ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শিল্পীদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি ১০ প্রস্তাবনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতি খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং এর কার্যকর ব্যবহারের জন্য নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘সংস্কৃতি খাতে বাজেট পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা’ শিরোনামে একটি সেমিনার হয়।

‘থিয়েটার আর্টিস্টস এসোসিয়েশন অব ঢাকা’ আয়োজিত এই সেমিনারে দেশের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। এখানে ধারণাপত্র পাঠ করেন তৌফিকুল ইসলাম ইমন।

এতে বলা হয়, বাজেট কেবল আর্থিক বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। সংস্কৃতিকে প্রগতিশীল জাতি গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করলে সংস্কৃতিখাতে জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ বরাদ্দ সময়োপযোগী ও যৌক্তিক দাবি। এ জন্য যেমন রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রয়োজন, তেমনি সংস্কৃতি কর্মীদেরও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে এবং দায়িত্ব নিতে হবে।

এখানে দশটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। যেমন, ডিজিটাল আর্কাইভ ও ভার্চুয়াল প্রদর্শনীর অবকাঠামো নির্মাণ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আর্থিক সহায়তা, লোকসংস্কৃতি ও নৃ-গোষ্ঠী সংস্কৃতির গবেষণাগার ও প্রতিষ্ঠান গঠন, বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, সংস্কৃতিসেবীদের জন্য পেনশন সুবিধা চালু, বিদেশে সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম বাড়ানো, শিল্পী ও সংগঠনের অনুদান বাড়িয়ে কার্যকর বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, সংস্কৃতিখাতকে রেভিনিউ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ।

আলোচকরা তাদের বক্তব্যে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কৃতি খাতে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সেমিনারের প্রথন অতিথির দায়িত্ব পালন করা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক আনু মোহাম্মদ তার বক্তব্যে বলেন, যদি একজন শিল্পী স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ না পান, তাহলে সৃজনশীলতার জন্ম হয় না। শিল্প কেবল আনুগত্যের হাতিয়ার হয়ে পড়ে, যার কোনো গভীরতা থাকে না।

দেশে প্রাক-বাজেট আলোচনায় কৃষক, শ্রমিক, সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রণ থাকা উচিত বলে মনে করে তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ তিন শ্রেণিই সমাজের ভিত্তি। তাদের অভাব, তাদের বঞ্চনা এবং তাদের দাবিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নীতিনির্ধারক পরিসরে তাদের কোনো জায়গা নেই।

এরপর তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সৃজনশীল সমাজ গঠনে লাইব্রেরি, খেলার মাঠ, নাটকের মঞ্চ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অবকাঠামো থাকা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিল্পী ও শিক্ষকদের সম্মান না থাকার কারণে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সুজিত মোস্তফা সংগীতশিল্পীদের মর্যাদা, সম্মানী এবং তাদের জন্য একটি জাতীয় গ্রেডিং সিস্টেম প্রণয়নের উপর জোর দেন। তিনি বিশেষভাবে বেতার ও টেলিভিশন শিল্পীদের সম্মানী বৃদ্ধির পাশাপাশি, প্রাতিষ্ঠানিক প্রণোদনা, প্রশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি এবং জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে ন্যূনতম ৪% বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। তার মতে, বাজেট বরাদ্দ সাংস্কৃতিক বিনিয়োগ হিসেবে জাতির সৃজনশীলতা ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি নির্মাণে সহায়ক হবে।

তারিক আনাম খান তার বক্তব্যে বলেন, থিয়েটার খাতে বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাব শুধু অর্থের বিষয় নয়, এটি সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সমাজ গঠনে শিল্পের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

অন্যদিকে মামুনুর রশিদ মঞ্চ নাটকের বাজেট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত সমস্যা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বাজেট ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা প্রস্তাব করেন, বিশেষভাবে নাট্যদল ও শিল্পীদের জন্য স্যালারি গ্রান্ট চালু করার কথা বলেন।

তিনি বলেন, মঞ্চ নাটক শুধুমাত্র বিনোদন নয়, একটি শিক্ষামূলক মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বিকাশের জন্য আরও কার্যকরী নীতির প্রয়োজন।

সভাপতি আজাদ আবুল কালাম তার সমাপনী বক্তব্যে সেমিনারের লক্ষ্য হিসেবে সংস্কৃতির গুরুত্ব রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই বিভিন্ন দাবি তুলে ধরি, কিন্তু সেই দাবি সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় পৌঁছাবে, কাকে লক্ষ্য করে বলছি, তা নির্ধারণ করি না। এই সেমিনার সুনির্দিষ্ট দাবি তৈরি করতে সহায়তা করেছে, যাতে বাজেটের বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়।

বাজেট বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়েও সেমিনারে আলোচনা করা হয়। যেমন, সংস্কৃতি খাতে বাজেট বৃদ্ধি, সংস্কৃতির প্রতি দীর্ঘমেয়াদী সরকারের নীতি, নতুন শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ, সৃজনশীল প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দ, সংস্কৃতির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রসার, সংস্কৃতি কেন্দ্র এবং শিল্পকলা একাডেমি স্থাপন, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ়করণ, শিল্পীদের জন্য মাসিক সম্মানী, সংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মাসিক গ্রান্ট, শিল্পীদের সম্মান ও সন্মানী প্রদান, বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক প্রকল্প, সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, সংস্কৃতির প্রতি জনগণের আগ্রহ সৃষ্টি, সংস্কৃতির জন্য পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা।

প্রসঙ্গত, সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন থিয়েটার আর্টিস্টস এসোসিয়েশন অব ঢাকা’র সভাপতি আজাদ আবুল কালাম, পরিচালনা করেন অপু শহীদ, সেক্রেটারি ইভেন্ট, থিয়েটার আর্টিস্টস এসোসিয়েশন অব ঢাকা, এবং ধারণাপত্র পাঠ করেন তৌফিকুল ইসলাম ইমন, সেক্রেটারি অর্গানাইজেশন, থিয়েটার আর্টিস্টস এসোসিয়েশন অব ঢাকা। প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক আনু মোহাম্মদ।

আরটিভি/এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘ক্ষমতার বাইরে থেকেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার প্রমাণ এই জনসমুদ্র’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এদিন জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ জড়ো হলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ভোর থেকেই সর্বস্তরের মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় উপস্থিত হতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে মানুষের ঢল নামে, যা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের জন্ম দেয়। অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন।  ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ক্ষমতার বাইরে গিয়েও যে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়-এই জনসমুদ্র তার প্রমাণ। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম তথা জান্নাতুল ফেরদাউস দান করে। আমিন। আরও পড়ুন ‘১৭ বছর যে অত্যাচার সহ্য করেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই’ উল্লেখ্য, বুধবার ২টা ৫৮ মিনিটে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। লাখ-লাখ মানুষের এই জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক জানানোর পাশাপাশি শোকার্ত পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে ঢাকায় ছুটে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর বিশেষ দূত ও দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ। দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিই বলে দেয়, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপিরই নেত্রী নন, এই জাতি-রাষ্ট্রেরই নেতা। জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। সেখানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এরপর তোপধ্বনির মাধ্যমে গান স্যালুট প্রদর্শন করে জানানো হয় সম্মাননা। সরকার, তিন বাহিনীর প্রধানরাও শ্রদ্ধা জানান তাকে। আরটিভি/কেআই
‘ক্ষমতার বাইরে থেকেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার প্রমাণ এই জনসমুদ্র’
কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী, ঘটনা কী
শোবিজের ঝলমলে আলো আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশে ঘেরা জীবন হলেও বর্তমানে মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন কিম কার্দাশিয়ান। কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নয়-আইন বিষয়ে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়াই তাকে ভেঙে দিয়েছে মানসিকভাবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে আবারও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই মার্কিন তারকা। জানা গেছে, আইন বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কিম। পরীক্ষা দেওয়ার আগেই কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ফল প্রকাশের পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়-উত্তীর্ণ হতে পারেননি কিম। গত ৭ নভেম্বর পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। বছর শেষের এক সাক্ষাৎকারে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কিম জানান, পরীক্ষা শেষ করার পরই তার মনে হয়েছিল ফল ভালো হবে না। কিম বলেন, পরীক্ষা দেওয়ার পরই মনে হচ্ছিল কিছু একটা খারাপ হতে যাচ্ছে। প্রশ্নগুলোর উত্তর যেভাবে গুছিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, তা পারিনি। তবুও মনে একটু আশা ছিল-হয়তো কোনো মিরাকল হবে। কিন্তু বিকেলে ফল প্রকাশের পর বুঝলাম, আমার ভয়টাই সত্যি হয়েছে। আরও পড়ুন ‘১৭ বছর যে অত্যাচার সহ্য করেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই’ সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলতে বলতে আবারও চোখের জল ফেলতে দেখা যায় কিমকে। তবে এই কঠিন সময়ে তার পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছেন মা ক্রিস জেনার। মেয়ের পরিশ্রমের কথা তুলে ধরে ক্রিস বলেন, কিম এই পরীক্ষার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে টিভি শো-এর ব্যস্ত কাজ এবং আইনের জটিল পড়াশোনা সামলানো সহজ ছিল না। আরটিভি/কেআই
কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী, ঘটনা কী
‘১৭ বছর যে অত্যাচার সহ্য করেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।  বেগম জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর এক আবেগঘন পোস্টে দিয়েছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। পোস্টে তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ছবি শেয়ার করে অভিনেতা লিখেছেন, ১৭ বছর! ১৭টা বছর যে মানুষটা একা নিরবে নিভৃতে অত্যাচার সহ্য করে গেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই! আর আল্লাহ যখন কাউকে সম্মানিত করেন হিসাব ছাড়া করেন! এত মানুষ! এত অগণিত মানুষ! এরপর তিনি যোগ করেন, কয়জন সৌভাগ্যবান হয় এত সুন্দর জানাজার! পৃথিবীতে এমনভাবে বাঁচেন যাতে আপনার মৃত্যু আপনাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখে। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুক। এদিকে জানাজার আগে খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন এবং মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। তার কাছে কেউ কোনো ঋণ পেলে যোগাযোগ করতে বলেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার আচরণে কেউ কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানান তারেক রহমান। আরও পড়ুন জেলে যাওয়ার আগে বেবী নাজনীনকে যা বলেছিলেন খালেদা জিয়া  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ বেগম জিয়ার জানাজায় অংশ নেন।  আরটিভি/কেআই
‘১৭ বছর যে অত্যাচার সহ্য করেছেন আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই’
একদিন আমরা হারিয়ে যাবো: আরশ খান 
বর্তমান সময়ে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খান। গত অল্প কয়েক বছরের মধ্যে দর্শকদের অনেক নাটক উপহার দিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের জন্য প্রশংসাও লাভ করেছেন। একের পর এক নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই তারকা।  অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিকমাধ্যমে বেশ সরব অভিনেতা। সাম্প্রতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি তার ফেসবুক পোস্টে শৈশব ও বর্তমানের তুলনা করেছেন। আরশ লিখেন, ছোট বেলা থেকে চিনি জানি এমন সকল মানুষ গুলো একজন একজন করে চলে যাচ্ছে। সব জায়গা গুলো আধুনিকীকরণের দৌড়ে পাল্টে যাচ্ছে।  আরও পড়ুন ‘শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্য জীবনের প্রথম ভোট বিএনপিকে দিয়েছিলাম’ তিনি আরও বলেন, বদলাচ্ছে নোট, বদলাচ্ছে বাহন, বদলাচ্ছে খাবার, বদলাচ্ছে স্বপ্ন। এর একটাই অর্থ আমি এবং আমার জেনারেশন সবাই কিছু দিনের মধ্যে বার্ধক্যে পা রাখবে। এরপর একদিন আমরা হারিয়ে যাবো। ব্যস্ত এই নগরজীবনে যান্ত্রিকতার আড়ালে মানুষ যে নিজেকে সময় দিতে ভুলে যাচ্ছে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন আরশ। শেষে লিখেছেন, জীবন কে বোঝ অতিথি, জীবনকে চেনো জীবনকে সময় দেয়াটা জরুরী এই সত্যটা মানো। আরটিভি/এএ 
একদিন আমরা হারিয়ে যাবো: আরশ খান 
‘শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্য জীবনের প্রথম ভোট বিএনপিকে দিয়েছিলাম’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার প্রয়াণ ঘটে।  আপসহীন এই নেত্রীর বিদায়ে সারাদেশে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে এই নেত্রীকে স্মরণ করছেন।  বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া মোটা দাগে পড়েছে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে। শিল্পীদের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ভারি হয়েছে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনকে হারানোর বেদনায়।  জনপ্রিয় অভিনেতা নাসির উদ্দিন খানকেও ছুঁয়েছে শোক। তা প্রকাশের পাশাপাশি এ অভিনেতা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার গল্প। জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মিষ্টি হাসির জন্য জীবনের প্রথম ভোট তিনি দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে। নিজের ফেসবুকে আজ মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে নাসির উদ্দিন লিখেছেন, আমি রাজনীতি অপছন্দ করা একজন অতি সাধারণ ভোটার, তবে রাজনীতি সচেতন। এরপর লেখেন, ২০২৪ এ ভোট দিতে যাইনি, ‘৮৪০’ এর শুটিংয়ে দেশের বাইরে ছিলাম। ২০১৮ তে ভোট কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছে হয়নি। ২০১৪ সালের ভোট দেওয়ার পেছনে গল্প বলেন নাসির। তার কথায়, ২০১৪ তে ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলাম ভোট দিতে নয়, কেন্দ্র পরিদর্শনে। সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন প্রার্থীকে মার্কা সুন্দর দেখে ভোট দিয়েছিলাম। আমার ধারণা আমাদের কেন্দ্র থেকে তিনি যদি একটি ভোটও পেয়ে থাকেন, তাহলে সেটি আমার। এর আগের নির্বাচন গুলোতে আওয়ামিলীগ-বিএনপিকে মিলিয়ে-ঝুলিয়ে দিয়েছি। এরপর অভিনেতা বলেন জীবনের প্রথম ভোটের গল্প। নাসির লেখেন, তবে জীবনের প্রথম ভোটটি দিয়েছিলাম ১৯৯১ সালে, বিএনপিকে, তার একমাত্র কারণ বেগম খালেদা জিয়া; শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্যে। সবশেষে এ অভিনেতা লিখেছেন, বিদায় হে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপনার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। সে সময় স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতিও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা এবং মানসিক ধকলের কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ভোরে তিনি চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং চিরবিদায় নেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নেতৃত্ব দেওয়া খালেদা জিয়া ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে জনগণের কাছে সমাদৃত ছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার অটল ভূমিকার কারণে তাকে ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আরটিভি/এএ 
‘শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্য জীবনের প্রথম ভোট বিএনপিকে দিয়েছিলাম’
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা
রোববার থেকে আবারও চালু শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান-প্রদর্শনী
শিল্পকলা থেকে পদত্যাগের কারণ জানালেন জামিল আহমেদ
শেষ হলো রংপুর পদাতিক - বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যৌথ নাট্যোৎসব