ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২৪ বছর পর নায়ক মান্নার বক্তব্য ভাইরাল

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
চিত্রনায়ক মান্না। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমায় অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বরাবরই সরব ছিলেন চিত্রনায়ক মান্না। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ে অশ্লীল দৃশ্যের বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি এ ধরনের সিনেমা নির্মাণের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। তবে তার অভিনীত ‘ফায়ার’ সিনেমা ঘিরেই একসময় উঠেছিল অশ্লীলতার অভিযোগ। সেই অভিযোগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণও জানিয়েছিলেন এই অভিনেতা।

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফায়ার’ সিনেমাটি নিয়ে ২৪ বছর পর আবারও শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে মান্নার একটি পুরোনো ভিডিও। সেখানে সিনেমাটিতে কাজ করা, মাঝপথে সরে দাঁড়ানো এবং ডাবিংয়ে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটি মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলির সূত্রে পাওয়া গেছে।

ভিডিওতে মান্নাকে বলতে শোনা যায়, ফায়ার নামে যে ছবিটি আমি করেছিলাম, সেই ছবিতে অর্ধেক কাজ করার পরে আমি আর কাজ করিনি। এমনকি আমি সিনেমায় ভয়েসও দিই নাই। আমি ডাবিংয়েও যাই নাই।

মান্নার স্ত্রী শেলী মান্নার ভাষ্য, সিনেমাটি মুক্তির আগে এর পুরো কাজ শেষ করেননি মান্না। পরবর্তী সময়ে তার পরিবর্তে ডামি ব্যবহার করে কিছু দৃশ্যের শুটিং সম্পন্ন করা হয়। মুক্তির পর সিনেমার কিছু দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা হলে বিষয়টি নিয়ে মান্নাও বিরক্ত ছিলেন।

শেলী মান্না বলেন, মুক্তির পরে দর্শক ও সমালোচকেরা যেসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন, সেসব নিয়ে মান্নার সঙ্গে প্রযোজকের দ্বন্দ্ব হয়েছিল। মান্না জেনেশুনে কখনোই কোনো অশ্লীল সিনেমায় অভিনয় করবে না। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সে নিজেই লড়েছে।

‘ফায়ার’-এ অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয়ের অভিযোগও সরাসরি নাকচ করেছিলেন মান্না। তার বক্তব্য ছিল, একটি সিনেমায় অন্য শিল্পী, পরিচালক কিংবা প্রযোজক কী করছেন, তা সবসময় একজন অভিনয়শিল্পীর পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে নিজের অভিনয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলেও জানান তিনি।

মান্না বলেন, পুরো সিনেমায় আমার কো-আর্টিস্ট বা অন্য শিল্পীরা এবং ডিরেক্টর, প্রযোজক কে কী করছে, সেটা আমার যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমি কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করিনি।

পুরোনো ভিডিওতে সিনেমাটির প্রযোজকের সঙ্গে মনোমালিন্যের কথাও উঠে আসে। তবে ঠিক কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মান্না। শেলী মান্নার দাবি, সিনেমায় এমন কিছু ঘটছিল, যা মান্নার অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

তার ভাষায়, মান্না বুঝতে পেরেছিল, সিনেমায় অন্য রকম কিছু হচ্ছে, যা তার সঙ্গে যায় না। তার মনে হয়েছিল, তাকে ছাড়াই অপ্রাসঙ্গিক কিছু দৃশ্যের শুটিং হয়েছে। পাইরেসিসহ নানা বিষয় নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল।

এরপরই সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান মান্না। শেলী মান্নার দাবি, পরে প্রযোজক ও পরিচালক ডামি ব্যবহার করে সিনেমার কাজ শেষ করেন।

অশ্লীলতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছিলেন মান্না। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমি সব সময় অশ্লীলতা নিয়ে প্রতিবাদ করেছি।

শেলী মান্নাও জানিয়েছেন, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে মান্নার অবস্থান ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, সে অশ্লীল সিনেমায় কখনোই অভিনয় করেনি। কেউ যেন এমন সিনেমা না বানায়, সেটা নিয়েও কথা বলেছে। একসময় তার যুদ্ধটা একার ছিল।

তবে এই লড়াই করতে গিয়ে একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন মান্না। ভিডিওতে নিজের ওপর চাপ ও নানা সমালোচনার কথাও জানান তিনি।

মান্না বলেন, অশ্লীলতা নিয়ে একার পক্ষে যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। আমি একা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। অশ্লীল সিনেমা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ, আমাকে নিয়ে এসব কারণে চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। অনেক সময় বিপদের মুখোমুখিও হয়েছি।

তৎকালীন চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিস্থিতি সম্পর্কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক নেতা জানান, ওই সময়ে অনেক সিনেমাতেই অশ্লীল দৃশ্য যুক্ত করা হতো। এর বিরোধিতা করতেন মান্না। কয়েকজন পরিচালক, ফাইট ডিরেক্টর ও অন্যান্য কলাকুশলীকে সঙ্গে নিয়ে অশ্লীলতামুক্ত সামাজিক সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি।

ওই নেতার দাবি, শুধু অশ্লীলতা নিয়ে আপত্তিই নয়, ‘ফায়ার’ সিনেমার শিডিউল নিয়েও মান্নার জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সব মিলিয়ে সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

‘ফায়ার’ সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। এতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন পলি। মোহাম্মদ হোসেন বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় সিনেমাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং মান্নার বক্তব্য প্রসঙ্গে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইংরেজিতে কনটেন্ট করায় স্বামীর বকা, উৎসাহ দিয়ে ভিডিও শেয়ার করলেন প্রিয়াঙ্কা
ইংরেজিতে কনটেন্ট তৈরি করায় স্বামীর বকা খেতেন ভারতের উত্তর প্রদেশের যশোদা লোধি। তবে স্বামীর সেই আপত্তি উপেক্ষা করে ইংরেজি শেখানোর ভিডিও বানিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
ইংরেজিতে কনটেন্ট করায় স্বামীর বকা, উৎসাহ দিয়ে ভিডিও শেয়ার করলেন প্রিয়াঙ্কা
মেসির বিদায়ে আবেগাপ্লুত পূর্ণিমা-পরীমণি
আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।
মেসির বিদায়ে আবেগাপ্লুত পূর্ণিমা-পরীমণি
বিজয়কে রোজ ১৫ বার ‘ভালোবাসি’ বলেন রাশমিকা
দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্কের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার তারকা বিজয় দেবারাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা।
বিজয়কে রোজ ১৫ বার ‘ভালোবাসি’ বলেন রাশমিকা
আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় মুখ খুললেন জাহ্নবী
‘দেবারা’ সিনেমায় জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সিনেমাটির ‘চুট্টামাল্লে’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে এবার সেই গানের দৃশ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও নিয়ে ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের বেশ কয়েকজন তারকা। এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ খুলেছেন জাহ্নবী। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় অভিনেত্রী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের সম্মতি ছাড়া বিকৃত বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া যৌন নিপীড়নেরই আরেকটি রূপ। জাহ্নবীর ভাষায়, প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহার করে নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা, সম্মতি ছাড়া বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া এসব যৌন নিপীড়নেরই আরেক রূপ। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রতিটি নারীই এরকম কোনো না কোনো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। আর সবখানেই নারীরা এমন আচরণের শিকার হচ্ছেন। নারীর শরীর, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও সম্মতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন নারী কোনো বিষয়ে সম্মতি দিলেও পরবর্তী সময়ে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অধিকার রয়েছে। তার ‘না’কে যেকোনো পরিস্থিতিতে সম্মান করতে হবে। জাহ্নবী আরও বলেন, একজন নারী ছোট পোশাক পরেছেন বলেই তার শরীরের ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ বা আপত্তিকরভাবে ছবি ধারণের অনুমতি কেউ পেয়ে যান না। একজন নারী কী পরবেন, কোন বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন এসব একান্তই তার ব্যক্তিগত অধিকার। সাম্প্রতিক এআই-নির্মিত ভিডিওর ঘটনাকে বৃহত্তর একটি সমস্যার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন জাহ্নবী। তার মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হুমকি ও হয়রানি বাড়লেও বাস্তব জীবনেও নারীদের নিরাপত্তা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, শুধু নারীদের বা মেয়েদের নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিলেই হবে না; একই সঙ্গে যে মানসিকতা অন্যের সীমারেখা লঙ্ঘনকে বৈধ মনে করে, সেটিও বদলাতে হবে। এ সময় এআই-নির্মিত ওই আপত্তিকর ভিডিওর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় জুনিয়র এনটিআর ও চিরঞ্জীবীকে ধন্যবাদ জানান জাহ্নবী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো তারকাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বার্তার শেষদিকে নারীর প্রতি সম্মান ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে জাহ্নবী বলেন, একজন নারী শুধু একজন মানুষ হিসেবে সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন। তার শরীর যখন তার নিজের, তখন তার ছবি, সীমারেখা ও সিদ্ধান্তও তার নিজের। আরটিভি/এসকে
আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় মুখ খুললেন জাহ্নবী
হঠাৎ নায়িকার গালে হাত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
কন্নড় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচিতা রামের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
হঠাৎ নায়িকার গালে হাত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক