ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রুয়েটে বহুতল হলে লিফট চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের লং মার্চ

রুয়েট সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২০ এএম
ছবি: আরটিভি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নবনির্মিত আবাসিক হল ছাত্র হল-১-এর বহুতল ভবনে দ্রুত লিফট চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। প্রায় পাঁচশ শিক্ষার্থীর আবাসিক এ হলটিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ১০টা নাগাদ শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে লিফট চালুর কয়েক দফা তারিখ নির্ধারণ হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘদিন লিফট চালুর দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যত কোনো সুফল না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর হল শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যান। তবে উপাচার্য তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান না করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ আবেদন গ্রহণ করেন। তিনি হলের লিফট চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন।

আবেদনে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলের লিফট সচল করতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। এতে বলা হয়, নবনির্মিত ১০ তলা হল (ছাত্র হল-১)-এ আবাসিক শিক্ষার্থীরা বসবাস শুরু করলেও লিফট এখনো চালু করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও ডাইনিংয়ে যাতায়াতের জন্য দিনে একাধিকবার হেঁটে নিচে নামা এবং আবার ওপরে ওঠা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তীব্র গরম ও ক্লান্তিকর একাডেমিক চাপের পর সিঁড়ি বেয়ে বিভিন্ন তলায় ওঠা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বা দ্রুত নিচে নামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, হল-সংক্রান্ত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ডিসেম্বরে ছাত্র হল-১-এর কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তরের কথা ছিল। শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনা করে প্রশাসন অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করে প্রায় আট মাস আগে তা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে। ফলে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীরা হলটিতে বসবাস শুরু করেন। তবে এরপর হলের অন্যান্য সেবা ধারাবাহিকভাবে চালু হলেও লিফট এখনো চালু হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও হলটির লিফটের কাজ সম্পন্ন হয়নি।

জানা গেছে, প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি দুটি ১০ তলা ভবন, অর্থাৎ ছাত্র হল-১ ও ছাত্র হল-২-এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছিল। ইতিমধ্যেই গত ২০ আগস্ট ছাত্র হল-২-এ দুটি লিফট চালু করা হয়েছে। তবে ছাত্র হল-১-এর লিফট চালু না থাকায় দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

তাদের এ দাবির বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম রহমান বলেন, ৮ তলায় ওঠার কয়েক দিনের মধ্যে আমার পায়ের পাতায় খুব ব্যথা হয়। এমন অবস্থায় ডাক্তার দেখালে তিনি পায়ে কোনো রকম চাপ দিতে মানা করেন। কিন্তু গত ২-৩ মাস ধরে প্রতিদিন ৩-৪ বার ওঠানামা করার কারণে আমি এখনো পায়ের এই সমস্যায় ভুগছি। স্যারদের জানালে উনারা শুধু একই উত্তর দেন যে ঠিকাদার কাজ করে না। কিন্তু হল-২ ও হল-১-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একই। তাহলে হল-২-এ লিফট চালু হলেও আমাদের হলে কেন হলো না? এটা অবশ্যই রুয়েট প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।

আন্দোলন চলাকালীন দাবির বিষয়ে মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেল। তিনি জানান, নিজে দায়িত্ব নিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই হলটিতে লিফট চালুর ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি হল-সংক্রান্ত অন্যান্য অসুবিধার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান এবং সমাধানের আশ্বাস দেন।

নতুন ভবন হওয়ার পরও লিফট চালু না থাকায় ধৈর্যের মাত্রা ছাড়িয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষের চরমে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভোগান্তি দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা তাদের। দ্রুততম সময়ে লিফট সচল করে দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব ও পড়াশোনার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করেন তারা। দ্রুত সমস্যাটির সমাধানে উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন হলের শিক্ষার্থীরা।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘প্রধানমন্ত্রী গাছ লাগাবেন’ বলে রোপণ করা গাছ তুলে ফেলতে বাধ্য হলেন ইবি শিক্ষার্থী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলতি মাসের ১২-১৫ তারিখের দিকে কুষ্টিয়া সফরে যাওয়া কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে হল উদ্বোধনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  এদিকে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে হলটির আশেপাশে সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য শিক্ষার্থীর রোপণ করা সৌন্দর্যবর্ধনকারী রক্তকাঞ্চন গাছ হলের সামনে থেকে তুলে ফেলার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  বাধ্য হয়ে ইতোমধ্যে রোপণ করা ২০টির মতো গাছ তুলে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী। এনিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের স্ট্যাটাসে প্রতিক্রিয়া জানান হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম) বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক রহমান। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, চলতি বছরের জুলাই মাসে শহীদ আবরার হলের সামনে রক্তকাঞ্চনের গাছ লাগান তিনি। গাছগুলো লাগানোর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস, এস্টেট অফিস, ছাত্র উপদেষ্টা অফিস, প্রক্টর অফিস ও ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েছিলেন। যেসব জায়গায় স্থায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেই এবং সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগানো যেতে পারে— সেসব জায়গায় সৌন্দর্যবর্ধনকারী এসব গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। তিনি জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে শহীদ আবরার ফাহাদ হলের প্রভোস্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস থেকে ফোন করে গাছগুলো তুলে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কারণ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে শহীদ আবরার ফাহাদ হল উদ্বোধন করে হলের সামনে সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগাবেন। এবিষয়ে মানিক বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রোপণ করা গাছগুলো তুলে ফেলছি। ওইগুলো সরিয়ে ৩ জনকে দিয়েছি। ৩টা চাপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে গেছে, ৮টা কুড়িগ্রাম যাবে, আর ৬টা ত্রিবেণীর (ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী) এক মাদ্রাসার জন্য এক আপু নিয়েছে। গাছ ছিল ২২ টা। দুইটা মরে গেছে। দুইটা ওখান ইট ফেলানোর কারণে দুইটা চাপা পড়ছে হয়তো। গাছ তুলার সময় একটা নষ্ট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শহীদ আবরার ফাহাদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, হলের সামনে মাটি দ্বারা সমান করা হবে এবং ওখানে গার্ডেন করা হবে এজন্য তাকে গাছ সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সরানোর বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। গাছগুলো সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে এস্টেট অফিস প্রধান মো. আলাউদ্দিন বলেন, উপাচার্য স্যারের নির্দেশে এটা করা হয়েছে। এ বিষয়টা উপাচার্য স্যার দেখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, প্রভোস্ট তাকে যা বলেছেন, এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য নেই। আমি এর সাথে জড়িত নই। তবে আমরা তাকে যেভাবে গাছ রোপণ করতে অনুমতি দিয়েছিলাম, সেভাবে সে রোপণ করেনি। আরটিভি/এসআর
‘প্রধানমন্ত্রী গাছ লাগাবেন’ বলে রোপণ করা গাছ তুলে ফেলতে বাধ্য হলেন ইবি শিক্ষার্থী
যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিভাগের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
লিভ টুগেদার, গর্ভপাতসহ ইবির জিহাদুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভপাত করানো ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী জিহাদুল করিমের বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল এবং প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পরে তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগপত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে জিহাদুল করিমের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে মৌখিক ও লিখিতভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক সুবিধা নিতেন জিহাদুল করিম। এ ছাড়া ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন হোটেল বুকিং দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ওই ছাত্রী। পাশাপাশি তাকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করার অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে সমাধানের লক্ষ্যে উভয়কে বিবাহের মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্র বিবাহের প্রক্রিয়াটি এড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট কোড অব কন্ডাক্ট’ (শিক্ষার্থীদের আচরণবিধি) অনুসারে তাদের নৈতিক স্খলনের দায়ে শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জিহাদুল করিম বলেন, আমাদের চার বছরের সম্পর্ক ছিল। এখানে প্রলোভন আসবে কীভাবে? বরং উভয়ের সম্মতিতে সবকিছু হয়েছে।  গর্ভপাতের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বাচ্চা কনসিভ হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়নি। সবকিছুই সম্মতিতেই হয়েছে। নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, গত ৮ জুন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করার পরও তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি থানা কর্তৃপক্ষ। মামলা বা জিডি না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ইবি থানায় যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীর দাবি, জিহাদুল করিম ভুয়া কাবিননামা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়ে ‘পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য’ দিয়েছেন। এসব ডকুমেন্ট তৈরিতে জিহাদুলের বন্ধু আমিরুল ইসলাম (ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, শিক্ষাবর্ষ: ২০১৯-২০) সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, জিহাদুল করিম তার খালাতো ভাই রাকিব ইসলাম ও বন্ধু মিরাজের পরামর্শে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করিয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। এদিকে, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির বিষয়ে আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি না, শুধু সবাই জানত যে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আছে। এর বাইরে আর কিছুই জানি না। আমি পোর্টালে আমার নাম দেখে বন্ধুকে কল দিয়েছিলাম। সে নিজেও বলছে, আমার নাম কীভাবে আসল? বিশ্ববিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুজনের সম্মতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে বিয়ে করবেন বলে তারা লিখিত চুক্তিও করেন। বিয়ে ছাড়াই তারা লিভ টুগেদার করেন। ফলে গর্ভবতী হয়ে গেলে চূড়ান্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওই ছাত্রী। কিন্তু ছেলে সময় নিলে মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে দুজনের মধ্যে বিয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে কমিটি। ওই সময় মেয়ের পরিবার ও ছেলের পরিবার উপস্থিত হলে ছেলের পরিবার ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর এবং মেয়ের পরিবার ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দেনমোহর নিয়ে বনিবনা না হলে পরে ছেলের পরিবার সরে যায় এবং ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করে। মেয়েটির মা নেই, বাবা প্রবাসী। শক্ত অভিভাবক না থাকায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় যায়নি। আরটিভি/টিআর
লিভ টুগেদার, গর্ভপাতসহ ইবির জিহাদুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
তালা ভেঙে হলের রুমে ‘ঘাঁটি’ গাড়লেন নিশান
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) হল প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুলাই-৬ হলের ছয়টি স্টোররুমের তালা ভেঙে অবৈধভাবে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিশান নামে এক শিক্ষার্থী বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নিশান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের অনুসারী। সরেজমিনে জুলাই-৬ হলের দশটি স্টোররুম ঘুরে দেখা গেছে, হলের নিচতলা, দ্বিতীয় তলা, চতুর্থ তলা ও ষষ্ঠ তলা ছাড়া বাকি ছয়টি স্টোররুমের দরজার তালা ভেঙে সেখানে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মী অবস্থান করছেন। স্টোররুমে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. সিহাব হোসেন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সিয়াম, পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনিক দাস ও উৎসব কুমার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দশম তলার ১০২৪ নম্বর রুমে পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) অনিক দাস দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়া কীভাবে তিনি এই রুমটি পেলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিক দাস বলেন, এই রুমটি নিশান ভাইয়ের (ছাত্রদল কর্মী, গণিত বিভাগ, ১৬ ব্যাচ)। তিনি আমাকে উঠিয়ে দিয়েছেন। নবম তলার ৯২৪ নম্বর রুমে পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) উৎসব কুমার অবস্থান করছেন। স্টোররুমটিতে কীভাবে উঠেছেন জানতে চাইলে উৎসব কুমার বলেন, আমাকে নিশান ভাই রুমে উঠিয়ে দিয়েছেন। ভাইয়ের কাছে চাবি ছিল, তালা খুলে আমাকে তুলে দিয়েছেন। পঞ্চম তলার ৫২৪ নম্বর রুমে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (১৫ ব্যাচ) সিহাব হোসেন অবস্থান করছেন। তৃতীয় তলার ৩২৪ নম্বর রুমে গিয়ে দেখা যায়, রুমটিতে তালা ঝুলছে। তবে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া তালাটি সেখানে নেই। রুমের দেয়াল ও দরজায় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘সিয়াম, বিবিএ—১৭তম ব্যাচ’। এভাবে হলের বাকি ফ্লোরগুলোর স্টোররুমগুলোও বিভিন্ন ছাত্রদল কর্মীর দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রশাসনের দেওয়া তালা ভেঙে রুমগুলোতে নতুন তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁদের রুমে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল কর্মী নিশান বলেন, তালা ভাঙা হয়নি। নবম তলার স্টোররুমের তালা খোলাই ছিল। আর দশম তলার স্টোররুমে স্থাপত্য বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী তাদের কিছু জিনিস রেখেছিলেন। তাদের দুজনের পারিবারিক অবস্থা অনেক খারাপ হওয়ায় আমি হল প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করি, যেন তাদের ওই রুমে থাকতে দেওয়া হয়। পরে তারা প্রভোস্টের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই রুমে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, স্টোররুম দখলের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কারও স্টোররুমে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আরটিভি/টিআর
তালা ভেঙে হলের রুমে ‘ঘাঁটি’ গাড়লেন নিশান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্রেডিট নিতে আসেনি, কাজ করতে এসেছে: রাবি উপাচার্য
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্রেডিট নিতে আসেনি, কাজ করতে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যালারিতে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (পিডিএফ) উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি। উপাচার্য বলেন, আমার প্রশাসন কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য আসেনি, কাজ করার জন্য এসেছে। আমরা সেটাই করব এবং করে যাব। আমাদের সহযোগিতা করুন। আপনাদের দাবিগুলো খুব বেশি কিছু নয়। একটি র‍্যাম্প নির্মাণ, লিফট স্থাপন—এগুলো সামান্য কাজ। কোটি কোটি টাকার কাজ হচ্ছে, আপনাদের কাজ কেন হবে না? আপনারা নিজেদের সর্বোচ্চ মানসিক শক্তি দিয়ে গড়ে তুলুন এবং আগামীর জন্য প্রস্তুত হন। আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্বে রাখেন, তাহলে আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ছেলেমেয়েদের দেখলে আমার চোখের সামনে স্টিফেন হকিংয়ের চেহারা ভেসে ওঠে। রাতে ঘুমানোর আগে আমি বারবার স্টিভি ওয়ান্ডারের গান শুনতে পছন্দ করি। স্টিভি ওয়ান্ডার জন্মান্ধ ছিলেন। তিনি গোটা বিশ্ব জয় করেছেন। আমি হেলেন কেলারের কথা চিন্তা করি। দেখি মাইকেল জে. ফক্সকে, যিনি পারকিনসন রোগে ভুগেছেন। অসাধারণ মানসিক শক্তি দিয়ে তাঁরা পৃথিবী জয় করতে পেরেছেন, যেখানে আমাদের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা অনেকেই তা পারেননি। এটাই আপনাদের শক্তি।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নানা বাধা আসবে, তবে মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস, সংগঠনটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী। আরটিভি/টিআর
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্রেডিট নিতে আসেনি, কাজ করতে এসেছে: রাবি উপাচার্য
আরও পড়ুন
সাবেক রুয়েট শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঢাকায় নামছে এবছরের ক্রিকেটের মহাআসর 
গুরুতর আহত রুয়েটের রাফিদ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হলো ঢাকায়