
কারাগারে থেকেও যেন বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন মার্কিন সংগীত তারকা শন ডিডি কম্বস। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ফোর্ট ডিক্স ফেডারেল কারাগারে তার জন্য রান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া এমনকি বিছানা গুছিয়ে দেওয়ার লোকও রয়েছে বলে দাবি করেছেন একই কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দি। এমনকি তার জন্য চীনা কায়দায় মালিশ করার লোকও রয়েছে।
চার বন্দির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, কারাগারে নিজের পছন্দের জীবনযাপন ধরে রাখতে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার খরচ করছেন কম্বস। তার হয়ে বিভিন্ন কাজ করা বন্দিদের কারাগারের ভেতরের হিসাবেই অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এক বন্দির ভাষায়, কারাগারে কম্বসের জীবনযাপন সাধারণ কোনো বন্দির মতো নয়; বরং অর্থের বিনিময়ে তিনি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।
সূত্রগুলোর দাবি, কম্বস নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখেন। পুরোনো এক প্রেমিকার পাঠানো নগ্ন ও যৌন উত্তেজক ছবিও তিনি এসব ফোনে দেখেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া অন্য বন্দিদের কাছ থেকে মেজাজ ভালো করার জন্য ব্যবহৃত বিষণ্নতানাশক ওষুধ রিমেরন কিনেছেন বলেও দাবি করেছেন দুই সূত্র। কারাগারে এই ওষুধের কেনাবেচা চলে বলে জানিয়েছেন তারা।
সপ্তাহের ছুটির রাতগুলোতে কম্বসের কাছে চোরাইভাবে আনা দামি মদও পৌঁছাত বলে দাবি করেছেন সূত্রগুলো। এক বন্দি জানিয়েছেন, তিনি কম্বসের সঙ্গে হেনেসি মদ পান করেছেন।
সূত্রগুলোর দাবি, কম্বস কারাগারে নিজের জন্য বিশেষ খাবারও রান্না করান। এর মধ্যে মুরগির তরকারি, পিৎজা ও মাংসভরা পিঠার মতো খাবার রয়েছে।
এক বন্দি জানিয়েছেন, কিছুদিন তিনি কম্বসের জন্য রান্না করলেও পরে আর আগ্রহ পাননি। এরপর অন্য বন্দিরা তার জন্য রান্না করতে শুরু করেন।
এছাড়া কেউ কেউ কম্বসের মোবাইল ফোন ও তার কাছে আসা চিঠিপত্রও গোপনে নিজেদের কাছে রাখেন বলে দাবি করা হয়েছে। এক সূত্রের ভাষ্য, কম্বসের কাছে এত চিঠি আসে যে সেগুলো রাখার জায়গাও হয় না।
সূত্রগুলোর দাবি, কম্বসের জন্য এমন একজন বন্দিও কাজ করেন, যিনি তিনি ব্যবহারের আগে টয়লেট ও গোসলের জায়গা পরিষ্কার করে দেন।
কারাগারের ভেতরে তার জন্য কাজ করা বন্দিদের বাইরে থাকা ব্যক্তিরা অর্থ পাঠান এবং সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট বন্দিদের কারাগারের কেনাকাটার হিসাবের মাধ্যমে পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কারাগারের মতো ফোর্ট ডিক্সেও দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ জিনিস ঢোকার সমস্যা রয়েছে। সম্প্রতি পাঁচজনের বিরুদ্ধে ওই কারাগারে নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক একজন করে কারারক্ষীও রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ছুরি, গাঁজা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জিনিস কারাগারে ঢোকানো হচ্ছিল। এর আগে আকাশপথে ছোট উড়োজাহাজের মাধ্যমে কারাগারের ভেতরে নিষিদ্ধ জিনিস ফেলার অভিযোগেও একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যৌন সম্পর্কের উদ্দেশ্যে দুই ব্যক্তিকে অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত পার করানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর কম্বসকে ৫০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে গত বছরের অক্টোবরে তাকে ফোর্ট ডিক্স কারাগারে নেওয়া হয়।
কারাগারে মাদক নিরাময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় তার আইনজীবীরা ফোর্ট ডিক্সে পাঠানোর পক্ষে ছিলেন। কয়েক মাসের এই কর্মসূচি শেষ করলে অনেক ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মেয়াদ কমতে পারে।
ফোর্ট ডিক্সে পৌঁছানোর পর কম্বস ওই কর্মসূচিতে যোগ দেন। তবে সূত্রগুলোর দাবি, কারাগারে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মোবাইল ফোন, মদ ও নিজের হয়ে কাজ করার জন্য কয়েকজন বন্দি জোগাড় করে ফেলেন।
দুই সূত্রের দাবি, কম্বস একটি বিশেষভাবে পরিবর্তিত ট্যাবলেটও সংগ্রহ করেছেন। সেটি ব্যবহার করে তিনি সিনেমা ও তথ্যচিত্র দেখেন।
এর মধ্যে তাকে নিয়ে তৈরি ‘শন কম্বস: দ্য রেকনিং’ নামের একটি তথ্যচিত্রও রয়েছে। এটি তৈরি করেছেন তার দীর্ঘদিনের বিরোধী হিসেবে পরিচিত সংগীতশিল্পী ৫০ সেন্ট।
গত গ্রীষ্মে আরেক বন্দির সঙ্গে মারামারির পর কম্বসকে একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে মাদক নিরাময় কর্মসূচি থেকেও বাদ দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলোর দাবি।
তবে একাকী বন্দিত্ব থেকে বের হওয়ার পর আবারও তিনি অর্থের বিনিময়ে অন্য বন্দিদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করাতে শুরু করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
কম্বসের মুখপাত্র কারাগারে তার বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বহীন বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, কম্বস এখনো কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং আপিলের আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার ব্যুরোর একজন মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো বন্দির কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, মোবাইল ফোন, মাদক ও অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী কারাগারে ঢোকানো একটি চলমান সমস্যা এবং তা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
ফোর্ট ডিক্স কারাগারে প্রায় চার হাজার বন্দি রয়েছেন। কম্বসের বিচার চলাকালে তার আয়োজিত বিশেষ যৌন আসর নিয়ে বিস্তর সাক্ষ্য উঠে আসে। তবে যৌন পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। বর্তমানে তিনি দেওয়া সাজা ভোগ করছেন এবং তার আপিলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


