
মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স (এমসিইউ) এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর আন্তঃসংযোগ ও চরিত্রগুলোর আকস্মিক আগমন। যেমন, রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের হঠাৎ করেই ‘দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক’-এ উপস্থিতি, কিংবা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনের নিখ ফিউরির একাধিক রূপায়ণ। এছাড়া হিরোদের মতোই ভিলেনরাও এই ইউনিভার্সে বারবার ফিরে এসেছে, যেমন টম হিডলস্টনের লোকি। তবে, কিছু চরিত্র এমন রয়েছে, যাদের দীর্ঘদিন পর এক নতুন রূপে ফিরে আসা আরও বেশি উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে, আল্ট্রনের নাম উল্লেখ করতেই হবে।
২০১৫ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’ সিনেমায় যখন টনি স্টার্কের তৈরি করা এআই আল্ট্রন বিশ্ব জুড়ে অশান্তির সূচনা করেছিল, তখনই তার চরিত্র ভক্তদের মনে গভীর প্রভাব রেখে যায়। তখন থেকে আল্ট্রন আর এমসিইউতে ফিরে আসেনি, কিন্তু সদ্যই ঘোষিত হয়েছে, ‘ভিশন কোয়েস্ট’ নামক টিভি সিরিজে আবারও তিনি ফিরছেন – তবে এবার সিজিআই-এর পরিবর্তে মানুষের রূপে!
নিউ ইয়র্ক কমিক কনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে মার্ভেল স্টুডিও এই দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। এই সিরিজটি পল বেটানি অভিনীত ভিশন (এখন ‘হোয়াইট ভিশন’ নামেও পরিচিত) এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং ট্রেইলারে দেখা গেছে, সিরিজে আল্ট্রন ছাড়াও টনি স্টার্কের তৈরি অন্যান্য এআই যেমন ফ্রাইডে, জার্ভিস, ইডিথ এবং আরও অনেক চরিত্র মানুষ রূপে হাজির হবে।
‘ভিশন কোয়েস্ট’ সিরিজের পটভূমি সম্ভবত পরিচয়, অস্তিত্ব এবং মানবসত্ত্বা নিয়ে গভীর আলোচনা করবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আল্ট্রন যে ভিলেন হিসেবে এমসিইউতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তার মানবায়িত রূপ কি একই ক্ষমতা ও প্রভাব ধারণ করবে?
কমিক্স ইতিহাসে আল্ট্রন কখনোই চিরস্থায়ীভাবে হারিয়ে যায়নি। তাকে কখনো নতুন দেহে ফিরে আসতে দেখা গেছে, আবার কখনো স্রষ্টা হ্যাঙ্ক পিমের সঙ্গে মিশে মানব রূপে আবির্ভূত হতে। সেই থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, এমসিইউতেও আল্ট্রনের ফিরে আসা অবধারিত ছিল।
তবে ২০১৫ সালে ‘এজ অব আলট্রন’ সিনেমার পর থেকে, আল্ট্রন আর এমসিইউতে ফিরে আসেনি। তার পরবর্তী উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করা ছিল ভক্তদের কাছে এক বড় ইভেন্ট।
এমনকি সিজিআই ছাড়াও, কীভাবে আল্ট্রনের উপস্থিতি সিরিজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ২০১৫ সালে যখন ভিশন বলেছিল, একটা জিনিস সুন্দর হয় কারণ সেটি চিরস্থায়ী নয়, সেই কথাটির প্রতিফলন কি এবার দেখতে পাবো আমরা? এছাড়া, একাধিক সিনেমা এবং সিরিজের মধ্যে আল্ট্রনের বড় গুরুত্ব বজায় থাকবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়ে গেছে।
এমসিইউ-তে আল্ট্রনের ফিরে আসা, বিশেষ করে সিজিআইয়ের পরিবর্তে মানুষের রূপে, সিরিজটির কাহিনী ও চরিত্রের গভীরতা কীভাবে গঠন করবে, তা সময়ই বলবে। তবে একটিই নিশ্চিত – জেমস স্পেডারের অসাধারণ অভিনয় এই ভিলেনকে এমসিইউতে স্মরণীয় এবং মর্যাদাসম্পন্ন করে তুলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আরটিভি/কেআই




