
পাঁচ দিনব্যাপী বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন শুরু হয় ২৭ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে। শুরুতেই কত্থক নৃত্য পরিবেশন করে অদিতি মঙ্গলদাস ড্যান্স কোম্পানি-দৃষ্টিকোণ ড্যান্স ফাউন্ডেশন।
পুরো পরিবেশনাতে ছিলো তিনটি পর্ব - উৎসব, প্রিয়তমের খোঁজে এবং তারানা। নৃত্যাংশে ছিলেন অদিতি মঙ্গলদাস, গৌরী দিবাকর, মিনহাজ, আম্রপালি ভাণ্ডারী, অঞ্জনা কুমারী, মনোজ কুমার, সানি শিশোদিয়া। এছাড়া, কণ্ঠ ও হারমোনিয়াম পরিবেশনে ছিলেন ফারাজ খান, তবলা ও পাঢ়ান্তে মোহিত গাঙ্গানি, পাখোয়াজ ও পাঢ়ান্তে আশীস গাঙ্গানি, বাঁশিতে রোহিত প্রসন্ন। পুরো পরিবেশনাটির মূলধারণা, কোরিওগ্রাফি ও পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন অদিতি মঙ্গলদাস।
উৎসব পর্বের মূল পারকাশন রচনা করেছেন গোবিন্দ চক্রবর্তী এবং শ্লোক লিখেছেন সামিউল্লাহ খান। তারানা পর্বের সঙ্গীত রচনা করেছেন শুভা মুদগাল ও আনীশ প্রধান। পরিবেশন শেষে শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। এরপর সুরেশ তলওয়ালকরের পরিচালনায় তবলা পরিবেশন করে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ। তবলা দলে ছিলেন প্রশান্ত ভৌমিক, সুপান্থ মজুমদার, এম জে জেসাস ভুবন, ফাহমিদা নাজনিন, নুসরাত-ই-জাহান ও শ্রেষ্ঠা প্রিয়দর্শিনী। তারা রাগ কিরওয়ানি নাগমায় তিন তালে কম্পোজিশন পরিবেশন করেন। পরিবেশনা শেষে শিল্পীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
তবলার পরিবেশনার পর মঞ্চে আসেন প্রখ্যাত সন্তুর শিল্পী পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। তিনি পরিবেশন করেন রাগ ঝিঁঝোটিতে আলাপ, জোড়, ঝালা ও গৎ। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন যোগেশ শামসি, তানপুরায় ছিলেন তাকাহিরো আরাই। পরিবেশনা শেষে পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আরো বাদন ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন পণ্ডিত উলহাস কশলকর (খেয়াল), ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান (সেতার), অভিজিত কুণ্ডু ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয় (ধ্রুপদ), পণ্ডিত রনু মজুমদার (বাঁশি) ও পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস (সরোদ)। উৎসব চলে ভোর ৫টা পর্যন্ত।

‘সঙ্গীত জাগায় প্রাণ- এ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। সঙ্গীত উপভোগের পাশাপাশি খাবার ও পানীয়ের জন্য উৎসব প্রাঙ্গণে রয়েছে ফুড কোর্ট।
পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণে আরো চলছে বাংলাদেশের সঙ্গীত সাধক ও তাদের জীবনী নিয়ে একটি সচিত্র প্রদর্শনী এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটলমেন্ট এর ‘সাধারণের জায়গা’ শীর্ষক প্রদর্শনী।
এছাড়া উৎসব প্রাঙ্গণে স্টল স্থাপন করেছে বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল এক্সপ্রেস, বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়, অরণ্য, বেঙ্গল ভিজ্যুয়াল আর্টস প্রোগ্রাম, বেঙ্গল বই, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার গ্রুপ। আছে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ। সাংবাদিকদের জন্য আছে ওয়াইফাই জোন।
গত পাঁচ বছর ধরে আয়োজিত ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব’ শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের নিরিখে এরই মধ্যে এই উপমহাদেশ তথা বিশ্বের সর্বাধিক বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বছর উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংস্কৃতিতাত্ত্বিক এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে।
তৃতীয় দিনের আয়োজন
২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার উৎসবের তৃতীয় দিন থাকবে সেতার- বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়, ঘাটম ও কঞ্জিরা- বিদ্বান ভিক্ষু বিনায়ক রাম ও সেলভাগণেশ বিনায়ক রাম, খেয়াল- সরকারি সঙ্গীত কলেজ, সরোদ- আবির হোসেন, বাঁশি- গাজী আবদুল হাকিম, ধ্রুপদ- পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর, বেহালা- বিদূষী কালা রামনাথ, খেয়াল- পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।
পিআর/ওয়াই




