
নিষিদ্ধনিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রধান ফটকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর দাবি উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ‘এডিটেড’। একই সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারাও ব্যানারটি নতুন করে টানানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা আবরার শাহরিয়ারের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের প্রধান ফটকে পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে একটি ব্যানার টানানো অবস্থায় দেখা যায়।
তবে ব্যানারটি নতুন করে টানানো হয়েছে এমন দাবির সঙ্গে একমত নন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, এর পূর্বেও আলাওল হলের সামনে এ ধরনের ব্যানার টানানো হয়েছিল। এগুলো আগেই তোলা ছবি। এগুলো দিয়ে নতুন করে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় আরটিভি নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যেসব নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দোসর রয়েছে, তারাই এদেরকে পেট্রোনাইজ করার চেষ্টা করছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই, তারা যেন অতি দ্রুত যারা এই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পেছন থেকে পেট্রোনাইজ করছে তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসে। তাদেরকে ছাড় দেওয়ার যে মানসিকতা, এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও বিপদে ফেলবে।
ছাত্রলীগকে মোকাবিলায় কোনো দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একদম ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যানার লাগানো, পোস্টার লাগানো এগুলো সব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছি, এগুলো নিয়ে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকদিন আগেই তাদের নিষিদ্ধ সংগঠনের এক নেতা ফেসবুকে লাইভে এসে প্রোগ্রাম করার ঘোষণা দেয় এবং খবর পেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে তারা প্রোগ্রাম করেছে।
তিনি আরও বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। আমরা ছাত্রসংগঠন হিসেবে তাদেরকে মোকাবিলা করতে পারি না, আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটা অংশের কারণে ছাত্রলীগের যে অপকর্মগুলো তারা করে যাচ্ছে, অতীতে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল সেটি আবারও তারা ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। এ দুঃসাহসের কারণে তারা লাইভে প্রোগ্রাম করার আগেই ঘোষণা দিচ্ছে।
সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, তাদের মধ্যে এখন একটি আত্মবিশ্বাস চলে এসেছে যে তাদের নেত্রী ফিরবে, তারা আবারও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যে অংশ তাদেরকে সহযোগিতা করছে, এতগুলো সিকিউরিটি গার্ড, পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা প্রোগ্রাম করে চলে যায়? এক্ষেত্রে যারাই জড়িত থাকবে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি, সকলকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আর এতে যদি আপনারা ব্যর্থতার পরিচয় দেন, তাহলে আমরা মনে করব এটি আপনাদের একটি সূক্ষ্ম কৌশল। সেটি আমরা ছাত্রদল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিহত করব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। চাকসু জিএস ও শিবির নেতা সাইদ বিন হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি একটি প্রোগ্রামে আছেন।
এ নিয়ে শাখা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ খালেদ আর টিভি নিউজকে বলেন, আলাওল হল সহ বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সঙ্গে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখা যায়। এটির অন্যতম কারণ হলো প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থার গ্রহণ না করা। এগুলো এখন ক্যাম্পাসের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে প্রশাসন এগুলো কিছু দেখতেই পাচ্ছে না খামখেয়ালিপনা দেখাচ্ছে । এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তি হিসেবে বলতে চাই হাসিনার পতনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়েছে । চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্থান আর কখনো হবে না। এজন্য আমরা শিক্ষার্থী সহ সকল ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিকে আহ্বান জানাবো যারা আছেন তারা সকলে যেন ঐক্যবদ্ধ থাকেন। নিষিদ্ধ সংগঠন সন্ত্রাসী সংগঠন এদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
শিবির নেতা ও চাকসু যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, যে ব্যানারটি টানানো হয়েছে, সেটি আসলেই রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতের কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে আমরা এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসেছি।
এ ধরনের ঘটনা কেন বারবার ঘটছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রতিবারই এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর পর প্রশাসনকে জানাই এবং পূর্বে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের একটি তালিকা প্রশাসনকে দিয়েছি। সেখান থেকে বেশ কয়েকজন বহিষ্কারও হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করব।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, যে ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা এডিটেড। আমরা রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে টহলে ছিলাম। এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা না। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
উল্লেখ্য যে এর আগে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর একই স্থানে রাতের আঁধারে ব্যানার লাগিয়েছিল নিষিদ্ধ সংগঠনটি। পরে সকালে শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ার পরপরই ব্যানারটি সরিয়ে ফেলা হয়।
আরটিভি/এমএম


