ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

আ. লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে কে?

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:৫৬ পিএম

আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা এমপি। ওই সভায় নির্ধারণ হবে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন। এ নিয়ে সব প্রার্থীই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেলো দুদিনে ১২ জন আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে ৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম জমা দিয়েছেন।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: 'একক প্রার্থী দেবে ১৪ দল'
--------------------------------------------------------

প্রথম দিনে রাসেল আশেকী, আদম তমিজি হক, বিজিএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট আতিকুল ইসলাম, মনিপুর স্কুলের অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন, মুহাম্মদ শাহ আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক জোবায়ের আলম, এফবিসিসিআই’র সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট হেলাল উদ্দিন (হেলাল) ও রমনা-তেজগাঁও এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ এবিএম ইকবাল মনোনয়ন ফরম কেনেন।

দ্বিতীয় দিনে মো. আবেদ মনসুর, ইয়াদ আলী ফকির, শামীম হাসান, মো. মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ (মেহেদী) মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

কিন্তু এদের মধ্যে আতিকুল ইসলামই দলের হেভিওয়েট প্রার্থী। এছাড়া সাবেক সাংসদ এবিএম ইকবালও বেশ প্রভাবশালী। তবে দলের হাইকমান্ড আতিককেই বিবেচনা করছেন, এটা অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন দলের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেই প্রার্থী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়। আতিক ছাড়া এই মুহূর্তে হেভিওয়েট প্রার্থী নেই।

দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, প্রার্থী মোটামুটি চূড়ান্তই। নেত্রীর ঘোষণার অপেক্ষা। মনোনয়ন বোর্ডে দলের সভাপতি সম্মতি দিলেই ঘোষণা করা হবে নাম।

এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে আতিকুল ইসলামকে দলীয় প্রার্থী করার ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি প্রচারে নেমে পড়েন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, প্রার্থী ঘোষণার আগে কেউ প্রার্থী নন। অনেকে নিজের মতো করে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় না যে, প্রার্থী নির্বাচন হয়ে গেছে। তবে আতিকুল ইসলাম দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। সে সময় শেখ হাসিনা বলেছেন, কাজ করো। সিদ্ধান্ত পরে।

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ১৬ জানুযারির আগে কেউই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী না।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে মেয়র হওয়ার ঘোষণা দেয়নি কেউ। আজ আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক শেষে ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, ১৪ দলের একক প্রার্থী হবে। ডিএনসিসি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রার্থী ঘোষণা করবেন ১৪ দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে সমর্থন এবং তার বিজয় নিশ্চিত করবে।

এ বিষয়ে সোমবার কথা হয় আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রত্যয় আছে, আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবো। আমি শতভাগ সে আশা রাখি। যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়া না হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নমিনেশন বোর্ডের মাধ্যমে যাকে মনোনয়ন দেবেন অবশ্যই আমি তার সাথে থাকবো।

তিনি আরো বলেন, আনিসুল হক (প্রয়াত মেয়র) প্রমাণ করে গেছেন অরাজনৈতিকভাবে এসেও কীভাবে ঢাকা শহরকে সুন্দরভাবে সাজানো যায়। ব্যবসায়ীরা যেমন রাজনীতিতে আসতে পারবে সে রূপ রাজনীতিবিদরা ব্যবসায় আসতে পারবে। এতে কোন বাধা নেই। আমি মনে করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আনিসুল হককে সুযোগ দিয়েছেন, সেভাবে আমাকে সুযোগ দিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অবশ্যই আমিও সুন্দর ঢাকা গড়তে পারবো।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদে ভোট গ্রহণ হবে। আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর ডিএনসিসির মেয়র পদ শূন্য হয়ে যায়। একইদিনে ডিএনসিসি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) যুক্ত হওয়া ১৮টি করে মোট ৩৬টি নতুন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও ভোট হবে। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। কাউন্সিলর পদ নির্দলীয়।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২১ ও ২২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ জানুয়ারি।

আরও পড়ুন

এসজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
একাদশ জাতীয় নির্বাচন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: ইসি সচিব
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রোরবার দিনগত রাত সোয়া ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশনে আসনভিত্তিক ফল ঘোষণা শেষে তিনি একথা বলেন। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হওয়ায় ইসি সচিব ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই একাদশ নির্বাচন জাতীয় জীবনের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্ধৃত করে ইসি সচিব বলেন, ছোটখাটো কিছু অনিয়ম ছাড়া নির্বাচন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এসময় তিনি জয়ী দল আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানান এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতা করায় ক্ষমতাসীন দলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নির্বাচনে ৬টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) সফল ব্যবহার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ছিল। এবার প্রথমবারের মতো ৬টি আসনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করেছি। সব বিতর্ক ও শঙ্কা পেছনে ফেলে আমরা অত্যন্ত সফলভাবে ইভিএম ব্যবহার করতে পেরেছি। এই প্রযুক্তি আগামীতে আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে। গেজেট প্রকাশ নিয়ে ইসি সচিব বলেন, আমাদের আরেকটি বড় দায়িত্ব হচ্ছে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা। এরপর সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার (৩০ ডিসেম্বর) দেশব্যাপী ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৮ আসনে ফল ঘোষিত হয়। এতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ২৫৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। জাতীয় পার্টি ২০টি, বিএনপি ৬টিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, বিকল্পধারা দুটি, জাসদ দুটি, জাসদ (আম্বিয়া)১টি, জেপি ১টি ও তরিকত ফেডারেশন ১টি আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে। আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে: নেপাল-ভারত-কানাডা-ওআইসি পি
একাদশ জাতীয় নির্বাচন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: ইসি সচিব
সারা দেশে ২৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত
সংঘাত, সহিংসতা ও ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কারণে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। সারা দেশের নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তথ্য জানা গেছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই, সহিংসতা এবং আরও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে এইসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। রংপুর-২ আসনে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং কতিপয় দুষ্কৃতকারী জালভোট প্রদানের চেষ্টা করলে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে চারটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো তেরশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং চরহাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শেরপুর-১ আসনে দুটি কেন্দ্রে দুষ্কৃতকারীরা অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। তারা ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করলে পরিস্থিতি প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রগুলো হলো- জামিয়া আরাবিয়া তালিমুননেছা মহিলা মাদ্রাসা এবং সাহাব্দিরচর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নরসিংদী-৩ আসনে কোন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ায় এবং ৬টি ব্যালটবাক্স ছিনতাই হওয়ায় ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দুটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্র দুটি হলো- ধানতলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কারণে তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। কেন্দ্রগুলো হলো- যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হওয়ায় দুপুর ১টার দিকে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়। কুমিল্লা-১ আসনে ভেলানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রটিতে ৫টি ব্যালট বাক্স ভাংচুর এবং ব্যালট পেপার ছিনতাই হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। কুমিল্লা-৭ আসনে পশ্চিম বেলাশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র স্থগিত হয়। ব্যালটবাক্স ছিনতাই ও ভাংচুর করা হয়। ব্যালটবাক্স ছিনতাইকালে একজন ছিনতাইকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। কুমিল্লা-৮ আসনে আড্ডা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত করা হয়। কুমিল্লা-১০ আসনে বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে দুষ্কৃতকারীরা প্রায় ১৮০০ ব্যালট পেপারে আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার কারণে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। চাঁদপুর-৫ আসনে দক্ষিণ বড়কুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ব্যালট পেপার চুরি হওয়ায় ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। নোয়াখালী-১ আসনে তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। কেন্দ্রগুলো হলো- কেগনা নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নওয়াবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়। নোয়াখালী-৩ আসনে চারটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালট বাক্স এবং নির্বাচনী মালামাল ছিনতাইয়ের কারণে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রগুলো হলো খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য নরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মুরাদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কারাড়াই মাদ্রাসায় ব্যালটবাক্স ছিনতাই হওয়ার কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলাউড়া দারুস সুন্নাহ কাসিমিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্র্রটিতে ভোটগ্রহণ বন্ধ আছে। চট্টগ্রাম-১০ আসনে শহীদনগর সিটি করপোরেশন সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণে অনিয়ম পাওয়ায় ভোট স্থগিত করেন প্রিজাইডিং অফিসার। এছাড়া রাঙ্গামাটির একটি কেন্দ্রে ভোরে ঘাগড়া ইউনিয়ানাধীন রাঙ্গীপাড়ায় বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন কর্মী আহত হয়। গুরুতর আহত ২ জনের মধ্যে ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বশিরউদ্দিনের মৃত্যু  হয়।  নোয়াখালী-২ আসনে মধ্যনাটেশ্বর ইসলামিয়া এবতেদায়ী নূরানী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রটিতে দুষ্কৃতকারীরা প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পুলিশসহ মোট ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়। কক্সবাজার-১ আসনে মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুপক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে আব্দুল্লাহ আল ফারুক নামে একজন মৃত্যুবরণ করে। তবে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়নি। এই কেন্দ্রগুলো ছাড়া সারাদেশে শান্তিপূর্ণভবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আরসি/পি
সারা দেশে ২৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত
সাংবাদিকদের সামনেই ভোট গণনা হবে: সিইসি
অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত, অংশগ্রহণমূলক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে ভোটের প্রচারণা শেষ হয়েছে। রাত পোহালেই শুরু হবে ভোটগ্রহণ। আর ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সামনেই ভোট গণনা হবে। বলছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। আজ শনিবার নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি একথা বলেন। সিইসি বলেন, কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাই দায়িত্ব পালন করবেন। রিটার্নিং অফিসার সকাল ৭টার মধ্যে পরিচালনার কাজ শুরু করবেন। তিনি ব্যালট বাক্স খুলে সকলের উপস্থিতিতে সকলকে ব্যালট বাক্স খালি কিনা দেখাবেন। ‘এরপর ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হলে এজেন্ট, সাংবাদিকদের সামনে ভোট গণনার কাজ শুরু করবেন। এটি কেন্দ্রের বাইরে করা যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ফলাফলের তালিকা এজেন্টদের সরবরাহ করতে হবে। কেউ অবৈধভাবে ভোটকক্ষ ত্যাগ করতে বললে ম্যাজিস্ট্রেট বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। গণমাধ্যমেরে উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের স্বাভাবিক কাজ ব্যহত হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। আপনারা আপানাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন : কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম এসআর
সাংবাদিকদের সামনেই ভোট গণনা হবে: সিইসি
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন,  আগামী রোববার (৩০ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন ভবনে ফল ঘোষণা কেন্দ্র ও গণমাধ্যম কর্মীদের বুথ পরিদর্শন করতে গিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারের নির্বাচনে ব্যাপক ও সর্বাধিক প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছে। উৎসবমুখর ভোট হবে-এটাই আমার প্রত্যাশা। নির্বাচনের প্রচারণা আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টা থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন যারা প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থক, তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যার যার অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচন নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে-বিএনপি ও বিরোধীপক্ষের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, অবশ্যই এটা ভুল প্রমাণ হবে। আমরা প্রস্তুত, ভোটাররা সবাই উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশে ভোটে অংশগ্রহণ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সকলের জন্য নিরাপত্তা; সকলের জন্য নিরাপদ অবস্থান সৃষ্টি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করব। যারা ভোটার তারা যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। পি
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে: সিইসি
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী
নির্বাচনে ১৯ নারী প্রার্থী বিজয়ী
ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের দোষে সাতটি আসন পেয়েছে: শেখ হাসিনা