ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইবিতে জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
ছবি: আরটিভি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আইন অনুষদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এ সময় আইন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা উত্তম পরিকল্পনাকারী। আজ যাঁরা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁরা সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনায় এ দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন, অর্পিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহির পাশাপাশি দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্লেটোর ন্যায়বিচারের ধারণা অনুযায়ী, যোগ্যতা অনুসারে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করাই ন্যায়বিচার। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ধারণা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিচারকদের বিবেক ও নৈতিকতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা উচিত। কারণ, পার্থিব দায়িত্বের ঊর্ধ্বে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রত্যেককেই জবাবদিহি করতে হবে।

দেশের বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দেশের অনেক আইন এখনো ঔপনিবেশিক শাসনামলের বৈশিষ্ট্য বহন করছে। আইন বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রটি বহুমাত্রিক হওয়ায় এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই শিক্ষার্থীদের অর্জিত সুযোগ ও শিক্ষার পেছনে সাধারণ মানুষের অবদান স্মরণ রাখতে হবে। বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তাঁদের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, পছন্দের কোনো পেশায় সুযোগ না পেলেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না। আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ রয়েছে। তাই কোনো একটি লক্ষ্য পূরণ না হলে হতাশ না হয়ে বিকল্প সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অবশেষে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির সেই অধ্যাপক
দীর্ঘ পাঁচ বছর দুই মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান।
অবশেষে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির সেই অধ্যাপক
চবি ক্যাম্পাসে ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ক্যাম্পাসে প্রক্টর অফিসের পূর্বানুমতি ছাড়া ড্রোন ক্যামেরা ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চবি ক্যাম্পাসে ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা
সিভিল জজদের সংবর্ধনায় ইবির ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (বিজেএস) সুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইন অনুষদের ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের পূর্বনির্ধারিত সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ ছাড়াই পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘Law of Real Estate’ কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। একই দিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে নবসুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নিতে সকালে হলে উপস্থিত হলেও সেখানে কোনো শিক্ষক কিংবা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে বিভাগে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কারণে পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে। তারা জানান, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে বিভাগ থেকে আগে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। ফলে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হওয়ার পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ আমাদের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের একটি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। হলে আসার পর জানতে পারি, সিভিল জজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক বিলাসী সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন। তিনি জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পরীক্ষাটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিভাগীয় সভাপতি বলেন, পরীক্ষাটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে গতকাল রাতে অনলাইনে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কমিটির সভায় সর্বসম্মতভাবে এটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি ক্লাস প্রতিনিধিদের (সিআর) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে ক্লাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি শেষ মুহূর্তে নেওয়ায় তা দাপ্তরিকভাবে কার্যকর করতে কিছুটা সময় লেগেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য পরীক্ষা স্থগিতের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তির বিষয় রয়েছে। অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে কয়েকজন শিক্ষককে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করতে হতো। তিনি আরও বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও অন্যরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো। বিষয়টি অ্যাকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন হতো না। তাই বিভাগের সুনাম ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় সভাপতি। আরটিভি/টিআর
সিভিল জজদের সংবর্ধনায় ইবির ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত
চাকসুর মেয়াদ পূর্ণ হলেও ভাঙা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নজরে আসেনি মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদকের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এক বছর পূর্ণ হলেও সংস্কার করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাঙা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও নামফলক। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো। কোথাও ভেঙে পড়ে রয়েছে স্মৃতিফলক, কোথাও জমেছে শ্যাওলা, লতাপাতা ও ময়লা-আবর্জনা। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে পেঁচিয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার, অকেজো হয়ে পড়েছে আলোকসজ্জা। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে সাত শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মরণ চত্বর বারবার ঢেকে যাচ্ছে খোদ চাকসুর ব্যানার-ফেস্টুনে। এক বছরেও এসব স্থাপনার সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলোর অন্যতম ‘বিজয় ৭১ চত্বর’, যার পূর্বনাম ছিল ‘জয় বাংলা চত্বর’। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চত্বরটি ‘বিজয় ৭১’ নামে পরিচিতি পেলেও পুরোনো নামফলক ভেঙে ফেলার পর সেখানে এখনো নতুন কোনো নামফলক স্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে দেয়ালে রং দিয়ে ‘বিজয় ৭১’ লেখা থাকলেও ভাঙা ফলকটি পুনঃস্থাপন কিংবা নতুন নামফলক নির্মাণের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয় ৭১ চত্বরের স্মৃতিস্তম্ভজুড়ে জমে রয়েছে শ্যাওলা। দীর্ঘদিন রং না করায় স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে জন্মেছে লতাপাতা, জমেছে ময়লা-আবর্জনা। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে পেঁচিয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার। এমনকি সেখানে স্থাপিত লাইটগুলোও দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের অভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট অফিসসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের ভাঙা অংশও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্ন-অবহেলার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব স্থাপনার সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিংবা যথাযথভাবে সংরক্ষণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। জবাবে তিনি বলেন, আমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তুমি তো বলছো। পোস্ট অফিসসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের ভাঙা অংশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ও ভাঙা পড়ে আছে না? এটা ঠিক করা দরকার ছিল। তবে স্মৃতিস্তম্ভ সংস্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মোনায়েম শরীফ বলেন, বুদ্ধিজীবী চত্বর সংস্কার ও শহীদ মিনারের আশপাশের এলাকা সংস্কারের জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। বিষয়গুলো সিরিয়ালে রয়েছে। ধাপে ধাপে এগুলো করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। প্রায় দেড় মাস আগে এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বসেছিলাম। এরপর আর বসা হয়নি। চাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও নিজের অবস্থান থেকে এসব স্থাপনা সংস্কারের জন্য আবারও চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশমুখ জিরো পয়েন্টে অবস্থিত ‘স্মরণ চত্বর’ নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন বীর সন্তানের স্মরণে। এখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম ও প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে চত্বরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী এসব বীর সন্তানের স্মরণে নির্মিত চত্বরটি প্রায়ই ঢেকে যায় খোদ চাকসুর ব্যানার ও ফেস্টুনে। বিশেষ করে ছাত্রসংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রচারণামূলক ব্যানারের কারণে শহীদদের নাম ও প্রতিকৃতি আড়াল হয়ে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্মরণ চত্বর চাকসুর ব্যানারে ঢেকে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ বলেন, স্মরণ চত্বর তো গোল। এক সাইডে ঢেকে থাকলে আরেক সাইডে দেখা যায়। সমস্যা নাই তো। এরপর তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাহলে মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক হিসেবে এটা আমার ব্যর্থতা নাকি? তিনি আরও বলেন, চাকসুর বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য জিরো পয়েন্টে ব্যানারগুলো দেওয়া হয়। সবাই আসে, দেখে, এ জন্য আরকি। এর আগে একটা খেলাধুলার প্রোগ্রামের কারণে সেখানে ব্যানার দেওয়া হয়েছে। এখন বিতর্ক উৎসবের জন্য ব্যানার দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যানারগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন ভয়েস অব স্টুডেন্টসের সভাপতি আশিকুর রহমান আশিক বলেন, কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত স্মরণ চত্বর ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে ঢেকে যায়। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম এবং ব্যানার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলাম। এর পরপরই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসুর ব্যানারও দেখা যায়। বর্তমানে চাকসুর ব্যানারগুলো এখনো ঝুলে আছে, অথচ সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে এবং চাকসুর মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “স্মরণ চত্বরটি দ্রুত ব্যানারমুক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে দূর থেকেই চত্বরটি স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ থাকে।” বিজয় ৭১ চত্বরের ভাঙা নামফলক নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে আশিকুর রহমান আশিক বলেন, জয় বাংলা চত্বরকে অনেকেই বিজয় ৭১ চত্বর হিসেবে নামকরণ করেছেন। কিন্তু সেখানে এখনো আগের ভাঙা ফলকটি পড়ে আছে। বিজয় ৭১ নামটি শুধু দেয়ালে রং দিয়ে লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ সেখানে নতুনভাবে একটি ফলক স্থাপন করা প্রয়োজন ছিল। চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এসব স্মৃতিফলক সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, ঠিক একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা সেই উদ্যোগের প্রতিফলন দেখতে পাইনি। পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিছু গ্রাফিতি আঁকা হলেও তা করা হয়েছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। আমাদের মনে হয়েছে, স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের পরিবর্তে সমালোচনার কারণেই এসব গ্রাফিতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভটির বর্তমান অবস্থাও অত্যন্ত দুঃখজনক। স্তম্ভটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঘেরা, বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। অথচ এটি সংস্কার ও যথাযথভাবে সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এমন একটি স্থাপনার প্রতি অবহেলা সত্যিই হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন, একজন দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে তার উচিত ছিল আমাদের জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। কিন্তু তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অগ্রাধিকার দিলেও মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেননি বলে আমরা মনে করি। যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চেতনাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবমূল্যায়নেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
চাকসুর মেয়াদ পূর্ণ হলেও ভাঙা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নজরে আসেনি মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদকের
ভাড়া বাসা থেকে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ভাড়া বাসা থেকে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
আরও পড়ুন
সিভিল জজদের সংবর্ধনায় ইবির ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত
‘বাইক চালানোর কারণে’ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তরিকুলের, অতঃপর...
ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত
ইবিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত