
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নবনির্মিত আবাসিক হল ছাত্র হল-১-এর বহুতল ভবনে দ্রুত লিফট চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। প্রায় পাঁচশ শিক্ষার্থীর আবাসিক এ হলটিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ১০টা নাগাদ শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে লিফট চালুর কয়েক দফা তারিখ নির্ধারণ হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘদিন লিফট চালুর দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যত কোনো সুফল না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর হল শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যান। তবে উপাচার্য তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান না করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ আবেদন গ্রহণ করেন। তিনি হলের লিফট চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন।
আবেদনে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলের লিফট সচল করতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। এতে বলা হয়, নবনির্মিত ১০ তলা হল (ছাত্র হল-১)-এ আবাসিক শিক্ষার্থীরা বসবাস শুরু করলেও লিফট এখনো চালু করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও ডাইনিংয়ে যাতায়াতের জন্য দিনে একাধিকবার হেঁটে নিচে নামা এবং আবার ওপরে ওঠা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, তীব্র গরম ও ক্লান্তিকর একাডেমিক চাপের পর সিঁড়ি বেয়ে বিভিন্ন তলায় ওঠা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বা দ্রুত নিচে নামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, হল-সংক্রান্ত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ডিসেম্বরে ছাত্র হল-১-এর কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তরের কথা ছিল। শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনা করে প্রশাসন অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করে প্রায় আট মাস আগে তা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে। ফলে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীরা হলটিতে বসবাস শুরু করেন। তবে এরপর হলের অন্যান্য সেবা ধারাবাহিকভাবে চালু হলেও লিফট এখনো চালু হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও হলটির লিফটের কাজ সম্পন্ন হয়নি।
জানা গেছে, প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি দুটি ১০ তলা ভবন, অর্থাৎ ছাত্র হল-১ ও ছাত্র হল-২-এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছিল। ইতিমধ্যেই গত ২০ আগস্ট ছাত্র হল-২-এ দুটি লিফট চালু করা হয়েছে। তবে ছাত্র হল-১-এর লিফট চালু না থাকায় দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
তাদের এ দাবির বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম রহমান বলেন, ৮ তলায় ওঠার কয়েক দিনের মধ্যে আমার পায়ের পাতায় খুব ব্যথা হয়। এমন অবস্থায় ডাক্তার দেখালে তিনি পায়ে কোনো রকম চাপ দিতে মানা করেন। কিন্তু গত ২-৩ মাস ধরে প্রতিদিন ৩-৪ বার ওঠানামা করার কারণে আমি এখনো পায়ের এই সমস্যায় ভুগছি। স্যারদের জানালে উনারা শুধু একই উত্তর দেন যে ঠিকাদার কাজ করে না। কিন্তু হল-২ ও হল-১-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একই। তাহলে হল-২-এ লিফট চালু হলেও আমাদের হলে কেন হলো না? এটা অবশ্যই রুয়েট প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।
আন্দোলন চলাকালীন দাবির বিষয়ে মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেল। তিনি জানান, নিজে দায়িত্ব নিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই হলটিতে লিফট চালুর ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি হল-সংক্রান্ত অন্যান্য অসুবিধার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান এবং সমাধানের আশ্বাস দেন।
নতুন ভবন হওয়ার পরও লিফট চালু না থাকায় ধৈর্যের মাত্রা ছাড়িয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষের চরমে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভোগান্তি দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা তাদের। দ্রুততম সময়ে লিফট সচল করে দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব ও পড়াশোনার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করেন তারা। দ্রুত সমস্যাটির সমাধানে উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন হলের শিক্ষার্থীরা।
আরটিভি/টিআর




