ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে: সিইসি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:০২ পিএম

সমগ্র দেশে নির্বাচনের একটি সুবাতাস এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

বৃহস্পতিবার সকালে আগারগাঁওস্থ ইটিআই ভবনে নির্বাচনের দিন সফটয়্যার সংক্রান্ত ইলেকশান ম্যানেজমেন্ট সিসটেম (ইএমএস), ক্যানডিডেট ইনফরমেশান ম্যানেজমেন্ট সিসটেম(সিআইএমএস)এবং রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিসটেম (আরএমএস) প্রশিক্ষণে এসব কথা বলেন সিইসি।

মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে কেএম নূরুল হুদা বলেন, আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে- সমগ্র দেশে নির্বাচনের একটি সুবাতাস, আবহ ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনমুখী আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে তা প্রতিফলিত হচ্ছে। তারা অনবরত সভা-মিছিল করে যাচ্ছেন এবং প্রার্থীরা তাদের ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।

সুতরাং দেশব্যাপী নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৩০ তারিখের পরে একটা নতুন সরকার গঠন হবে সেটার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেটার নিয়ামক হিসেবে আপনারা যে যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সিইসি বলেন, আমাদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে যে-যেসকল কর্মকর্তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে; তারা সক্ষমতার সাথে, সার্থকতার সাথে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমরা প্রশিক্ষণের এমন কোনও স্তর বাদ রাখিনি যে কারণে মাঠপর্যায়ে গিয়ে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের কোনও ঘাটতি থাকে।

সিইসি আরও বলেন, নতুন কতগুলো দিক নিয়ে এ বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ইভিএমের কথা বলা হয়েছে। অন্যান্য সব সব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি নতুন যোগ হয়েছে সেটি হলো প্রার্থীদের যে এজেন্ট কেন্দ্রে থাকবেন সেই পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। আমরা তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবো। তারা তাদের এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেবে। এটার উদ্দেশ্য হলো, এর মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রমের যে নীতি, আচরণবিধি, নির্বাচন পরিচালনা বিধি, পোলিং বুথের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক অবস্থা এসবগুলো ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পোলিং এজেন্টদের ধারণা দেওয়া। যাতে পোলিং এজেন্ট বুঝতে পারে তার দায়িত্ব কি। যার ফলে আইনগত দিকগুলো পোলিং এজেন্টরা ভালোভাবে বুঝতে পারবেন এবং ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক থাকবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রায় একবছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে ধীরে ধীরে আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ৩০ তারিখে সেটার শেষ দিন। সেদিন প্রার্থী, সমর্থক এবং ভোটাররা ভোট দেবেন। ভোট নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি আমানত। সেই আমানত, সেই ভোটের ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ এবং বিতরণ করার জন্য আপনাদের হাতে চলে যাবে। সুতরাং এই বছরব্যাপী পরিশ্রম এবং বছরব্যাপী প্রস্তুতির ফসল আপনাদের হাতে চলে যাবে। এই ফসল যাতে কোনও রকমের ভুল ত্রুটির মাধ্যমে প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে ব্যাঘাত না ঘটে, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আপনাদের একটু ভুলের কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সঠিকভাবে ফলাফল বিতরণ ও বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত কঠিন। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সঠিকভাবে আপনাদেরকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সিইসি বলেন, প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনের মৌলিক ও বেশির ভাগ দায়-দায়িত্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে অলরেডি ডেলিগেট করে দিয়েছি। এটা বিন্যস্ত আছে রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের উপরে। প্রকৃতপক্ষে আমরা যদি কেন্দ্রভিত্তিক বিবেচনা করি, তাহলে কিন্তু নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্বটা চলে যাচ্ছে কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে। কারণ কেন্দ্র থেকে আমরা নির্বাচনের ফলাফল পাবো। সুতরাং কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে আপনারা ফলাফল নেবেন।

সিইসি আরও বলেন, যেহেতু নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হয়ে রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং, প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে চলে গেছে এবং সেগুলো দেখভাল করার জন্য কতগুলো কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেগুলো একটি হলো ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি। সারাদেশে ১২২টি ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সারাদেশে নির্বাচনে কোনও অনিয়ম হলে, আচরণবিধি ভঙ্গ হলে অথবা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও আইন বিচ্যুতি কর্মকাণ্ড ঘটলে সেগুলো সংশোধন করবেন। তারা অনুসন্ধান করবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন চার দিন। তারা মূলত প্রার্থী এবং সমর্থকদের সাহায্যই করবেন যে, কোনটা আচরণবিধি ভঙ্গের কারণ কি সেগুলো শুধরে দেবেন। যদি সেগুলো না শুনেন তাহলে বিচার করার তাদের সুযোগ থাকবে। অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা আছে তাদের হাতে। এরপরও আছে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

মাঠপর্যায়ে অভিযোগ জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সিইসি বলেন, আমাদের যেটা অসুবিধা হয়, সেটি হলো অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে কেন্দ্র থেকে চলে আসে। এই অভিযোগগুলো নিয়ে আমাদের কাছে না এসে যদি তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসার এবং ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে যান তবে তাৎক্ষণিক সমাধান পাবেন। আমাদের কাছে পাঠালে তাদের জন্য একটা বাড়তি অসুবিধা হয়।

আরও পড়ুন :

পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
একাদশ জাতীয় নির্বাচন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: ইসি সচিব
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রোরবার দিনগত রাত সোয়া ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশনে আসনভিত্তিক ফল ঘোষণা শেষে তিনি একথা বলেন। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হওয়ায় ইসি সচিব ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই একাদশ নির্বাচন জাতীয় জীবনের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্ধৃত করে ইসি সচিব বলেন, ছোটখাটো কিছু অনিয়ম ছাড়া নির্বাচন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এসময় তিনি জয়ী দল আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানান এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতা করায় ক্ষমতাসীন দলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নির্বাচনে ৬টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) সফল ব্যবহার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ছিল। এবার প্রথমবারের মতো ৬টি আসনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করেছি। সব বিতর্ক ও শঙ্কা পেছনে ফেলে আমরা অত্যন্ত সফলভাবে ইভিএম ব্যবহার করতে পেরেছি। এই প্রযুক্তি আগামীতে আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে। গেজেট প্রকাশ নিয়ে ইসি সচিব বলেন, আমাদের আরেকটি বড় দায়িত্ব হচ্ছে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা। এরপর সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার (৩০ ডিসেম্বর) দেশব্যাপী ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৮ আসনে ফল ঘোষিত হয়। এতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ২৫৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। জাতীয় পার্টি ২০টি, বিএনপি ৬টিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, বিকল্পধারা দুটি, জাসদ দুটি, জাসদ (আম্বিয়া)১টি, জেপি ১টি ও তরিকত ফেডারেশন ১টি আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে। আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে: নেপাল-ভারত-কানাডা-ওআইসি পি
একাদশ জাতীয় নির্বাচন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: ইসি সচিব
সারা দেশে ২৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত
সংঘাত, সহিংসতা ও ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কারণে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। সারা দেশের নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তথ্য জানা গেছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই, সহিংসতা এবং আরও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে এইসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। রংপুর-২ আসনে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং কতিপয় দুষ্কৃতকারী জালভোট প্রদানের চেষ্টা করলে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে চারটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো তেরশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং চরহাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শেরপুর-১ আসনে দুটি কেন্দ্রে দুষ্কৃতকারীরা অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। তারা ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করলে পরিস্থিতি প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রগুলো হলো- জামিয়া আরাবিয়া তালিমুননেছা মহিলা মাদ্রাসা এবং সাহাব্দিরচর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নরসিংদী-৩ আসনে কোন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ায় এবং ৬টি ব্যালটবাক্স ছিনতাই হওয়ায় ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দুটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্র দুটি হলো- ধানতলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কারণে তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। কেন্দ্রগুলো হলো- যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হওয়ায় দুপুর ১টার দিকে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়। কুমিল্লা-১ আসনে ভেলানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রটিতে ৫টি ব্যালট বাক্স ভাংচুর এবং ব্যালট পেপার ছিনতাই হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। কুমিল্লা-৭ আসনে পশ্চিম বেলাশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র স্থগিত হয়। ব্যালটবাক্স ছিনতাই ও ভাংচুর করা হয়। ব্যালটবাক্স ছিনতাইকালে একজন ছিনতাইকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। কুমিল্লা-৮ আসনে আড্ডা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত করা হয়। কুমিল্লা-১০ আসনে বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে দুষ্কৃতকারীরা প্রায় ১৮০০ ব্যালট পেপারে আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার কারণে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। চাঁদপুর-৫ আসনে দক্ষিণ বড়কুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ব্যালট পেপার চুরি হওয়ায় ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। নোয়াখালী-১ আসনে তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। কেন্দ্রগুলো হলো- কেগনা নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নওয়াবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়। নোয়াখালী-৩ আসনে চারটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালট বাক্স এবং নির্বাচনী মালামাল ছিনতাইয়ের কারণে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রগুলো হলো খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য নরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মুরাদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কারাড়াই মাদ্রাসায় ব্যালটবাক্স ছিনতাই হওয়ার কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলাউড়া দারুস সুন্নাহ কাসিমিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্র্রটিতে ভোটগ্রহণ বন্ধ আছে। চট্টগ্রাম-১০ আসনে শহীদনগর সিটি করপোরেশন সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণে অনিয়ম পাওয়ায় ভোট স্থগিত করেন প্রিজাইডিং অফিসার। এছাড়া রাঙ্গামাটির একটি কেন্দ্রে ভোরে ঘাগড়া ইউনিয়ানাধীন রাঙ্গীপাড়ায় বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন কর্মী আহত হয়। গুরুতর আহত ২ জনের মধ্যে ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বশিরউদ্দিনের মৃত্যু  হয়।  নোয়াখালী-২ আসনে মধ্যনাটেশ্বর ইসলামিয়া এবতেদায়ী নূরানী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রটিতে দুষ্কৃতকারীরা প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পুলিশসহ মোট ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়। কক্সবাজার-১ আসনে মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুপক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে আব্দুল্লাহ আল ফারুক নামে একজন মৃত্যুবরণ করে। তবে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়নি। এই কেন্দ্রগুলো ছাড়া সারাদেশে শান্তিপূর্ণভবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আরসি/পি
সারা দেশে ২৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত
সাংবাদিকদের সামনেই ভোট গণনা হবে: সিইসি
অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত, অংশগ্রহণমূলক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে ভোটের প্রচারণা শেষ হয়েছে। রাত পোহালেই শুরু হবে ভোটগ্রহণ। আর ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সামনেই ভোট গণনা হবে। বলছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। আজ শনিবার নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি একথা বলেন। সিইসি বলেন, কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাই দায়িত্ব পালন করবেন। রিটার্নিং অফিসার সকাল ৭টার মধ্যে পরিচালনার কাজ শুরু করবেন। তিনি ব্যালট বাক্স খুলে সকলের উপস্থিতিতে সকলকে ব্যালট বাক্স খালি কিনা দেখাবেন। ‘এরপর ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হলে এজেন্ট, সাংবাদিকদের সামনে ভোট গণনার কাজ শুরু করবেন। এটি কেন্দ্রের বাইরে করা যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ফলাফলের তালিকা এজেন্টদের সরবরাহ করতে হবে। কেউ অবৈধভাবে ভোটকক্ষ ত্যাগ করতে বললে ম্যাজিস্ট্রেট বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। গণমাধ্যমেরে উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের স্বাভাবিক কাজ ব্যহত হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। আপনারা আপানাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন : কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম এসআর
সাংবাদিকদের সামনেই ভোট গণনা হবে: সিইসি
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন,  আগামী রোববার (৩০ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন ভবনে ফল ঘোষণা কেন্দ্র ও গণমাধ্যম কর্মীদের বুথ পরিদর্শন করতে গিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারের নির্বাচনে ব্যাপক ও সর্বাধিক প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছে। উৎসবমুখর ভোট হবে-এটাই আমার প্রত্যাশা। নির্বাচনের প্রচারণা আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টা থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন যারা প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থক, তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যার যার অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচন নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে-বিএনপি ও বিরোধীপক্ষের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, অবশ্যই এটা ভুল প্রমাণ হবে। আমরা প্রস্তুত, ভোটাররা সবাই উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশে ভোটে অংশগ্রহণ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সকলের জন্য নিরাপত্তা; সকলের জন্য নিরাপদ অবস্থান সৃষ্টি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করব। যারা ভোটার তারা যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। পি
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে: সিইসি
আরও পড়ুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
নির্বাচনে ১৯ নারী প্রার্থী বিজয়ী
কে কোন আসন থেকে জয়ী হলেন