ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যেসব বলিউড তারকা ক্রিকেটারকে বিয়ে করেছেন

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

উপমহাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। আর সেই ব্যক্তিগত জীবনে যখন বলিউডের তারকারা যুক্ত হন, তখন আলোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন বেশ কয়েকটি তারকা জুটি রয়েছে, যেখানে ক্রিকেটাররা জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রীদের।

মনসুর আলি খান পাতৌদি ও শর্মিলা ঠাকুর

ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মনসুর আলি খান পাতৌদি ও অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের প্রেমের গল্প ছিল বেশ আলোচিত। ১৯৬৫ সালে দিল্লির একটি পার্টিতে তাদের প্রথম দেখা হয়। ধর্মীয় পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক এগিয়ে নেয় এই জুটি। ১৯৬৯ সালে বিয়ে করেন তারা। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে সংসার করেন পাতৌদি ও শর্মিলা।

বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা বিরাট কোহলি ও বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মার প্রেম-বিয়ে ছিল বহুল আলোচিত। দীর্ঘদিন প্রেমের পর ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ইতালিতে বিয়ে করেন তারা। ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই বিয়ে বলিউড ও ক্রিকেট দুই অঙ্গনেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

যুবরাজ সিং ও হ্যাজেল কিচ

ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে ব্রিটিশ-ভারতীয় অভিনেত্রী হ্যাজেল কিচের প্রেমের গল্পও বেশ চমকপ্রদ। যুবরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাজেলকে একাধিকবার কফির জন্য আমন্ত্রণ জানালেও তিনি রাজি হননি। এমনকি দেখা করার কথা থাকলেও অনেক সময় ফোন বন্ধ করে রাখতেন হ্যাজেল। অবশেষে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৫ সালে বাগদান এবং ২০১৬ সালে বিয়ে করেন তারা।

জহির খান ও সাগরিকা ঘাটগে

‘চাক দে! ইন্ডিয়া’ সিনেমায় প্রীতি সবরওয়ালের চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রী সাগরিকা ঘাটগের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান সাবেক ভারতীয় পেসার জহির খান। দীর্ঘদিন প্রেমের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগদানের ঘোষণা দেন তারা। যুবরাজ সিং ও হ্যাজেল কিচের বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ার পর তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ২০১৭ সালে বিয়ে করেন জহির ও সাগরিকা।

হরভজন সিং ও গীতা বসরা

ভারতের সাবেক অফস্পিনার হরভজন সিং বিয়ে করেন ব্রিটিশ-ভারতীয় অভিনেত্রী গীতা বসরাকে। বিয়ের আগে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন তারা। ২০১৫ সালে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্ককে পরিণতি দেন এই তারকা জুটি।

মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ও সংগীতা বিজলানি

ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে বলিউড অভিনেত্রী সংগীতা বিজলানির সম্পর্কও একসময় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৯৬ সালে তাদের প্রথম দেখা হয়। পরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান দুজন। সংগীতাকে বিয়ে করার আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন আজহারউদ্দিন। বিয়ের পর সংগীতা নিজের নাম পরিবর্তন করে আয়েশা আজহার রাখেন। তবে প্রায় ১৪ বছর সংসারের পর ২০১০ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

ক্রিকেট ও বলিউড ভারতের বিনোদনজগতের দুই জনপ্রিয় অঙ্গনের তারকাদের এই সম্পর্কগুলো তাই বরাবরই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নানা পাটেকরের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সন্ধানে পুলিশ
বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় এবার রহস্যের সন্ধান চলছে। ঘটনা তদন্তে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষার সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ নম্বর ধারায় ‘আনন্যাচারাল ডেথ’ বা ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
নানা পাটেকরের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সন্ধানে পুলিশ
শেষ মুহূর্তে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন নানা পাটেকর
বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে।
শেষ মুহূর্তে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন নানা পাটেকর
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে অভিনয়জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। একসময় মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করা নানা পাটেকার পরবর্তী সময়ে কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েছেন। শৈশব থেকেই আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে নানা পাটেকারকে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজ শুরু করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল শেষে প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন সিনেমার পোস্টার আঁকতে। সেই কাজের বিনিময়ে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি। এর সঙ্গে মিলত দিনে এক বেলার খাবার। কঠিন সেই সময়ই তাকে জীবনের বাস্তবতা ও অর্থের মূল্য বুঝতে শেখায়। পরবর্তী সময়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন নানা। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয় প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেন তিনি। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান নানা পাটেকর। হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার আয়-সম্পদও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে। ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত নন নানা পাটেকার। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দীর্ঘদিন প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেছেন তিনি। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা সেই ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি গোয়াতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। পুনের খাডাকওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একর জমির একটি ফার্মহাউসের সঙ্গেও তার নাম জড়িত। সেখানে গম ও ধানের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বলিউডের অনেক তারকার মতো বিলাসবহুল গাড়ির বড় সংগ্রহও নেই নানা পাটেকারের। তার ব্যবহৃত গাড়ির তালিকায় রয়েছে মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও ও অডি কিউ৭। এমনকি প্রায় দেড় কোটি রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও তিনি সেটি নিতে চাননি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং সেই অর্থ কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানা যায়। নানা পাটেকারের জীবন তাই শুধু একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়, বরং কঠিন বাস্তবতা থেকে উঠে আসার অনুপ্রেরণার গল্পও। একসময় যে মানুষটি এক বেলার খাবার ও সামান্য পারিশ্রমিকের জন্য সিনেমার পোস্টার আঁকতেন, তিনিই পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত ও সম্মানিত অভিনেতায় পরিণত হন। কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপন, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অর্থের প্রতি সংযত মনোভাব নানা পাটেকারকে বলিউডের অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। আরটিভি/এসকে
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
গোয়ার ফ্ল্যাটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর আসে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
গোয়ার ফ্ল্যাটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য