ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শিল্পকলা থেকে পদত্যাগের কারণ জানালেন জামিল আহমেদ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৫, ১২:২৮ পিএম
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির এক অনুষ্ঠানে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের (ডিজি) পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার মিলনায়তন ‘মুনীর চৌধুরী প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসব’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ভরা মজলিশে এ ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতার মধ্যেই তিনি পদত্যাগের কথা জানান। এ সময় মঞ্চে তিনি শিল্পকলা একাডেমির সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। পরে তিনি পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে সংবাদ মাধ্যমে লিখিত বক্তব্যে দেন।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপ, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার জটিলতা, একাডেমির সচিবকে ফোকাল পারসন হিসেবে মনোনীত করে মহাপরিচালকের বিধিসম্মত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান, বাজেট কর্তন, শিল্পকলার ভেতর থেকে ফাইল গায়েব করে দেওয়া, একাডেমির অভ্যন্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্ররোচিত করে কাজের পরিবেশ ব্যাহত করা এবং দুর্নীতিবাজ চক্রের নানা অপতৎপরতার কারণে আমি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।

academid

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর শিল্পকলার মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন নাট্যনির্দেশক ও গবেষক সৈয়দ জামিল আহমেদ। তিনি ১৯৭৮ সালে নয়াদিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে গ্র্যাজুয়েশন; ১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারইক থেকে নাট্যকলা বিষয়ে এমএ এবং ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করেন।
জামিল আহমেদ বলেন, আমলাতন্ত্রের পেছনে ১০ বার ফোন করে টাকা আদায় করা আমার ব্যক্তিগত কাজে নয়, শিল্পকলা একাডেমির জন্য, সেই কাজটা যদি না করতে দেয়, পদে পদে বাধা দেয়, তাহলে এখানে থেকে লাভ নাই।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়া খান ও মা সানজিদা খান উপস্থিত ছিলেন। আনাসকে স্মরণ করে সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘আনাসের মতো দেড় হাজারের অধিক শহীদের রক্তের জন্য আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এ দায়িত্ববোধের জন্য আমি সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি। ব্যক্তিগত জীবন ছিল না। শতভাগ সময় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জন্য কাজ করেছি। আমি কোনো জায়গায় কোনো রকম অর্থনৈতিক অনিয়ম বা অনৈতিক কাজ করতে দিতে চাইনি।’

লিখিত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমিতে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে জামিল আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মহাপরিচালক পদে আমাকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে আমি বলেছিলাম, শিল্পকলা একাডেমি আইন অনুযায়ী একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাতে কাজ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপ রোধ করতে হবে এবং আমি একাডেমির ভিশন ও মিশন–সংবলিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করি। তৎকালীন উপদেষ্টা ও সচিবালয়ের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার সকল প্রস্তাব ও কর্মপরিকল্পনায় তখন সম্মত হয়েছিলেন। তাদের সম্মতি ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করতে সম্মত হই। কিন্তু উপদেষ্টা পরিবর্তনের পর থেকে আমার সকল বিধিসম্মত কাজে নীতিবহির্ভূত পদ্ধতিতে বারংবার হস্তক্ষেপ শুরু হয়। একাডেমির সকল কর্মকাণ্ডকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে শ্লথ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

উদহারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‌বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর একাডেমির সভা করার বিধান থাকা সত্ত্বেও পরিষদ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন করতে উপদেষ্টা ৫ সপ্তাহ অহেতুক সময় নেন। অথচ একাডেমির আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর সভা করার বিধান রয়েছে।

জামিল আহমেদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা বুঝুক, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ, তাদের ব্যাপক কর্মকাণ্ডের জন্য বন্ধ্যত্ব কাটিয়ে প্রচুর নাট্যচর্চা হচ্ছে, সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ আসলেই সৃষ্টি হয়েছে। আমি এখন সঠিক সময় বলে মনে করি, আর বোধ হয় ভবিষ্যতে কাজ করা সম্ভব হবে না এখানে।

কাজ করতে গিয়ে বাধা পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন এই নাট্যব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, আমাকে আদিবাসী কথাটা বলতে বাধা দিয়েছিল, আমরা আদিবাসী কথাটা বলতে পারব না। আমি আজকে বলছি, আদিবাসীদের দাবি পূর্ণ হোক। তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধ হোক। তাদের অধিকার অর্জিত হোক। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ কায়েম হোক। আনাসের মতো শহীদের রক্ত যেন সার্থক হয়।

শিল্পকলার সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকের সামনে বলেন, ‘শিল্পকলার সচিব হিসেবে এটি (পদত্যাগপত্র) শুধু হাতে নিয়েছি। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি।’

পরে মিলনায়তনে উপস্থিত নাট্যশিল্পীরা সৈয়দ জামিল আহমেদকে অনুরোধ করেন তিনি যেন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। পরে কয়েকটি শর্ত দেন তিনি। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্পকলা একাডেমির ওপর মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ না করা, ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া, আদিবাসী বলার অধিকার দেওয়া। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফাসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে শনিবার (১ মার্চ) সকালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হয়, তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘ক্ষমতার বাইরে থেকেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার প্রমাণ এই জনসমুদ্র’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এদিন জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ জড়ো হলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ভোর থেকেই সর্বস্তরের মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় উপস্থিত হতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে মানুষের ঢল নামে, যা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের জন্ম দেয়। অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন।  ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ক্ষমতার বাইরে গিয়েও যে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়-এই জনসমুদ্র তার প্রমাণ। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম তথা জান্নাতুল ফেরদাউস দান করে। আমিন। আরও পড়ুন ‘১৭ বছর যে অত্যাচার সহ্য করেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই’ উল্লেখ্য, বুধবার ২টা ৫৮ মিনিটে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। লাখ-লাখ মানুষের এই জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক জানানোর পাশাপাশি শোকার্ত পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে ঢাকায় ছুটে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর বিশেষ দূত ও দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ। দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিই বলে দেয়, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপিরই নেত্রী নন, এই জাতি-রাষ্ট্রেরই নেতা। জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। সেখানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এরপর তোপধ্বনির মাধ্যমে গান স্যালুট প্রদর্শন করে জানানো হয় সম্মাননা। সরকার, তিন বাহিনীর প্রধানরাও শ্রদ্ধা জানান তাকে। আরটিভি/কেআই
‘ক্ষমতার বাইরে থেকেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার প্রমাণ এই জনসমুদ্র’
কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী, ঘটনা কী
শোবিজের ঝলমলে আলো আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশে ঘেরা জীবন হলেও বর্তমানে মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন কিম কার্দাশিয়ান। কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নয়-আইন বিষয়ে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়াই তাকে ভেঙে দিয়েছে মানসিকভাবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে আবারও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই মার্কিন তারকা। জানা গেছে, আইন বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কিম। পরীক্ষা দেওয়ার আগেই কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ফল প্রকাশের পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়-উত্তীর্ণ হতে পারেননি কিম। গত ৭ নভেম্বর পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। বছর শেষের এক সাক্ষাৎকারে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কিম জানান, পরীক্ষা শেষ করার পরই তার মনে হয়েছিল ফল ভালো হবে না। কিম বলেন, পরীক্ষা দেওয়ার পরই মনে হচ্ছিল কিছু একটা খারাপ হতে যাচ্ছে। প্রশ্নগুলোর উত্তর যেভাবে গুছিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, তা পারিনি। তবুও মনে একটু আশা ছিল-হয়তো কোনো মিরাকল হবে। কিন্তু বিকেলে ফল প্রকাশের পর বুঝলাম, আমার ভয়টাই সত্যি হয়েছে। আরও পড়ুন ‘১৭ বছর যে অত্যাচার সহ্য করেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই’ সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলতে বলতে আবারও চোখের জল ফেলতে দেখা যায় কিমকে। তবে এই কঠিন সময়ে তার পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছেন মা ক্রিস জেনার। মেয়ের পরিশ্রমের কথা তুলে ধরে ক্রিস বলেন, কিম এই পরীক্ষার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে টিভি শো-এর ব্যস্ত কাজ এবং আইনের জটিল পড়াশোনা সামলানো সহজ ছিল না। আরটিভি/কেআই
কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী, ঘটনা কী
‘১৭ বছর যে অত্যাচার সহ্য করেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।  বেগম জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর এক আবেগঘন পোস্টে দিয়েছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। পোস্টে তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ছবি শেয়ার করে অভিনেতা লিখেছেন, ১৭ বছর! ১৭টা বছর যে মানুষটা একা নিরবে নিভৃতে অত্যাচার সহ্য করে গেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই! আর আল্লাহ যখন কাউকে সম্মানিত করেন হিসাব ছাড়া করেন! এত মানুষ! এত অগণিত মানুষ! এরপর তিনি যোগ করেন, কয়জন সৌভাগ্যবান হয় এত সুন্দর জানাজার! পৃথিবীতে এমনভাবে বাঁচেন যাতে আপনার মৃত্যু আপনাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখে। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুক। এদিকে জানাজার আগে খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন এবং মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। তার কাছে কেউ কোনো ঋণ পেলে যোগাযোগ করতে বলেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার আচরণে কেউ কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানান তারেক রহমান। আরও পড়ুন জেলে যাওয়ার আগে বেবী নাজনীনকে যা বলেছিলেন খালেদা জিয়া  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ বেগম জিয়ার জানাজায় অংশ নেন।  আরটিভি/কেআই
‘১৭ বছর যে অত্যাচার সহ্য করেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই’
একদিন আমরা হারিয়ে যাবো: আরশ খান 
বর্তমান সময়ে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খান। গত অল্প কয়েক বছরের মধ্যে দর্শকদের অনেক নাটক উপহার দিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের জন্য প্রশংসাও লাভ করেছেন। একের পর এক নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই তারকা।  অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিকমাধ্যমে বেশ সরব অভিনেতা। সাম্প্রতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি তার ফেসবুক পোস্টে শৈশব ও বর্তমানের তুলনা করেছেন। আরশ লিখেন, ছোট বেলা থেকে চিনি জানি এমন সকল মানুষ গুলো একজন একজন করে চলে যাচ্ছে। সব জায়গা গুলো আধুনিকীকরণের দৌড়ে পাল্টে যাচ্ছে।  আরও পড়ুন ‘শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্য জীবনের প্রথম ভোট বিএনপিকে দিয়েছিলাম’ তিনি আরও বলেন, বদলাচ্ছে নোট, বদলাচ্ছে বাহন, বদলাচ্ছে খাবার, বদলাচ্ছে স্বপ্ন। এর একটাই অর্থ আমি এবং আমার জেনারেশন সবাই কিছু দিনের মধ্যে বার্ধক্যে পা রাখবে। এরপর একদিন আমরা হারিয়ে যাবো। ব্যস্ত এই নগরজীবনে যান্ত্রিকতার আড়ালে মানুষ যে নিজেকে সময় দিতে ভুলে যাচ্ছে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন আরশ। শেষে লিখেছেন, জীবন কে বোঝ অতিথি, জীবনকে চেনো জীবনকে সময় দেয়াটা জরুরী এই সত্যটা মানো। আরটিভি/এএ 
একদিন আমরা হারিয়ে যাবো: আরশ খান 
‘শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্য জীবনের প্রথম ভোট বিএনপিকে দিয়েছিলাম’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার প্রয়াণ ঘটে।  আপসহীন এই নেত্রীর বিদায়ে সারাদেশে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে এই নেত্রীকে স্মরণ করছেন।  বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া মোটা দাগে পড়েছে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে। শিল্পীদের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ভারি হয়েছে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনকে হারানোর বেদনায়।  জনপ্রিয় অভিনেতা নাসির উদ্দিন খানকেও ছুঁয়েছে শোক। তা প্রকাশের পাশাপাশি এ অভিনেতা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার গল্প। জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মিষ্টি হাসির জন্য জীবনের প্রথম ভোট তিনি দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে। নিজের ফেসবুকে আজ মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে নাসির উদ্দিন লিখেছেন, আমি রাজনীতি অপছন্দ করা একজন অতি সাধারণ ভোটার, তবে রাজনীতি সচেতন। এরপর লেখেন, ২০২৪ এ ভোট দিতে যাইনি, ‘৮৪০’ এর শুটিংয়ে দেশের বাইরে ছিলাম। ২০১৮ তে ভোট কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছে হয়নি। ২০১৪ সালের ভোট দেওয়ার পেছনে গল্প বলেন নাসির। তার কথায়, ২০১৪ তে ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলাম ভোট দিতে নয়, কেন্দ্র পরিদর্শনে। সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন প্রার্থীকে মার্কা সুন্দর দেখে ভোট দিয়েছিলাম। আমার ধারণা আমাদের কেন্দ্র থেকে তিনি যদি একটি ভোটও পেয়ে থাকেন, তাহলে সেটি আমার। এর আগের নির্বাচন গুলোতে আওয়ামিলীগ-বিএনপিকে মিলিয়ে-ঝুলিয়ে দিয়েছি। এরপর অভিনেতা বলেন জীবনের প্রথম ভোটের গল্প। নাসির লেখেন, তবে জীবনের প্রথম ভোটটি দিয়েছিলাম ১৯৯১ সালে, বিএনপিকে, তার একমাত্র কারণ বেগম খালেদা জিয়া; শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্যে। সবশেষে এ অভিনেতা লিখেছেন, বিদায় হে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপনার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। সে সময় স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতিও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা এবং মানসিক ধকলের কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ভোরে তিনি চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং চিরবিদায় নেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নেতৃত্ব দেওয়া খালেদা জিয়া ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে জনগণের কাছে সমাদৃত ছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার অটল ভূমিকার কারণে তাকে ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আরটিভি/এএ 
‘শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্য জীবনের প্রথম ভোট বিএনপিকে দিয়েছিলাম’
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা
রোববার থেকে আবারও চালু শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান-প্রদর্শনী
শিল্পীদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি ১০ প্রস্তাবনা
জামিল আহমেদের পদত্যাগে যা বললেন ফারুকী