
বাঁশিতে সুরের ঝংকার তুলেছেন পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। রাত তখন সাড়ে ৪টা। হাজারো দর্শক-শ্রোতা মোহিত হয়ে আছেন সুরের ইন্দ্রজালে। এমন দৃশ্য ছিল বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবের সমাপনী রজনীর শেষ পরিবেশনায়।
পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের শেষ রজনীর আয়োজন নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে, ৩০ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭টায়। বিদূষী সুজাতা মহাপাত্র মঞ্চ আলোকিত করেন ওড়িশি নৃত্য দিয়ে। এরপর শুরু হয় উৎসবের সমাপনী অধিবেশন। এ অংশে এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে মঞ্চে প্রধান অতিথি ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক স্যার ফজলে হাসান আবেদ, অতিথি ছিলেন ড. সনজীদা খাতুন, ফরিদুর রেজা সাগর। স্বাগত বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।
আনুষ্ঠানিক সমাপনী অধিবেশনের পর আবার শুরু হয় বাদন পরিবেশনা। মোহন বীণা পরিবেশন করেন পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট। এরপর খেয়াল পরিবেশন করেন ব্রজেশ্বর মুখার্জি। তবলায় সঙ্গত করেন শুভংকর ব্যানার্জি, হারমোনিয়ামে গৌরব চ্যাটার্জি, তারপুরায় বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থী এসএম আশিক আলভি ও অপূর্ব কর্মকার।
সেতারের যুগলবন্দি পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন পিতা-পুত্র পণ্ডিত কুশল দাস ও কল্যাণজিত দাস। যুগলবন্দি পরিবেশনার পর খেয়াল পরিবেশন করেন পণ্ডিত কৈবল্য কুমার।
উৎসবের সমাপ্তি ঘটে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশির সুরে। তিনি প্রথমে রাগ ললিত এবং পরে জনপ্রিয় লোকসুর পরিবেশন করেন। শিল্পীকে বাঁশিতে সঙ্গত করেন বিবেক সোনার ও ইউকা নাগাই, তবলাতে পণ্ডিত শুভংকর বন্দ্যোপাধ্যায়, পাখোয়াজে পণ্ডিত ভবানী শংকর, তানপুরাতে মুশফিকুর ইসলাম।
পরিবেশনা শুরুর আগে চৌরাসিয়া বলেন, প্রতি বছর আমি অপেক্ষায় থাকি এই উৎসবে আসার জন্য। এতো লোকের সমাগম বিশ্বের আর কোথাও হয় না।
এ বছর উৎসবের উদ্বোধন হয় ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায়। আসর মাতিয়েছেন ড. এল সুব্রহ্মন্যণ, আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমনিক অর্কেস্ট্রা, বিদূষী পদ্মা তালওয়ালকর, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত উলহাস কশলকর, ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খাঁ, পণ্ডিত রণু মজুমদার ও পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস, বিদ্বান ভিক্ষু বিনায়করাম, পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর, কলা রামনাথ, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, পণ্ডিত যশরাজ, ওস্তাদ রাশিদ খান, পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার, ড. মাইসুর মঞ্জুনাথ, সাসকিয়া রাও দ্য-হাস, পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখার্জির মতো গুণীরা।

গত পাঁচ বছর ধরে আয়োজিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের নিরিখে এরই মধ্যে এই উপমহাদেশ তথা বিশ্বের সর্বাধিক বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বছর উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংস্কৃতিতাত্ত্বিক এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে।
পিআর/এম




