ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বাস কন্ডাক্টর থেকে সুপারস্টার: ভারতীয় চলচ্চিত্রে রজনীকান্তের ৫০ বছর

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সুপারস্টার রজনীকান্তের জন্য চলচ্চিত্রে ৫০ বছর কেবল টিকে থাকার গল্প নয়—এটি একটানা শাসনের গল্প, যেখানে সিনেমা হল রূপ নিয়েছে মন্দিরে, আর দর্শকরা পরিণত হয়েছে ভক্তে। তার বেশিরভাগ কাজ হয়েছে তামিল ভাষার চলচ্চিত্র শিল্পে, যেখানে তার সিনেমা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করেছে।

১৯৭৫ সালে, এক তরুণ শিবাজি রাও গায়কোয়াড়—যিনি রজনীকান্ত নামে পরিচিত হন—মাদ্রাজ (বর্তমানে চেন্নাই) শহরের অপূর্ব রাগাঙ্গাল ছবির সেটে প্রথম পা রাখেন। স্বল্প কিন্তু স্মরণীয় এক চরিত্রে, এক দুষ্টু-দুরন্ত যুবকের ভূমিকায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে।

rajani-risingbd-2410010526

প্রায় পাঁচ দশক ও ১৭০টিরও বেশি ছবির পর, রজনীকান্তের নতুন ছবি কুলি মুক্তি পায় ১৪ আগস্ট। ছবিটি আংশিকভাবে তার জীবনকাহিনী প্রতিফলিত করে—যেখানে তিনি এক শ্রমজীবী নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যে লড়ছে এক ধনী ও অত্যাচারী খলনায়কের বিরুদ্ধে।

৭৪ বছর বয়সী এই সুপারস্টারকে ঘিরে ভক্তির মাত্রা অবিশ্বাস্য—তার জন্য তৈরি হয়েছে মন্দির, প্রচারণায় বিমান ব্যবহার হয়েছে তার ছবিতে সজ্জিত করে, এমনকি দূরবর্তী জাপানেও তাকে স্থানীয় আইডলের মতো ভালোবাসা হয়।

1749196795-8df2c38aba4e00b9ed848af14b3eecf5

রজনীকান্তের গল্প এক বহিরাগত থেকে ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে প্রিয় অন্তর্দেশীয় তারকা হয়ে ওঠার গল্প—এক শ্রমজীবী নায়ক, যার আবেদন ভাষা, শ্রেণি ও ভূগোলের সীমানা অতিক্রম করেছে।

চরম দারিদ্র্য থেকে শুরু করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে তিনি অর্জন করেছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মাননা) ও পদ্ম বিভূষণ (ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার)।

প্রায় ৫০,০০০ ভক্তক্লাব ও কোটি কোটি ভক্তের কাছে এই মাইলফলক আরেকটি উৎসবের উপলক্ষ। তাদের কাছে তিনি অর্ধদেবতা, যার পূজা পৌরাণিক মাত্রা পেয়েছে।

একনিষ্ঠ ভক্ত এ রাজেন্দ্রন বলেন, ‘ঈশ্বরদের কাউকে না কাউকে রূপ নিতে হয়। রজনীকান্তের এমন এক শক্তি আছে যা আমাদের তাকাতে বাধ্য করে।

rajinikanth3-20230825151919

রজনীকান্ত: এ ডেফিনিটিভ বায়োগ্রাফি গ্রন্থের লেখক নামন রামচন্দ্রন উল্লেখ করেছেন, তার ভক্তদের মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকার থেকে শুরু করে তামিলনাড়ুর ধোপা—সবাই আছেন। তার পর্দার জাদু লুকিয়ে আছে অপ্রত্যাশিত বিজয়ের স্বপ্ন দেখানোতে—যেখানে নায়ক মানবিকতাকে হারায় না।

২০১৫ সালের তথ্যচিত্র ফর দ্য লাভ অব এ ম্যান রজনীকান্ত ভক্তদের উন্মাদনা তুলে ধরেছে—যেখানে ভক্তরা বাড়ি বন্ধক রেখেছেন, পারিবারিক স্বর্ণ বিক্রি করেছেন এবং নতুন সিনেমা মুক্তিকে জীবনের সেরা উৎসব হিসেবে উদযাপন করেছেন।

নির্মাতা রিঙ্কু কালসি বলেন, এটি কেবল ভক্তি নয়, এটি পরিচয়ের অংশ। তিনি সেই প্রতিচ্ছবি যা তারা হতে চায়—নম্র, নীতিবান, কিন্তু প্রয়োজনে শক্তিশালী।

চেন্নাইয়ে তার বাড়ি ভক্তদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে, যেখানে অনেকে আশীর্বাদ নিতে, সন্তানের নাম রাখতে বা শুধু এক ঝলক দেখতে আসেন। ২০১৬ সালে এয়ারএশিয়া তার ছবি সংবলিত বিমান উন্মোচন করে কাবালি ছবির মুক্তি উদযাপন করে—যা প্রমাণ করে যে তার মুখচ্ছবি আকাশেও সিনেমা পৌঁছে দিতে পারে।

তার ভক্ত ক্লাবগুলো প্রায়ই সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়—রক্তদান শিবির, ত্রাণ কার্যক্রম, ও জনকল্যাণমূলক ইভেন্টের আয়োজন করে। মেয়ে ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত তার বই স্ট্যান্ডিং অন অ্যান অ্যাপল বক্স-এ লিখেছেন, আমার বাবা বাড়িতে কখনো সুপারস্টারের মতো আচরণ করেন না… শুধুমাত্র সিনেমায়।

রজনীকান্তের সিনেমা মুক্তি যেন আচার-অনুষ্ঠানের মতো। প্রথম দিন প্রথম শোর সময়, পর্দায় কয়েন ছোড়া, কর্পূর জ্বালানো, ফুল বর্ষণ, দুধ ঢেলে বিশাল কাটআউট পূজা—এসব দৃশ্য সাধারণ ঘটনা। রজনীকান্তের সিনেমা দেখা মানে কেবল ছবি দেখা নয়, বরং উৎসব—যেখানে রাস্তার আড্ডা, শ্রমজীবী গর্ব, সামাজিক মিলন আর উল্লাস মিশে যায়।

এ বছর উদযাপন পৌঁছেছে চরমে—মাদুরাই জেলায় এক ভক্ত ৫,৫০০ পোস্টার ও ছবিতে সজ্জিত একটি মন্দির বানিয়েছেন, যেখানে রজনীকান্তের মূর্তিতে পূজা দেওয়া হচ্ছে।

চার সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠ রজনীকান্ত দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন; তার বাবা ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল। কলেজ ছাড়ার পর কুলির (পোর্টার) কাজ করতেন। পরে এক আত্মীয়ের সাহায্যে বাস কন্ডাক্টরের চাকরি পান।

থিয়েটারের প্রতি তার ঝোঁক দেখে এক বন্ধু অর্থ জোগাড় করে তাকে পাঠান মাদ্রাজ ফিল্ম ইন্সটিটিউটে, যেখানে তামিল পরিচালক কে বালাচন্দর তার প্রতিভা চিনে প্রথম ছবিতে সুযোগ দেন।

রজনীকান্ত ফর্সা, কোমলভাষী নায়কের ধারা ভেঙে নিজস্ব পরিচয় গড়েন—গাঢ় গায়ের রঙ, গ্রামীণ টান ও রাস্তার বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ তার পর্দার অংশ হয়ে যায়।

শুরুতে অপূর্ব রাগাঙ্গাল, মুন্দ্রু মুডিচু, পথিনারু ভয়াথিনিলে—এমন ছবিতে খলনায়ক ও জটিল চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান। পরে বিল্লাহ (১৯৮০) দিয়ে অ্যাকশন হিরো হিসেবে অবস্থান পাকাপোক্ত করেন।

rajinikanth

১৯৯০-এর দশক থেকে বড় বাজেটের অতিমানবীয় নায়ক ও আধ্যাত্মিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত হন। ১৯৯৮ সালে মুথু অপ্রত্যাশিতভাবে জাপানে হিট হয়। শিবাজি ও এন্থিরান—যেখানে তিনি রোবট চরিত্রে অভিনয় করেন— সেটি বৃহৎ সাফল্য পায়।

সমালোচকেরা তাকে একসময় ‘স্টাইল কিং’ বলে অবমূল্যায়ন করলেও, তার চরিত্রের অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ—নিষ্ঠা, সাহস, হাস্যরস, ও ন্যায়বোধ—সর্বজনীন ও কালজয়ী।

পরিচালক এসপি মুথুরামন তার সঙ্গে ২৫টি ছবি করেছেন। তিনি বলেন, তার সাফল্যের রহস্য কঠোর পরিশ্রম, নিবেদন, সুসম্পর্ক, ও সহকর্মী ও প্রযোজকদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।

তামিলনাড়ুতে অনেক সহকর্মী রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও রজনীকান্ত কখনো দল গঠন বা নির্বাচন করেননি, ফলে তিনি ভক্তদের কাছে নৈতিক আলোকবর্তিকা হলেও রাজনীতির বাইরে রয়েছেন।

Rajnikanth-Feature-Image

চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ থিওডর বাস্কারন বলেন, তামিল সিনেমার মহান তারকারা একসময় লোকদেবতার জায়গা দখল করেছেন।

সেলিব্রিটির চেয়েও বেশি, রজনীকান্তের প্রভাব এমন যে ভক্তরা ভোরে দুধ ও মালা নিয়ে লাইনে দাঁড়ান। তারা বিশ্বাস করেন, এই রূপকথার নায়ক তাদের স্বপ্নে রং ও জীবনে জাদু যোগ করতে পারেন।

আরটিভি/এএ/এস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘আপসহীন নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ, আপনার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার প্রয়াণ ঘটে।  আপসহীন এই নেত্রীর বিদায়ে সারাদেশে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে এই নেত্রীকে স্মরণ করছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া মোটা দাগে পড়েছে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে। শিল্পীদের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ভারি হয়েছে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনকে হারানোর বেদনায়।  নির্মাতা ও প্রযোজক এমডি ইকবাল বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার ফেসবুকে লিখেছেন, আপসহীন নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ। শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করেন। আমিন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি রইলো আমার গভীর  সমবেদনা। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। সে সময় স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতিও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা এবং মানসিক ধকলের কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ভোরে তিনি চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং চিরবিদায় নেন। আরও পড়ুন ‘শুধু তার সুন্দর হাসিটির জন্য জীবনের প্রথম ভোট বিএনপিকে দিয়েছিলাম’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নেতৃত্ব দেওয়া খালেদা জিয়া ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে জনগণের কাছে সমাদৃত ছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার অটল ভূমিকার কারণে তাকে ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এদিকে, খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে করে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গুলশান থেকে জানাজার জন্য জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হয়েছে। গাড়িবহরে লাল সবুজ রঙের বাসটিও রয়েছে। তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা বাসে রয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার স্বজনেরাও গাড়িবহরে রয়েছেন। সেখানে জানাজা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বেগম খালেদা জিয়া। আরটিভি/এএ   
‘আপসহীন নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ, আপনার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা’
মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আক্ষেপের কথা জানালেন দীঘি
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। আজ ২৯ ডিসেম্বর তার মা প্রয়াত অভিনেত্রী দোয়েলের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। মাকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়ে  দীঘি। ফেসবুকে মায়ের সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করে দীঘি লিখেছেন, মাম্মি, আজ তোমার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। কী যে অদ্ভুত লাগে-দেখতে দেখতে ১৪ বছর হয়ে গেল। তোমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে উঠতে পারি না। পুরো বছর অনেক শক্ত থাকলেও আজকের দিনটা এলে আমি একদম ভেঙে পড়ি। যত বড় হচ্ছি, ততই আক্ষেপ হচ্ছে কেন তুমি চলে গেলে। অনেক ভালোবাসি তোমাকে, মাম্মি। স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, এই পৃথিবীতে কোনো শক্তিই নেই যা তোমার অভাব পূরণ করতে পারে। সবার কাছে আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। ১৯৮২ সালে চাষী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রনাথ’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন দীঘির মা দোয়েল। তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা কাজী হায়াতের ‘কাবুলিওয়ালা’। বাবা শাহরুখ ফারদিন সুব্রত চলচ্চিত্র অভিনেতা। গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন দীঘি। কাজী হায়াৎ পরিচালিত কাবুলিওয়ালা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই অভিনেত্রী। আরটিভি/এএ 
মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আক্ষেপের কথা জানালেন দীঘি
ফের মা হওয়ার গুঞ্জন, অবশেষে মুখ খুললেন বুবলী
সংবাদপাঠিকা থেকে চলচ্চিত্রে নাম লেখান নায়িকা শবনম বুবলী। ‘বসগিরি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় পা রেখে দুই ডজনের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ফটোশুট, শোরুম উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে তার। এসবের মাঝেই ফের শাকিব খান আর বুবলীকে নিয়ে আবার নতুন গুঞ্জন চাউর হয়েছে। বুবলী নাকি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন।  সম্প্রতি কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন ভার্সন এ খবরটি প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের তারকা শাকিব খানকে নিয়ে তার দুই স্ত্রীর ‘দড়ি টানাটানি’ নতুন নয়। শাকিবের প্রথম স্ত্রী অপু বিশ্বাস, দ্বিতীয় স্ত্রী বুবলী। অভিনেতার দাবি, দুজনই তার প্রাক্তন। তবে দুই পুত্রসন্তানের প্রতি কর্তব্য পালনে অবিচল শাকিব। সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম বুবলী ও পুত্র বীরকে নিয়ে আমেরিকায় লম্বা ছুটি কাটিয়ে আসেন অভিনেতা। তারপর বুবলী প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনা। বুবলী নাকি অন্তঃসত্ত্বা!  এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন বুবলী। সেখানে নৃত্যপরিবেশন করেন অভিনেত্রী। পরনে ছিল ঘাগরা। দর্শকের সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও তোলেন। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। নেট নাগরিকদের একটা বড় অংশের দাবি, বুবলী নাকি অন্তঃসত্ত্বা। আরও পড়ুন ফের বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন তবে এ ধরনের খবরে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন শবনম বুবলী। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের গুজব রটেছে। এবারের খবরটিও সম্পূর্ণ গুজব। এর কোনো ভিত্তি নেই। ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিব খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শবনম বুবলী। এরপর ২০২০ সালের ২১ মার্চ সন্তানের বাবা-মা হন তারা। এ ঘটনার বেশকিছুদিন পর দুজনের আইডি থেকে সন্তানের নামসহ ছবি প্রকাশ করেন। জানান, তাদের ছেলের নাম ‘শেহজাদ খান বীর’। প্রথমবার মা হওয়ার আগেও বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। তখন তিনি স্বামী বা সন্তানের বাবার পরিচয় প্রকাশ করেননি। পরে সন্তানসহ মিডিয়ার সামনে এসে জানান, শাকিব খানই তার স্বামী। এই প্রেক্ষাপটের কারণেই এবারও তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়া নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। আরটিভি/এএ 
ফের মা হওয়ার গুঞ্জন, অবশেষে মুখ খুললেন বুবলী
তোদের আসল রূপ দেখালি, এনসিপি প্রসঙ্গে সোহেল রানা
চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক তিনি। বয়সের ভারে এখন আর ক্যামেরার সামনে নিয়মিত দেখা যায় না এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে। বার্ধক্যের কারণে বেশিরভাগ সময় কাটছে বাসাতেই। তবে চলচ্চিত্রের প্রতি টান, সহকর্মীদের প্রতি আবেগ আর দেশবাসীর প্রতি দায়িত্ববোধ এখনো অনুভব করেন তিনি।   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নিজের মতামত জানান সোহেল রানা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি কথা বললেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)কে নিয়ে।  রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এই সমঝোতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও এনসিপি নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলছে—এই জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে কোনো আদর্শগত আপস নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারই রয়েছে। এই নিয়ে যখন কথা হচ্ছে তখন অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাও চুপ থাকলেন না। এনসিপিকে নিয়ে বললেন, সেই তো তোদের আসল রূপ দেখালি, তবে এত দিন জনগণকে কেন বোকা বানালি। এনসিপির নাম না উল্লেখ করলেও পোস্টের কমেন্টে বক্সে সেটা স্পষ্ট হয়।  একজন ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন সোহেল রানা। যুদ্ধের পর তিনি চলচ্চিত্র জগতে আসেন এবং প্রযোজক হিসেবে ‘ওরা ১১ জন’ (১৯৭২) নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদেরই অভিনয় করানো হয়েছিল। আরটিভি/এএ 
তোদের আসল রূপ দেখালি, এনসিপি প্রসঙ্গে সোহেল রানা
ফের বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন
সংবাদপাঠিকা থেকে চলচ্চিত্রে নাম লেখান নায়িকা শবনম বুবলী। ‘বসগিরি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় পা রেখে দুই ডজনের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ফটোশুট, শোরুম উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে তার। এসবের মাঝেই ফের শাকিব খান আর বুবলীকে নিয়ে আবার নতুন গুঞ্জন চাউর হয়েছে। বুবলী নাকি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন।  সম্প্রতি কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন ভার্সন এ খবরটি প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের তারকা শাকিব খানকে নিয়ে তার দুই স্ত্রীর ‘দড়ি টানাটানি’ নতুন নয়। শাকিবের প্রথম স্ত্রী অপু বিশ্বাস, দ্বিতীয় স্ত্রী বুবলী। অভিনেতার দাবি, দুজনই তার প্রাক্তন। তবে দুই পুত্রসন্তানের প্রতি কর্তব্য পালনে অবিচল শাকিব। সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম বুবলী ও পুত্র বীরকে নিয়ে আমেরিকায় লম্বা ছুটি কাটিয়ে আসেন অভিনেতা। তারপর বুবলী প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনা। বুবলী নাকি অন্তঃসত্ত্বা!  এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন বুবলী। সেখানে নৃত্যপরিবেশন করেন অভিনেত্রী। পরনে ছিল ঘাগরা। দর্শকের সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও তোলেন। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। নেট নাগরিকদের একটা বড় অংশের দাবি, বুবলী নাকি অন্তঃসত্ত্বা।  এরআগে, ২০২০ সালে প্রথমবার মা হন বুবলী। যদিও ছেলের জন্মের খবর প্রকাশ্যে এনেছেন প্রায় দুই বছর পরে। সেই সময়ে এ খবরে প্রায় ঝড় ওঠে।  শাকিব খানের সঙ্গে বুবলীর ‘বীর’ ছিল সবশেষ সিনেমা। ছবিটি মুক্তি পায় ২০২০ সালে। এরপর হুট করেই  আমেরিকায় চলে যান বুবলী। সেসময়ই তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন চরমে ওঠে। এমনকি ‘বীর’ ছবি চলাকালীন বেশ গোপনীতাও রক্ষা করে শুটিং করা হয়। তখন কোন গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেননি এই নায়িকা।   পরবর্তীতে  হঠাৎ আমেরিকায় চলে যাওয়া প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, বীর মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পরই আমি দেশের বাইরে যাই। ২০১৯ সাল থেকেই আমি পরিকল্পনা করছিলাম, দেশের বাইরে যাওয়ার। অ্যাকচুয়েল কোনো পরিকল্পনা ছিল না। যেহেতু কাজের চাপ নেই, হাতে থাকা ছবির কাজও শেষ করেছি, তাই ভাবলাম দেশের বাইরে যাই। তখন আমি আমেরিকায় যাই। বুবলী জানিয়েছিলে, ফিল্ম রিলেটেড কোর্স করতেই তার নিউইয়র্কে যাওয়া। সেখানে নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমিতে অ্যাক্টিং ফর ফিল্ম ওয়ার্কশপের ওপর একটি কোর্স করেছেন তিনি।  অন্তঃসত্ত্বা ও সন্তানের মা হওয়ার গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়ে বুবলী বলেছিলেন, আসলে আমার প্রেম, বিয়ে, সংসার, সন্তান এসব নিয়ে সব সময় নানা ধরনের কথা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা নাই বলি। সময়ের সঙ্গে সবকিছুই পরিষ্কার হবে। আমরা যারা বিনোদন অঙ্গনে কাজ করি, কাজের জন্য সবাই আমাদের ভালোবাসেন। তাই আমিও চাই না, ব্যক্তিগত জীবন কাজের চেয়ে বেশি ফোকাসড হোক। শুরু থেকে আমি এভাবেই চলার চেষ্টা করেছি। একতরফা অনেকে অনেক কিছুই শোনেন, বাছবিচার করে ফেলবেন না যেন। এমনটা করবেন না। সময়টুকুর প্রতি সম্মান দিন। সবকিছু একটা নির্দিষ্ট সময় পর সবার কাছে পরিষ্কার হয়। আমি বলব, গল্পের পেছনেও অনেক গল্প থাকে, তাই আমরা আপাতত ওসবে কান না দিই। নানা নাটকীতার পর হুট করেই অপু বিশ্বাসের ছেলে জয়ের জন্মদিনে নিজের ‘বেবি বাম্প’র পুরোনো ছবি প্রকাশ্যে আনেন বুবলী। নেটমাধ্যমে শোরগোল পড়ে যায়। বুবলীর সন্তানের বাবা কে? জানার আগ্রহ ছিল সবার। যদিও ব্যাপারটা অনুমিতই ছিল। তারপরও অফিসিয়ালি শাকিব-বুবলী ঘোষণা দিলেন, শেহজাদ খান বীরের বাবা-মা তারাই। এরপর থেকেই শাকিব-বুবলীর সম্পর্কের শীতলতা প্রকাশ্যে আসে। বুবলী জানিয়েছিলেন, শাকিব খানের সঙ্গে ধর্মীয় আচার মেনে বিয়ে হয়েছে তার। তাদের সন্তানের জন্ম হয় আমেরিকায়।  এবার ফের অভিনেত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন। মাস কয়েক আগে ছেলে বীরের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত কাজে ফের আমেরিকায় যান দম্পতি। সমাজমাধ্যমে সেই ছবিও দেন। এদিকে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জনের সত্যতা জানতে একাধিকবার বুবলীকে কল ও এসএমএস দেয়া হলেও কোন উত্তর মেলেনি।  যদিও বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর ভিত্তিহীন।  আরটিভি/এএ    
ফের বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন
আরও পড়ুন
রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলার হুমকি, নিরাপত্তা জোরদার
দক্ষিণী সিনেমায় অভিষেক হতে যাচ্ছে বিদ্যা বালানের
গতি কমেছে ‘ওয়ার ২’, ৪০০ কোটি’র পথে ছুটছে ‘কুলি’
মুক্তির আগেই বাজিমাত রজনীকান্তের ‘কুলি’