
গত ১ মার্চ ভারতের ট্রেনযাত্রায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী তানিউল করিম জীম। এরপর দেশে ও বিদেশে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সাত মাস ধরে তার সুস্থতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তবে বর্তমানে কথা বলা, মুখ দিয়ে খাবার খাওয়া ও দাঁড়ানোর সক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে স্বস্তি ফিরেছে স্বজনদের মধ্যে। বর্তমানে নাটোরে পরিবারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জীম। পরিবারের সদস্যরাই তাঁর দেখাশোনা করছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি চাচার চিকিৎসার জন্য তার সঙ্গে মেডিকেল ভিসায় ভারতে যান জীম। চিকিৎসা শেষে ১ মার্চ বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় ফেরার পথে ট্রেনের ভেতর নিখোঁজ হন তিনি। প্রায় ১২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ট্রেনের শৌচাগার থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরে ট্রেনটি কলকাতায় পৌঁছালে তাকে প্রথমে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর প্রথমে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় তার সুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগে ছিলেন পরিবারের সদস্য, সহপাঠী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি জানিয়ে জীম বলেন, এখন আমি কথা বলতে পারি। কিন্তু কথায় জড়তা আছে। আমি এখন মুখ দিয়ে খাবার খেতে পারি। নাক-মুখ দিয়ে নিশ্বাস নিতে পারি। একজন ধরলে দাঁড়াতে পারি। সবই নাড়াতে পারি। কিন্তু শক্তি কম। ডান দিকের চেয়ে বাম দিকে শক্তি কিছুটা বেশি। ডান দিক কিছুটা দুর্বল।
আগের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে গলায় ট্র্যাকিওস্টমি ছিল। ট্র্যাকিওস্টমি দিয়ে নিশ্বাস নিতাম। নাকে নল দিয়ে খাবার খেতাম। কিছুই নাড়াতে পারতাম না। দাঁড়াতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না। শক্তি ছিল না বললেই চলে।
জীমের সুস্থতার জন্য শুরু থেকেই দোয়া ও সহযোগিতা করে আসছেন তার বন্ধু, সহপাঠী, সাংবাদিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার পরিস্থিতি শোনার পর সবাই দোয়া করেছেন। বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আবারও সবার মাঝে ফিরে যেতে পারি, এ জন্য দোয়া চাই। তানিউল করিম জীম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জ্যেষ্ঠ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জীম বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের থিসিস শিক্ষার্থী।
আরটিভি/টিআর




