিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

আছমার অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও কাজী আনিছ তাকে কোনো সুপারিশপত্র দেননি। এমনকি সুপারিশপত্র দেবেন না, সেটিও তাকে সরাসরি জানাননি। শেষদিন ফোনে তাকে শিক্ষার্থীর চেয়ে ‘কর্মচারী’ হিসেবে বেশি আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সুপারিশপত্র না পাওয়ার বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করে আছমা বলেন, একজন শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীকে সুপারিশ করবেন কি না, সেটি তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের পোস্টে আছমা আরও অভিযোগ করেন, বিভাগে ভালো ফলাফল করার কারণে কাজী আনিছ মনে করতেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাকে ‘মনোরঞ্জন’ করতে যাবেন। তিনি তা না করায় একদিন তাকে ডেকে চুলের ধরন নিয়ে কটূক্তি করা হয় বলেও দাবি করেন আছমা।
এ ছাড়া থিসিস জমা দেওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে কাজী আনিছ তার গবেষণার পুরো পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও কাজী আনিছ তার থিসিসের সুপারভাইজার ছিলেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন আছমা।
পোস্টে আছমা আরও লেখেন, শিক্ষকদের ‘মনোরঞ্জন’ করে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে পাওয়া সাফল্য নিয়ে জুনিয়রদের ভাবা উচিত। কাজী আনিছের ক্লাসে পড়ানোর দক্ষতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
শেষে কাজী আনিছকে উদ্দেশ করে আছমা বলেন, তার কাছে ওই শিক্ষক ‘শিক্ষক কম, মেয়েখোর বেশি’। পাশাপাশি যারা তাকে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, তাদেরও ‘টোপ না গেলার’ পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে কাজী এম আনিছুল ইসলাম বলেন, 'আমার ছোটভাই গতকাল হার্ট এটাক করছে আমি তাকে নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে আছি। আমার নামে কে ফেসবুকে কি লিখছে সেটা আমি জানি না।'
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগের একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্ত চলাকালে কাজী আনিছুল ইসলামকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন কাজী আনিছুল ইসলাম। সে সময় তিনি বলেছিলেন, অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ এবং তিনি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের বিষয়ে ধারণা ও নোট দিয়ে থাকেন।
সর্বশেষ আজ (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
আরটিভি/ এসকেডি


