
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ (জবি) দেশের ১৪টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড-২০২৭-এর প্রাথমিক পর্ব।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের অলিম্পিয়াডে সারা দেশ থেকে চার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির যৌথ আয়োজনে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
সকালে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির পতাকা ও অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অলিম্পিয়াডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্ব ও অর্জনের বিষয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে সহায়ক হবে।
ঢাকা অঞ্চলে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের এইচএসসি এবং ইংলিশ মিডিয়ামের এ-লেভেল পর্যায়ের মোট ২৮৭ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে ২৪০ জন প্রাথমিক পর্বে অংশ নেয়। এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার পর অংশগ্রহণকারী সবাইকে সনদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রথম ১০ জন বিজয়ীকে সনদ ও মেডেল প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নবিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। জ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে রসায়নের প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. এমরান কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ কে এম লুৎফর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম এবং সমিতির সাবেক সভাপতি ও সরকারের সাবেক মুখ্য সচিব ড. মো. আব্দুল করীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক।
বক্তারা বলেন, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রসায়ন শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের রসায়নের প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান, ছাত্র-কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বাছাই করা হবে। আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের আদলে এ পর্বের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীদের মধ্য থেকে চারজন শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। তারা আগামী ১৯ থেকে ২৮ জুলাই ২০২৭ তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে।
আরটিভি/এসআর




