
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে একটি দর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় মুখ্য আলোচক ও সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত এই দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা। এই দর্শনের মূল কথা হলো কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান দূরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি হল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। উপাচার্য বলেন, জিয়াউর রহমানের অবদান ও দর্শনের যথাযথ মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই জাতি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনাকে স্মরণ করেছে। ২০২৪ সালেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এ চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ, ছাত্র, জনতা ও সৈনিক ঐক্যবদ্ধ হলে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। ৭ নভেম্বরের ইতিহাস স্মরণ করতে গেলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও অনিবার্যভাবে উঠে আসে।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সাধারণ সৈনিক ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ওই ঘটনাপ্রবাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জহুরুল আলম, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক ও ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী এবং চবি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু নছর মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, সহসভাপতি আহসান হাবিব, চবি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ছবুর, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে মো. ওসমান গণী এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে আবদুল মালেক।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, পরিচালক, শিক্ষক, প্রক্টর, প্রশাসক, সহকারী প্রক্টর, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এসআর




