ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দীঘির দিন শেষ, বললেন শাহরিয়ার নাজিম জয়

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
অভিনেত্রী দীঘি এবং শাহরিয়ার নাজিম জয়। ছবি: সংগৃহীত

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’ অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। ভিডিওতে অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘিকে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিএফডিসিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ দিকে ফ্যাশন ডিজাইনার গৌতমের সহায়তায় মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ছবি তোলার জন্য দাঁড়ান দীঘি। এ সময় মন্ত্রী হাসিমুখে আরেকটি কাজ থাকার কথা জানিয়ে কুশল বিনিময় শেষে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এতে দীঘির মুখে কিছুটা বিব্রতভাবও দেখা যায় বলে ভিডিওতে বোঝা যায়।

ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, অনেক মানুষ দীঘির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য আগ্রহী থাকলেও মন্ত্রীর মধ্যে তার সঙ্গে ছবি তোলার বিষয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ তিনি ভিডিওতে দেখেননি।

জয় মনে করেন, এই ঘটনা থেকে শিল্পীদের জন্য দুটি বার্তা পাওয়া যায়। তার মতে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক বার্তা। তবে কাজের বাইরে অকারণে মন্ত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রবণতা থেকে শিল্পীদের সরে আসা উচিত।

স্ট্যাটাসে জয় লিখেছেন, মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ভবিষ্যতে বিপদে না পড়ার জন্য শিল্পীকে সহযোগিতা করলেন। শিল্পীদের বোঝা উচিত কাজের বাইরে অকারণে মন্ত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার দিন শেষ।

তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্রশিল্প একসময় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে এবং শিল্পীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশে সফল হলে মন্ত্রীরাই তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহী হবেন।

এদিকে, সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণীজনদের একত্র করে এমন আয়োজন করায় চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। পাশাপাশি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের অবদানের প্রশংসা করে তাকে চলচ্চিত্রের ‘প্রধানতম অভিভাবক’ ও ‘নেপথ্যের নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’
সিনেমার পর্দায় তিনি ছিলেন ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রতিবাদী ও দাপুটে চরিত্রে মিঠুন চক্রবর্তীকে ভালোবাসায় ভাসিয়েছিলেন দুই বাংলার দর্শক।
মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’
নীলের আবেশে জয়া আহসানের নতুন ছবি
বয়সের কাঁটা এগিয়ে চললেও চেহারায় তার ছাপ যেন একেবারেই নেই। বরং সময়ের সঙ্গে যেন আরও তরুণী হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
নীলের আবেশে জয়া আহসানের নতুন ছবি
পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’
নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় ও কালজয়ী সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নতুন সংস্করণ ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’তে অভিনয়ের পর চলতি মাসেই প্রেক্ষাগৃহে আসছে চিত্রনায়িকা মৌ খানের আরও একটি সিনেমা।
পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে অভিনয়জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। একসময় মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করা নানা পাটেকার পরবর্তী সময়ে কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েছেন। শৈশব থেকেই আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে নানা পাটেকারকে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজ শুরু করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল শেষে প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন সিনেমার পোস্টার আঁকতে। সেই কাজের বিনিময়ে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি। এর সঙ্গে মিলত দিনে এক বেলার খাবার। কঠিন সেই সময়ই তাকে জীবনের বাস্তবতা ও অর্থের মূল্য বুঝতে শেখায়। পরবর্তী সময়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন নানা। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয় প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেন তিনি। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান নানা পাটেকর। হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার আয়-সম্পদও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে। ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত নন নানা পাটেকার। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দীর্ঘদিন প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেছেন তিনি। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা সেই ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি গোয়াতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। পুনের খাডাকওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একর জমির একটি ফার্মহাউসের সঙ্গেও তার নাম জড়িত। সেখানে গম ও ধানের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বলিউডের অনেক তারকার মতো বিলাসবহুল গাড়ির বড় সংগ্রহও নেই নানা পাটেকারের। তার ব্যবহৃত গাড়ির তালিকায় রয়েছে মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও ও অডি কিউ৭। এমনকি প্রায় দেড় কোটি রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও তিনি সেটি নিতে চাননি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং সেই অর্থ কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানা যায়। নানা পাটেকারের জীবন তাই শুধু একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়, বরং কঠিন বাস্তবতা থেকে উঠে আসার অনুপ্রেরণার গল্পও। একসময় যে মানুষটি এক বেলার খাবার ও সামান্য পারিশ্রমিকের জন্য সিনেমার পোস্টার আঁকতেন, তিনিই পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত ও সম্মানিত অভিনেতায় পরিণত হন। কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপন, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অর্থের প্রতি সংযত মনোভাব নানা পাটেকারকে বলিউডের অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। আরটিভি/এসকে
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
আরও পড়ুন
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা নেই সরকারের: তথ্যমন্ত্রী
অভিনয় ছেড়ে হেদায়েতের পথে পপি, সমালোচনায় জয়
আন্দালিভ রহমান পার্থর নামে সেই ফটোকার্ড নিয়ে যা জানাল বাংলাফ্যাক্ট
‘মন্ত্রণালয়ে বসেছি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে, শেখ হাসিনার আত্মীয় হিসেবে নয়’