ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গবিতে খেলার মাঠের বিরোধে কয়েক দফা সংঘর্ষ, শিক্ষককে হেনস্তা

গবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার মাঠে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষককে ধাক্কা দিয়ে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। পরে মাঠের বাইরেও বাদামতলা নামক স্থানেও তারা ফের মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আশুলিয়ায় গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও মেডিকেল ফিজিক্স নারী শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলা চলছিল। এ সময় মাঠে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) বিভাগের শিক্ষার্থী আকাশ ও মেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমপিবিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনের মধ্যে তুচ্ছ বিষয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে ইমন তার বিভাগীয় প্রধানের কক্ষে যান। ওই কক্ষে তখন ইমন, বিজয়, নকিব, রাকিবসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী কথা বলছিলেন। এ সময় বিবিএ বিভাগের আকাশ, তামিম সহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওই কক্ষ থেকে বের করে আনেন বলে জানা গেছে। এরপর শিক্ষক করিডরে তাদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়।

ঘটনার সময় মাঠের পাশে উপস্থিত ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর খাদিজা খাতুন বলেন, খেলা পরিচালনার সময় তিনি মাইক্রোবায়োলজি ও মেডিকেল ফিজিক্স বিভাগের দর্শকদের মাঠের নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বলছিলেন। তিনি দুই দলের দর্শকদেরই একই কথা বলেছিলেন। কিন্তু এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাদা শার্ট পরা মেডিকেল ফিজিক্স বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সেখান থেকে চলে যেতে বললে সে অন্যদেরও চলে যেতে বলে। এ সময় তার পেছনে থাকা বিবিএ বিভাগের আকাশ ওই শিক্ষার্থীকে চলে যেতে বলেন। তখন আকাশের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীদের তর্ক শুরু হয়। পরে তর্ক-বিতর্ক থেকে ধস্তাধস্তি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা হাবিব স্যারের (সিনিয়র ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর) কাছে গিয়ে মাঠে বহিরাগত থাকার অভিযোগের বিচার চান। তখন স্যার তাঁদের বলেন, খেলা চলার সময় বৃষ্টি ছিল, তাই তখন কারা উপস্থিত ছিলেন, তা তিনি বলতে পারবেন না।

মেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমপিবিএমই) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: সালাউদ্দিন বলেন, মাঠের ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কেবিনে ডেকে বুঝিয়েছি, কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে সরি বলতে। সরি বললে কেউ ছোট হয়ে যায় না। তারা বিষয়টি বুঝেছিল এবং সরি বলতে রাজিও হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে তাদের কক্ষ থেকে টেনে করিডোরে নিয়ে মারধর করে। মাইক্রোবায়োলজিসহ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থী এতে ছিল বলে আমাকে জানানো হয়েছে। আমাদের কয়েকজন শিক্ষকও তাদের থামানোর চেষ্টা করেছেন এবং ধাক্কাধাক্কির শিকার হয়েছেন। এভাবে শিক্ষকের কক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের টেনে নিয়ে করিডোরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হবে, এটা আমি কখনো চিন্তাও করিনি। এমন ঘটনা আমি আগে কখনো দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্লাস বয়কট না করতেও আমি শিক্ষার্থীদের বারবার অনুরোধ করেছি। তারা ক্লাস বয়কট করবে না বলে আমাকে জানিয়েছিল। বিষয়টি উপাচার্য ও প্রক্টর কমিটি পর্যন্ত গেছে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে। তাই ক্লাস বয়কট কোনো সমাধান নয়, আমি এটিকে সমর্থন করি না।

মারধর করার অভিযোগ ওঠা বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম ইকবাল বলেন, আকাশ তার জুনিয়র। ঘটনার কথা জানতে পেরে তিনি প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে আকাশের সঙ্গে দেখা করেন। আকাশের কাছ থেকে মাঠে তর্ক-বিতর্ক ও তাকে মারধরের কথা শুনে তিনি আরও দুই-তিনজনের সঙ্গে মেডিকেল ফিজিক্স বিভাগে যান। সেখানে বিজয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওর বন্ধু, সিনিয়র-জুনিয়রেরা আমাদের ভেতরে ঢুকতে বা আলোচনা করতে দিতে চাইছিল না। একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কি হয়। আমরা দুই-তিনজন ছিলাম, ওনাদের বিভাগ হওয়ায় ওনাদের লোকজন বেশি ছিল।’

এ বিষয়ে আকাশের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ দেখানোর কারনে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে শিক্ষক করিডরে সংঘর্ষ থামাতে গেলে ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষককে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

হেনস্তার শিকার ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষক অনন্ত কুমার দাশ বলেন, প্রথমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাঠে একবার বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এর পর আমি আমি করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আমি বুঝতে পারি শিক্ষার্থীরা আবার একটা ঝামেলা করার জন্য যাচ্ছে তখন আমি তাদের থামানোর চেষ্টা করি কিন্তু তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায় এং কুরুচিপূর্ণ কথা বলে। কিন্তু এ ঘটার কিছুক্ষণ পরে শিক্ষার্থীরা এসে আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে যায়।

পরে কোনোভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা নিচে নেমে বাদামতলা দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের আটকে শিক্ষককে কেন ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান। এতে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেখানে উপস্থিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপিসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের থামিয়ে দেন বলে জানা গেছে।

ঘটনায় মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠা মেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমপিবিএমই) বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী রিফাত অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘আমি কালকের বিষয়টা নিয়ে কোনো ধরনের কথা বলতে চাচ্ছি না। আমরা বিষয়টা একদমই স্কিপ করতে চাই। তবে ভবিষ্যতে যদি মনে হয়, তাহলে আপনাকে ইনফর্ম করব।’

এ ঘটনায় মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠা মেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমপিবিএমই) বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বিজয় প্রথমে এ বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (জিবিডিএস) সাধারণ সম্পাদক।

পরে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (জিবিডিএস) এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিজয় হোসেনের সঙ্গে মিটিং চলাকালে হামলা, শিক্ষকদের গালিগালাজ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ ঘটনার পর সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ফার্মেসি ও মেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা সব ক্লাস বর্জন করেছেন।

সহকারী প্রক্টর জামিনুর ইসলাম বলেন, ঘটনা আমরা অবগত আছি ঘটনা শোনার পরে আমরা দ্রুত জরুরি মিটিং এ বসে আলোচনা করেছি। যে বা যারা এর সাথে এর সাথে জরিত আছে তাদের কে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যে শাস্তির বিধান রয়েছে তা নিশ্চিত করা হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কাটছে না লিফটের বিপত্তি, একই দিনে দুই ঘটনায় আতঙ্ক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের লিফট নিয়ে বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে একই ভবনের দুটি লিফটে পৃথক ঘটনায় নতুন করে ভোগান্তি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি লিফটের দরজা খুলে কেবিনের পরিবর্তে ফাঁকা জায়গা দেখা যায়। অন্য একটি লিফট মাঝপথে আটকে পড়ায় চার ছাত্রীকে সেখান থেকে উদ্ধার করতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে একাডেমিক ভবনের নিচতলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী লিফটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় বাম পাশের লিফটটি গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থান করছে বলে সংকেত দেখাচ্ছিল। দরজা খোলার পর ভেতরে লিফটের কেবিন না থাকায় শিক্ষার্থীরা চমকে যান। দরজার ওপাশে পুরো জায়গাটিই ফাঁকা দেখা যায়। এ ঘটনায় সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এর কিছুক্ষণ পর একই ভবনের চতুর্থ তলায় আরেকটি লিফটে চার ছাত্রী আটকা পড়ার খবর আসে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, লিফটটি কোনো ফ্লোরে পুরোপুরি না থেমে দুই ফ্লোরের মাঝামাঝি অবস্থানে আটকে রয়েছে। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তাদের লিফট থেকে বের করে আনা হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবির মাহমুদ বলেন, “নিচতলায় লিফটের জন্য অপেক্ষা করার সময় বাম পাশের লিফটটি গ্রাউন্ড ফ্লোরে দেখাচ্ছিল। দরজা খোলার পর দেখি, ভেতরে কোনো কেবিন নেই, পুরো জায়গাটা ফাঁকা। বিষয়টি দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে জানতে পারি, ওপরের দিকে চারজন ছাত্রী লিফটে আটকা পড়েছেন। সেখানে গিয়ে দেখি, লিফটটি ফ্লোরের মাঝামাঝি আটকে আছে। পরে তাদের বের করে আনা হয়। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।” পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও লিফটে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। মাঝে মাঝে লিফট থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। কখনো কখনো নির্ধারিত ফ্লোরে না থেমে গ্রাউন্ড ফ্লোরে চলে আসে। একটি লিফটে ডিসপ্লে না থাকায় সেটি কোন অবস্থানে রয়েছে, তা বোঝাও কঠিন। এসব কারণে লিফট ব্যবহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দ্রুত সব লিফটের পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক ভবনের লিফটগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এর আগে লিফট বিকল হয়ে ব্যবহারকারীদের আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ভবনের লিফট ব্যবহার নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, আজকের ঘটনায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে লিফটে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছি। তবে লিফটে আরও কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। সেগুলোর সংস্কার ও সমাধানের কাজ ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে। আরটিভি/এসআর
কাটছে না লিফটের বিপত্তি, একই দিনে দুই ঘটনায় আতঙ্ক
যৌন নিপীড়ন ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত কুবির তিন শিক্ষকের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
যৌন নিপীড়ন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদাবনতি হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষককে পুনরায় আগের পদে বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
যৌন নিপীড়ন ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত কুবির তিন শিক্ষকের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
রাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসছে লিফট, থাকছে ‘ডিজেবল কর্ণার’
ছয় দশক পর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে যুক্ত হচ্ছে লিফট, পৃথক টয়লেট, ডিজেবল কর্ণারসহ নানান সুযোগ সুবিধা। 
রাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসছে লিফট, থাকছে ‘ডিজেবল কর্ণার’
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিলো 'Empowering Pharmacists to Power Healthcare Futures'।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন
চীনের সহযোগিতায় চবিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে ইনস্টিটিউটটির উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশে এটি চতুর্থ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রথম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাইনিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ফাউন্ডেশনের অনুমোদন পাওয়ার পর একই বছরের নভেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কনফারেন্স’-এ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউটটির কার্যক্রম শুরু হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীনের সিপিসি ইয়ুননান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য চাও চুনমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি স্মরণীয় মাইলফলক। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে শুধু ভাষা শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে না দেখে দুই দেশের মানুষ, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারাকে যুক্ত করার একটি শক্তিশালী সেতু হিসেবে উল্লেখ করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ইনস্টিটিউটটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য চীনা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং দেশটির আধুনিক উন্নয়ন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। অধ্যাপক আল্-ফোরকান আরও বলেন, মানসম্পন্ন ভাষা শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময়ের সুযোগ তরুণ প্রজন্মের একাডেমিক গতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করবে। একই সঙ্গে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ছাওছি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও দক্ষ শিক্ষক পাঠানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি তরুণদের চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সহযোগিতা করবে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট দুই দেশের তরুণদের চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি চাও চুনমিন বলেন, ইয়ুননান প্রদেশ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে দুই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইনস্টিটিউটটিকে আরও সমৃদ্ধভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পায়ন এবং বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, অর্থনীতি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন আশা প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট নতুন উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ছাওছি, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, চবি ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চীনা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে অতিথিরা সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের নামফলক উন্মোচন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল দুই দেশের সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা। ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী সিংহনৃত্য এবং চীনা মার্শাল আর্ট ‘দ্য উশু স্পিরিট অব চায়না’ দর্শকদের আকর্ষণ করে। অন্যদিকে বিকেএসপির পরিবেশনায় ছিল ‘দ্য রিদমস অব বাংলাদেশ’। ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীরাও বাংলা গান পরিবেশন করেন। বাংলাদেশ ও চীনের শিল্পী-শিক্ষার্থীদের এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক বন্ধুত্বের চিত্র ফুটে ওঠে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রথম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ প্রতিষ্ঠান চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে দুই দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও বাড়াবে প্রতিষ্ঠানটি। আরটিভি/এসআর  
চীনের সহযোগিতায় চবিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
আরও পড়ুন
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রিডিউস প্লাস্টিক, গো গ্রিন’ কর্মসূচি পালন
‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস
আপত্তিকর ক্যাপশনসহ নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও প্রচার করতেন যুবক, অতঃপর...