
সংগীতজগতের অন্যতম আলোচিত পুরস্কার অনুষ্ঠান এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে (ভিএমএ) ইতিহাস গড়েছেন মার্কিন গায়িকা টেইলর সুইফট। এবারের আয়োজনে ‘ভিডিও অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতে তিনি ভিএমএর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পাওয়া শিল্পী হয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজনে ৩৬ বছর বয়সী সুইফট শুরু করেছিলেন বিয়ন্সের সঙ্গে সমান ৩০টি পুরস্কার নিয়ে। অনুষ্ঠানে ‘দ্য ফেট অব ওপেলিয়া’ গানের দৃশ্যায়নের জন্য সেরা ভিডিওর পুরস্কার জিতে তার মোট ভিএমএ পুরস্কারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১-এ।
গানটি সুইফটের ২০২৫ সালের অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর অংশ। নতুন রেকর্ডের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দেওয়া ‘আর্টিস্ট ডিরেক্টর’ সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। ‘ওপালাইট’ গানের ভিডিওতে ১৯৯০-এর দশকের বিজ্ঞাপনচিত্রের ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন সুইফট।
পুরস্কার গ্রহণের সময় সুইফট তার সম্মাননা উৎসর্গ করেন প্রয়াত মার্কিন সংগীত তারকা ডলি পার্টনের প্রতি। তিনি বলেন, ডলি পার্টনের সঙ্গে একই পৃথিবীতে থাকার সুযোগ পাওয়াটা সবার জন্যই সৌভাগ্যের।

নজর কাড়ল টেইলরের পোশাক
ইতিহাস গড়ার এই রাতে পুরস্কারের পাশাপাশি টেইলর সুইফটের পোশাকও ছিল আলোচনায়। অনুষ্ঠানের জন্য তিনি বেছে নেন গাঢ় নীল রঙের জমকালো পোশাক। পোশাকটির ওপরের অংশ ছিল মখমলের তৈরি। হাতাকাটা সেই অংশে গলার কাছে ছিল জালের মতো স্বচ্ছ নকশা।
পোশাকের নিচের অংশে ছিল রুপালি ঝলমলে নকশার লম্বা স্কার্ট। উরু পর্যন্ত কাটা নকশার এই স্কার্টে থাকা ঝিকিমিকি অলংকরণ তার সাজে আলাদা আকর্ষণ যোগ করে। সঙ্গে ছিল ঝুলন্ত হীরার দুল ও ঝলমলে নকশার উঁচু হিল। গাঢ় নীল ও রুপালি রঙের সমন্বয়ে পুরো সাজেই ছিল জমকালো ভাব।
পুরস্কার গ্রহণের সময় সুইফট তার নতুন সম্মাননা উৎসর্গ করেন প্রয়াত মার্কিন সংগীত তারকা ডলি পার্টনের প্রতি। তিনি বলেন, ডলি পার্টনের সঙ্গে একই পৃথিবীতে থাকার সুযোগ পাওয়াটা সবার জন্যই সৌভাগ্যের।
অনুষ্ঠানে নতুন গান পেশেন্ট জিরোর ভিডিওও প্রথমবারের মতো দেখানো হয়। এতে অভিনয় করেছেন কলিন ফ্যারেল ও ডাকোটা জনসন। ট্রাভিস কেলসিকে বিয়ের পর এটিই সুইফটের প্রথম সংগীত ভিডিও। গানটি ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল: দ্য এনকোর’ অ্যালবামের চারটি নতুন গানের একটি।

পুরস্কারে এগিয়ে নারী শিল্পীরা
এবারের এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে (ভিএমএ) নারী শিল্পীদেরই ছিল উল্লেখযোগ্য দাপট। সবচেয়ে বেশি ১৩টি মনোনয়ন নিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন ৬৮ বছর বয়সী ম্যাডোনা। তিনি আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার, বেস্ট ড্যান্স ও বেস্ট কলাবোরেশন—তিনটি পুরস্কার জিতেছেন।

বেস্ট কলাবোরেশন পুরস্কার পেয়েছেন সাবরিনা কার্পেন্টারের সঙ্গে ব্রিং ইয়োর লাভ গানের জন্য। গানটি ম্যাডোনার ২০২৬ সালের অ্যালবাম কনফেশন্স টু-এর প্রধান গান।
ম্যাডোনার অ্যালবাম থেকে তৈরি চলচ্চিত্র কনফেশন্স টু আরও দুটি পুরস্কার পেয়েছে—সেরা চিত্রগ্রহণ ও সেরা কোরিওগ্রাফি। পুরস্কার গ্রহণের সময় ম্যাডোনা তার ভিএমএ যাত্রার শুরুর দিনের একটি দুর্ঘটনার কথাও স্মরণ করেন। ৪৩ বছর আগে প্রথম ভিএমএ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার সময় মঞ্চে পড়ে গিয়ে তার পোশাকের পেছনের অংশ উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।
এবারের অনুষ্ঠানে ম্যাডোনার প্রথম পরিবেশনাও ছিল বিশেষ। ২০০৩ সালে ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে চুমু দেওয়ার আলোচিত ঘটনার পর প্রথমবারের মতো ভিএমএর মঞ্চে পারফর্ম করেন তিনি। তার সঙ্গে পরিবেশনায় ছিলেন সাবরিনা কার্পেন্টার। ব্রিটিশ শিল্পী চার্লি এক্সসিএক্সও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় গানের দল ব্ল্যাকপিংকের সদস্য লিসা ‘ড্রিম’ গানের জন্য সেরা পপ পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি ভিএমএতে সেরা পপ বিভাগে পুরস্কার পাওয়া প্রথম এশীয় একক শিল্পী। গানের ভিডিওতে জাপানি অভিনেতা কেনতারো সাকাগুচিও অভিনয় করেছেন।

পুরস্কার গ্রহণের সময় ২৯ বছর বয়সী লিসাকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের সমর্থন ছাড়া তিনি এই জায়গায় আসতে পারতেন না।
এবারের আয়োজনে সেরা নতুন শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন সিয়েনা স্পিরো। ব্রিটিশ গায়িকা রায়েও অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। প্রয়াত ডলি পার্টন ও জর্জ মাইকেলকে স্মরণ করে বিশেষ পরিবেশনাও ছিল অনুষ্ঠানে।
স্টেটসাইড গানের জন্য সুইডেনের জারা লারসনের সঙ্গে সেরা শিল্প নির্দেশনার পুরস্কার পেয়েছেন ব্রিটিশ গায়িকা পিংকপ্যানথারেস। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় দল বিটিএস পেয়েছে সেরা দল ও ‘সুইম’ গানের জন্য বর্ষসেরা গানের পুরস্কার। অলিভিয়া রদ্রিগোর ‘দ্য কিউর’ জিতেছে সেরা বিকল্প গানের পুরস্কার। আর ‘ভিডিও ভ্যানগার্ড’ সম্মাননা পেয়েছে নির্ভানা।
আরটিভি/জেএমএ


