
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই মূল লক্ষ্য ও আদর্শে বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, দেশ, জাতি ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে পুনর্গঠনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমৃদ্ধ ও আদর্শিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পাশাপাশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বিগত সময়ে জুলুম, নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এর আগে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকাল ১০টায় জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
পরে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন উপাচার্য। এতে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হলসমূহের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। র্যালিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) কর্তৃক স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরস্থল প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
র্যালি শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপাচার্য। এ সময় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, বিভাগ, পরিষদ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।
আরটিভি/জেএমএ



