ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

অবশেষে সালমান শাহ’র মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
শাবনূর ও সালমান শাহ। ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে মৃ্ত্যুবরণ করেছিলেন দেশের প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন)। এই ঘটনার ৩০ বছর পার হলেও এখনও সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে চালছে নানা আলোচনা।

সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ প্রসঙ্গে বারবার শাবনূরের নাম টেনে এনেছেন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এতদিন চুপ থাকলেও এবার সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন শাবনূর।

শনিবার (৮ আগস্ট) দীর্ঘ এক ফেসবুক বার্তায় শাবনূর দিয়েছেন বিশদ ব্যাখ্যা। আরটিভির পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

আরও পড়ুন

রিজভীর গালগল্প ও অসত্য বয়ান

সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায়, সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী (বিল্টু)-কে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল।

তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দী ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থানকালে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় সে আবারও সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। কিন্তু ২০১৯ সালে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সময় টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে দাবি করে, সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিল।

আশ্চর্যের বিষয়, সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছুদিন আগে ‘আরজে নীরব’ ও ‘সময় টিভি’কে দেওয়া দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারেও সে আবার একই দাবি করে যে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তাই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং আমাকেও ওই ঘটনার জন্য বারবার দায়ী করে কথা বলে।

প্রশ্ন হলো, রিজভীর কোন বক্তব্যটি সঠিক? একই ব্যক্তি যখন সময়ে সময়ে একই ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়, তখন তাঁর সর্বশেষ দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত তার দেওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে সে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক অসংগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্য দিয়েছে। তার বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলে সবার কাছেই সেগুলো সাংঘর্ষিক, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হবে।

সম্প্রতি ‘আরজে নীরব’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে, আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে কোনো দিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসতো যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল এবং এখনও চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় একই সময়ে ‘সময় টিভি’কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে, আমি নাকি তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড ছিলাম।

আরও পড়ুন

শুধু তাই নয়, সে আরও দাবি করেছে যে ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে! এখন প্রশ্ন হলো, সে তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে এবং তার নিজের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি।

অন্যদিকে, আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো? কীভাবে হলো? এর প্রমাণই বা কী? আরও মজার বিষয় হলো, সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগ থেকেই আমি বিবাহিতা ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনো দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসর”-ই হয়েছিল!

রিজভী আহমেদ প্রবল বিদ্বেষের সঙ্গে দাবি করেছে যে আমি নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম, এবং তার আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করেছে। অথচ রিজভী’র নাম আমি প্রথম শুনেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর, যখন সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় রাজসাক্ষী হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হলো, সে কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে দাবি করছে যে আমি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম?

রিজভী দাবি করছে, আমি নাকি কূটনামী করতাম বা সালমান ও তার স্ত্রীর একের কথা অন্যের কানে লাগাতাম। এমন ভিত্তিহীন গুজব আরও কিছু অসৎ ব্যক্তি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের আচরণ কখনোই আমার স্বভাবের মধ্যে ছিল না। আমার পরিবারও আমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি। আর এসব করার সময়ও আমার ছিল না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই কোনোদিন বলতে পারবেন না যে আমি কারও সঙ্গে এমন কূটনামী করেছি।

রিজভীর কথাবার্তায় সালমান শাহর পরিবারের প্রতিও প্রবল ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে। সে দাবি করেছে, সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী তার ফুফু। কিন্তু একই সঙ্গে তার সম্পর্কে এমন সব আপত্তিকর মন্তব্য করেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, সালমান শাহ হত্যা মামলার অভিযুক্ত অন্যসব ১১ জনকেই সে নির্দোষ বলে দাবি করেছে। রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ ছিল না, এখনও নেই। সে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অত‍্যন্ত মানহানিকর।

তাছাড়া ‘আরজে নীরব’-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সে আরও অনেক উদ্ভট ও ভারসাম্যহীন কথাবার্তা বলেছে। যেমন তার দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে সে পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট ছাড়াই যুক্তরাজ্যে গেছে। এমনকি বৃটিশ এয়ারওয়েজের একটি পুরো বিমান নাকি একাই ভাড়া করে সেখানে গিয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে বিমানে করে নগদ এক লাখ চল্লিশ হাজার বৃটিশ পাউন্ড সঙ্গে নিয়ে যায়, আর তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। সে আরও দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে একটি বাড়ি কিনে ফেলেছিল।

এছাড়া বাংলাদেশে তাদের কত হাজার বিঘা জমি রয়েছে, সেটি নাকি সে নিজেই জানে না। এমনকি সে দাবি করেছে, সালমান খান ও শাহরুখ খানের সাথে তার কথা হয়, তারা তার ফেসবুক ফ্রেন্ডস, তাদের সাথে মাঝেমধ্যে গ্রুপকলে আড্ডা মারে। তার এসব গালগল্পের কোনটি কতটা বাস্তবসম্মত বা বিশ্বাসযোগ্য সেই মূল্যায়ন আমি আমার ভক্ত ও দর্শকদের বিবেচনার ওপরই ছেড়ে দিলাম।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী (আন্টি) তার ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে পুনরায় মামলা করার পর, ওই মামলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলার মুড় ঘুরে যাওয়ার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই আমার ধারণা, তাদের প্ররোচনায় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, এমনকি আর্থিক প্রলোভনে পড়েও রিজভী আহমেদ আমার ও নীলা আন্টির বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারে। নিজেদের রক্ষা করা এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করাই হয়তো তাদের উদ্দেশ্য।

আমি বরাবরের মতোই স্পষ্ট করে বলতে চাই, সালমান শাহর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সংযোগ ছিল না। তিনি কীভাবে মারা গেছেন সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। সালমান শাহ শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার অত্যন্ত প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো একজন মানুষ। তাঁর অকাল মৃত্যু আজও আমাকে ব্যথিত করে। আমি আন্তরিকভাবে চাই, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক এবং এই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের জন্মদিন
বলিউডের ‘বাদশাহ’খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খানের জন্মদিন আজ। ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সে হিসাবে আজ ৬১ বছরে পা রাখলেন বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই তারকা। টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফৌজি’ ও ‘সার্কাস’-এর মাধ্যমে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন শাহরুখ। ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা হিসেবে। ‘বাজিগর’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘দেবদাস’ ও ‘ভীর-জারা’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছে ‘কিং অব রোমান্স’ হিসেবে পরিচিতি পান শাহরুখ। তবে রোমান্টিক চরিত্রের বাইরেও নিজের অভিনয়দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ‘স্বদেশ’, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’, ‘ডন’ সিরিজ, ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো সিনেমায় ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা। কাজ করেছেন যশ চোপড়া, করণ জোহর, সঞ্জয়লীলা বানসালি ও রাজকুমার হিরানির মতো খ্যাতিমান পরিচালকদের সঙ্গে। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে শাহরুখ খান শুধু বলিউডেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ভারত ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রয়েছে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। প্রতি বছর জন্মদিনে মুম্বাইয়ে তার বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন হাজারো ভক্ত। ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী গৌরী খান এবং তিন সন্তান আরিয়ান, সুহানা ও আব্রামকে নিয়ে সময় কাটান এই অভিনেতা। অভিনয়ের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ড, বিনয়ী আচরণ ও পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কারণেও ভক্তদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে আজও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন শাহরুখ খান। ৬১ বছর বয়সে এসেও অভিনয় ও তারকাখ্যাতিতে সমান উজ্জ্বল বলিউডের এই ‘বাদশাহ’। আরটিভি/এসকে
আজ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের জন্মদিন
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন 
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩। একনজরে জেনে নিন আরটিভির আজকের আয়োজন—
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন 
স্তন ক্যানসার ধরা পড়ার পর ‘১৫ মিনিটে’ বিয়ে করেন হিনা খান
দীর্ঘ ১৩-১৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও আগে থেকে বিয়ের কোনো পরিকল্পনা ছিল না অভিনেত্রী হিনা খানের। কিন্তু স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবনের অনিশ্চয়তা থেকেই হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি, যাতে সম্মতি দেন প্রেমিক রকি জয়সওয়ালও। শেষ পর্যন্ত ১৫ মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে। সম্প্রতি টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার নতুন অনুষ্ঠানে নিজের বিয়ের গল্প শুনিয়েছেন হিনা। ২০২৫ সালের ৪ জুন মুম্বাইয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন এই জুটি। তখন তৃতীয় পর্যায়ের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল অভিনেত্রীর। বিয়ে বিষয়ে হিনা বলেন, এটি ছিল একেবারেই হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত। আমরা বিষয়টি পরিকল্পনা করিনি। আমার মনে হয় না, আমরা বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমরা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে আছি, ১০ বছরেরও বেশি। এখন মনে হয় ১৩-১৪ বছর হয়ে গেছে। বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, শারীরিকভাবে আমি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তাকে বলেছিলাম, হয় তুমি জীবনে এগিয়ে যাও, নিজের পছন্দমতো কাউকে বিয়ে করো, নয়তো আমাকে বিয়ে করো। কারণ আগামীকাল কী হবে, তা আমি জানি না। অনুষ্ঠানে সানিয়া মির্জা জানতে চান, তাদের বিয়ে কি সত্যিই মাত্র ১৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়েছিল? উত্তরে হিনা বলেন, আসলে তারও কম সময়ে। হিনা জানান, শারীরিক অসুস্থতা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাই তাকে দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছিল। তার ভাষায়, আমি জানি না কী হতে যাচ্ছে। সত্যি বলতে, এই অনিশ্চয়তা সবার জীবনেই আছে। তাই আমি বলেছিলাম, চলো বিয়েটা করে ফেলি। সে বলেছিল, ঠিক আছে। তার কখনো কোনো আপত্তি ছিল না। ‘ইয়ে রিশতা কেয়া কেহলাতা হ্যায়’ ধারাবাহিকের সেটে প্রথম পরিচয় হয় হিনা খান ও রকি জয়সওয়ালের। ধারাবাহিকে অক্ষরার চরিত্রে অভিনয় করতেন হিনা। অন্যদিকে রকি যুক্ত ছিলেন প্রযোজনা বিভাগের সঙ্গে। কাজের সূত্রে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, পরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। ২০১৭ সালে নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন তারা। এরপর থেকে স্তন ক্যানসারের সঙ্গে হিনার লড়াইসহ নানা সময়ে একে অপরের পাশে থেকেছেন এই জুটি। দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর ২০২৫ সালের জুনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের ছবি প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রামে হিনা লিখেছিলেন, দুটি ভিন্ন জগৎ থেকে এসে আমরা ভালোবাসার একটি নিজস্ব পৃথিবী গড়ে তুলেছি।  আমাদের ভিন্নতাগুলো মুছে গেছে, হৃদয় এক হয়েছে। এমন এক বন্ধন তৈরি হয়েছে, যা বহু জীবন ধরে টিকে থাকবে। আজ ভালোবাসা ও আইনের বন্ধনে আমাদের মিলন চিরস্থায়ী হলো। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আপনাদের আশীর্বাদ ও শুভকামনা চাই। আরটিভি/এসআর
স্তন ক্যানসার ধরা পড়ার পর ‘১৫ মিনিটে’ বিয়ে করেন হিনা খান
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন 
রোববার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩। একনজরে জেনে নিন আরটিভির আজকের আয়োজন—
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন 
গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পায়নি পুলিশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও গায়ক আবু জাহিদ ওরফে অন্তুর বিরুদ্ধে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ও মডেল জান্নাতুন তাজরি অরাকে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ।  প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও বিয়ের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি, আবু জাহিদ অন্তুকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।  এদিকে, মিথ্যা মামলা দায়ের করায় জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার নথি অনুযায়ী, আবু জাহিদ ওরফে অন্তু পেশায় একজন গায়ক, মডেল ও গিটার প্রশিক্ষক। বাদী জান্নাতুন তাজরি অরা ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে টিএসসিতে গিটার শেখার সূত্রে তাদের পরিচয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়।  এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২ মে বিকেলে পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। পরে ৩১ মে জান্নাতুন তাজরি অরা বাদী হয়ে গুলশান থানায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১০ ধারায় (যৌন পীড়ন) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন গুলশান থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে. এম. রাশিদুর রহমান। তদন্তে উঠে এসেছে, জান্নাতুন তাজরি অরা জাহিদ অন্তুকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হননি। এরপর দুজনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে হঠাৎ একদিন অন্তুর গুলশানের বাসার স্টুডিওতে পণ্যের ফটোশুটের প্রস্তাব দিলে অরা রাজি হন। ২ মে সকালে সেখানে গিয়ে অন্তুকে পাননি তিনি। একই দিন বিকেলে দুজনের দেখা হয়।  পরে বাসার অফিসরুমে গিয়ে বসেন তারা। কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বাসার নিচে যান অন্তু। এ সময় অন্তুর ফোনে কল এলে অরা ফোন রিসিভ করে নিজেকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে কেন এমন মিথ্যাচার করেছেন, তা অরার কাছে জানতে চান অন্তু। ঘটনাস্থলে মামলার সাক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় জান্নাতুন তাজরি অরা চরম লজ্জিত ও অপমানিত বোধ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার জের ধরেই অন্তুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। তদন্তকালে বাদী জান্নাতুন অরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবাদী ও বাদীর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে পুলিশ। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বাদীর শারীরিক পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকের প্রতিবেদনে কোনো আঘাত বা নিপীড়নের আলামত পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও বিয়ের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। গত ৩১ জুলাই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আবু জাহিদ অন্তুকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানায়। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে জাহিদ অন্তু জানান, মিথ্যা মামলার কারণে সামাজিকভাবে তার সম্মানের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ হচ্ছে যে তিনি নির্দোষ। কিন্তু তাঁর যে ক্ষতিটা হয়ে গেল, কোনো কিছু ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করেই তাকে যেভাবে গ্রেফতার করা হলো, সেই ক্ষতির দায় কে নেবে? তদন্ত কর্মকর্তা কে. এম. রাশিদুর রহমান বলেন, তিনি তদন্ত করে অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাননি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন, এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের। আরটিভি নিউজ/এসআর  
গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পায়নি পুলিশ
আরও পড়ুন
সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পেছালো
সালমান শাহর জন্মদিনে শাবনূরের আবেগঘন পোস্ট
সিডনিতে একই ফ্রেমে তাসকিন-শাবনূর, ঘটনা কী
শাবনূরকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন সালমান শাহর বাবা