
মানব মেধা ও তার সীমাবদ্ধতা ছাড়া কি চমৎকার শিল্প তৈরি সম্ভব? এ প্রশ্ন এখন বেশ আলোচনায়, বিশেষ করে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হলিউডকে প্রভাবিত করছে। খবর কুয়েত টাইমসের।
এই প্রসঙ্গে নতুন দুটি সিনেমা- ‘নউভেল ভাগ’ ও ‘ব্লু মুন’ এর মাধ্যমে পরিচালক রিচার্ড লিঙ্কলেটার দেখিয়েছেন, কেন শিল্পের মূল জায়গায় মানুষই অপরিহার্য। তার মতে, এআই দিয়ে সিনেমা তৈরি করা সম্ভব নয়।
লিঙ্কলেটার বলেন, গল্প বলা, চরিত্র তৈরি ও ন্যারেটিভ- এই জিনিসগুলো মানুষের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। এগুলো যন্ত্র দিয়ে সম্ভব নয়।
টেক্সাসের এই পরিচালক আরও বলেন, এআই কেবল একটা টুল, যেটা শিল্পীরা ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এতে কোনো সচেতনতা বা অন্তর্দৃষ্টি নেই।
আগামী ১৪ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাচ্ছে ‘নউভেল ভাগ’। সিনেমাটি ফরাসি কিংবদন্তি পরিচালক জঁ-লুক গোদার্দ-এর গল্প বলে, যিনি ১৯৬০ সালে ‘ব্রীথলেস’ সিনেমা বানিয়ে চলচ্চিত্রের ধারা বদলে দেন। কোনো পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিপ্ট বা নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই তিনি সিনেমাটি তৈরি করেন।
লিঙ্কলেটার বলেন, গোদার্দ ছিলেন একজন জিনিয়াস। তিনি জানতেন, তিনি বিপ্লব ঘটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ‘ব্লু মুন’ দেখায় ব্রডওয়ের গীতিকার লরেঞ্জ হার্ট-এর জীবনের শেষ অধ্যায়।
লিঙ্কলেটার মনে করেন, এআই দিয়ে হয়তো কিছু আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল তৈরি করা যাবে, কিন্তু এমন গল্প বলা সম্ভব নয় যা দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছায়। ‘গল্পের গঠন, গতি, অভিনয়, শৈলী—এসব কিছু একসাথে তৈরি করা কোনো অ্যালগরিদমের পক্ষে সম্ভব নয়,’ বলেন তিনি।
সম্প্রতি টম হ্যাঙ্কসের ‘হেয়ার’ সিনেমায় এআই ব্যবহার করে অভিনেতাকে ‘ডি-এজ’ করা হয়েছে। কিন্তু লিঙ্কলেটারের এতে আগ্রহ নেই।
তিনি বলেন, আমি চাই অভিনেতা তার বাস্তব বয়সে চরিত্রে অভিনয় করুক। তারা যেন বয়সের সঙ্গে আরও পরিপক্ব ও প্রজ্ঞাময় হয়ে ওঠেন।
পরিচালকের মতে, এটাই তার ‘মানবতার প্রতি আঁকড়ে থাকার উপায়।’
আরটিভি/কেআই




