
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সনদ উত্তোলনে জটিলতায় পড়েছিলেন শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান। তবে সৌভাগের বিষয় জটিলতা কাটিয়ে তিনি সনদটি হাতে পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সনদ হাতে পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সনদ পাওয়ার পর মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে সার্টিফিকেট হাতে পেলাম। এই দীর্ঘ পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, সাহস দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন এবং দোয়া করেছেন, সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’
মুজিবুর রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিএর শিক্ষার্থী। এর আগে শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তার বিবিএ ও এমবিএর সনদ উত্তোলন আটকে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
জানা যায়, ইন্টার্নশিপের ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেন মুজিবুর রহমান। ওই মেসেজের জবাবে শিক্ষকের পাঠানো বার্তায় তিনি ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন। বিষয়টিকে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষকের পক্ষ থেকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত অভিযোগটি রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়। এদিকে, সনদ উত্তোলন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার পর মুজিবুর রহমান প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তার সনদ আটকে থাকায় চাকরির বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার সুযোগ হারিয়েছেন।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সনদ আটকে রাখার ঘটনা খতিয়ে দেখতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানান, শিক্ষার্থীর সনদ আটকে রাখার বিষয়ে বিভাগীয় প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই শিক্ষার্থী যেকোনো সময় সনদ নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিবিএ এবং এমবিএ দুই সার্টিফিকেট উত্তোলন করেন মুজিবুর রহমান।
আরটিভি/ এসকেডি


