
বিশেষ দিন মানেই আরটিভি। ঈদকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় এই বেসরকারি চ্যানেলটিতে বরাবরই বর্ণাঢ্য আয়োজন থাকে। প্রতি বছরের মতো এবারও দর্শকের জন্য বিনোদনের নানা আয়োজন করেছে আরটিভি। এই ঈদে ৮ দিনব্যাপী দর্শকরা নাটক, সিনেমাসহ নানা রকম অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন চ্যানেলটিতে।
ঈদের পঞ্চম দিন সন্ধ্যা ৭টায় আরটিভির পর্দায় দেখুন একক নাটক ‘চিরকুট ও নীল শাড়ি’। মারুফ হোসেন সজীবের রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন সাফা কবির, খায়রুল বাসার প্রমুখ।
নাটকের গল্পে দেখা যাবে, মধ্যরাতে রাহেলা বেগমের ফোন বার বার বেজে থেমে যাচ্ছে। কিছু সময় পর বেজে ওঠে ফরিদ সাহেবের ফোন। খুব ঝামেলায় পরেই এত রাতে দুজনকে বিরক্ত করছে মতিন। কিছু সময় পর ফরিদ সাহেবের বাসার সামনে একটি মাইক্রো এসে থামে। গ্রামে খুব বড় ধরনের একটা সমস্যা হওয়ায় সাফায়াতকে কিছুদিন লুকিয়ে রাখতে হবে ফরিদ সাহেবের বাসায়। মতিন যাওয়ার আগে রাহেলা খালার হাত ধরে সাফায়েতের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যায়। বার বার একটা কথাই মতিন বলছিলো, সাফায়েত ভাই এখানে আছে সেটা যেনো কেউ না জানে।
রাহেলা বেগমের চিলোকোঠার ঘরটায় উঠেছে সাফায়েত। কিন্তু ব্যাপারটা একদমই জানতো না ফরিদ সাহেবের একমাত্র মেয়ে রুনা। বিকেল বেলা ছাদের টবে পানি দিতে এসে সাফায়েতের সঙ্গে দেখা হয় রুনার। রেলিংয়ে পা দুলিয়ে সাফায়েতকে বসে থাকতে দেখে, যা-ইচ্ছে তাই ব্যবহার করে আবার নিচে চলে যায় রুনা। কিচেনে গিয়ে সাফায়েতের ব্যাপারে জানতে চাইলে, মা রাহেলা বেগম ব্যাপারটা এড়িয়ে যায়। বাসার কাজের মেয়ে রুনাকে টেনে নিয়ে আরেক ঝামেলা বাঁধায়। রুনা জানতে পারে, এই ছেলেকে তার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্যই এখানে আনা হয়েছে।
এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকার কিছু বখাটে ছেলেদের বিরক্ততা সহ্য করে আসছিলো রুনা। হটাৎ করেই ব্যাপারটা চোখে পরে সাফায়েতের। রুনাকে কিছু না জানিয়েই, বখাটেদের সায়েস্তা করে সাফায়েত। জন্মদিনের রাতে বখাটেরা রুনার বাসায় এসে তার কাছে মাফ চেয়ে আসে। রুনা দৌড়ে যায় চিলেকোঠায়। কিন্তু সাফায়েত নেই, চলে গেছে। যাওয়ার আগে রুনার জন্য দুই লাইনের একটা চিরকুট আর একটা নীল শাড়ি রেখে গেছে। নিজের হাতে উপহারগুলো রুনাকে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও, সেটা আর হয়ে ওঠেনি।
কে এই ছেলে, কেনই বা এই বাসার চিলেকোঠায় এসে উঠেছিলো। একের পর এক প্রশ্ন ঘুরতে থাকে রুনার মাথায়। সাফায়েতের সঙ্গে করা খারাপ ব্যাবহারগুলো ভেতর ভেতর খুব জ্বালাচ্ছে তাকে। মধ্যরাতে মা-বাবাকে উঠিয়ে সাফায়েতের পরিচয় জানতে চায়। মা-বাবা কথা বলে না। ভোরের আলোতে, মহাসড়ক ধরে গাড়ি ছুটছে। গাড়িতে বসে আছে রুনা, মা ও বাবা। গাড়ি কোথায় যাচ্ছে জানে না রুনা। শুধু এটুকুই জানে, হয়তো আবার একবার সাফায়েতের সঙ্গে দেখা হবে তার। হয়তো নিজের করা খারাপ ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া যাবে। পরনের নীল শাড়ির দিকে তাকিয়ে সেটাই ভাবছিলো রুনা।
গ্রামে ঢুকতেই রুনার চোখ আকাশে উঠে। সাফায়াতের পরিচয় পেয়ে যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে তার মাথায়। দিনের পর দিন যে মানুষটাকে অপমান অপদস্ত করে গেছে সেই মানুষটা দেখতে সাধারণ হলেও গ্রামের সব চাইতে ক্ষমতাসীন লোক তিনি। লাখো মানুষের পছন্দের তরুণ চেয়ারম্যান সাফায়াত।




