
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত মারামারির ঘটনার পর তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে দেয় প্রশাসন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, বাংলা বিভাগের মেহেদী (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ), আব্দুর রউফ (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) ও মোসাব্বির হোসেন (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ)।
অফিস আদেশে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ছাত্র-উপদেষ্টা, বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সভাপতিত্বে দুটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও শাস্তির ধরণ নির্ধারণসহ সার্বিক বিষয় তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আয়নুল হক আকন্দকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. মামুন আল রশীদ, পরিবহন প্রশাসক ড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, সহকারী প্রক্টর মো. জাকির হোসেন এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন উপ-রেজিস্ট্রার (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) মো. সালাউদ্দিন মোল্লা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে কমিটিকে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাবল ডেকার বাস ‘গোধূলি’তে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে। পরদিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই বিভাগের মীমাংসা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদের ওপর অতর্কিত হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে দুই শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ফটক আটকে রাখেন।
আরটিভি/এসএস




