
পোস্টার-ট্রেলার-গান সবকিছুতেই একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল পরিছন্ন ছবি হতে যাচ্ছে ‘গেম রিটার্নস’। শুক্রবার সারাদেশে মুক্তি পেয়েছে নিরব, তমা মির্জা, নবাগত লাবণ্য লি ও মিশা সওদাগর অভিনীত ছবিটি। পরিচালনা করেছেন রয়েল খান।
‘গেম রিটার্নস’ নামের মধ্যেই এক ধরনের গতি রয়েছে। ছবিতে নিরবের কিলিং মিশন সেই গতিরই বার্তা বহন করে। সেই হিসেবে ছবির সঙ্গে নামের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়।
‘গেম রিটার্নস’ এর হচ্ছে- পেশাদার একটা খুনের কোম্পানিতে কাজ করেন নিরব (মায়া)। কথা কম বলা খুন বেশি করাই তার স্টাইল। আর এসব খুনের মিশনে লাবণ্য (শায়না) তার অন্যতম একজন সহযোগী। লাবণ্য নিরবকে ভীষণ ভালোবাসে। কিন্তু নিরব সেই ভালোবাসার কথা জানেন না। মিশা সওদাগর (কাইজার) এই কোম্পানির মালিক। কয়েকটি সাকসেস মিশনের পর একটা অপারেশনে গিয়ে টার্গেট মিস করেন নিরব। গুলি লাগে তমা মির্জার (পায়েল) বাহুতে। এরপর নতুন একটি খুনের মিশন আসে তার কাছে। খুন করতে গিয়ে দেখেন তমাই সেই মেয়ে। পরিচয় অতঃপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্ধকার জীবন ছেড়ে তমাকে নিয়ে আলোর পথে ফিরে যেতে চায় নিরব। শহর ছেড়ে পাড়ি জমান দূরে। এদিকে মিশার ভাইয়ের নিরবের ব্যবহৃত গাড়ি পছন্দ হয়ে যায়। যেকোনো কিছুর বিনিময়েই সেই গাড়ি চাইই তার। আর এই গাড়ির জন্য নিরবের বাড়িতে হামলা চালায় দলবল নিয়ে। নিরব-তমার মাথায় আঘাত করে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই আঘাতে মৃত্যু হয় তমার। এই হলো বিরতি পর্যন্ত ‘গেম রিটার্নস’ এর গল্প। বিরতির পরের কী হয় তা জানার জন্য দলবলে সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখে আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে দর্শকদের হতাশ করবে না বাণিজ্যিক ধারার এই ছবিটি।
ভালো লাগা
• ঝকঝকে পরিছিন্ন ছবি।
• শিল্পীদের কস্টিউম।
• ছবির গল্প কিছুটা ভিন্নধর্মী, গতানুগতিক ধারার বাইরে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।
• ছবির গান যত না শুনতে ভালো লেগেছে তার চেয়ে গানের দৃশ্য দেখতে বেশি ভালো লেগেছে। বিশেষ করে নিরবের সঙ্গে তমা-লাবণ্য দুজনেই ছিলেন দুর্দান্ত। মিশা সওদাগর এক কথায় অসাধারণ।
• অ্যাকশন দৃশ্যে নিরবের অভিনয়। মারপিটের দৃশ্যে দারুণ মানিয়েছে তাকে।
• ছবির আইটেম গান।
মন্দ লাগা
• গল্পের ধারাবাহিকতার অভাব। সংলাপের দুর্বলতা।
• প্রেমিকা হত্যার প্রতিশোধ নিতে নিরব যখন মিশার ভাইকে খুন করার জন্য খুঁজছেন। ঠিক সেই সময় মিশার ভাই নিরবকে খুন করার সুযোগ পেলেন। কিন্তু তিনি নিরব বুকে গুলি না করে হাতে গুলি করে চলে গেলেন। নায়ক বলে নিরবকে বোনাস লাইফ দেয়া হলো কিনা এমন প্রশ্ন আসতেই পারে।
• মিশা এত বড় একটা সিন্ডিকেট চালান অথচ তাকে বড় আয়োজনে উপস্থাপন করা হয়নি। বেশির ভাগ সময় রুমের মধ্যে দেখানো হয়েছে এই শক্তিমান খল-অভিনেতাকে।
• উত্তেজনার অভাব। এরপর কী হতে পারে বিষয়টি যেন বিরতির পরেই শেষ হয়ে যায়। বিরতির পর শুধু অপেক্ষা ছবিটি শেষ হবার।
‘গেম রিটার্নস’ এর মাধ্যমে গতানুগতিক ধারার বাইরে নতুন কিছু করার যে চেষ্টা করেছেন নির্মাতা তা প্রশংসার দাবি রাখে। গল্পটা ভালো ঠিক-ঠাক কাহিনি ও চিত্রনাট্য সাঁজাতে পারলে অ্যাকশন ঘরানার ছবিটি টানটান উত্তেজনা ছড়াতে যে সমর্থ হতো- তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
‘গেম রিটার্নস’ ছবিতে চারটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিরব, তমা মির্জা, লাবণ্য ও মিশা সওদাগর। নিরব নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ছবিতে। তমা যতটুকু সময় স্ক্রিনে ছিলেন দর্শকরা উপভোগ করেছেন তার অভিনয়। নতুন হলেও লাবণ্য তার অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছেন। যদিও সংলাপে জড়টা ছিল। মিশা সওদাগরকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। দুষ্ট চরিত্রে অভিনয়ের পরও যিনি এত বেশি জনপ্রিয় তাকে নিয়ে না বলাই ভালো।
নতুন নির্মাতা হিসেবে রয়েল খান ভালো একটি ছবি নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। নির্মাতাই হলেন একটি চলচ্চিত্রের ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ। তাইতো এ ছবির ভালোমন্দের দায়ভার তাকেই নিতে হবে।
এম/সি




