ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

আগুনে পুড়ল নায়ক মান্নার স্মৃতিবিজড়িত গাড়ি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত স্মৃতিবিজড়িত একটি প্রাইভেট কার মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন মান্নার পরিবারের ম্যানেজার মো. মামুন মন্ডল (২৯) ও গাড়ির টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান এদিন তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন করেন। জামিন শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ভাটারা এলাকায় একটি বাড়ির নিচতলায় পার্কিং গ্যারেজে চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী সেলির নামে নিবন্ধিত ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-০৭৭৫ নম্বরের একটি প্রাইভেট কার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল। গাড়িটির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়ির কর্তৃপক্ষ মালিকপক্ষকে অনুরোধ করে।

এরপর গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় পরিবারের ম্যানেজার মামুনকে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ার্কশপে না নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর মামুন ও সোহেল গ্যারেজেই গাড়িটির মেরামতের কাজ শুরু করেন।

এ সময় সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের আরেকটি প্রাইভেট কারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া গ্যারেজ, বৈদ্যুতিক তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানের কাচও ভেঙে যায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ ঘটনায় বাড়ির ম্যানেজার মো. গাজি মানিক মিয়া ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক মান্না ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন ছিলেন। তার ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘পিরিয়ড লিভ’ নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা
ঋতুস্রাবের সময় তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা, স্বামী বিজয় দেবরাকোন্ডার সহযোগিতা এবং চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে ‘পিরিয়ড লিভ’ বা ঋতুস্রাবকালীন ছুটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিড-ডে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে ঋতুস্রাব নিয়ে সামাজিক সংকোচ দূর করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের শারীরিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার গুরুত্ব। রাশমিকা জানান, ঋতুস্রাবের সময় শারীরিক অস্বস্তি ও মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিলে তিনি আগেই স্বামী বিজয় দেবরাকোন্ডাকে বিষয়টি জানিয়ে রাখেন। তার মতে, একজন পুরুষের পক্ষে নারীর এই অভিজ্ঞতা সরাসরি অনুভব করা সম্ভব নয়। তবে সঙ্গীর কষ্ট মন দিয়ে শোনা, যত্ন নেওয়া এবং পাশে থাকার মাধ্যমে মানসিক স্বস্তি দেওয়া সম্ভব। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঋতুস্রাব নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না এমন পরিবেশে বেড়ে উঠলেও বিজয় বিষয়টিকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখেন। ব্যথার সময়ে রাশমিকার অস্বস্তি কমাতে পেট ও হাত-পায়ে মালিশ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। নিজের ঋতুস্রাবের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রাশমিকা বলেন, তখন স্যানিটারি প্যাড সম্পর্কে তার ধারণা ছিল না। ফলে তোয়ালে ভাঁজ করে প্যাডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতেন। একসময় তার মনে হয়েছিল, এই ঘটনা বুঝি জীবনে একবারই ঘটে। রাশমিকার এই অভিজ্ঞতা বয়ঃসন্ধিকালে ঋতুস্রাব সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে আগে থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বয়সোপযোগী শিক্ষা পেলে প্রথম ঋতুস্রাবের সময় ভয় ও বিভ্রান্তি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছেলেদেরও সচেতন করা জরুরি। অভিনেত্রী আরও জানান, প্রতি মাসে ঋতুস্রাবের সময় তীব্র ব্যথায় ভোগেন তিনি। এমনকি ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগেই এ নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয় তার মধ্যে। তার এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, ঋতুস্রাবের শারীরিক প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। এ প্রসঙ্গেই চলচ্চিত্রশিল্পে ‘পিরিয়ড লিভ’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন রাশমিকা। তার মতে, নারীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও ঋতুস্রাবের সময় আলাদা ছুটির সুবিধা এখনও যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত নয়। ফলে অনেককে শারীরিক কষ্ট নিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হয়। চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, টানা দাঁড়িয়ে থাকা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তীব্র ব্যথা বা দুর্বলতা নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। শুধু অভিনয়শিল্পী নন, শুটিংয়ের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত নারীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হন। রাশমিকার বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে কর্মক্ষেত্রে নারীর স্বাস্থ্য, সহমর্মিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রামের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি। ঋতুস্রাবকে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে কর্মপরিবেশ আরও মানবিক করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও এতে স্পষ্ট হয়েছে। আরটিভি/এসকে
‘পিরিয়ড লিভ’ নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা
সন্তানদের নিয়ে ঘরোয়া আয়োজনে পরীমনির জন্মদিন উদযাপন
চিত্রনায়িকা পরীমনি মানেই ভক্ত-অনুরাগীদের বাড়তি আগ্রহ ও আলোচনা। জমকালো আয়োজনের বদলে এবার সন্তানদের সঙ্গে ঘরোয়া ও আবেগঘন পরিবেশে নিজের জন্মদিনের প্রথম প্রহর উদযাপন করেছেন ঢালিউডের এই তারকা।
সন্তানদের নিয়ে ঘরোয়া আয়োজনে পরীমনির জন্মদিন উদযাপন
বিকিনি পরতে অস্বস্তি হয় : রাশমিকা
বিকিনি কিংবা শরীরের বেশি অংশ প্রকাশ পায় এমন পোশাক পরতে অস্বস্তি বোধ করেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। চরিত্রের প্রয়োজনে এমন পোশাক পরতে হলেও নিজের অস্বস্তি ও ব্যক্তিগত সীমারেখার কথা স্পষ্টভাবে জানাতে চান তিনি।
বিকিনি পরতে অস্বস্তি হয় : রাশমিকা
টিউশনের আয়ে সিনেমা, ভর্তি-যুদ্ধের গল্প নিয়ে ‘অন্যপাতা’
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে ২৩ অক্টোবর। সিনেমাটিতে রয়েছে ছয়টি মৌলিক গান ও আবহসংগীত। চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নৈসর্গিক ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উঠে এসেছে ক্যামেরায়। প্রথম ধাপে দেশের ১০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। প্রেক্ষাগৃহগুলো হলো—ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সের সনি স্কয়ার শাখা, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, ঢাকার শ্যামলী সিনেমা, চট্টগ্রামের স্টার সিনেপ্লেক্সের বালি আর্কেড শাখা, চট্টগ্রামের সুগন্ধা সিনেপ্লেক্স, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের কে স্ক্রিন, রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ, বগুড়ার মমো ইন সিনেপ্লেক্স, নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপ এবং কুষ্টিয়ার স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স। দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে পরবর্তী সময়ে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের। ছয় বন্ধুর শখ থেকে চল্লিশজনের দল পুরো উদ্যোগের শুরুটা ছিল খুব ছোট পরিসরে। সিনেমা বানানোর শখ থেকে ছয়জন একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। পরে এতে যুক্ত হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরও অনেক শিক্ষার্থী। কেউ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন, কেউ পেছনে থেকে সামলেছেন আলো, শিল্পনির্দেশনা কিংবা সম্পাদনার কাজ। কেউ লিখেছেন সংলাপ, কেউ বেঁধেছেন সুর। ছয়জনের সেই দল এখন ৪০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি বড় পরিবার। ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক ও চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহেজাহান এ্যানি। তার এই পথচলা এক দিনে শুরু হয়নি। কোভিডকালে জীবনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তিনি নিজের ওপর ভরসা পান যে একদিন নির্মাতা হতে পারবেন। এরপর টানা তিন বছর কোনো কাজ করেননি। সেই সময়টা কাটিয়েছেন চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করে এবং অমিতাভ রেজার পরামর্শ নিয়ে। এরপর যখন তার মনে হয়েছে, এবার তিনি প্রস্তুত, তখনই হাত দিয়েছেন ‘অন্যপাতা’ নির্মাণে। এ্যানি বলেন, ‘অন্যপাতা’ তৈরি করতে গিয়ে আমি আবিষ্কার করেছি, আমার চারপাশের মানুষগুলো কতটা সুন্দর ও সহযোগিতাপরায়ণ। ছয়জনের একটি দল থেকে ধীরে ধীরে আমাদের দল ৪০ জনে পরিণত হয়েছে। তাই মাঝে মাঝে আমরা বলি, অন্যপাতা আমরা তৈরি করিনি, অন্যপাতাই আমাদের তৈরি করেছে। প্রথম সিনেমা নির্মাণের পথে নানা চ্যালেঞ্জ নিজেদের অর্থায়নে সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি বিতরণের দায়িত্বও নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ‘অন্যপাতা’র তরুণ নির্মাতারা। প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকলেও চলচ্চিত্রশিল্পের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় নানা সময়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের। কীভাবে এগোতে হবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে—এসব নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় এক লাখ টাকাও হারিয়েছেন তারা। তবু নানা বাধা পেরিয়ে নিজেদের স্বপ্নের সিনেমাটি বড় পর্দায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টা থামাননি তারা। সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক অংকন দে অনিমেষ বলেন, নির্মাণের সময় আমরা এমন একটি দল নিয়ে শুরু করেছিলাম, যাদের কেউ কখনো শুটিং দেখেনি, কারণ চট্টগ্রামে তেমন শুটিং হয় না। তবে দলের মানুষগুলো এতটাই আন্তরিক ছিল যে তাদের বোঝাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় সিনেমাটি বানানোর পর। গান, মিউজিক ভিডিও ও শুটিংয়ের কাজ শেষ করার পর আমরা সবাই শিক্ষার্থী হওয়ায় চলচ্চিত্রশিল্পে আমাদের তেমন যোগাযোগ ছিল না। ফলে সিনেমাটি কীভাবে মুক্তি পাবে, সেটাই ছিল বড় সমস্যা। অনেকেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে ভয় পান, আর সেই ভয় আমাদের মধ্যেও ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবু আমরা পিছিয়ে যাইনি। অনেক জটিলতা পেরিয়ে আজ আমরা এই জায়গায় এসেছি। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ১০টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে—এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। প্রযোজনার পাশাপাশি সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন অনিমেষ। এমনকি অভিনয়ও করেছেন সিনেমাটিতে। শুরুতে পেছনের দৃশ্যে দু-একটি সংলাপ বলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার চরিত্রটি পেয়েছে আলাদা গুরুত্ব। চরিত্রটির নিজস্ব গল্প ও বিচিত্র কর্মকাণ্ডে যেমন হাস্যরস রয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে সমাজের কিছু চেনা বাস্তবতা। প্রকৌশলীদের বেকারত্ব, পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের কোটা এবং প্রকৌশল শিক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার যৌক্তিকতা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠে এসেছে চরিত্রটির কথোপকথনে। অন্যদিকে, সিনেমাটির আরেক প্রযোজক বুয়েটের শিক্ষার্থী আবতাহী শামসের কাছে ‘অন্যপাতা’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘অন্যপাতা’ আমার কাছে শুধু একটা সিনেমা নয়, এটা আমার জন্য একটা স্বপ্নকে সত্যি করার গল্প। প্রযোজক হিসেবে এটি আমার প্রথম কাজ, তাই প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন কিছু শিখেছি, ভুল করেছি, আবার ঠিক করার চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এতগুলো মানুষের বিশ্বাস আর পরিশ্রমকে একটি গল্পের মধ্যে একসঙ্গে দেখতে পারা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে যতটা ভালোবাসা দিয়ে কাজটা করতে পেরেছি, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন সিনেমাটা দর্শকের, তারা কীভাবে নেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা। পর্দার সামনে ও পেছনে গল্প গড়েছেন যাঁরা সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়া শাকিল ও প্রত্যাশা পাল। শাকিল বলেন, এটি আমার প্রথম সিনেমা। ছবির গল্প, পুরো দলের আন্তরিকতা এবং আমার অভিনীত চরিত্রের জীবনযাত্রা আমাকে অভিনয়ে অনুপ্রাণিত করেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। সিনেমাটি নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। আশা করি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকেরা নতুন কিছু দেখবেন এবং প্রেক্ষাগৃহ দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রত্যাশা বলেন, ‘অন্যপাতা’র গল্পই আমাকে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রথমবার গল্পটি শোনার পর মনে হয়েছিল, এই গল্পের প্রতি আমার একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। ছবিটির পুরো যাত্রা আমি নিজের চোখের সামনে দেখেছি, তাই এটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। আশা করি, ‘অন্যপাতা’ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এসজেএ প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করাকে আমি সৌভাগ্য মনে করি। পুরো দলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও তারা খুব সুন্দরভাবে সামলেছেন। পর্দার পেছনেও কাজ করেছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। কারিগরি ও শিল্পনির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দ্র নীল। চিত্রগ্রহণ করেছেন ইব্রাহিম বিন আনছারী। ছয়টি মৌলিক গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন ফাহরিয়ান তাসজিম মনন, আর আবহসংগীত তৈরি করেছেন আইনান। কাস্টিং পরিচালনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোমান। সিনেমার রং বিন্যাস করেছেন চুয়েটের তানভীর জানি, আর ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশনশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন মাশরাফি ইসলাম শাফিন। ভর্তি-যুদ্ধের গল্পে ‘অন্যপাতা’ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা আর টানাপোড়েনের জীবন—এসবের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে ‘অন্যপাতা’র গল্প। ভর্তি পরীক্ষার মৌসুমে যখন চারদিকে কোচিং, ব্যাচ আর মডেল টেস্টের ব্যস্ততা, তখন এক মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণকে লড়তে হয় ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে। আর্থিক সংকটের কারণে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ছাড়তে রাজি নয় সে। স্বপ্নপূরণের এই যাত্রায় পারিবারিক চাপের পাশাপাশি তার জীবনে আসে ভালোবাসা, আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্ব আর নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি। চেনা এই গল্পের মধ্য দিয়ে সিনেমাটিতে উঠে এসেছে ভর্তি-যুদ্ধের আড়ালে থাকা এক তরুণের সংগ্রাম ও বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময়কে ঘিরেই গল্পের বিস্তার। পরিচালক এ্যানি বলেন, এটা কোনো পরীক্ষামূলক গল্প নয়। এটা আমাদের সবার গল্প, প্রতিদিনের লড়াইয়ের গল্প। দর্শক বড় পর্দায় এই গল্পের মধ্যে নিজেদেরই খুঁজে পাবেন। প্রযোজক অনিমেষ বলেন, ভর্তি-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সবাই যায়, অথচ এ নিয়ে খুব বেশি কাজ হয় না। এই গল্পটা কোথাও না কোথাও বলা খুব দরকার ছিল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দর্শকেরা এই সিনেমায় একটি মিষ্টি, কমেডির ছোঁয়াযুক্ত অভিজ্ঞতা পাবেন, যা সচরাচর দেখা যায় না। ‘অন্যপাতা’র গল্পের পাশাপাশি এর গান, আবহসংগীত এবং সামগ্রিক চলচ্চিত্রিক উপস্থাপন দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তারা যেন প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি উপভোগ করেন। আরটিভি/টিআর
টিউশনের আয়ে সিনেমা, ভর্তি-যুদ্ধের গল্প নিয়ে ‘অন্যপাতা’
স্বর্ণমন্দিরে সারা আলি খানের কান্নার মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল
বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খানের স্বর্ণমন্দিরে প্রার্থনার সময় কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভারতের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে প্রার্থনা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।
স্বর্ণমন্দিরে সারা আলি খানের কান্নার মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল
আরও পড়ুন
২৪ বছর পর নায়ক মান্নার বক্তব্য ভাইরাল